ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ

নতুন ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত শিশুরা

ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা ফারজানা আঁখি খেয়াল করলেন তার তিন বছর বয়সি ছেলের মুখে ঘা হয়েছে। কিছু খেতে পারছে না। শরীরেও একটা-দুটো করে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। তিনি শুরুতে ভেবেছিলেন জলবসন্ত। পরদিন হাতে ও পায়ে ফুসকুড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। এর তিন-চার দিন পর শিশুটির উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। তখন চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এর লক্ষণগুলোর সঙ্গে জলবসন্তের মিল রয়েছে। তবে এটি আসলে হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ। অনেক সময় এটিকে জলবসন্তের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন অনেক অভিভাবক। এমনকি চিকিৎসকরাও অনেক সময় এ ভুল করে থাকেন।

শিশু চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ছোঁয়াচে এবং মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে বড়দেরও হতে পারে। দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশু এমনিতেই সেরে ওঠে। রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ অন্যান্য দেশে হলেও বাংলাদেশে খুব একটা হয়নি। গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে শিশুরা হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অনেক শিশু রোগী আসছে। চিকিৎসকদের চেম্বারেও শিশু রোগীদের বেশিরভাগ এ রোগে আক্রান্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসির তথ্যমতে এটি ছোঁয়াচে এবং আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহে বেশি ছড়ায়। রোগীর শরীরের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ, আক্রান্ত হওয়ার পর গোটা থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ, হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে যে ‘ড্রপলেট’ ছড়ায়, মুখের লালা, সর্দি, মলের মাধ্যমে এর সংক্রমণ হতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম সময়ের আলোকে বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজে গলা ব্যথা, জ্বর এবং খাবারে অরুচি প্রথম দিকের উপসর্গ। এর কয়েক দিন পর মুখ ও জিহ্বায় ঘায়ের মতো ফুসকুড়ি হয়, যাতে ব্যথা হতে পারে, খেতে কষ্ট হতে পারে। শিশু এবং বড়দের একই রকম লক্ষণ থাকে। তবে পাঁচ বছরের নিচের বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো বেশি কষ্টদায়ক হয়ে থাকে। অসুখটি একাধিকবার হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ অসুখের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক অথবা ওষুধ নেই। সাধারণত সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অসুখটি সেরে যায়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রেও শুধু প্যারাসিটামল আর চুলকানির জন্য সঙ্গে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে বলা হয়।

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ এবং জলবসন্ত দুটোই ভাইরাসজনিত অসুখ। সাধারণত বর্ষার সময় এটি বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে অসুখটি কম হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রচুর তরল খাওয়া, ঢিলাঢালা কাপড় পরানো, যাতে গোটাগুলোর সঙ্গে ঘষা না খায়। হাতের নখ কেটে ফেলা এবং শিশু হলে হাতে মোজা পরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে চুলকাতে গিয়ে গোটাগুলোর আরও খারাপ অবস্থা না হয়।’ এটি তীব্র ছোঁয়াছে, তাই আক্রান্ত শিশুকে যতটুকু পারা যায় আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ

নতুন ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত শিশুরা

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঢাকার ওয়ারীর বাসিন্দা ফারজানা আঁখি খেয়াল করলেন তার তিন বছর বয়সি ছেলের মুখে ঘা হয়েছে। কিছু খেতে পারছে না। শরীরেও একটা-দুটো করে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। তিনি শুরুতে ভেবেছিলেন জলবসন্ত। পরদিন হাতে ও পায়ে ফুসকুড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। এর তিন-চার দিন পর শিশুটির উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। তখন চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এর লক্ষণগুলোর সঙ্গে জলবসন্তের মিল রয়েছে। তবে এটি আসলে হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ। অনেক সময় এটিকে জলবসন্তের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন অনেক অভিভাবক। এমনকি চিকিৎসকরাও অনেক সময় এ ভুল করে থাকেন।

শিশু চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ছোঁয়াচে এবং মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে বড়দেরও হতে পারে। দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশু এমনিতেই সেরে ওঠে। রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ অন্যান্য দেশে হলেও বাংলাদেশে খুব একটা হয়নি। গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে শিশুরা হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অনেক শিশু রোগী আসছে। চিকিৎসকদের চেম্বারেও শিশু রোগীদের বেশিরভাগ এ রোগে আক্রান্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসির তথ্যমতে এটি ছোঁয়াচে এবং আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহে বেশি ছড়ায়। রোগীর শরীরের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ, আক্রান্ত হওয়ার পর গোটা থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ, হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে যে ‘ড্রপলেট’ ছড়ায়, মুখের লালা, সর্দি, মলের মাধ্যমে এর সংক্রমণ হতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম সময়ের আলোকে বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজে গলা ব্যথা, জ্বর এবং খাবারে অরুচি প্রথম দিকের উপসর্গ। এর কয়েক দিন পর মুখ ও জিহ্বায় ঘায়ের মতো ফুসকুড়ি হয়, যাতে ব্যথা হতে পারে, খেতে কষ্ট হতে পারে। শিশু এবং বড়দের একই রকম লক্ষণ থাকে। তবে পাঁচ বছরের নিচের বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো বেশি কষ্টদায়ক হয়ে থাকে। অসুখটি একাধিকবার হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ অসুখের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক অথবা ওষুধ নেই। সাধারণত সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অসুখটি সেরে যায়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রেও শুধু প্যারাসিটামল আর চুলকানির জন্য সঙ্গে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে বলা হয়।

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ এবং জলবসন্ত দুটোই ভাইরাসজনিত অসুখ। সাধারণত বর্ষার সময় এটি বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে অসুখটি কম হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রচুর তরল খাওয়া, ঢিলাঢালা কাপড় পরানো, যাতে গোটাগুলোর সঙ্গে ঘষা না খায়। হাতের নখ কেটে ফেলা এবং শিশু হলে হাতে মোজা পরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে চুলকাতে গিয়ে গোটাগুলোর আরও খারাপ অবস্থা না হয়।’ এটি তীব্র ছোঁয়াছে, তাই আক্রান্ত শিশুকে যতটুকু পারা যায় আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।