ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছোটদের কল্পনার খোরাক জোগাবে ‘ভিনগ্রহের কল্পকথা’

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এ পঙ্খিরাজ প্রকাশন থেকে বের হয় শিশুসাহিত্যিক ও সায়েন্স ফিকশন লেখক ইউনুস আহমেদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক গল্পগ্রন্থ ‘ভিনগ্রহের কল্পকথা’। শিশুসাহিত্যের বরপুত্র আমীরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা বইটিতে মোট আটটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পের চমৎকার অলংকরণ করেছেন আলমগীর জুয়েল। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মামুন হোসাইন। ৪৮ পৃষ্ঠার বইটির মলাটমূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।

বইটিতে থাকা গল্পগুলো হচ্ছে- ‘ভিনগ্রহের নিহিন’, ‘বিজ্ঞানী লেবু মিয়া’, ‘ইতু এবং ইতু’, ‘ইরাডো আমার বন্ধু’, ‘দুরন্ত দেদিয়া’, ‘দৈত্যপাখি টারানডিনা’, ‘জঙ্গলের হুলহুলা’ ও ‘গ্যালিভার অ্যালিয়েন’।

সায়েন্স ফিকশন লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত ইউনুস আহমেদ সায়েন্স ফিকশনে সিদ্ধহস্ত। ছোটদের কাছে তিনি ক্রমেই প্রিয় থেকে অধিক প্রিয় হয়ে উঠছেন। হবেন না কেন? তিনি ছোটদের কল্পনার জগৎকে প্রাধান্য দিয়েই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো সাজান। যেমন ‘ভিনগ্রহের নিহিন’ গল্পে তিনি রাশাদকে এক ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। যেই গল্পটা পড়বে, সেই নিজেকে রাশাদ মনে করবে। আসলে কে না চায় ভিনগ্রহের অ্যালিয়েনর সাথে নিজের বন্ধুত্ব করতে! ভিনগ্রহের অ্যালিয়েন নিহিনের সাথে রাশাদের এডভেঞ্চার নিয়ে গল্পটি এগিয়েছে।

‘বিজ্ঞানী লেবুমিয়া’ নামের পরের গল্পটি আরও ইন্টারেস্টিং। পত্রিকা মারফত খোঁজ পাওয়া মহাবিজ্ঞানী লেবুমিয়ার সাথে রাফি সাক্ষাৎ করে। তার গবেষণা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে রাফি এক রহস্যমতার অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। ‘ইতু এবং ইতু’ গল্পে লেখক জমজ দুটো চরিত্রকে দেখিয়েছেন। অদ্ভুত হলেও সত্য যে একজন ইতু মানুষ, আরেকজন ইতু অ্যালিয়েন। ভিনগ্রহ থেকে ইতু এসে কীভাবে মানুষ ইতুর বন্ধু হয়ে ওঠে, মানুষ ইতুকে কীভাবে বখাটেদের থেকে রক্ষা করে, তাই লেখক সুচারুভাবে দেখিয়েছেন। লেখক ভিনগ্রহের অ্যালিয়েনদের ছোটদের বন্ধুরূপেই দেখিয়েছেন বরাবর, তারও প্রমাণ মেলে পরের গল্প ‘ইরাডো আমার বন্ধু’তে। ক্লাসের লাস্ট হওয়া ছাত্র পাবলো অ্যালিয়েন বন্ধু ইরাডোর মাধ্যমে নিজেকে ‘গবেট ছাত্র’ উপাধি দূর করে, কীভাবে দুষ্টুদের থেকে বল উদ্ধার করে, সব এডভেঞ্চারই আছে গল্পটিতে। এতকিছুর পর যখন পাবলো জানতে পারে যে ইরাডো অ্যালিয়েন, তখন সে অবাক হয়। ইরাডো তার গ্রহে চলে গেলে পাবলো অ্যালিয়েন বন্ধুকে স্মরণ করতে থাকে।

