ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাঁচবিবিতে গো-খাদ্যের সংকট

কৃষকের মাঠ এখন আমন-বোরো ধান ও আগাম জাতের বিভিন্ন রবি সবজিতে ভরপুর। ফাঁকা কোন জায়গা না থাকায় বিপাকে আছে গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই। কৃষক তাদের ফসল কাটার পর ফাঁকা মাঠে গরু-ছাগলের পাল ঘাস খায়। মাঠ ভর্তি ফসল থাকায় এখন সম্ভব হচ্ছেনা। ধানের খড় আর অধিক দামের বিদেশী জাতের ঘাস এখন একমাত্র গো-খাদ্য। গো-খাদ্য হিসাবে বাজারে যোগ হয়েছে আগাম জাতের জিরা ধানের খড়।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বাজারেরর ১নং রেলগেট এলাকায় জিরা ধানের খড় বিক্রয় করতে দেখাযায়। উপজেলার বীরনগর এলাকার ফারুক, রুহুল আমিন ও শাহিন কৃষকের জিরা ধানের খড় ক্রয় করে বাজারে বিক্রয় করছেন। বছরের অন্য সময় তারা বিদেশী জাতের ঘাস বাজারে বিক্রয় করেন।

ফারুক বলেন, অনেক কৃষকের পাশাপাশি ইটভাটা মালিকরা ভাটার ফাঁকা জায়গায় আগাম জাতের এ ধানচাষ করেন। কৃষকের নিকট থেকে ১ বিঘা জমির খড় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় ক্রয় করে তারা। জমির মালিককে ধান কেটে মাড়াই পর্যন্ত করে দিতে হয়। খড়ের দাম, কাটা মাড়াই ও ভ্যানে করে বাজারে নিতে সবমিলে বিঘা প্রতি খড়ের মূল্য প্রায় ৫ হাজার দাঁড়ায়। বিদেশি ঘাসের চেয়ে একটু দাম কম এবং কাঁচা হওয়ায় বিশেষ করে দুধের গাভী মালিকরা এ খড়গুলো কিনছেন বলে জানান শাহিন।

পাঁচবিবি শহরের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাবু বলেন, বাসায় আমার বিদেশী ২টি গাভী আছে। গাভীগুলোর জন্য প্রতিদিন একশ টাকার বিদেশী ঘাস লাগে। জিরা ধানের খড়গুলো কাঁচা ও টাটকা হওয়ায় আজকে ক্রয় করলাম।

উপজেলার রতনপুর এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম আকুল বলেন, আমার ছোটবড় ৬টা গরু আছে। গরুকে খাওয়ায়ে বেশকিছু দিন আগে পালার খড় শেষ হয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে বিদেশী ঘাস ক্রয় করে খাওয়াচ্ছি। পাঁচবিবি বাজারে জিরা ধানের খড় ক্রয় করতে এসেছি বিদেশী ঘাসের চেয়ে একটু দাম কম হওয়ায়।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর বলেন, ধানের খড় কাঁচার চেয়ে শুকিয়ে খাওয়ান ভালো। কাঁচা খড় খাওয়ালে বিশেষ করে গাভির পেটের পিড়াসহ নানান রোগ দেখাদেয়। খড়ের পুষ্টিগুণ কাঁচা এবং শুকনো অবস্থায় একই থাকে বলে জানান ডা. কাযমীর।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

পাঁচবিবিতে গো-খাদ্যের সংকট

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

কৃষকের মাঠ এখন আমন-বোরো ধান ও আগাম জাতের বিভিন্ন রবি সবজিতে ভরপুর। ফাঁকা কোন জায়গা না থাকায় বিপাকে আছে গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই। কৃষক তাদের ফসল কাটার পর ফাঁকা মাঠে গরু-ছাগলের পাল ঘাস খায়। মাঠ ভর্তি ফসল থাকায় এখন সম্ভব হচ্ছেনা। ধানের খড় আর অধিক দামের বিদেশী জাতের ঘাস এখন একমাত্র গো-খাদ্য। গো-খাদ্য হিসাবে বাজারে যোগ হয়েছে আগাম জাতের জিরা ধানের খড়।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বাজারেরর ১নং রেলগেট এলাকায় জিরা ধানের খড় বিক্রয় করতে দেখাযায়। উপজেলার বীরনগর এলাকার ফারুক, রুহুল আমিন ও শাহিন কৃষকের জিরা ধানের খড় ক্রয় করে বাজারে বিক্রয় করছেন। বছরের অন্য সময় তারা বিদেশী জাতের ঘাস বাজারে বিক্রয় করেন।

ফারুক বলেন, অনেক কৃষকের পাশাপাশি ইটভাটা মালিকরা ভাটার ফাঁকা জায়গায় আগাম জাতের এ ধানচাষ করেন। কৃষকের নিকট থেকে ১ বিঘা জমির খড় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় ক্রয় করে তারা। জমির মালিককে ধান কেটে মাড়াই পর্যন্ত করে দিতে হয়। খড়ের দাম, কাটা মাড়াই ও ভ্যানে করে বাজারে নিতে সবমিলে বিঘা প্রতি খড়ের মূল্য প্রায় ৫ হাজার দাঁড়ায়। বিদেশি ঘাসের চেয়ে একটু দাম কম এবং কাঁচা হওয়ায় বিশেষ করে দুধের গাভী মালিকরা এ খড়গুলো কিনছেন বলে জানান শাহিন।

পাঁচবিবি শহরের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাবু বলেন, বাসায় আমার বিদেশী ২টি গাভী আছে। গাভীগুলোর জন্য প্রতিদিন একশ টাকার বিদেশী ঘাস লাগে। জিরা ধানের খড়গুলো কাঁচা ও টাটকা হওয়ায় আজকে ক্রয় করলাম।

উপজেলার রতনপুর এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম আকুল বলেন, আমার ছোটবড় ৬টা গরু আছে। গরুকে খাওয়ায়ে বেশকিছু দিন আগে পালার খড় শেষ হয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে বিদেশী ঘাস ক্রয় করে খাওয়াচ্ছি। পাঁচবিবি বাজারে জিরা ধানের খড় ক্রয় করতে এসেছি বিদেশী ঘাসের চেয়ে একটু দাম কম হওয়ায়।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর বলেন, ধানের খড় কাঁচার চেয়ে শুকিয়ে খাওয়ান ভালো। কাঁচা খড় খাওয়ালে বিশেষ করে গাভির পেটের পিড়াসহ নানান রোগ দেখাদেয়। খড়ের পুষ্টিগুণ কাঁচা এবং শুকনো অবস্থায় একই থাকে বলে জানান ডা. কাযমীর।