ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দারসবাড়ি মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবচেয়ে দর্শনীয় পুরাকীর্তিগুলোর একটি হলো দারসবাড়ি মসজিদ। শিবগঞ্জ উপজেলায় সোনামসজিদ বর্ডার পোস্টের প্রায় দেড় কিলোমিটার আগে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে মসজিদটির অবস্থান।

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার অধিকাংশ এলাকাজুড়ে এই অঞ্চলকে প্রাচীনকালে বলা হতো গৌড়। মসজিদটির নির্মাণকালে গৌড় এলাকার তৃতীয় এবং বাংলাদেশ অঞ্চলের বৃহত্তম মসজিদ ছিল এই দারসবাড়ি মসজিদ। মসজিদটির শিলালিপিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি সুলতানি আমলে সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ-এর নির্দেশে ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী নামে এক ব্যক্তি ১৪৭৯ সালে নির্মাণ করেন। সুলতান ইউসুফ শাহ প্রায় কাছাকাছি সময়েই মালদহে সাকমোহন মসজিদ, তাঁতিপাড়া মসজিদ ও কদমরসুল মসজিদ নির্মাণ করিয়েছিলেন। শিলালিপিটি বর্তমানে কোলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

কে ছিলেন সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
১৩৫২ থেকে ১৫৭৬ সাল, এই ২২৪ বছরের সময়কে বলা হয় বেঙ্গল সালতানাত, বা সহজ ভাষায় সুলতানি আমল। এই সময়ে পুরো শাসন ব্যবস্থা হয়েছে বঙ্গকে ঘিরেই। বেশ কয়েক বছর রাজধানীও ছিল সোনারগাঁয়। এই আমলেই দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ফার্সির পাশাপাশি বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আদালতে আইনি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সম্পদে ও অর্থনীতিতে বঙ্গের গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়। রপ্তানি পণ্য হিসেবে বাংলার ধান ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। ব্যবসার জন্য একটি সম্ভাবনায় দেশ হিসেবে বঙ্গের স্বীকৃতি দেয় ইউরোপের দেশগুলি। এই আমলেই “টাকা” নামে প্রথমবার মুদ্রা ছাপানো হয়। ১৫০০ সালে বঙ্গের রাজধানী যখন গৌড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, জনসংখ্যার হিসেবে গৌড় ছিল পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম নগরী। চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল এই আমলেই।

সুলতানরা ছিলেন সুন্নি মুসলিম। তারাই এই অঞ্চলে প্রবর্তন করেন শরিয়া আইন। গোটা বঙ্গ জুড়ে অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ হয়েছে এই সময়ে। ইসলামি স্থাপত্যকে এই অঞ্চলে সম্প্রসারণের জন্য মসজিদগুলোতে আনা হয়েছিল শিল্পের চর্চা।

এই আমলেই একজন সুলতান ছিলেন শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ। ১৪৭৪ সালে তার পিতা রুকুনুদ্দিন বরবক শাহের মৃত্যুর পর তিনি সুলতান হিসেবে দায়িত্বে আসেন। মাত্র সাত বছর পর ১৪৮১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার আমলেই নির্মিত হয়েছিল দারসবাড়ি মসজিদ। শুধু তাই নয়, তিনি এই মসজিদে অন্তত একবার এসে নামাজ আদায় করেছেন, তারও প্রমাণ আছে এই মসজিদে।

