ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, আমরা সবাই সহযাত্রী: মোহনা জাহ্নবী

  • হাবিব মোস্তফা
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • 139

এ সময়ের একজন সম্ভাবনাময়ী তরুণ লেখিকা মোহনা জাহ্নবী। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার সদর্প বিচরণ।চিন্তায় আধুনিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখা দিয়ে ইতিমধ্যে পাঠকের মনে স্বতন্ত্র্য জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তার সাথে কথা বলেছেন সঙ্গীতব্যক্তিত্ব হাবিব মোস্তফা…

সাহিত্যে কিভাবে জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে?
– আসলে লেখক মাত্রই জীবনকে ঘিরে লিখে। বাস্তব আর কল্পনার মিশ্রণে একটা পরিপূর্ণ লেখার জন্ম হয়। তবে তা বাস্তব হোক কিংবা কল্পনা, তাতে কারো না কারো জীবনের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে।

একটা সময় ছড়া লিখতেন, এখন নিয়মিত কবিতা লিখছেন, উপন্যাসও প্রকাশিত হয়েছে আপনার। এর মধ্যে কোন পরিচয়টাকে প্রধান করে দেখেন?
– ছড়া লিখতাম ছোটবেলায়। তারপর একে একে বিভিন্ন শাখায় লেখার হাতেখড়ি হলো। আসলে লেখক বা লেখিকা পরিচয়টাই প্রধান; যা লেখাই হোক না কেন।

কল্পনা ও বাস্তবতা- কোন জিনিসকে ভিত্তি করে আপনার লেখার ক্ষেত্র তৈরী হয়?
– আমি মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করি, অনুভব করি। যখন কোনকিছু আমার হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়, তা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে বাস্তবতাই বেশি প্রাধান্য পায়। তবে কল্পনার মিশেল যেকোনো লেখাকে আরো সুন্দর করে তোলে। তাই বাস্তবতার সাথে কল্পনা জুড়ে দেই সবসময়।

কতদিন ধরে লিখছেন? প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা কত? কি কি?
– লিখছি সেই ক্লাস থ্রি থেকে। বাবা লেখালেখি করতো। তাই এই স্বভাব বা গুণটা জন্মগতই বলা যায়। তবে বই প্রকাশ করতে শুরু করি ২০১৬ থেকে। হার্ডকপি আকারে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চারটা। আগামী বইমেলাতে আরো একটা প্রকাশিত হবে। এছাড়া ই-বুক প্রকাশিত হয়েছে পাঁচটা। হার্ডকপির বইগুলোর নাম- নিরন্তর নৈঃশব্দ্যে, শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরবো না, আমি পাল্টে নিয়েছি রিংটোন এবং ICU থেকে বলছি। আগামী বইমেলায় প্রকাশিত হবে ‘বাঁধন বাড়ি’ নামে একটা উপন্যাস। ই-বুক সমূহের নাম- অসামাজিক, নক্ষত্র পতনের শোক এবং ‘প্রিয় পুরুষ’ নামে তিনটা সিরিজ।

লেখালেখির বাইরে আর কী করেন? (পেশা হিসেবে)
– এখনো কোনো পেশায় যুক্ত হইনি। লেখালিখি নিয়েই আছি।

সমসাময়িক কোনো লেখককে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়?
– শিল্প জগৎটা সৃষ্টির জন্য, এটা ঠিক প্রতিযোগিতার জগৎ নয়। তাই কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, বরং আমরা সবাই সহযাত্রী, আলোর পথের দিশারী।

সিনিয়রদের মধ্যে কার লেখা নিজের মধ্যে বোধ তৈরিতে সাহায্য করে?
– আমার আসলে মোটামুটি সহজ সরল কিন্তু গভীর জীবনবোধসম্পন্ন লেখা ভালোলাগে। আর এমন ধাঁচের লেখা সাধারণত খুঁজে পাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নিমাই ভট্টাচার্য, বুদ্ধদেব গুহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও আরো কিছু লেখকের ভেতর। নির্দিষ্ট করে শুধু একজনের নাম বলা অসম্ভব। তাঁরা প্রত্যেকে আমার ভেতর বোধ তৈরি করতে সাহায্য করে।

চিঠি সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হলো কিভাবে?
– আসলে আমি খুব চিঠিপ্রিয় মানুষ। বরাবরই আমার চিঠি লিখতে ও পেতে খুব ভালোলাগে। সেই ভালোলাগা থেকেই চিঠি সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নিজের কোন লেখাগুলো আত্মতৃপ্তির জায়গাটা দখল করেছে?
– শিল্পীরা নাকি কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয় না। তবু বলবো, আত্মতৃপ্তির জায়গা দখল করার মতো বেশ কিছু লেখাই আছে। আর তার ভেতর সবার প্রথমে আছে আমার লেখা উপন্যাস ‘ICU থেকে বলছি’। আমার প্রকাশিত সব বইয়ের মধ্যে এ বইটা সর্বাধিক পাঠকের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আমি নিজেও অনেকটা সন্তুষ্ট এমন একটা বিষয় নিয়ে উপন্যাস লিখতে পেরে।

লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি?
– আমি চাই, আমার লেখা নাটক, সিনেমা তৈরি হোক। আমার লেখা গান প্রকাশিত হোক। আর জীবনে অন্তত এমন একটা বই যেন লিখে যেতে পারি, আমার মৃত্যুর পরেও যে বইটা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।

Tag :
জনপ্রিয়

ছেলের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড নিজ হাতে কার্যকর করলেন বাবা

কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, আমরা সবাই সহযাত্রী: মোহনা জাহ্নবী

প্রকাশের সময় : ০২:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

এ সময়ের একজন সম্ভাবনাময়ী তরুণ লেখিকা মোহনা জাহ্নবী। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার সদর্প বিচরণ।চিন্তায় আধুনিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখা দিয়ে ইতিমধ্যে পাঠকের মনে স্বতন্ত্র্য জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তার সাথে কথা বলেছেন সঙ্গীতব্যক্তিত্ব হাবিব মোস্তফা…

সাহিত্যে কিভাবে জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে?
– আসলে লেখক মাত্রই জীবনকে ঘিরে লিখে। বাস্তব আর কল্পনার মিশ্রণে একটা পরিপূর্ণ লেখার জন্ম হয়। তবে তা বাস্তব হোক কিংবা কল্পনা, তাতে কারো না কারো জীবনের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে।

একটা সময় ছড়া লিখতেন, এখন নিয়মিত কবিতা লিখছেন, উপন্যাসও প্রকাশিত হয়েছে আপনার। এর মধ্যে কোন পরিচয়টাকে প্রধান করে দেখেন?
– ছড়া লিখতাম ছোটবেলায়। তারপর একে একে বিভিন্ন শাখায় লেখার হাতেখড়ি হলো। আসলে লেখক বা লেখিকা পরিচয়টাই প্রধান; যা লেখাই হোক না কেন।

কল্পনা ও বাস্তবতা- কোন জিনিসকে ভিত্তি করে আপনার লেখার ক্ষেত্র তৈরী হয়?
– আমি মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করি, অনুভব করি। যখন কোনকিছু আমার হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়, তা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে বাস্তবতাই বেশি প্রাধান্য পায়। তবে কল্পনার মিশেল যেকোনো লেখাকে আরো সুন্দর করে তোলে। তাই বাস্তবতার সাথে কল্পনা জুড়ে দেই সবসময়।

কতদিন ধরে লিখছেন? প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা কত? কি কি?
– লিখছি সেই ক্লাস থ্রি থেকে। বাবা লেখালেখি করতো। তাই এই স্বভাব বা গুণটা জন্মগতই বলা যায়। তবে বই প্রকাশ করতে শুরু করি ২০১৬ থেকে। হার্ডকপি আকারে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চারটা। আগামী বইমেলাতে আরো একটা প্রকাশিত হবে। এছাড়া ই-বুক প্রকাশিত হয়েছে পাঁচটা। হার্ডকপির বইগুলোর নাম- নিরন্তর নৈঃশব্দ্যে, শেষ ট্রেনে ঘরে ফিরবো না, আমি পাল্টে নিয়েছি রিংটোন এবং ICU থেকে বলছি। আগামী বইমেলায় প্রকাশিত হবে ‘বাঁধন বাড়ি’ নামে একটা উপন্যাস। ই-বুক সমূহের নাম- অসামাজিক, নক্ষত্র পতনের শোক এবং ‘প্রিয় পুরুষ’ নামে তিনটা সিরিজ।

লেখালেখির বাইরে আর কী করেন? (পেশা হিসেবে)
– এখনো কোনো পেশায় যুক্ত হইনি। লেখালিখি নিয়েই আছি।

সমসাময়িক কোনো লেখককে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়?
– শিল্প জগৎটা সৃষ্টির জন্য, এটা ঠিক প্রতিযোগিতার জগৎ নয়। তাই কাউকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, বরং আমরা সবাই সহযাত্রী, আলোর পথের দিশারী।

সিনিয়রদের মধ্যে কার লেখা নিজের মধ্যে বোধ তৈরিতে সাহায্য করে?
– আমার আসলে মোটামুটি সহজ সরল কিন্তু গভীর জীবনবোধসম্পন্ন লেখা ভালোলাগে। আর এমন ধাঁচের লেখা সাধারণত খুঁজে পাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নিমাই ভট্টাচার্য, বুদ্ধদেব গুহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও আরো কিছু লেখকের ভেতর। নির্দিষ্ট করে শুধু একজনের নাম বলা অসম্ভব। তাঁরা প্রত্যেকে আমার ভেতর বোধ তৈরি করতে সাহায্য করে।

চিঠি সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হলো কিভাবে?
– আসলে আমি খুব চিঠিপ্রিয় মানুষ। বরাবরই আমার চিঠি লিখতে ও পেতে খুব ভালোলাগে। সেই ভালোলাগা থেকেই চিঠি সাহিত্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নিজের কোন লেখাগুলো আত্মতৃপ্তির জায়গাটা দখল করেছে?
– শিল্পীরা নাকি কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয় না। তবু বলবো, আত্মতৃপ্তির জায়গা দখল করার মতো বেশ কিছু লেখাই আছে। আর তার ভেতর সবার প্রথমে আছে আমার লেখা উপন্যাস ‘ICU থেকে বলছি’। আমার প্রকাশিত সব বইয়ের মধ্যে এ বইটা সর্বাধিক পাঠকের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আমি নিজেও অনেকটা সন্তুষ্ট এমন একটা বিষয় নিয়ে উপন্যাস লিখতে পেরে।

লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি?
– আমি চাই, আমার লেখা নাটক, সিনেমা তৈরি হোক। আমার লেখা গান প্রকাশিত হোক। আর জীবনে অন্তত এমন একটা বই যেন লিখে যেতে পারি, আমার মৃত্যুর পরেও যে বইটা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।