ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গিলছে সাগর গিলছে দখলদার

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানের করুণ দশা। সমুদ্র ক্রমেই গ্রাস করছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার এ উদ্যানকে। দখলদাররাও তৎপর ভূমি দখলে। এখন পর্যন্ত যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা দখলদারদের কারণে ও প্রাকৃতিক কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানের এমন দশায় হতাশ এলাকাবাসী, পর্যটক, পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। হতাশ দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোও। উপকূলবাসীর রক্ষাকবচ প্রকৃতির দেয়াল হিসেবেখ্যাত এ উদ্যান রক্ষার তাগিদ সবার।

বন বিভাগ জানায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা লতাচাপলী, খাজুরার লেম্বুর বন, ফাতরার বন, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতিতে ইকোপার্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে ১৩ হাজার ৯৮৪ একর জমিতে বনায়নের কাজ শুরু হয়। উপকূলীয় বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিল ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। পরে উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং কুয়াকাটা পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ৬১৩ হেক্টর জমি নিয়ে গঙ্গামতি ইকোপার্ককে ‘কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তুলতে সেখানে রোপণ করা হয় কেওড়া, বাইন, পশুর, ঝাউ, আকাশমণি, কড়ই, জাম, মেহগিনি, শিমুল, তেঁতুল, ছাতিয়ান, অর্জুন, নিম, কদম, ছন, মান্দার, হিজল, বাঁশ, বট, সোনালু, আসামলতা, স্বর্ণলতা, নারিকেল, তাল, খেজুর, আমলকী, উরিআম, পেয়ারা, লেবু, শরিফা, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ ৪২ হাজার গাছ লাগানো হয়।

উদ্যানে ছিল বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর, শূকর, সজারু, শিয়াল, বাদুড়, বেজি, গুইসাপ, অজগর, কাঠবিড়ালি; ছিল হলদে পাখি, বাবুই, পেঁচা, বউ কথা কও, চিল, শালিক, শ্যামা, টুনটুনি, ঘুঘু, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, দোয়েল, প্যাঁচা ও বুলবুলি। এসব প্রজাতির প্রাণী ও পাখি পর্যটকদের বিমোহিত করত। গাছে গাছে ছিল পাখিদের অভয়াশ্রম। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনোরম চারণভূমি ছিল এই উদ্যান।

উদ্যানে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীরসহ প্রবেশদ্বার, পাঁচটি পিকনিক শেড, পিকনিক স্পট, রান্নাঘর, গোলঘর, কাঠের সেতু, ঘাটলা, বেশ কয়েকটি বক্স ও পাইপ কালভার্ট; নির্মাণ করা হয় জেটি, শোভাবর্ধনের জন্য বাগান, তাতে বসানো হয় বেঞ্চ ও স্থায়ী ছাতা; পাবলিক টয়লেট, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, টিউবওয়েল বসানো হয় এবং স্থাপন করা হয় টিকিট কাউন্টার ও অফিস ঘর। উদ্যানের মধ্যে লেকে প্যাডেল-বোট দেওয়া হয়। ফিডার রোড, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হয়, মেঠোপথ প্রশস্তকরণসহ কার পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলা হয়।

২০০৭ সালে সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানে। এরপর আইলা, রোয়ানু, আম্পান, ফণি, ইয়াস প্রভৃতি ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ লন্ডভন্ড করে দেয় প্রাকৃতিক দেয়ালখ্যাত এ উদ্যানকে। বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আড়াই লাখের বেশি গাছসহ উদ্যানের চার ভাগের তিন ভাগ জমি সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের ঝাপটায় প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে প্রায় ১০০ একর জমি ও বন।