মসজিদের বিবরণ
প্রায় সম্পূর্ণ ইটে গড়া দারসবাড়ি মসজিদটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১১২ ফুট এবং প্রস্থে প্রায় ৬৮ ফুট হলে। ভেতরের দৈর্ঘ্যই প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৩৪ ফুট। মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৬ ফুট চওড়া। পুবপাশে প্রবেশের মুখেই রয়েছে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১০ ফুট প্রশস্থ একটি বারান্দা। পাথরে নির্মিত পিলার গেঁড়ে তার চারপাশে ইট গেঁথে মসজিদটির স্তম্ভগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। চারকোণে চওড়া ইঠের পিলার বানিয়ে মসজিদের অবকাঠামো দৃঢ় করা হয়েছিল। ৭টি খিলান আকৃতির উন্মুক্ত দরজা দিয়ে বারান্দায় প্রবেশ করে তারপর মসজিদে প্রবেশ করতে হতো। উত্তর দিকে দুইটি ও দক্ষিণে তিনটি দরজা দিয়েও প্রবেশ করা যেত।

নামাজের কক্ষটি ছিল তিনভাগে বিভক্ত। মাঝখানের মূল কক্ষটি বড়, আর দুই পাশে ছোট দুটি অংশ। উত্তরের অংশে পাথরের স্ল্যাব বসিয়ে দোতলায় একটি কক্ষ বানানো ছিল, যেটির জন্য ছিল একটি ভিন্ন প্রবেশ পথ ও সিঁড়ি। এর দরজার সামনে থাকত রক্ষী। সম্ভ্রান্ত কোনো অতিথি বিভিন্ন ওয়াক্তের জামাতের সময় ব্যতিত অন্য কোনো সময়ে এই মসজিদে কখনো একা নামাজ পড়তে এলে তার জন্য এই অংশটি খুলে দেওয়া হতো। এজন্য এই অংশের নাম ছিল মসজিদের রাজকীয় গ্যালারি। তবে জুম্মার নামাজের সময় এটি হয়ে যেত নারীদের নামাজ পড়ার স্থান।

মসজিদটির ছাদটি নির্মাণ করা হয়েছিল একটু ভিন্ন ধরনের ডিজাইনে। মূল কক্ষের মাঝখানে ছিল একটি বিশাল চৌচালা গম্বুজ। তার সামনে ও পেছনে ছিল একটি করে ছোট চৌচালা গম্বুজ। এই তিনটির দুই পাশে ছিল এক সারিতে তিনটি করে ছয়টি গোলাকার মাঝারি আকারের গম্বুজ। উত্তর ও দক্ষিণের ছোট কক্ষগুলির উপর ছিল ছয়টি করে ছোট গোলাকার গম্বুজ। বারান্দার উপর মাঝখানে একটি চৌচালা এবং এর দুই পাশে তিনটি করে ছয়টি গোলাকার ছোট গম্বুজ। অর্থাৎ, মোট ছিল চারটি চৌচালা এবং ২৪টি গোলাকার গম্বুজ। দারসবাড়ি মসজিদের গম্বুজের এই নকশাটিকেই গৌড়ীয় নকশার পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই আদলে ভারতবর্ষব্যাপী আরও বেশ কিছু মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

ছাদ নির্মাণে ইটের কারুকাজের ডিটেইল

ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে মোট ১১টি মেহরাব, যার দুটি রয়েছে রাজকীয় গ্যালারিতে। ভেতরের দেয়ালে কোনো প্লাস্টারের কাজ করা হয়নি কখনই। পুরো দেয়ালে ছিল শুধু ইটের কারুকাজ। আর মেহরাবগুলি সাজানো হয়েছিল অবিশ্বাস্য সুন্দর এবং নিখুঁত টেরাকোটায়।

মসজিদটিতে যাওয়ার সময় পূর্ব ও দক্ষিণের দেয়াল দুটিই চোখে পড়ে। পূর্বের দেয়ালে খিলান ছাড়া আর তেমন কোনো চিহ্ন নেই। দক্ষিণের দেয়ালে কিছু টেরাকোটা এবং বেশ কিছু খোদাই করা ডিজাইন চোখে পড়ে। উত্তরের দেয়ালেও প্রায় একই। পশ্চিমের দেয়ালটি একেবারেই ভিন্ন। মাঝখানে মূল মেহরাবের অংশটি কিছুটা বের করা। বাকি পুরো দেয়ালের ইটে খোদাই করে নকশা করা। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর একই ডিজাইনের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এপাশে সাতবার, ওপাশে সাতবার। দীর্ঘ সময়, বৈরি আবহাওয়া ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু কিছু খোদাই করা অংশ ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও অপূর্ব সুন্দর লাগে দেখতে।

