ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চূড়ান্ত ছকে মাঠে বিএনপি

গুম খুন মামলাÍ সব ঝুঁকি নিয়ে এবার সরকার পতনের চূড়ান্ত ছকে মাঠে বিএনপি। দেয়া হবে সরকারকে মরণকামড়। বিগত দেড় মাসে বিএনপির অর্ধশতাধিক সমাবেশে হামলা করা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন চারজন। নেতাকর্মীদের নামে প্রায় শতাধিক মামলার ঘটনা ঘটেছে। আটক হয়েছে কয়েকশ। আহত প্রায় দুই সহস্রাধিক। দলটির দপ্তরের ভাষ্যÍ ২০ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাত নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে।

গত বুধবার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের গুলিতে আহত গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী শাওন ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই ঘটনায় নয়া পল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে নামাজের জানাজা ও সারা দেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।

এদিকে চলতি সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা উত্তর সিটির বিগত নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বহু নেতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আক্রমণে আহত হন।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতিকালে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভুলতার পর এবার চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র এলাকায় বিএনপি ও যুবদলের পাঁচ নেতার বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ শক্তি নিয়ে মাঠে। কোনো আক্রমণ ভয়কে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্বাচন পর্যন্ত ছক করে দলটি রাজপথে নেমে পড়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৬টি স্থানে কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশ চলছে। এ ছাড়া সারা দেশেও এক সাথে সমাবেশ হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মীকে লাঠি নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করতে দেখা গেছে। প্রতিটি সমাবেশ জন সমুদ্রে রূপ নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে পল্লবী, উত্তরা ও বনানীতে সমাবেশ হয়েছে। সেখানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে দলটির নেতারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও সরকার কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে তারা বিচলিত হচ্ছে না।

দলটির হাইকমান্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও একাধিক নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগেই ওয়ার্মআপ সেরে ফেলছে যাতে অলআউট আন্দোলন সফল হয়। তবে এখনো আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কী হবে তা নিয়ে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিশ্লেষণ চলছে। আগামী বছরের জুন এবং জুলাই মাসকে টার্গেট করে নেয়া হচ্ছে সরকার পতনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ঢাকা শহরকে মূল কেন্দ্র ধরে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী লাগাতার আন্দোলনের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামবে দলটি। সেই সময় পর্যন্ত নেতাদের মাঠে রাখতে চলবে সিরিজ কর্মসূচি। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সরকারবিরোধী সকল গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

বিএনপির কর্মসূচির ওপর নজর রাখা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই বদলে গেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে তারা সরব থাকছেন রাজপথে। কেউ বলছেন ছাড় দেয়ার আর সময় নেই, যেখানেই আঘাত সেখানেই প্রতিরোধ। কেউবা দিচ্ছেন সরকার পতনের হুঙ্কার।

নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, চলমান কর্মসূচির গতি বাড়িয়ে এমন কঠোর জোরালো কর্মসূচি আসবে যেখানে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে।

যেমন খিলগাঁওতে সমাবেশের একদিন আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘সরকার যদি অনুমতি নাও দেন তবুও সমাবেশ করা হবে’। বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে। অবশেষে সেই সমাবেশের অনুমতি মেলে। বেলা ৩টার আগেই শত শত নেতাকর্মীর শোডাউন দেখা গেছে। উপস্থিতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন।

বিএনপি ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী শাওন ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার মারা যান। গত ৩১ জুলাই ভোলায় বিএনপির প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে নিহত হন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম। আর ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী শাওন।

এছাড়া গত ২২ আগস্ট থেকে বিএনপি ঘোষিত থানা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশে ৪০টির বেশি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া যশোরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মরহুম নেতা তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। ফেনীতে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সমস্ত হামলাকে বিএনপির দপ্তর নোটে রাখছে। সময় মতো সকল হামলা-মামালার জবাব দেয়া হবে বলেও নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এদিকে চলমান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি অন্য সমমনা দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিএনপি। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানাগেছে। ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গঠন করে দেয়া হবে যুগপৎ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের যেকোনো সময় এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বিজেপি, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন জাসদ, জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ও কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গেও প্রকাশ্যে সংলাপ করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে এসব দলের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ হয়েছে।

