ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফ্যাট সব সময় ক্ষতিকর নয়

সুষম খাদ্যের অভাবে যেমন রোগবালাই দেখা দিতে পারে, তেমনি অতি ভোজন রোগবালাই ডেকে আনতে পারে। ভোজন বিলাসী কেউ যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে তাহলে তা এক সময় বিপদ ডেকে আনবে। চর্বিদার খাসী বা গরুর গোশত, ঘি ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাদ্য দিনের পর দিন অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীরে অবাঞ্ছিত মেদ, যা ভুঁড়িতেও জমা হয়। অপ্রয়োজনীয় খাবার বেশি খেলে মেদ বৃদ্ধিজনিত আপদ শরীরে আছর করে বসে। এটা একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় অন্যদিকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বৃদ্ধ বয়সে ফ্যাট বা চর্বির প্রয়োজন কমে যায়। এ বয়সে ভোজন রসিক হওয়া আরও মারাত্মক। বৃদ্ধ বয়সে চর্বি গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুতরাং আসুন পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি ও অতিরিক্ত বা বাহুল্য খাবার বর্জন করে পরিমিত আহার করি এবং সুস্বাস্থ্য লাভ করি।

আমাদের দেশে শহর-নগরের লোক আজকাল অত্যন্ত স্বাস্থ্যসচেতন। টিভি ও পত্রপত্রিকায় অধুনা মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে বেশ লেখালেখি করা হয় যা ইতিবাচক। মানুষ দিন দিন স্বাস্থ্যসচেতন হওয়াতে আমাদের আয়ুষ্কাল বেড়েছে। এটি একটি উত্তম দিক। ফ্যাট বা চর্বি সম্পর্কে বেশির ভাগ লোকের নেতিবাচক ধারণা। কিন্তু সব সময় চর্বি বা ফ্যাট খারাপ নয়। চর্বি দুই প্রকার এইচডিএল ও এলডিএল। এইচডিএল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এলডিএল ক্ষতিকর। ভুলে গেলে চলবে না যে, শরীরে পরিমাণমতো চর্বি প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, চর্বি আমাদের শক্তি জোগায়। সুন্দর চুল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চর্বির প্রয়োজন আছে। ফ্যাট আমাদের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত ও কিডনিকে সুরক্ষা দেয়। ফ্যাট বা চর্বিতে ভিটামিন রয়েছে। এ কথা আমরা অনেকে জানি না। চর্বিতে ভিটামিন ই, কে ও ডি রয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভস্থ ভ্রƒণের বাড়ন দ্রুত করে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের দুধ, মাখন ও অল্প পরিমাণ ঘি খাওয়া দরকার। বিশেষ করে দুধ অত্যন্ত জরুরি। এনিম্যাল ফ্যাট বা পশুচর্বি ক্ষতিকর।

যেসব খাদ্যে ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান সেগুলো উপকারী। যেমন-আলমন্ড, অলিভ ও পিনাটের চর্বি আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া ব্রান তেল বিশেষ করে রাইস ব্রান অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রোটিনের সাথে কার্বোহাইড্রেট খেলে উপকারই করে। ট্রান্সফ্যাট যা বার্গার, পিজাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে; এগুলো খেলে খুবই ক্ষতি হয়। সর্বপ্রকার ফাস্টফুডে ট্রান্সফ্যাট বেশি থাকে। তাই সর্বপ্রকার ট্রান্সফ্যাট ক্ষতিকর। সর্বপ্রকার প্রক্রিয়াজাত খাবারে ট্রান্সফ্যাট বেশি থাকে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

চিজ, পিনাট, আমন্ড, বাদামের ফ্যাট কোনো ক্ষতি করে না। এগুলো নিঃসঙ্কোচে খেতে পারেন। রান্নার তেল হিসেবে আমরা অলিভঅয়েল বেছে নিতে পারি। এ ছাড়া রাইস ব্রান অয়েল রান্নার জন্য বেছে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সব ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পুষ্টিবিদদের কাছ থেকে জেনে নেয়া ভালো, কোন কোন ফ্যাট আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর।

তাই পরিমিত ও নিয়মিত সুষম খাদ্য যুক্ত আহার, শারীরিক ব্যায়াম, বিশ্রাম, নিদ্রা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুস্বাস্থ্যের পূর্বশর্ত।