মসজিদের মূল কেন্দ্রীয় মেহরাব, ছাদের উচ্চতা বোঝাই যায়

মসজিদের পুবপাশে বড় একটি পুকুর। তার পরেই হলো দারসবাড়ি মাদরাসা। ১৫০৪ সালে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এটি নির্মাণ করেছিলেন। কুমিল্লার শালবন বিহারের আদলে নির্মিত চতুর্ভূজাকার ভবনটির একেক দিকের দৈর্ঘ্য ১৮২ ফুট। রুমগুলো সব চারিদিকে। এতে রয়েছে ১০ ফুট ঢ ১০ ফুট মাপের ৪০টি রুম, চার কোণে চারটি ছোট ক্লাসরুম ও চত্ত্বরের মাঝখানে একটি বড় ক্লাসরুম।

টেরাকোটার বিশেষত্ব
কত সহস্র টেরাকোটা টালি যে ব্যবহার করা হয়েছিল মসজিদটির ভেতরে, তার হিসাব নেই। বেশ কিছু জায়গায় ভেঙে গেলেও এখনো যেটুকু টিকে আছে, দেখে মুগ্ধ হতেই হবে। জ্যামিতিক আকার, ফুল ও লতার ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছিল এই টালিগুলো। একেকটি একেক রকম, পাশাপাশি বসিয়ে পুরো নকশাটি সৃষ্টি করা। দূর থেকে দেখলে সবগুলি মেহরাবে একইরকম মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখলে বুঝা যায় একেকটি মেহরাবের ডিজাইন ডিটেইলে সামান্য কিছু পার্থক্য রাখা হয়েছিল। এতটা ডেলিকেট ও নিখুঁত টেরাকোটা ডিজাইন কোনো মসজিদের ভেতর খুব কমই দেখা যায়নি। শুধু যে দেয়ালের উপর সাঁটা, তাই নয়। ভাবতে অবাক লাগে, সাড়ে পাঁচশত বছর আগে এতটা পাতলা পুরুত্বের ঝুলন্ত দেয়ালইবা কীভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, আর তাতে টেরাকোটা টালিই বা কীভাবে গাঁথা হয়েছিল? কয়েকটি মেহরাবের উপর সেই ঝুলন্ত দেয়াল এখনো টিকে আছে!

দক্ষিণ দরজা থেকে ভেতরের দৃশ্য। খিলানের পর খিলান। উত্তরে দ্বিতল রাজকীয় গ্যালারি

টেরাকোটার ডিজাইন ডিটেইল দেখলেই বুঝা যায় এগুলি কোনো ছাঁচে তৈরি করা হয়নি। হাতের সুক্ষ্ম কাজে এগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। দূর থেকে দেখে যেটিকে একটি বৃত্তাকার ডিজাইন বলে মনে হয়, কাছ থেকে দেখলেই দেখা যায় একেকটি বৃত্ত ৬-৮টি টালি পাশাপাশি বসিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল।

মসজিদের একটি মেহরাবের উপর একটি অংশ দেখে বুঝা যায় দেয়ালের ইট কেটে দুটি টালি পরে বসানো হয়েছে। মূল ডিজাইনে ছিল একটি ফুলদানি। এর উপর পরে বসানো হয়েছে একটি পতাকার স্ট্যান্ড এবং তার ডান পাশে একটি লম্বা ত্রিভূজাকার পতাকা। কেবলমাত্র সুলতান যেসব মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন, শুধু সেই মসজিদগুলোতে তার উপস্থিতির প্রমাণস্বরূপ তার পতাকা সজ্জিত করা হতো। এই দুটি টালি থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়, তৎকালীন সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ দারসবাড়ি মসজিদে এসেছিলেন এবং নামাজ আদায় করেছিলেন।