‘দুরন্ত দেদিয়া’তে ঝাঁকড়া চুলের এক কিশোরের গল্প বলেছেন লেখক যার নাম হেকিস। অদ্ভুত সুন্দর পাখি লারার জন্য খাবার খুঁজতে বেরিয়ে হেকিস লারাকে নিয়ে দেদিয়ার মুখোমুখি হয়। দেদিয়া ছিল হিংস্র ও শক্তিশালী বন্যপ্রাণী। সেই দেদিয়ার সাথে হেকিস বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তার পিঠে চড়ে যেদিকে খুশি সেদিকে ঘুরে বেড়ানোর একটা বুদ্ধি আঁটে। একসময় যে বন্ধুত্ব হয়, শুধু তাই না, দেদিয়া হেকিসকে বিপদ থেকেও বাঁচায়।

টিয়ারা গ্রহের দৈত্যপাখি টারানডিনাকে নিয়ে পরের গল্প সাজানো হয়েছে। টারানডিনার পাখার শেডে করে গ্রহ-উপগ্রহে অভিযান চালায় সে। সেই অভিযানে গিয়ে চুলবুলরা কীভাবে পানিতে পড়ে নাকানি-চুবানি খায়, সেটাই দেখানো হয়েছে। ‘দুরন্ত দেদিয়া’ ও ‘দৈত্যপাখি টারানডিনা’ গল্প দুটো বারবার না পড়লে গভীরতা ধরা কঠিনই হবে ছোটদের জন্য, এ যেন কল্পনার ভেতরেও কল্পনা লুকানো।

‘জঙ্গলে হুলহুলা’ গল্পে লেখক বিশাল ল্যানিয়া গ্রহের ভেতর থাকা জঙ্গলের এডভেঞ্চারের গল্প তুলে এনেছেন। জঙ্গলের জংলিদের নেতা হুলহুলা নিজের গ্রহকে সমৃদ্ধ করতে কত কিছুই না করে। এ যেন এক রহস্যময় ভিন্নজগৎ। ‘গ্যালিভার অ্যালিয়েন’নামক গল্পে ক্ষুদ্র মানুষদের সাথে একদল কিশোরের সাথে দেখা মেলে। রনকের নেতৃত্বে ভ্রমণে যাওয়া কিশোরদল ঐসব ক্ষুদ্র মানুষকে লিলিপুট ভেবে বসে। কিন্তু তাদের একনজর দেখার পর আর দেখা মেলে না। খুঁজতে খুঁজতে যখন ক্ষুদ্র মানুষদের পায়, তখন জানতে পারে এরা অ্যালিয়েন। কিন্তু এতক্ষণ অ্যালিয়েনরা রণকদের ভয়ে লুকিয়ে ছিল। যখন রনক বলে ওদের কোনো ক্ষতি করবে না, বরং বন্ধু হবে, তখন অ্যালিয়েনরা সাহায্য নেয়। এবং তারা হঠাৎ করে উধায় হয়ে যায় রণকদের অবাক করে। ক্ষুদ্র অ্যালিয়েনরা গঙ্গাফড়িংয়ে চড়ে পালিয়ে যায় তাদের গ্রহে। অদ্ভুত হলেও সত্য গঙ্গাফড়িংই না কি তাদের বাহন!

সবমিলিয়ে এটা বলা যায়, ভিন্নধাচের সব গল্প লেখক ইউনুস আহমেদ লিখেছেন, যা সত্যি ছোটদের কল্পনার বাইরে। বৈজ্ঞানিক কল্পের আবহে লেখক যেভাবে এডভেঞ্চার আর বিস্ময়কর সব ঘটনার আলোকপাত করেছেন, তা সত্যিই ছোটদের কল্পনার খোরাকে হাওয়া লাগাবে। প্রতিটা গল্পে আছে টুইস্ট, আছে শক্ত গাঁথুনি। সেইসাথে বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং চরিত্র ও তাদের অলৌকিক শক্তির এক বৈজ্ঞানিক চিত্রকল্পের দৃশ্যায়ন করেছেন। বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।

বইয়ের নাম : ভিনগ্রহের কল্পকথা
লেখক : ইউনুস আহমেদ
প্রচ্ছদ : মামুন হোসাইন
প্রকাশনী : পঙ্খিরাজ প্রকাশন
মূল্য : ১৫০ টাকা
আইএসবিএন : ৯৭৮-৯৮৪-৯৬২৫৭-০-৪

