ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সবজির বাজার চড়া, কম মাছের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে বেশকিছুর দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়ে শিমের কেজি ২০০ টাকা, করলার ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা হয়েছে। আর সরকার খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকার নির্ধারণ করলেও বাজারে এখনো আগের মতোই ৯০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৯৫ থেকে ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইলিশের মৌসুম হওয়ায় রুই-কাতলাসহ অন্য মাছ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকার শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও ভারতের শুল্কবৃদ্ধির কারণে চালের দাম কমেনি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে সরজমিনে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনই জানা গেছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ কম। বেশি দামে কেনার কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা ইলিয়াস ও শাহ আলম জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ একটু কম তাই দাম বেশি। প্রায় সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। আবার টাউন হলের সবজির মান ভালো তাই কারওয়ান বাজারের চেয়ে প্রায় সব সবজির দাম একটু বেশি। ৮০ টাকার করলা ১০০ টাকা, বেগুনের কেজিও ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গাঁজর ও টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, শিম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, কচুরমুখী ৬০ টাকা, লাউ ও চাল কুমড়ার দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মরিচের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। তবে ঢেঁড়শ, ধুন্দল, চিচিঙ্গা ও পটলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। কলার হালি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, চাল কুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

টাউন হল বাজারের মুন জেনারেল স্টোরের আনোয়ার বলেন, গত সপ্তাহে থেকে ১৪০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে সরকার খুচরা পর্যায়ের ৮৪ টাকা ঘোষণা করলেও বাজারে তার চিত্র দেখা যায়নি। বিক্রেতারা আগের মতো খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ থেকে ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করছে। তবে গাংচিল নামে প্যাকেট লাল চিনির কেজি ১১৫ টাকা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে।

লাল রং মেশানো এ চিনি গত বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কারওয়ান বাজারে জব্দ করে তা ধ্বংস করে। সেই চিনি টাউন হলের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, আগে জানতাম না, এখন জানলাম তাড়াতাড়ি চিনি আমরা সরিয়ে দিচ্ছি।

বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ৫ লিটার ৯৩০ টাকা, ২ লিটার ৩৮০ টাকা ও ১ লিটার ১৯০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১১৫ টাকা। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১৩০ টাকা। তবে আদার দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চালের দাম ওঠা-নামা করছে। তাই কোনো ধরনের চাল বিক্রি করছি না। ইউনিলিভার কোম্পানি সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই বিক্রি কমে গেছে, লোকজন সহজে কিনতে চাই না।

ভারত সরকার চালের উপর বেশি শুল্ক আরোপ করায় প্রায় সব ধরনের চালে এক থেকে দুই টাকা বেড়ে গেছে গত সপ্তাহে। এ সপ্তাহে কমেনি চালের দাম।

টাউন হল বাজারের নোয়াখালী রাইস স্টোরের ইউসুফ ও ইকবাল জেনারেলের মালিক ইকবাল বলেন, মিনিকেট ২৫ কেজির বস্তা ১৮৫০ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ৭২ থেকে ৭৪ টাকা, ২৮ চাল থেকে ৫৬ টাকা, মোটা চাল স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পোলাও চালের দাম কমছে না। খোলা চাল ১২৫ টাকা ও প্রাণসহ অন্য কোম্পানির প্যাকেট চাল ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে বিক্রেতারা জানান।

ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়ায় রুই-কাতলসহ অন্য মাছের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। মাছ বিক্রেতা কামাল ঢাকা প্রকাশকে বলেন, আগে যে রুই-কাতল মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বিক্রি করা হতো এখন সেটা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বাতাসি মাছ ৮০০ থেকে হাজার টাকা, কই ২৪০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি হলেও দাম তেমন কমেনি বলেন জানান বিক্রেতা করিম ভরসা। তিনি বলেন, ১ কেজির ইলিশ ১৪০০ টাকা। এর বেশি ওজনের হলে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

মাংস বিতান ও জনপ্রিয় মাংস বিতানের বিক্রেতারা জানান, তালিকায় ৭০০ টাকার লিখা থাকলেও আগের মতোই গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের মতো পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তাজ ব্রয়লার হাউজের কুদ্দুস বলেন, পোল্ট্রি ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৫০-৫০০ কেজি টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য মুরগির ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বাজারে বেশি দাম, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