মসজিদের নামকরণ
কোনো কোনো গবেষকের মতে মসজিদটি স্থাপনের সময় স্থানীয় এলাকার নামানুসারে এর নাম ছিল ওমরপুর মসজিদ। পরে মাদরাসা স্থাপনের পর এটিও দারসবাড়ি নাম ধারণ করে। নামটির পেছনে যুক্তিও আছে বলে ধারণাটি ফেলে দেওয়া কঠিন।

সুলতানি আমলে দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফার্সি। এই ফার্সি ভাষায় “দার্স” শব্দটির অর্থ “পড়া”। তাই পড়ালেখার জন্য বিশাল এই আবাসিক প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) প্রথম থেকেই “দার্সবাড়ি” নামেই পরিচিত ছিল। এর ছাত্রেরা এই মসজিদেই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করত বলে মসজিদটির “দার্সবাড়ি মসজিদ” নাম হয়ে যায়। দার্সবাড়ি থেকে দারসবাড়ি হতে সময় লাগেনি!

এই এলাকাটিও এখন দারসবাড়ি নামে পরিচিত। এখানে মানুষ দারসবাড়ি মসজিদ ও দারসবাড়ি মাদরাসা নামেই এগুলোকে চিনে।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর পতাকার টালি

মসজিদটির ভাঙন
কোনো একটি ভূমিকম্পে দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা, দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মসজিদের গোটা ছাদ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়, কিছু দেয়াল ও সামনের বারান্দা ভেঙে যায়। মাদ্রাসাটির ছাদ ও দেয়ালের বিপুল ক্ষতি হয়। ভাঙনের পরিমাণ এতটাই মারাত্মক ছিল যে এর কোনোটিকেই আর পুনর্র্নিমাণ করে ব্যবহার করার অবস্থায় থাকে না। তাই এগুলিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। মসজিদ ও মাদরাসা একত্রে গুঁড়িয়ে যাওয়া এবং পরিত্যক্ত ঘোষণার ফলে স্থানীয় মানুষ “সৃষ্টিকর্তার গজব নামতে পারে” এই ভয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পুরো এলাকাটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে। কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটি গাছ-গাছালিতে ভরে যায়। এতে ধুলা-বালি আটকে পড়ে মাদ্রাসার অবশিষ্ট অংশের অনেকখানিই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয়, এটি ছিল ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের ফল। কিন্তু একটি ঘটনার কারণে এই সময়কাল প্রশ্নবিদ্ধ।

মসজিদটির যে শিলালিপিটি কলকাতা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে, সেটি কাছাকাছি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছিলেন মুন্সী এলাহী বখশ নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু এটি কলকাতা জাদুঘরে জমা দেওয়া হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। এই লিপিটির সংরক্ষণ নম্বর ৩১৩৯। বিশাল শিলালিপিটি দৈর্ঘ্যে ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ২ ফুট ১ ইঞ্চি। উদ্ধারের সময়ই এটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তাহলে তো আর মসজিদের ভাঙন ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের ফলাফল হতে পারে না।

একটি মেহরাব, টেরাকোটা নকশা খসে পড়ছে। শিলালিপি চুরি হয়ে গেছে

১৮৯৭ সালের ১২ জুন আসামে রিকটার স্কেলে ৮.৩ মাত্রার যে ভূমিকম্পটি হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশেরও অধিকাংশ নির্মিত ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে এর আগে ১৮৫০ সালের ১৫ আগস্ট তিব্বতে ভূমিকম্প হয়েছিল ৮.৬ মাত্রার, যা আসামে ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাতে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। এই তীব্র ভূমিকম্পেই ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছিল। তাহলে হতে পারে, এই ১৮৫০ এর ভূমিকম্পেই ভেঙে পড়েছিল দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা।

