ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এক সাঁকোতে হাজার মানুষের মুখে হাসি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওলজানি ও ছোটভাকলা এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতো দুই গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। তবে এখন আর তাদের কষ্ট করে নৌকায় পারাপার হতে হয় না। গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সীর আর্থিক সহযোগিতায় দুই গ্রামের মাঝে মরা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি বাঁশের সাঁকো। এতে কয়েক হাজার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওলজানি ও ছোট ভাকলা এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মরা পদ্মা নদী। এই মরা পদ্মা নদীর উভয় পাড়েই কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। সাঁকো না থাকায় উভয় পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। বর্ষার সময় ভরা নদীতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ নৌকায় পার হতো তেমনি শুকনো মৌসুমে অল্প পানিতে নৌকা চলত না। এতে করে শিশুসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নদী পার হতে ভোগান্তি পোহাতে হতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, মরা পদ্মার পূর্ব পাশে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ছোট কাওয়ালজানি গ্রাম। পশ্চিম পাশে ছোটভাকলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এই দুই ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কে মরা পদ্মা নদীর ওপর ৫ ফুট প্রস্থ এবং ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরছে উভয় পাড়ের মানুষের মাঝে।

কাওলজানি এলাকার বাসিন্দা এতেম আলী মন্ডল বলেন, কয়েক যুগ ধরেই এখানকার বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতো। অনেক সময় জরুরি কাজের জন্য নৌকা পাওয়া যেত না। তখন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হতো। আবার শুকনা মৌসুমে নৌকা চলাচল করত না। তখন কাঁদার মধ্যে হেঁটে পারাপার করতে হতো। তবে এখন বাঁশের সাঁকো হওয়ায় এই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট লাঘব হয়েছে।

স্কুল শিক্ষার্থী সবুজ মন্ডল বলে, নদী পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে আমাদের স্কুলে যেতে হতো। অনেক সময় নৌকার অভাবে ঠিক সময়ে স্কুল পৌঁছাতে পারতাম না। আবার শুকনো মৌসুমে কাঁদা ভেঙে আমাদের স্কুলে যেতে হতো। তবে এখন বাশেঁর সাঁকো হওয়াতে আমরা সহজেই যাতায়াত করতে পারছি।

দেবগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক মন্ডল বলেন, আমাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী এবং দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম সহযোগিতা করেছেন এবং আমরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেছি। সেতুটি নির্মাণের ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। এছাড়া বিশেষ করে নারীদের চলাচল অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিলে এই বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে এখানেই শেষ নয়, আমি চেষ্টা করব আগামীতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী বলেন, জনগণের কষ্ট ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আপাতত একটা বাঁশের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এখানে নদী শাসন করে পাতা সেতুর ব্যবস্থা করা হবে। আমি সব সময় তাদের সেবক হয়ে সেবা করতে চাই।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

এক সাঁকোতে হাজার মানুষের মুখে হাসি

প্রকাশের সময় : ০৯:২০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওলজানি ও ছোটভাকলা এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতো দুই গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। তবে এখন আর তাদের কষ্ট করে নৌকায় পারাপার হতে হয় না। গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সীর আর্থিক সহযোগিতায় দুই গ্রামের মাঝে মরা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি বাঁশের সাঁকো। এতে কয়েক হাজার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওলজানি ও ছোট ভাকলা এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মরা পদ্মা নদী। এই মরা পদ্মা নদীর উভয় পাড়েই কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। সাঁকো না থাকায় উভয় পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। বর্ষার সময় ভরা নদীতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ নৌকায় পার হতো তেমনি শুকনো মৌসুমে অল্প পানিতে নৌকা চলত না। এতে করে শিশুসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নদী পার হতে ভোগান্তি পোহাতে হতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, মরা পদ্মার পূর্ব পাশে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ছোট কাওয়ালজানি গ্রাম। পশ্চিম পাশে ছোটভাকলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এই দুই ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কে মরা পদ্মা নদীর ওপর ৫ ফুট প্রস্থ এবং ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরছে উভয় পাড়ের মানুষের মাঝে।

কাওলজানি এলাকার বাসিন্দা এতেম আলী মন্ডল বলেন, কয়েক যুগ ধরেই এখানকার বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতো। অনেক সময় জরুরি কাজের জন্য নৌকা পাওয়া যেত না। তখন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হতো। আবার শুকনা মৌসুমে নৌকা চলাচল করত না। তখন কাঁদার মধ্যে হেঁটে পারাপার করতে হতো। তবে এখন বাঁশের সাঁকো হওয়ায় এই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কষ্ট লাঘব হয়েছে।

স্কুল শিক্ষার্থী সবুজ মন্ডল বলে, নদী পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে আমাদের স্কুলে যেতে হতো। অনেক সময় নৌকার অভাবে ঠিক সময়ে স্কুল পৌঁছাতে পারতাম না। আবার শুকনো মৌসুমে কাঁদা ভেঙে আমাদের স্কুলে যেতে হতো। তবে এখন বাশেঁর সাঁকো হওয়াতে আমরা সহজেই যাতায়াত করতে পারছি।

দেবগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক মন্ডল বলেন, আমাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী এবং দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম সহযোগিতা করেছেন এবং আমরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেছি। সেতুটি নির্মাণের ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। এছাড়া বিশেষ করে নারীদের চলাচল অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিলে এই বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে এখানেই শেষ নয়, আমি চেষ্টা করব আগামীতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী বলেন, জনগণের কষ্ট ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আপাতত একটা বাঁশের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এখানে নদী শাসন করে পাতা সেতুর ব্যবস্থা করা হবে। আমি সব সময় তাদের সেবক হয়ে সেবা করতে চাই।