Tag :
জনপ্রিয়

সিলেটে ক্বিন ব্রিজের পাশে হবে আরেকটি ব্রিজ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছোটদের কল্পনার খোরাক জোগাবে ‘ভিনগ্রহের কল্পকথা’

প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এ পঙ্খিরাজ প্রকাশন থেকে বের হয় শিশুসাহিত্যিক ও সায়েন্স ফিকশন লেখক ইউনুস আহমেদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক গল্পগ্রন্থ ‘ভিনগ্রহের কল্পকথা’। শিশুসাহিত্যের বরপুত্র আমীরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা বইটিতে মোট আটটি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পের চমৎকার অলংকরণ করেছেন আলমগীর জুয়েল। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মামুন হোসাইন। ৪৮ পৃষ্ঠার বইটির মলাটমূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।

বইটিতে থাকা গল্পগুলো হচ্ছে- ‘ভিনগ্রহের নিহিন’, ‘বিজ্ঞানী লেবু মিয়া’, ‘ইতু এবং ইতু’, ‘ইরাডো আমার বন্ধু’, ‘দুরন্ত দেদিয়া’, ‘দৈত্যপাখি টারানডিনা’, ‘জঙ্গলের হুলহুলা’ ও ‘গ্যালিভার অ্যালিয়েন’।

সায়েন্স ফিকশন লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত ইউনুস আহমেদ সায়েন্স ফিকশনে সিদ্ধহস্ত। ছোটদের কাছে তিনি ক্রমেই প্রিয় থেকে অধিক প্রিয় হয়ে উঠছেন। হবেন না কেন? তিনি ছোটদের কল্পনার জগৎকে প্রাধান্য দিয়েই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো সাজান। যেমন ‘ভিনগ্রহের নিহিন’ গল্পে তিনি রাশাদকে এক ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। যেই গল্পটা পড়বে, সেই নিজেকে রাশাদ মনে করবে। আসলে কে না চায় ভিনগ্রহের অ্যালিয়েনর সাথে নিজের বন্ধুত্ব করতে! ভিনগ্রহের অ্যালিয়েন নিহিনের সাথে রাশাদের এডভেঞ্চার নিয়ে গল্পটি এগিয়েছে।

‘বিজ্ঞানী লেবুমিয়া’ নামের পরের গল্পটি আরও ইন্টারেস্টিং। পত্রিকা মারফত খোঁজ পাওয়া মহাবিজ্ঞানী লেবুমিয়ার সাথে রাফি সাক্ষাৎ করে। তার গবেষণা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে রাফি এক রহস্যমতার অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। ‘ইতু এবং ইতু’ গল্পে লেখক জমজ দুটো চরিত্রকে দেখিয়েছেন। অদ্ভুত হলেও সত্য যে একজন ইতু মানুষ, আরেকজন ইতু অ্যালিয়েন। ভিনগ্রহ থেকে ইতু এসে কীভাবে মানুষ ইতুর বন্ধু হয়ে ওঠে, মানুষ ইতুকে কীভাবে বখাটেদের থেকে রক্ষা করে, তাই লেখক সুচারুভাবে দেখিয়েছেন। লেখক ভিনগ্রহের অ্যালিয়েনদের ছোটদের বন্ধুরূপেই দেখিয়েছেন বরাবর, তারও প্রমাণ মেলে পরের গল্প ‘ইরাডো আমার বন্ধু’তে। ক্লাসের লাস্ট হওয়া ছাত্র পাবলো অ্যালিয়েন বন্ধু ইরাডোর মাধ্যমে নিজেকে ‘গবেট ছাত্র’ উপাধি দূর করে, কীভাবে দুষ্টুদের থেকে বল উদ্ধার করে, সব এডভেঞ্চারই আছে গল্পটিতে। এতকিছুর পর যখন পাবলো জানতে পারে যে ইরাডো অ্যালিয়েন, তখন সে অবাক হয়। ইরাডো তার গ্রহে চলে গেলে পাবলো অ্যালিয়েন বন্ধুকে স্মরণ করতে থাকে।