সবজির বাজার চড়া, কম মাছের দাম

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সপ্তাহের ব্যবধানে বেশকিছুর দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়ে শিমের কেজি ২০০ টাকা, করলার ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা হয়েছে। আর সরকার খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকার নির্ধারণ করলেও বাজারে এখনো আগের মতোই ৯০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৯৫ থেকে ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইলিশের মৌসুম হওয়ায় রুই-কাতলাসহ অন্য মাছ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকার শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও ভারতের শুল্কবৃদ্ধির কারণে চালের দাম কমেনি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে সরজমিনে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনই জানা গেছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ কম। বেশি দামে কেনার কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা ইলিয়াস ও শাহ আলম জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ একটু কম তাই দাম বেশি। প্রায় সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। আবার টাউন হলের সবজির মান ভালো তাই কারওয়ান বাজারের চেয়ে প্রায় সব সবজির দাম একটু বেশি। ৮০ টাকার করলা ১০০ টাকা, বেগুনের কেজিও ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গাঁজর ও টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, শিম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, কচুরমুখী ৬০ টাকা, লাউ ও চাল কুমড়ার দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মরিচের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। তবে ঢেঁড়শ, ধুন্দল, চিচিঙ্গা ও পটলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। কলার হালি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, চাল কুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

টাউন হল বাজারের মুন জেনারেল স্টোরের আনোয়ার বলেন, গত সপ্তাহে থেকে ১৪০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে সরকার খুচরা পর্যায়ের ৮৪ টাকা ঘোষণা করলেও বাজারে তার চিত্র দেখা যায়নি। বিক্রেতারা আগের মতো খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ থেকে ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করছে। তবে গাংচিল নামে প্যাকেট লাল চিনির কেজি ১১৫ টাকা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে।

লাল রং মেশানো এ চিনি গত বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কারওয়ান বাজারে জব্দ করে তা ধ্বংস করে। সেই চিনি টাউন হলের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, আগে জানতাম না, এখন জানলাম তাড়াতাড়ি চিনি আমরা সরিয়ে দিচ্ছি।

বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ৫ লিটার ৯৩০ টাকা, ২ লিটার ৩৮০ টাকা ও ১ লিটার ১৯০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১১৫ টাকা। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১৩০ টাকা। তবে আদার দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চালের দাম ওঠা-নামা করছে। তাই কোনো ধরনের চাল বিক্রি করছি না। ইউনিলিভার কোম্পানি সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই বিক্রি কমে গেছে, লোকজন সহজে কিনতে চাই না।

ভারত সরকার চালের উপর বেশি শুল্ক আরোপ করায় প্রায় সব ধরনের চালে এক থেকে দুই টাকা বেড়ে গেছে গত সপ্তাহে। এ সপ্তাহে কমেনি চালের দাম।

টাউন হল বাজারের নোয়াখালী রাইস স্টোরের ইউসুফ ও ইকবাল জেনারেলের মালিক ইকবাল বলেন, মিনিকেট ২৫ কেজির বস্তা ১৮৫০ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ৭২ থেকে ৭৪ টাকা, ২৮ চাল থেকে ৫৬ টাকা, মোটা চাল স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পোলাও চালের দাম কমছে না। খোলা চাল ১২৫ টাকা ও প্রাণসহ অন্য কোম্পানির প্যাকেট চাল ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে বিক্রেতারা জানান।

ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়ায় রুই-কাতলসহ অন্য মাছের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। মাছ বিক্রেতা কামাল ঢাকা প্রকাশকে বলেন, আগে যে রুই-কাতল মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বিক্রি করা হতো এখন সেটা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বাতাসি মাছ ৮০০ থেকে হাজার টাকা, কই ২৪০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি হলেও দাম তেমন কমেনি বলেন জানান বিক্রেতা করিম ভরসা। তিনি বলেন, ১ কেজির ইলিশ ১৪০০ টাকা। এর বেশি ওজনের হলে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

মাংস বিতান ও জনপ্রিয় মাংস বিতানের বিক্রেতারা জানান, তালিকায় ৭০০ টাকার লিখা থাকলেও আগের মতোই গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের মতো পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

তাজ ব্রয়লার হাউজের কুদ্দুস বলেন, পোল্ট্রি ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৫০-৫০০ কেজি টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য মুরগির ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বাজারে বেশি দাম, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।