মসজিদ ও মাদ্রাসার সংস্কার
১৯২০-২১ এর কোনো এক সময়ে বানভাসি বেশ কিছু মানুষের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এই এলাকার জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় খুঁজে পাওয়া যায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ভগ্ন অংশ। সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯২৪ সালে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় সংস্কারের। মসজিদের পশ্চিমের দেয়ালের যে অংশগুলি ভেঙে গেছিল, দাঁড়িয়ে থাকা অংশের সঙ্গে মিল রেখে তা নিখুঁতভাবে সংস্কার করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালেও কিছু সংস্কার করা হয়। কিন্তু বারান্দা ও ছাদ পুনর্র্নিমাণ করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান সরকার আবার বেশ কিছু সংস্কার কাজ করে। এর প্রধান কাজ ছিল সমস্ত দেয়াল থেকে শ্যাঁওলা তুলে পরিষ্কার করা। কিন্তু ছাদ আবারও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসাটিকে একটি হেরিটেজ দর্শনীয় স্থান হিসেবে সংস্কার করা হয়।

বাংলাদেশ আমলে রাষ্ট্রপতি এরশাদ এলাকাটি পরিদর্শন করার পর ১৯৯০ সালে এটিকে আবার সংস্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে দেয়ালগুলোকে পরিষ্কার করা ছাড়া আর তেমন কিছু করা যায়নি।

ছাদ ছাড়া একটি মসজিদ তো আর ব্যবহার করা যায় না। এক শতাব্দীর রোদবৃষ্টিতে মসজিদের মেঝেতে গজিয়েছে সুন্দর ঘাস। চারদিকে পুরোনো লাল ইটের দেয়ালের মাঝে মনে হয় যেন একটি চমৎকার মসৃণ সবুজ গালিচা। ব্যবহার না হলেও দেখতে ভারি চমৎকার লাগে।

মেহরাবের সম্মুখভাগে পাতলা ঝুলন্ত দেয়ালে টেরাকোটা নকশার ডিটেইল

এলাকায় জ্বিনের উপাখ্যান
দারসবাড়ি এলাকাটি বাংলাদেশের আর দশটি গ্রামীণ এলাকার মতো নয়। হয়তো বর্ডারের খুব কাছাকাছি বলে, অথবা একটি জনশ্রুত কাল্পনিক ভয়ে, এলাকাটিতে খুব বেশি মানুষ বাস করে না। “আল্লাহর গজব নামবে” এই ভয়ে যারা পালিয়েছিল, তারা আর কখনই ফেরেনি। বানভাসী যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল তাদেরও অনেকেই পালিয়েছে জ্বিনের ভয়ে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, মসজিদের ছাদ জ্বিনে নিয়ে গেছে।

১৯২৪ সালে যখন প্রথম মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়, প্রথম কাজ ছিল ধসে পড়া ইট ভেতর থেকে সরানো। পুরো ছাদের লক্ষ লক্ষ ইট বাইরে সরিয়ে পরিষ্কার করার পর স্তুপাকারে সাজিয়ে রাখা হয়, পুনর্ব্যবহারের জন্য। কিন্তু ছাদটি যেহেতু মেরামত করা সম্ভব হয়নি, ইটগুলি সেভাবেই স্তুপে স্তুপে থেকে যায় মসজিদটির এক পাশে। ১৯৬০ এর দশকে আবার সংস্কারের সময় দেখা যায় ইটের স্তুপে বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপ, তাই সেগুলি সরিয়ে পরিষ্কার করে অন্য একটি পাশে আবার স্তুপ করে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাদটি পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। ১৯৯০ সালে একই কাজটি আবার করা হয়।