সম্প্র্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উদ্যানের আশপাশে শুধুই ধ্বংস স্তূপ। কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান নামাঙ্কিত প্রবেশদ্বার ও টিকিট ঘরের ভগ্নদশা, ভগ্নদশা নিয়ে সীমানা প্রাচীর দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঝাউগাছসহ নানা প্রজাতির ফলদ-বনজ গাছ। বালিয়াড়িতে পড়ে আছে কংক্রিটের গোলঘর, পিকনিক শেড, পানির ট্যাঙ্ক, কালভার্টের ভাঙা অংশ। সাগর গিলে খেয়েছে সাজানো লেকটির অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট স্থাপনা। তারপরও প্রতিদিন কুয়াকাটায় আসা শত শত পর্যটক-দর্শনার্থী ভগ্নদশার এ ইকোপার্কে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন হারানো সেই মনোরম প্রকৃতি, তার রূপ।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করে জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল ধাবা তো রয়েছেই, ভূমিদস্যুদের গ্রাস থেকেও রেহাই পায়নি কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। দখলকারীরা গাছ কেটে দখলে নিয়েছে উদ্যানের ২৯৩ একর জমি। ৫৬ জন দখলকারীর দখলে রয়েছে এ ভূমি। তারা উদ্যানের প্রধান ফটকটি পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে একশ্রেণির অসাধু বন-কর্মচারীর ‘প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতায়’ দখলদাররা সেই জমিতে পাকা, আধা-পাকা ঘর বানিয়ে বাস করছে। আবাদি বানিয়ে জমি চাষ করছে। অনেকে এসব জমির ভুয়া কাগজ তৈরি করে প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রিও করেছে। বিক্রির পাঁয়তারা করছে কেউ।

পর্যটন ব্যবসায়ী আরিফ সুমন বলেন, ‘কুয়াকাটা যেভাবে ভাঙছে তাতে স্থানীয়রা এবং বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত। সৈকত ও তার লাগোয়া বনভূমি রক্ষায় দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। জলোচ্ছ্বাসপ্রতিরোধী ও লবণসহিষ্ণু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কলাপাড়ার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস সরাসরি লোকালয়ে আঘাত হানবে। এতে জীবন ও সম্পদহানির ঝুঁকি বাড়বে।’

কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় তারা উদ্যোগ নিয়েছে।’

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘ইকোপার্কের দুই-তৃতীয়াংশ সাগরে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বনাঞ্চল রক্ষায় দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা না নিলে সৈকতলাগোয়া ১ হাজার ৩০০ একর ভূমিসহ বন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দখলকারীদের কাছ থেকে কিছু জমি উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাকি জমি দ্রুতই উদ্ধার করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘জিও টিউব ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতিবাচক প্রচারণা থাকায় আপাতত এ উদ্যোগ থেকে সরে আসা হয়েছে। তবে আরও উন্নত ও টেকসই পরিকল্পনা করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

গিলছে সাগর গিলছে দখলদার

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানের করুণ দশা। সমুদ্র ক্রমেই গ্রাস করছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার এ উদ্যানকে। দখলদাররাও তৎপর ভূমি দখলে। এখন পর্যন্ত যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা দখলদারদের কারণে ও প্রাকৃতিক কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানের এমন দশায় হতাশ এলাকাবাসী, পর্যটক, পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। হতাশ দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোও। উপকূলবাসীর রক্ষাকবচ প্রকৃতির দেয়াল হিসেবেখ্যাত এ উদ্যান রক্ষার তাগিদ সবার।

বন বিভাগ জানায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা লতাচাপলী, খাজুরার লেম্বুর বন, ফাতরার বন, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতিতে ইকোপার্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে ১৩ হাজার ৯৮৪ একর জমিতে বনায়নের কাজ শুরু হয়। উপকূলীয় বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিল ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। পরে উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং কুয়াকাটা পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ৬১৩ হেক্টর জমি নিয়ে গঙ্গামতি ইকোপার্ককে ‘কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তুলতে সেখানে রোপণ করা হয় কেওড়া, বাইন, পশুর, ঝাউ, আকাশমণি, কড়ই, জাম, মেহগিনি, শিমুল, তেঁতুল, ছাতিয়ান, অর্জুন, নিম, কদম, ছন, মান্দার, হিজল, বাঁশ, বট, সোনালু, আসামলতা, স্বর্ণলতা, নারিকেল, তাল, খেজুর, আমলকী, উরিআম, পেয়ারা, লেবু, শরিফা, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ ৪২ হাজার গাছ লাগানো হয়।

উদ্যানে ছিল বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর, শূকর, সজারু, শিয়াল, বাদুড়, বেজি, গুইসাপ, অজগর, কাঠবিড়ালি; ছিল হলদে পাখি, বাবুই, পেঁচা, বউ কথা কও, চিল, শালিক, শ্যামা, টুনটুনি, ঘুঘু, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, দোয়েল, প্যাঁচা ও বুলবুলি। এসব প্রজাতির প্রাণী ও পাখি পর্যটকদের বিমোহিত করত। গাছে গাছে ছিল পাখিদের অভয়াশ্রম। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনোরম চারণভূমি ছিল এই উদ্যান।