মো: লোকমান হেকিম
চিকিৎসক-কলামিস্ট, মোবা: ০১৭১৬২৭০১২০

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

ফ্যাট সব সময় ক্ষতিকর নয়

প্রকাশের সময় : ০৭:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সুষম খাদ্যের অভাবে যেমন রোগবালাই দেখা দিতে পারে, তেমনি অতি ভোজন রোগবালাই ডেকে আনতে পারে। ভোজন বিলাসী কেউ যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে তাহলে তা এক সময় বিপদ ডেকে আনবে। চর্বিদার খাসী বা গরুর গোশত, ঘি ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাদ্য দিনের পর দিন অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীরে অবাঞ্ছিত মেদ, যা ভুঁড়িতেও জমা হয়। অপ্রয়োজনীয় খাবার বেশি খেলে মেদ বৃদ্ধিজনিত আপদ শরীরে আছর করে বসে। এটা একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় অন্যদিকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বৃদ্ধ বয়সে ফ্যাট বা চর্বির প্রয়োজন কমে যায়। এ বয়সে ভোজন রসিক হওয়া আরও মারাত্মক। বৃদ্ধ বয়সে চর্বি গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুতরাং আসুন পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি ও অতিরিক্ত বা বাহুল্য খাবার বর্জন করে পরিমিত আহার করি এবং সুস্বাস্থ্য লাভ করি।

আমাদের দেশে শহর-নগরের লোক আজকাল অত্যন্ত স্বাস্থ্যসচেতন। টিভি ও পত্রপত্রিকায় অধুনা মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে বেশ লেখালেখি করা হয় যা ইতিবাচক। মানুষ দিন দিন স্বাস্থ্যসচেতন হওয়াতে আমাদের আয়ুষ্কাল বেড়েছে। এটি একটি উত্তম দিক। ফ্যাট বা চর্বি সম্পর্কে বেশির ভাগ লোকের নেতিবাচক ধারণা। কিন্তু সব সময় চর্বি বা ফ্যাট খারাপ নয়। চর্বি দুই প্রকার এইচডিএল ও এলডিএল। এইচডিএল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এলডিএল ক্ষতিকর। ভুলে গেলে চলবে না যে, শরীরে পরিমাণমতো চর্বি প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, চর্বি আমাদের শক্তি জোগায়। সুন্দর চুল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চর্বির প্রয়োজন আছে। ফ্যাট আমাদের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত ও কিডনিকে সুরক্ষা দেয়। ফ্যাট বা চর্বিতে ভিটামিন রয়েছে। এ কথা আমরা অনেকে জানি না। চর্বিতে ভিটামিন ই, কে ও ডি রয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভস্থ ভ্রƒণের বাড়ন দ্রুত করে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের দুধ, মাখন ও অল্প পরিমাণ ঘি খাওয়া দরকার। বিশেষ করে দুধ অত্যন্ত জরুরি। এনিম্যাল ফ্যাট বা পশুচর্বি ক্ষতিকর।

যেসব খাদ্যে ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান সেগুলো উপকারী। যেমন-আলমন্ড, অলিভ ও পিনাটের চর্বি আমাদের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া ব্রান তেল বিশেষ করে রাইস ব্রান অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রোটিনের সাথে কার্বোহাইড্রেট খেলে উপকারই করে। ট্রান্সফ্যাট যা বার্গার, পিজাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে; এগুলো খেলে খুবই ক্ষতি হয়। সর্বপ্রকার ফাস্টফুডে ট্রান্সফ্যাট বেশি থাকে। তাই সর্বপ্রকার ট্রান্সফ্যাট ক্ষতিকর। সর্বপ্রকার প্রক্রিয়াজাত খাবারে ট্রান্সফ্যাট বেশি থাকে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

চিজ, পিনাট, আমন্ড, বাদামের ফ্যাট কোনো ক্ষতি করে না। এগুলো নিঃসঙ্কোচে খেতে পারেন। রান্নার তেল হিসেবে আমরা অলিভঅয়েল বেছে নিতে পারি। এ ছাড়া রাইস ব্রান অয়েল রান্নার জন্য বেছে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সব ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পুষ্টিবিদদের কাছ থেকে জেনে নেয়া ভালো, কোন কোন ফ্যাট আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর।

তাই পরিমিত ও নিয়মিত সুষম খাদ্য যুক্ত আহার, শারীরিক ব্যায়াম, বিশ্রাম, নিদ্রা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুস্বাস্থ্যের পূর্বশর্ত।

মো: লোকমান হেকিম
চিকিৎসক-কলামিস্ট, মোবা: ০১৭১৬২৭০১২০