‘দুরন্ত দেদিয়া’তে ঝাঁকড়া চুলের এক কিশোরের গল্প বলেছেন লেখক যার নাম হেকিস। অদ্ভুত সুন্দর পাখি লারার জন্য খাবার খুঁজতে বেরিয়ে হেকিস লারাকে নিয়ে দেদিয়ার মুখোমুখি হয়। দেদিয়া ছিল হিংস্র ও শক্তিশালী বন্যপ্রাণী। সেই দেদিয়ার সাথে হেকিস বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তার পিঠে চড়ে যেদিকে খুশি সেদিকে ঘুরে বেড়ানোর একটা বুদ্ধি আঁটে। একসময় যে বন্ধুত্ব হয়, শুধু তাই না, দেদিয়া হেকিসকে বিপদ থেকেও বাঁচায়।

টিয়ারা গ্রহের দৈত্যপাখি টারানডিনাকে নিয়ে পরের গল্প সাজানো হয়েছে। টারানডিনার পাখার শেডে করে গ্রহ-উপগ্রহে অভিযান চালায় সে। সেই অভিযানে গিয়ে চুলবুলরা কীভাবে পানিতে পড়ে নাকানি-চুবানি খায়, সেটাই দেখানো হয়েছে। ‘দুরন্ত দেদিয়া’ ও ‘দৈত্যপাখি টারানডিনা’ গল্প দুটো বারবার না পড়লে গভীরতা ধরা কঠিনই হবে ছোটদের জন্য, এ যেন কল্পনার ভেতরেও কল্পনা লুকানো।

‘জঙ্গলে হুলহুলা’ গল্পে লেখক বিশাল ল্যানিয়া গ্রহের ভেতর থাকা জঙ্গলের এডভেঞ্চারের গল্প তুলে এনেছেন। জঙ্গলের জংলিদের নেতা হুলহুলা নিজের গ্রহকে সমৃদ্ধ করতে কত কিছুই না করে। এ যেন এক রহস্যময় ভিন্নজগৎ। ‘গ্যালিভার অ্যালিয়েন’নামক গল্পে ক্ষুদ্র মানুষদের সাথে একদল কিশোরের সাথে দেখা মেলে। রনকের নেতৃত্বে ভ্রমণে যাওয়া কিশোরদল ঐসব ক্ষুদ্র মানুষকে লিলিপুট ভেবে বসে। কিন্তু তাদের একনজর দেখার পর আর দেখা মেলে না। খুঁজতে খুঁজতে যখন ক্ষুদ্র মানুষদের পায়, তখন জানতে পারে এরা অ্যালিয়েন। কিন্তু এতক্ষণ অ্যালিয়েনরা রণকদের ভয়ে লুকিয়ে ছিল। যখন রনক বলে ওদের কোনো ক্ষতি করবে না, বরং বন্ধু হবে, তখন অ্যালিয়েনরা সাহায্য নেয়। এবং তারা হঠাৎ করে উধায় হয়ে যায় রণকদের অবাক করে। ক্ষুদ্র অ্যালিয়েনরা গঙ্গাফড়িংয়ে চড়ে পালিয়ে যায় তাদের গ্রহে। অদ্ভুত হলেও সত্য গঙ্গাফড়িংই না কি তাদের বাহন!

সবমিলিয়ে এটা বলা যায়, ভিন্নধাচের সব গল্প লেখক ইউনুস আহমেদ লিখেছেন, যা সত্যি ছোটদের কল্পনার বাইরে। বৈজ্ঞানিক কল্পের আবহে লেখক যেভাবে এডভেঞ্চার আর বিস্ময়কর সব ঘটনার আলোকপাত করেছেন, তা সত্যিই ছোটদের কল্পনার খোরাকে হাওয়া লাগাবে। প্রতিটা গল্পে আছে টুইস্ট, আছে শক্ত গাঁথুনি। সেইসাথে বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং চরিত্র ও তাদের অলৌকিক শক্তির এক বৈজ্ঞানিক চিত্রকল্পের দৃশ্যায়ন করেছেন। বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।

বইয়ের নাম : ভিনগ্রহের কল্পকথা
লেখক : ইউনুস আহমেদ
প্রচ্ছদ : মামুন হোসাইন
প্রকাশনী : পঙ্খিরাজ প্রকাশন
মূল্য : ১৫০ টাকা
আইএসবিএন : ৯৭৮-৯৮৪-৯৬২৫৭-০-৪