ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সেতু না থাকায় ডিঙ্গি নৌকায় পার হতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকা করে পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। কখনো কখনো নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে পোশাকসহ বই খাতা ভিজে গেছে। ভেজা কাপড় নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অসুস্থও হয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা অভিভাবকদের।

এমন ঝুঁকি নিয়েই জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তুলসীগঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে মুরারীপুর গ্রামে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়ে পড়তে আসে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাইকপাড়া, গোবিন্দপুর, গঙ্গাদাসপুর ও কড়ই মালোপাড়ার দুই শতাধিক শিশুশিক্ষার্থী।

জানা গেছে , নদীটির গভীরতা সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৭২ ফুট। নদী পথ এড়িয়ে যেতে হলে সড়কপথে নদীর একপাশ থেকে আরেক পাশে যেতে ঘুরতে হয় প্রায় ৪কিলোমিটার পথ। সেই পথও বেহাল। তাই সেই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। কিন্তু ডিঙিতে নদী পার হলে পাঁচ মিনিটেই যাওয়া যায়। তাই সময় আর দূরত্ব কমাতে, চরম ঝুঁকি নিয়ে নদীপথেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা।

একসময় এ বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপাড়া করত। কিন্তু যাতায়াতের অসুবিধার জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এখন শিক্ষার্থী আছে ১৬০ জন। একটি সেতুর অভাবে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আমদই ও পুরানাপৈল ইউনিয়নের ৮ গ্রামের হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু হোসেন বলে, ‘আমার বাড়ি তুলসীগঙ্গা নদীর ওই পারে গোবিন্দপুর গ্রামে। বর্ষাকালে নদীপথেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি আমরা। বৃষ্টির সময় নদীর পাড় পিচ্ছিল থাকে। তাই নৌকায় ওঠানামা করতে গিয়ে পা পিছলে পড়েও গিয়েছি। আমার বই খাতাও নদীর পানিতে পড়ে ভিজে যায়।’

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুজন ইসলাম বলেন, ‘এলাকার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

অভিভাবক মোহসিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেকোনো সময় নদীতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা থাকে। তাই আতঙ্কে ও দুশ্চিন্তায় থাকি। অথচ এখানে একটি সেতু থাকলে, আমাদের কোনো কষ্টই থাকত না।’

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এই স্কুলের বড় সমস্যা নদীপথ। আমি ২০১৫ সালে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করি। তখন শিক্ষার্থী ছিল ২১২ জন। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যালয়ের অদূরে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক বলে মনে করি।’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়সংলগ্ন নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে তাগাদা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম বলেন, ‘যেভাবে হোক আগামী অর্থবছরের মধ্যেই ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা করব।’

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

সেতু না থাকায় ডিঙ্গি নৌকায় পার হতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকা করে পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। কখনো কখনো নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে পোশাকসহ বই খাতা ভিজে গেছে। ভেজা কাপড় নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অসুস্থও হয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা অভিভাবকদের।

এমন ঝুঁকি নিয়েই জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তুলসীগঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে মুরারীপুর গ্রামে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়ে পড়তে আসে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাইকপাড়া, গোবিন্দপুর, গঙ্গাদাসপুর ও কড়ই মালোপাড়ার দুই শতাধিক শিশুশিক্ষার্থী।

জানা গেছে , নদীটির গভীরতা সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৭২ ফুট। নদী পথ এড়িয়ে যেতে হলে সড়কপথে নদীর একপাশ থেকে আরেক পাশে যেতে ঘুরতে হয় প্রায় ৪কিলোমিটার পথ। সেই পথও বেহাল। তাই সেই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। কিন্তু ডিঙিতে নদী পার হলে পাঁচ মিনিটেই যাওয়া যায়। তাই সময় আর দূরত্ব কমাতে, চরম ঝুঁকি নিয়ে নদীপথেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা।

একসময় এ বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপাড়া করত। কিন্তু যাতায়াতের অসুবিধার জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এখন শিক্ষার্থী আছে ১৬০ জন। একটি সেতুর অভাবে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আমদই ও পুরানাপৈল ইউনিয়নের ৮ গ্রামের হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু হোসেন বলে, ‘আমার বাড়ি তুলসীগঙ্গা নদীর ওই পারে গোবিন্দপুর গ্রামে। বর্ষাকালে নদীপথেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি আমরা। বৃষ্টির সময় নদীর পাড় পিচ্ছিল থাকে। তাই নৌকায় ওঠানামা করতে গিয়ে পা পিছলে পড়েও গিয়েছি। আমার বই খাতাও নদীর পানিতে পড়ে ভিজে যায়।’

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুজন ইসলাম বলেন, ‘এলাকার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

অভিভাবক মোহসিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেকোনো সময় নদীতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা থাকে। তাই আতঙ্কে ও দুশ্চিন্তায় থাকি। অথচ এখানে একটি সেতু থাকলে, আমাদের কোনো কষ্টই থাকত না।’

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এই স্কুলের বড় সমস্যা নদীপথ। আমি ২০১৫ সালে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করি। তখন শিক্ষার্থী ছিল ২১২ জন। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যালয়ের অদূরে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক বলে মনে করি।’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়সংলগ্ন নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে তাগাদা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম বলেন, ‘যেভাবে হোক আগামী অর্থবছরের মধ্যেই ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা করব।’