ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
কতটা ছাড় পাবে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি দুই দল

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দিন যত যাচ্ছে, ততই রাজনীতির মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ইদানীং একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি। আওয়ামী লীগও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষনেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কর্মসূচির নামে বিএনপি নাশকতা করলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে তাদের দল। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সঙ্গত কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে কতটা ছাড় দেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার?

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারবিরোধী একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে সেটি নিয়ে ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কারণ তাদের খুশি রেখে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনেকটা নমনীয় সরকার। তবে বিএনপি কর্মসূচির পালনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিএনপিকে নির্বাচন বিমুখও রাখতে চান না সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিভিন্ন কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনি মাঠে রেখেই আগামীতে ক্ষমতায় যেতে চায় আওয়ামী লীগ।

সরকার ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনের নামে বিএনপি নাশকতা করলে কঠোরতার মাত্রা বাড়াবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের অন্যান্য বাহিনীও মাঠে থাকবে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব কিছুই করবে সরকার। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকও করেছেন। প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি নিয়েও মাঠ দখলে রাখবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম থেকে বিএনপি বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল ও কারাবরণের পরও জোরালো আন্দোলন করতে পারেনি সরকারবিরোধীরা। তাই ভবিষ্যতে তারা আন্দোলনের নামে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা ক্ষমতাসীন দলটির। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এমন তথ্য রয়েছে।

এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার পর তারা আরও তৎপর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং তফসিল ঘোষণার পরপরই তারা পুরোদমে মাঠে নামবেন এমন ঘোষণাও দিয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের যে কোনো আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগও একাধিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি এখন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সরকারও দেশে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে সুযোগ দেবে না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করছে। আমরা কোথাও বাধা দিচ্ছি না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন যদি করে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তারা যদি রাজপথ বন্ধ করে, যান চলাচল বন্ধ করে, জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, ‘বিএনপি সারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে। তারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ছক আঁকছে। এ কারণেই তারা যেন আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। এ জন্য শুরুতেই প্রশাসনকে কাজে লাগাবে সরকার। ফলে অতীতে সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলাগুলো সচল করা হবে। এসব মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। প্রয়োজনে আরও যুক্ত হবে নতুন নতুন মামলা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। অভিযানে আটক করাদের নতুন ও পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এতে বিএনপি দেশে নাশকতা করার কোনো সুযোগ পাবে না। তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপিকে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হলেও নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। এমনকি তাদের মোকাবিলায় রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি নিয়েও মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। সরকারবিরোধীরা যাতে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারে সে জন্য পাড়া মহল্লায় অবস্থান নেবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নাশকতা করলে সেটা দেখবে প্রশাসন। সেখানে আমাদের না জড়ানোই ভালো। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়েই দমন করা হবে। তবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকবে। এটাই আমাদের কৌশল।’

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করতে চাইলে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে আন্দোলন করুন। আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না। ফাঁকা মাঠে আন্দোলন করে নাশকতা চালাবে, আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে বসে আঙুল চুষবে তা হবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপযুক্ত জবাব দেবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে বিএনপির আন্দোলনের নামে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও রাজপথে তা মোকাবিলা করবে। তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এর বাইরে গেলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে যাবে না। আর তারা যদি ইচ্ছে করেই পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে আসে, তাদের পা ভেঙে দেব। তারা যদি অশালীন কথাবার্তা বলে, সেক্ষেত্রে আমাদের নেতাকর্মীরা যা করার তাই করবে। কেউ যদি আক্রমণাত্মক কিছু করে, সেক্ষেত্রে আমরা ডিফেন্স করব, এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি তারা নাশকতা করলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

বিএনপির রাজনীতির কৌশল নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন নতুন ফন্দি নিয়ে এগোচ্ছে। তারা এখন নিজেরা মারামারি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে জবাব দেবে। সন্ত্রাসীদের প্রশাসনই মোকাবিলা করবে। আর তারা যদি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ফিরে আসে, তবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েই তাদের মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ।’

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

কতটা ছাড় পাবে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি দুই দল

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দিন যত যাচ্ছে, ততই রাজনীতির মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ইদানীং একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি। আওয়ামী লীগও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষনেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কর্মসূচির নামে বিএনপি নাশকতা করলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে তাদের দল। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সঙ্গত কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে কতটা ছাড় দেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার?

