ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তুলির শেষ আঁচড়, মণ্ডপে-মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

শরতের সাদা মেঘ আর নদীর কিনারে থাকা সাদা কাশফুলের দোলা আগে থেকে জানান দিচ্ছিল শারদীয় দুর্গাপূজা এসে গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের জন্য এখন কেবল অপেক্ষার প্রহর গোনা। আর ৬ দিন পরই শুরু হবে এই বৃহৎ উৎসব। ফলে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে ইতোমধ্যেই সাড়া পড়েছে পাড়ায় পাড়ায়। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ সময়ে প্রস্তুতি।

প্রতিমা শিল্পীরা দিনরাত ব্যস্ত প্রতিমা নির্মাণে। তারা মনের মাধুরি দিয়ে তৈরি করছেন দূর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি। তবে অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরি কাজ শেষ হয়ে যাওয়া শিল্পিরা মনের মাধুরি দিয়ে রং-তুলির আঁচড়ে রাঙাচ্ছেন দেবী দুর্গাকে।

এদিকে গত বছর দুর্গাপূজা চলাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মন্দির, মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এবারও ইতোমধ্যে কয়েকটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উদ্বিগ্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা পূজার সময় প্রতিটি মণ্ডপে অতিরিক্তি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো অনুরোধ জানিয়েছেন।

আগামী পহেলা অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আর ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ তা হবে।

অন্যদিকে এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পূর্বের ন্যায় বিশাল পরিসরে প্রাণোচ্ছলভাবে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ভক্তদের। পাশাপাশি পূজার কেনাকাটায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শুক্রবার রাজধানীর প্রতিটি মার্কেট-শপিংমলে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

এছাড়াও পূজা করতে প্রয়োজন পড়ে মোট ১০০টি উপকরণের। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার থেকে এসব উপকরণ জোগাড় করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দুধর্মাবলম্বীরাও এখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করেন।

সরজমিন শাঁখারীবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত এসব উপকরণ সামগ্রী বিক্রির জন্য রাস্তার ধারে ও গলিতে ছোট ছোট পসরা বসেছে। সেখানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষ কিনছেন উপকরণ।

বাংলাদেশ পূজো উদযাপন পরিষদ সূত্র জানায়, এবার সারাদেশে ছোটবড় ৩২ হাজার ১৬৮টি পুরো মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদী দুর্গাপূজা। আর মহানগরে ২৪২টি পূজা মন্দিরে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মহানগর দক্ষিণে ১৫৫টি ও উত্তরে ৮৭টি। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হবে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানায়। এখানে মোট পূজার সংখ্যা ২৫টি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সরজমিনে ঢাকার আদি ও দেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর এলাকা অলিতে-গলিতে চলছে পূজা উদযাপনের আয়োজন। সেখানে ছোট-বড় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণের কাজ। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় মণ্ডপের পাশে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। পাশাপাশি দেখা গেছে আয়োজকদের ব্যস্ততা। বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খানা-খন্দগুলোও। পূজামণ্ডপের জন্য প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততার শেষ নেই। সাধারণত পূজার চার মাস আগে থেকে তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির প্যান্ডেল নির্মাণ শ্রমিক বেলাল জানান, প্যান্ডেল তৈরি কাজ শেষের পথে। আজ দুই-তিন দিন পর পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

রাজধানীতে পূজা উদযাপনের সার্বিক বিষয়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘মহানগরে প্রত্যেকটা পূজা মন্দিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কয়েকটি মন্দিরে সামান্য কাজ বাকি আছে। আগামী দুই এক দিনে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।’
এবার সাম্প্রদায়িক হামলার শঙ্কা নেই সেটা বলব না। তবে এর মধ্যেই আমাদের সব ধর্মের সব মানুষকেই বাঁচতে হবে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবীদসহ সবাই চেষ্টা করেন এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে না ঘটে। তারপরও ঘটে থাকে।

পূজাকে ঘিরে এবার সাম্প্রদায়িক হামলার আশঙ্কা আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, এবার সাম্প্রদায়িক হামলার শঙ্কা নেই সেটা বলব না। তবে এর মধ্যেই আমাদের সব ধর্মের সব মানুষকেই বাঁচতে হবে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবীদসহ সবাই চেষ্টা করেন এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে না ঘটে। তারপরও ঘটে থাকে। এবারো ইতোমধ্যে ৭-৮টি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনা এড়ানোর জন্য নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আমরা চেষ্টা করছি, সরকারও চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন সবাই মিলে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিনে তৎপর রয়েছে। আমরাও সেই আশা-আকাঙ্খা নিয়ে বাঁচতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সম্প্রদায়িক অপশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেই প্রার্থনা আমরা করছি।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

