ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বেড়েছে সবজির দাম

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে বাড়ছে সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগরীতে সিংহভাগ সবজি আসে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। কিন্তু বর্তমান ওইসব জেলা থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দামের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ছে।

শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩৫ টাকা। আর হাঁসের ডিমের দাম ১৬৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজির বাজারে বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা আর চিকন বেগুন ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

প্রতি আঁটি লাল শাক ২৫ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা আর পুই শাক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। এছাড়াও প্রতি পিস লাউ ৬০-৭০ টাকা আর জালি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শাক-সবজির মতো মাছের দামও বাড়তি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা, শিং মাছ আকার ভেদে ৫০০-৭৫০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৬০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের খুচরা বাজারে আটাশ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৫৫ টাকা, স্বর্ণ ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মোটা ডালের কেজি ১১০ টাকা, চিকন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা আর আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বেটারি গলির সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শাকিল ইসলাম বলেন, পাইাকারি আড়তে শুনেছি আগের মতো সবজি আসছে না। তাই দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কমে গেলে আমরা কম দামে সবজি বিক্রি করি।

এম এম হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেন, শুধু সবজির বাজার বলে কথা নয়, বাজারে এখন প্রত্যেকটি ভোগ্যপণ্যের দামই চড়া। যেভাবে খরচ বেড়েছে, সেভাবে কারো আয় বাড়েনি। এতে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজনকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে। আমাদের দেশে কেবল রমজান মাস আসলে বাজারে কিছুটা মনিটরিং হয়। এরপর সারা বছর আর কোনো খবর থাকে না। সেই সুযোগটাই ব্যবসায়ীরা সব সময় নেয়।

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বেড়েছে সবজির দাম

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে বাড়ছে সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগরীতে সিংহভাগ সবজি আসে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। কিন্তু বর্তমান ওইসব জেলা থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দামের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ছে।

শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩৫ টাকা। আর হাঁসের ডিমের দাম ১৬৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজির বাজারে বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা আর চিকন বেগুন ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

প্রতি আঁটি লাল শাক ২৫ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা আর পুই শাক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। এছাড়াও প্রতি পিস লাউ ৬০-৭০ টাকা আর জালি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শাক-সবজির মতো মাছের দামও বাড়তি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা, শিং মাছ আকার ভেদে ৫০০-৭৫০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৬০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের খুচরা বাজারে আটাশ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৫৫ টাকা, স্বর্ণ ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মোটা ডালের কেজি ১১০ টাকা, চিকন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা আর আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বেটারি গলির সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শাকিল ইসলাম বলেন, পাইাকারি আড়তে শুনেছি আগের মতো সবজি আসছে না। তাই দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কমে গেলে আমরা কম দামে সবজি বিক্রি করি।

এম এম হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেন, শুধু সবজির বাজার বলে কথা নয়, বাজারে এখন প্রত্যেকটি ভোগ্যপণ্যের দামই চড়া। যেভাবে খরচ বেড়েছে, সেভাবে কারো আয় বাড়েনি। এতে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজনকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে। আমাদের দেশে কেবল রমজান মাস আসলে বাজারে কিছুটা মনিটরিং হয়। এরপর সারা বছর আর কোনো খবর থাকে না। সেই সুযোগটাই ব্যবসায়ীরা সব সময় নেয়।