তবে অতীতের ভুলগুলোকে খুব সতর্কতার সাথে এবার মোকাবিলা করা হবে। যেমন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি জোটের আন্দোলনে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হরতাল-অবরোধে পুরো দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে টানা ৯৩ দিনের টানা হরতালে দেশ টালামাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেগুলোর কারণে বিএনপিকে অনেক চাপে পড়তে হয় দেশ বিদেশে। কুটনৈতিক মহল থেকেও নেতিবাচক বার্তা আসে দলটির ঘরে।

এবার আন্দোলন হবে। সরকারকে বাধাও দেয়া হবে তবে সব কিছুতে থাকবে কৌশল। ইতোমধ্যে দলটি গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছে। পেয়েছে সবুক সঙ্কেত। সেই আলোকে সতর্ক থেকে মাঠ দখলকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনের প্রেক্ষাপট কেমন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন আরো কঠিন হবে। এই সরকারকে আর ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বলে দেয় আমাদের কতটা প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি এবার মাঠে বাস্তবায়ন করব।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফায়সালা হবে রাজপথে’। এই রাজপথ থেকেই অবৈধ সরকারকে ধাক্কা দেবো আমরা। আমরা দেশের জনগণের সমর্থন আমাদের নেতাকর্মীদের শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গুলি, ভাঙচুর এবং হত্যা করে বিরোধী দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চায়। মাঠের ভেতরে একা থেকেই আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে চায়। এবার আর তা হবে না। আমরা এবার কোনোমতেই পরাজিত হবো না। কারণ, এবার বিজয় লাভ করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ আরেকটি পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। সে কারণে আবার তারা বিরোধী দলের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলেছি। আমাদের এখনো কর্মসূচি চলছে। আমাদের শীর্ষ নেতাদের ওপরও হামলা হয়েছে। বিএনপির রুটিন কর্মসূচির বাইরে ধাপে ধাপে সুনির্দিষ্ট এমন কর্মসূচি আসবে যেখানে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্যে দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে এবং এই সরকার সরে যেতে বাধ্য হবে।’ সূত্র ‍আমার সংবাদ

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

চূড়ান্ত ছকে মাঠে বিএনপি

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

গুম খুন মামলাÍ সব ঝুঁকি নিয়ে এবার সরকার পতনের চূড়ান্ত ছকে মাঠে বিএনপি। দেয়া হবে সরকারকে মরণকামড়। বিগত দেড় মাসে বিএনপির অর্ধশতাধিক সমাবেশে হামলা করা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন চারজন। নেতাকর্মীদের নামে প্রায় শতাধিক মামলার ঘটনা ঘটেছে। আটক হয়েছে কয়েকশ। আহত প্রায় দুই সহস্রাধিক। দলটির দপ্তরের ভাষ্যÍ ২০ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাত নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে।

গত বুধবার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের গুলিতে আহত গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী শাওন ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই ঘটনায় নয়া পল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে নামাজের জানাজা ও সারা দেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।

এদিকে চলতি সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা উত্তর সিটির বিগত নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বহু নেতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আক্রমণে আহত হন।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতিকালে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভুলতার পর এবার চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র এলাকায় বিএনপি ও যুবদলের পাঁচ নেতার বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ শক্তি নিয়ে মাঠে। কোনো আক্রমণ ভয়কে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্বাচন পর্যন্ত ছক করে দলটি রাজপথে নেমে পড়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৬টি স্থানে কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশ চলছে। এ ছাড়া সারা দেশেও এক সাথে সমাবেশ হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মীকে লাঠি নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করতে দেখা গেছে। প্রতিটি সমাবেশ জন সমুদ্রে রূপ নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে পল্লবী, উত্তরা ও বনানীতে সমাবেশ হয়েছে। সেখানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে দলটির নেতারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও সরকার কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে তারা বিচলিত হচ্ছে না।

দলটির হাইকমান্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও একাধিক নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগেই ওয়ার্মআপ সেরে ফেলছে যাতে অলআউট আন্দোলন সফল হয়। তবে এখনো আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কী হবে তা নিয়ে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিশ্লেষণ চলছে। আগামী বছরের জুন এবং জুলাই মাসকে টার্গেট করে নেয়া হচ্ছে সরকার পতনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ঢাকা শহরকে মূল কেন্দ্র ধরে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী লাগাতার আন্দোলনের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামবে দলটি। সেই সময় পর্যন্ত নেতাদের মাঠে রাখতে চলবে সিরিজ কর্মসূচি। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সরকারবিরোধী সকল গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