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারবিরোধী একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে সেটি নিয়ে ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কারণ তাদের খুশি রেখে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনেকটা নমনীয় সরকার। তবে বিএনপি কর্মসূচির পালনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিএনপিকে নির্বাচন বিমুখও রাখতে চান না সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিভিন্ন কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনি মাঠে রেখেই আগামীতে ক্ষমতায় যেতে চায় আওয়ামী লীগ।

সরকার ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনের নামে বিএনপি নাশকতা করলে কঠোরতার মাত্রা বাড়াবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের অন্যান্য বাহিনীও মাঠে থাকবে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব কিছুই করবে সরকার। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকও করেছেন। প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি নিয়েও মাঠ দখলে রাখবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম থেকে বিএনপি বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল ও কারাবরণের পরও জোরালো আন্দোলন করতে পারেনি সরকারবিরোধীরা। তাই ভবিষ্যতে তারা আন্দোলনের নামে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা ক্ষমতাসীন দলটির। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এমন তথ্য রয়েছে।

এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার পর তারা আরও তৎপর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং তফসিল ঘোষণার পরপরই তারা পুরোদমে মাঠে নামবেন এমন ঘোষণাও দিয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের যে কোনো আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগও একাধিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি এখন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সরকারও দেশে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে সুযোগ দেবে না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করছে। আমরা কোথাও বাধা দিচ্ছি না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন যদি করে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তারা যদি রাজপথ বন্ধ করে, যান চলাচল বন্ধ করে, জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, ‘বিএনপি সারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে। তারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ছক আঁকছে। এ কারণেই তারা যেন আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। এ জন্য শুরুতেই প্রশাসনকে কাজে লাগাবে সরকার। ফলে অতীতে সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলাগুলো সচল করা হবে। এসব মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। প্রয়োজনে আরও যুক্ত হবে নতুন নতুন মামলা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। অভিযানে আটক করাদের নতুন ও পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এতে বিএনপি দেশে নাশকতা করার কোনো সুযোগ পাবে না। তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপিকে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হলেও নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। এমনকি তাদের মোকাবিলায় রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি নিয়েও মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। সরকারবিরোধীরা যাতে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারে সে জন্য পাড়া মহল্লায় অবস্থান নেবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নাশকতা করলে সেটা দেখবে প্রশাসন। সেখানে আমাদের না জড়ানোই ভালো। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়েই দমন করা হবে। তবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকবে। এটাই আমাদের কৌশল।’

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করতে চাইলে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে আন্দোলন করুন। আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না। ফাঁকা মাঠে আন্দোলন করে নাশকতা চালাবে, আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে বসে আঙুল চুষবে তা হবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপযুক্ত জবাব দেবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে বিএনপির আন্দোলনের নামে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও রাজপথে তা মোকাবিলা করবে। তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এর বাইরে গেলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে যাবে না। আর তারা যদি ইচ্ছে করেই পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে আসে, তাদের পা ভেঙে দেব। তারা যদি অশালীন কথাবার্তা বলে, সেক্ষেত্রে আমাদের নেতাকর্মীরা যা করার তাই করবে। কেউ যদি আক্রমণাত্মক কিছু করে, সেক্ষেত্রে আমরা ডিফেন্স করব, এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি তারা নাশকতা করলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

বিএনপির রাজনীতির কৌশল নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন নতুন ফন্দি নিয়ে এগোচ্ছে। তারা এখন নিজেরা মারামারি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে জবাব দেবে। সন্ত্রাসীদের প্রশাসনই মোকাবিলা করবে। আর তারা যদি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ফিরে আসে, তবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েই তাদের মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ।’