ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তারা কি দলে ফিরবেন

বহিষ্কার হয়ে দুঃসময়ে নেতারা

দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন দেড় দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির অনেক বহিষ্কৃত নেতা। দলে ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিতি তারা। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দল যখন জোরালো আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে তখন এসব নেতা দলের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন। দল থেকে বহিষ্কার ও পদ হারিয়ে দুঃসময় পার করছেন তারা। সমর্থক ও অনুসারীদের সঙ্গে সময় কাটালেও থাকতে পারছেন না মাঠের রাজনীতিতে। তবে নির্বাচনের আগে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

বহিষ্কৃত ও দল থেকে দূরে থাকা নেতারা বলছেন, পদ-পদবি না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন তারা। প্রভাবহীন নেতারাও তাদের নিয়ে এখন বিদ্রƒপ করেন। তাদের অভিযোগ, দলের হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে, কান ভারী করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে আছেন। রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিচ্ছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির একজন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। লড়াই করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান অনস্বীকার্য। খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলায় গত বছরের শেষ দিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এখনও তাকে দল ফিরিয়ে নেয়নি। কীভাবে কাটছে সময়-জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হা হা হা! এই তো যাচ্ছে সময়। ৪৪ বছর রাজনীতি করে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার “পুরস্কার” দেওয়া হয়েছে। এখনও মাথায় অনেক মামলা। এগুলোর হাজিরা দিচ্ছি। দলে পদ না থাকলেও কর্মীরা সঙ্গে আছে। সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করছি নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিবাদ করিনি, দলকে কোনো চ্যালেঞ্জ করিনি। এমনকি দলের নেতৃত্বের প্রতি কোনো অবজ্ঞাও ছিল না আমার। শুধু নতুন কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি করেছিলাম। খারাপ লাগে, আমার জন্য খুলনার দুই শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করে দলের রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জনগণকে নিয়েই আছি। তাদের সঙ্গে আমি সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চাই। আমি অত বড় নেতা নই। এখন দলের সমর্থক হিসেবে কাজ করছি। মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গে আছি। কিছু কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকায় বসে নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে খবরদারি করছে। দুঃসময়ে দল আমাকে ত্যাগ করেছে।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৈমূরের চিফ এজেন্ট ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। জানুয়ারি মাসে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় কামালকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফিরিয়ে নেবে কি নাÑএটা দলের সিদ্ধান্ত। তবে দলের পদ না থাকলেও সমর্থক হিসেবে আছি। সেখান থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলে পদ পেতে আবেদন করব না। কারণ শোকজ করেনি দল। জবাব না চেয়েই বহিষ্কার করেছে। দেড় যুগ ধরে দলের জন্য কম ত্যাগ স্বীকার করিনি। জেল-জুলুম কম হয়নি। এখন আমার পরিবার বিপর্যস্ত।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সাবেক এ নেতা বলেন, ‘দলবদলের পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না। অনেকে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু না করে দিয়েছি।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে এক বক্তব্য দিয়েই দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এরপরই তাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে গ্রামের বাড়ি কটিয়াদি ও ঢাকায় আসা-যাওয়ার মধ্যে সময় পার করছেন আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ভালো আছি। দলের মধ্যেই আছি। নেতাকর্মীরা আমাকে ছাড়া কই যাবে। এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। দলে ফেরার কী আছে। আমি তো দলের কোনো পদে ছিলাম না। সামর্থ্য অনুযায়ী, এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’

সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হেরেছেন মনিরুল হক সাক্কু। নির্বাচন করায় হারিয়েছেন দলীয় পদও। বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার হয়ে এখন অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছেন তিনি। যুবদল সভাপতি থেকে ধাপে ধাপে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি।

জানতে চাইলে সাক্কু বলেন, ‘আমি মনে করি, বহিষ্কারও একটা পদ। কুমিল্লার মানুষের চাহিদার কারণেই আমি নির্বাচন করেছি। শেষ খেলায় আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি গত ৪২ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। আমি বিএনপি ছাড়ব না। দল ডাকলে সাড়া দিতে সবসময় প্রস্তুত আছি।’ এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তবে দল পরিবর্তনের কথা হয়নি।’ দল থেকে বহিষ্কার করা না হলেও অনেকটা মনোকষ্টে দূরে আছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এখন বিএনপিতে কোনো অবস্থান নেই মিলনের। বিএনপির সময় পরীক্ষায় নকল বন্ধ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। গত ৬ এপ্রিল এ পদ থেকে সরিয়ে করা হয় নির্বাহী সদস্য। এরপর থেকে তাকে দলের কর্মকাণ্ডে তেমন দেখা যায় না। জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসতেন। এখন তাতেও দেখা যায় না। গত রমজানে নিজ এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের হামলার শিকার হন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বহিষ্কৃতদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। আগে স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপন হতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে এটাও দেখতে হবে, তারা এখন দল করতে চান কি না। তাদের আগ্রহসহ কিছু বিষয় ভাবতে হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