তুলির শেষ আঁচড়, মণ্ডপে-মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি

প্রকাশের সময় : ০৯:২১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

শরতের সাদা মেঘ আর নদীর কিনারে থাকা সাদা কাশফুলের দোলা আগে থেকে জানান দিচ্ছিল শারদীয় দুর্গাপূজা এসে গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের জন্য এখন কেবল অপেক্ষার প্রহর গোনা। আর ৬ দিন পরই শুরু হবে এই বৃহৎ উৎসব। ফলে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে ইতোমধ্যেই সাড়া পড়েছে পাড়ায় পাড়ায়। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ সময়ে প্রস্তুতি।

প্রতিমা শিল্পীরা দিনরাত ব্যস্ত প্রতিমা নির্মাণে। তারা মনের মাধুরি দিয়ে তৈরি করছেন দূর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি। তবে অধিকাংশ মন্দিরেই প্রতিমা তৈরি কাজ শেষ হয়ে যাওয়া শিল্পিরা মনের মাধুরি দিয়ে রং-তুলির আঁচড়ে রাঙাচ্ছেন দেবী দুর্গাকে।

এদিকে গত বছর দুর্গাপূজা চলাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মন্দির, মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এবারও ইতোমধ্যে কয়েকটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উদ্বিগ্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা পূজার সময় প্রতিটি মণ্ডপে অতিরিক্তি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো অনুরোধ জানিয়েছেন।

আগামী পহেলা অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আর ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ তা হবে।

অন্যদিকে এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পূর্বের ন্যায় বিশাল পরিসরে প্রাণোচ্ছলভাবে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ভক্তদের। পাশাপাশি পূজার কেনাকাটায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শুক্রবার রাজধানীর প্রতিটি মার্কেট-শপিংমলে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

এছাড়াও পূজা করতে প্রয়োজন পড়ে মোট ১০০টি উপকরণের। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার থেকে এসব উপকরণ জোগাড় করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দুধর্মাবলম্বীরাও এখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করেন।

সরজমিন শাঁখারীবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত এসব উপকরণ সামগ্রী বিক্রির জন্য রাস্তার ধারে ও গলিতে ছোট ছোট পসরা বসেছে। সেখানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষ কিনছেন উপকরণ।

বাংলাদেশ পূজো উদযাপন পরিষদ সূত্র জানায়, এবার সারাদেশে ছোটবড় ৩২ হাজার ১৬৮টি পুরো মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদী দুর্গাপূজা। আর মহানগরে ২৪২টি পূজা মন্দিরে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মহানগর দক্ষিণে ১৫৫টি ও উত্তরে ৮৭টি। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হবে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানায়। এখানে মোট পূজার সংখ্যা ২৫টি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সরজমিনে ঢাকার আদি ও দেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর এলাকা অলিতে-গলিতে চলছে পূজা উদযাপনের আয়োজন। সেখানে ছোট-বড় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণের কাজ। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় মণ্ডপের পাশে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। পাশাপাশি দেখা গেছে আয়োজকদের ব্যস্ততা। বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খানা-খন্দগুলোও। পূজামণ্ডপের জন্য প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততার শেষ নেই। সাধারণত পূজার চার মাস আগে থেকে তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির প্যান্ডেল নির্মাণ শ্রমিক বেলাল জানান, প্যান্ডেল তৈরি কাজ শেষের পথে। আজ দুই-তিন দিন পর পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

রাজধানীতে পূজা উদযাপনের সার্বিক বিষয়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘মহানগরে প্রত্যেকটা পূজা মন্দিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কয়েকটি মন্দিরে সামান্য কাজ বাকি আছে। আগামী দুই এক দিনে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।’
এবার সাম্প্রদায়িক হামলার শঙ্কা নেই সেটা বলব না। তবে এর মধ্যেই আমাদের সব ধর্মের সব মানুষকেই বাঁচতে হবে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবীদসহ সবাই চেষ্টা করেন এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে না ঘটে। তারপরও ঘটে থাকে।

পূজাকে ঘিরে এবার সাম্প্রদায়িক হামলার আশঙ্কা আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, এবার সাম্প্রদায়িক হামলার শঙ্কা নেই সেটা বলব না। তবে এর মধ্যেই আমাদের সব ধর্মের সব মানুষকেই বাঁচতে হবে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবীদসহ সবাই চেষ্টা করেন এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে না ঘটে। তারপরও ঘটে থাকে। এবারো ইতোমধ্যে ৭-৮টি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনা এড়ানোর জন্য নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আমরা চেষ্টা করছি, সরকারও চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন সবাই মিলে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিনে তৎপর রয়েছে। আমরাও সেই আশা-আকাঙ্খা নিয়ে বাঁচতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় সম্প্রদায়িক অপশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেই প্রার্থনা আমরা করছি।