উদ্যানে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীরসহ প্রবেশদ্বার, পাঁচটি পিকনিক শেড, পিকনিক স্পট, রান্নাঘর, গোলঘর, কাঠের সেতু, ঘাটলা, বেশ কয়েকটি বক্স ও পাইপ কালভার্ট; নির্মাণ করা হয় জেটি, শোভাবর্ধনের জন্য বাগান, তাতে বসানো হয় বেঞ্চ ও স্থায়ী ছাতা; পাবলিক টয়লেট, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, টিউবওয়েল বসানো হয় এবং স্থাপন করা হয় টিকিট কাউন্টার ও অফিস ঘর। উদ্যানের মধ্যে লেকে প্যাডেল-বোট দেওয়া হয়। ফিডার রোড, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হয়, মেঠোপথ প্রশস্তকরণসহ কার পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলা হয়।

২০০৭ সালে সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানে। এরপর আইলা, রোয়ানু, আম্পান, ফণি, ইয়াস প্রভৃতি ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ লন্ডভন্ড করে দেয় প্রাকৃতিক দেয়ালখ্যাত এ উদ্যানকে। বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আড়াই লাখের বেশি গাছসহ উদ্যানের চার ভাগের তিন ভাগ জমি সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের ঝাপটায় প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে প্রায় ১০০ একর জমি ও বন।

সম্প্র্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উদ্যানের আশপাশে শুধুই ধ্বংস স্তূপ। কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান নামাঙ্কিত প্রবেশদ্বার ও টিকিট ঘরের ভগ্নদশা, ভগ্নদশা নিয়ে সীমানা প্রাচীর দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ঝাউগাছসহ নানা প্রজাতির ফলদ-বনজ গাছ। বালিয়াড়িতে পড়ে আছে কংক্রিটের গোলঘর, পিকনিক শেড, পানির ট্যাঙ্ক, কালভার্টের ভাঙা অংশ। সাগর গিলে খেয়েছে সাজানো লেকটির অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট স্থাপনা। তারপরও প্রতিদিন কুয়াকাটায় আসা শত শত পর্যটক-দর্শনার্থী ভগ্নদশার এ ইকোপার্কে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন হারানো সেই মনোরম প্রকৃতি, তার রূপ।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করে জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল ধাবা তো রয়েছেই, ভূমিদস্যুদের গ্রাস থেকেও রেহাই পায়নি কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। দখলকারীরা গাছ কেটে দখলে নিয়েছে উদ্যানের ২৯৩ একর জমি। ৫৬ জন দখলকারীর দখলে রয়েছে এ ভূমি। তারা উদ্যানের প্রধান ফটকটি পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে একশ্রেণির অসাধু বন-কর্মচারীর ‘প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতায়’ দখলদাররা সেই জমিতে পাকা, আধা-পাকা ঘর বানিয়ে বাস করছে। আবাদি বানিয়ে জমি চাষ করছে। অনেকে এসব জমির ভুয়া কাগজ তৈরি করে প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রিও করেছে। বিক্রির পাঁয়তারা করছে কেউ।

পর্যটন ব্যবসায়ী আরিফ সুমন বলেন, ‘কুয়াকাটা যেভাবে ভাঙছে তাতে স্থানীয়রা এবং বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত। সৈকত ও তার লাগোয়া বনভূমি রক্ষায় দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। জলোচ্ছ্বাসপ্রতিরোধী ও লবণসহিষ্ণু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কলাপাড়ার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস সরাসরি লোকালয়ে আঘাত হানবে। এতে জীবন ও সম্পদহানির ঝুঁকি বাড়বে।’

কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় তারা উদ্যোগ নিয়েছে।’

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘ইকোপার্কের দুই-তৃতীয়াংশ সাগরে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বনাঞ্চল রক্ষায় দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা না নিলে সৈকতলাগোয়া ১ হাজার ৩০০ একর ভূমিসহ বন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দখলকারীদের কাছ থেকে কিছু জমি উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাকি জমি দ্রুতই উদ্ধার করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘জিও টিউব ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতিবাচক প্রচারণা থাকায় আপাতত এ উদ্যোগ থেকে সরে আসা হয়েছে। তবে আরও উন্নত ও টেকসই পরিকল্পনা করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’