বিএনপির কর্মসূচির ওপর নজর রাখা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই বদলে গেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে তারা সরব থাকছেন রাজপথে। কেউ বলছেন ছাড় দেয়ার আর সময় নেই, যেখানেই আঘাত সেখানেই প্রতিরোধ। কেউবা দিচ্ছেন সরকার পতনের হুঙ্কার।

নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, চলমান কর্মসূচির গতি বাড়িয়ে এমন কঠোর জোরালো কর্মসূচি আসবে যেখানে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে।

যেমন খিলগাঁওতে সমাবেশের একদিন আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘সরকার যদি অনুমতি নাও দেন তবুও সমাবেশ করা হবে’। বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে। অবশেষে সেই সমাবেশের অনুমতি মেলে। বেলা ৩টার আগেই শত শত নেতাকর্মীর শোডাউন দেখা গেছে। উপস্থিতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন।

বিএনপি ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী শাওন ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার মারা যান। গত ৩১ জুলাই ভোলায় বিএনপির প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে নিহত হন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম। আর ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী শাওন।

এছাড়া গত ২২ আগস্ট থেকে বিএনপি ঘোষিত থানা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশে ৪০টির বেশি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া যশোরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মরহুম নেতা তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। ফেনীতে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সমস্ত হামলাকে বিএনপির দপ্তর নোটে রাখছে। সময় মতো সকল হামলা-মামালার জবাব দেয়া হবে বলেও নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এদিকে চলমান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি অন্য সমমনা দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিএনপি। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানাগেছে। ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গঠন করে দেয়া হবে যুগপৎ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের যেকোনো সময় এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বিজেপি, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন জাসদ, জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ও কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গেও প্রকাশ্যে সংলাপ করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে এসব দলের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ হয়েছে।

তবে অতীতের ভুলগুলোকে খুব সতর্কতার সাথে এবার মোকাবিলা করা হবে। যেমন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি জোটের আন্দোলনে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হরতাল-অবরোধে পুরো দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে টানা ৯৩ দিনের টানা হরতালে দেশ টালামাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেগুলোর কারণে বিএনপিকে অনেক চাপে পড়তে হয় দেশ বিদেশে। কুটনৈতিক মহল থেকেও নেতিবাচক বার্তা আসে দলটির ঘরে।

এবার আন্দোলন হবে। সরকারকে বাধাও দেয়া হবে তবে সব কিছুতে থাকবে কৌশল। ইতোমধ্যে দলটি গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছে। পেয়েছে সবুক সঙ্কেত। সেই আলোকে সতর্ক থেকে মাঠ দখলকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনের প্রেক্ষাপট কেমন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন আরো কঠিন হবে। এই সরকারকে আর ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বলে দেয় আমাদের কতটা প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি এবার মাঠে বাস্তবায়ন করব।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফায়সালা হবে রাজপথে’। এই রাজপথ থেকেই অবৈধ সরকারকে ধাক্কা দেবো আমরা। আমরা দেশের জনগণের সমর্থন আমাদের নেতাকর্মীদের শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গুলি, ভাঙচুর এবং হত্যা করে বিরোধী দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চায়। মাঠের ভেতরে একা থেকেই আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে চায়। এবার আর তা হবে না। আমরা এবার কোনোমতেই পরাজিত হবো না। কারণ, এবার বিজয় লাভ করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ আরেকটি পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। সে কারণে আবার তারা বিরোধী দলের ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলেছি। আমাদের এখনো কর্মসূচি চলছে। আমাদের শীর্ষ নেতাদের ওপরও হামলা হয়েছে। বিএনপির রুটিন কর্মসূচির বাইরে ধাপে ধাপে সুনির্দিষ্ট এমন কর্মসূচি আসবে যেখানে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্যে দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে এবং এই সরকার সরে যেতে বাধ্য হবে।’ সূত্র ‍আমার সংবাদ