তারা কি দলে ফিরবেন

বহিষ্কার হয়ে দুঃসময়ে নেতারা

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন দেড় দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির অনেক বহিষ্কৃত নেতা। দলে ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিতি তারা। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দল যখন জোরালো আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে তখন এসব নেতা দলের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন। দল থেকে বহিষ্কার ও পদ হারিয়ে দুঃসময় পার করছেন তারা। সমর্থক ও অনুসারীদের সঙ্গে সময় কাটালেও থাকতে পারছেন না মাঠের রাজনীতিতে। তবে নির্বাচনের আগে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

বহিষ্কৃত ও দল থেকে দূরে থাকা নেতারা বলছেন, পদ-পদবি না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন তারা। প্রভাবহীন নেতারাও তাদের নিয়ে এখন বিদ্রƒপ করেন। তাদের অভিযোগ, দলের হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে, কান ভারী করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে আছেন। রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিচ্ছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির একজন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। লড়াই করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান অনস্বীকার্য। খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলায় গত বছরের শেষ দিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এখনও তাকে দল ফিরিয়ে নেয়নি। কীভাবে কাটছে সময়-জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হা হা হা! এই তো যাচ্ছে সময়। ৪৪ বছর রাজনীতি করে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার “পুরস্কার” দেওয়া হয়েছে। এখনও মাথায় অনেক মামলা। এগুলোর হাজিরা দিচ্ছি। দলে পদ না থাকলেও কর্মীরা সঙ্গে আছে। সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করছি নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিবাদ করিনি, দলকে কোনো চ্যালেঞ্জ করিনি। এমনকি দলের নেতৃত্বের প্রতি কোনো অবজ্ঞাও ছিল না আমার। শুধু নতুন কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি করেছিলাম। খারাপ লাগে, আমার জন্য খুলনার দুই শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করে দলের রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জনগণকে নিয়েই আছি। তাদের সঙ্গে আমি সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চাই। আমি অত বড় নেতা নই। এখন দলের সমর্থক হিসেবে কাজ করছি। মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গে আছি। কিছু কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকায় বসে নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে খবরদারি করছে। দুঃসময়ে দল আমাকে ত্যাগ করেছে।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৈমূরের চিফ এজেন্ট ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। জানুয়ারি মাসে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় কামালকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফিরিয়ে নেবে কি নাÑএটা দলের সিদ্ধান্ত। তবে দলের পদ না থাকলেও সমর্থক হিসেবে আছি। সেখান থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলে পদ পেতে আবেদন করব না। কারণ শোকজ করেনি দল। জবাব না চেয়েই বহিষ্কার করেছে। দেড় যুগ ধরে দলের জন্য কম ত্যাগ স্বীকার করিনি। জেল-জুলুম কম হয়নি। এখন আমার পরিবার বিপর্যস্ত।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সাবেক এ নেতা বলেন, ‘দলবদলের পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না। অনেকে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু না করে দিয়েছি।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে এক বক্তব্য দিয়েই দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এরপরই তাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে গ্রামের বাড়ি কটিয়াদি ও ঢাকায় আসা-যাওয়ার মধ্যে সময় পার করছেন আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ভালো আছি। দলের মধ্যেই আছি। নেতাকর্মীরা আমাকে ছাড়া কই যাবে। এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। দলে ফেরার কী আছে। আমি তো দলের কোনো পদে ছিলাম না। সামর্থ্য অনুযায়ী, এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’

সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হেরেছেন মনিরুল হক সাক্কু। নির্বাচন করায় হারিয়েছেন দলীয় পদও। বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার হয়ে এখন অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছেন তিনি। যুবদল সভাপতি থেকে ধাপে ধাপে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি।

জানতে চাইলে সাক্কু বলেন, ‘আমি মনে করি, বহিষ্কারও একটা পদ। কুমিল্লার মানুষের চাহিদার কারণেই আমি নির্বাচন করেছি। শেষ খেলায় আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি গত ৪২ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। আমি বিএনপি ছাড়ব না। দল ডাকলে সাড়া দিতে সবসময় প্রস্তুত আছি।’ এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তবে দল পরিবর্তনের কথা হয়নি।’ দল থেকে বহিষ্কার করা না হলেও অনেকটা মনোকষ্টে দূরে আছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এখন বিএনপিতে কোনো অবস্থান নেই মিলনের। বিএনপির সময় পরীক্ষায় নকল বন্ধ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। গত ৬ এপ্রিল এ পদ থেকে সরিয়ে করা হয় নির্বাহী সদস্য। এরপর থেকে তাকে দলের কর্মকাণ্ডে তেমন দেখা যায় না। জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসতেন। এখন তাতেও দেখা যায় না। গত রমজানে নিজ এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের হামলার শিকার হন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বহিষ্কৃতদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। আগে স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপন হতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে এটাও দেখতে হবে, তারা এখন দল করতে চান কি না। তাদের আগ্রহসহ কিছু বিষয় ভাবতে হবে।’