১৯৯১ সালে স্থানীয় কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তির নজরে আসে ফেলে রাখা লক্ষ লক্ষ ছোট ইট। কিন্তু এমনি এমনিই তো আর নিয়ে যাওয়া যায় না। তারা এলাকায় প্রচার করা শুরু করলেন যে এলাকাটিতে জ্বিনের আছর আছে বলে ব্রিটিশ, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ, কোনো আমলেই মসজিদটির ছাদ পুণঃনির্মাণ সম্ভব হয়নি। এই ইটগুলি এখন জ্বিনে নিয়ে যাবে। এলাকার মানুষকে সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।

ডিটেইল দেখলেই বুঝা যায় নকশাগুলো ছাঁচে নয়, হাতের সুক্ষ্ম কাজে নির্মাণ করা

এলাকাটিতে যেহেতু বিদ্যুতের সংযোগ নেই, রাস্তা থেকেও বেশ ভেতরে, সন্ধ্যার পরই নেমে আসত বেশ অন্ধকার। এক অমাবশ্যার রাতে শুরু হলো অ্যাকশন। মশাল হাতে কিছু মানুষকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাজি-পটকা নিয়ে। তারা গভীর রাতে মসজিদের সামনে ফোটাতে থাকলো পটকা। মুখে কেরোসিন ভরে ফুঁ দিয়ে ছুটাল আগুনের হল্কা। দূর থেকে আগুনের ছটফটানি দেখেছে কিছু মানুষ। ভয়ে পালিয়ে গেছে ঘরে। পরদিন এলাকায় আলোচনা বসল রাতের জ্বিনের কাণ্ড কারখানা নিয়ে। কিছু মানুষ পালিয়ে গেল। বাকিরা রাতে প্রয়োজন হলেও ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিল। পরের অমাবশ্যায় আবার অ্যাকশন। বাজি-পটকা ফুটাবার পর কয়েকটি গরুর গাড়ি নিয়ে চুরি হলো ইট। পরদিন লোকে দেখল বেশ কিছু ইট নাই হয়ে গেছে। এভাবে মাস ছয়েকের মধ্যে পুরো ইট খালি হয়ে গেল। এর পরও বেশ কয়েক রাতে ফুটল বাজি-পটকা।

এখন বেড়াতে গেলে দেয়ালে গাঁথা ইট ছাড়া একটি ইটও কোথাও পড়ে থাকতে দেখা যাবে না! দশক দশক পরেও মানুষ বিশ্বাস করে মসজিদের ছাদের সব ইট জ্বিনে নিয়ে গেছে।

মসজিদ থেকে বের হয়ে মহাসড়কে উঠে বর্ডার চেকপোস্টের দিকে আধা কিলোমিটারের মতো গেলে হাতের ডানে পড়বে একটি রাস্তা। এলাকাটির নাম সম্ভবত বালিয়াদিঘী। এই রাস্তায় কয়েকশত গজ এগোলেই রাস্তার দুই ধারে চোখে পড়বে কিছু বস্তিবাড়ি। সবগুলি ছোট ছোট ইটে গড়া। স্থানীয় সরকার স্থানীয় এক কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু ঘর বানিয়ে দিয়েছে। মসজিদের ছাদের ইট জ্বিনে আসলে বেশি দূরে নিয়ে যায়নি!

কীভাবে যাবেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় যাওয়া যায়। দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। সময় লাগবে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। আর বর্ডারের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাস পেলে তো কথাই নেই!

তবে দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা দেখার পর একদম কাছেই ১৪৮০ সালে নির্মিত খনিয়াদিঘি মসজিদ (চামচিকা মসজিদ), ১৪০০ শতাব্দীর ধনাইচক মসজিদ, ১৭০০ শতাব্দীর শাহ সুজার তাহখানা কমপ্লেক্স এবং ছোট সোনা মসজিদ দেখে আসতে ভুলবেন না। একদিনে ৮টি হেরিটেজ ভবন + একজন বীরশ্রেষ্ঠর কবর!

ভ্রমণ যখন বা যেখানেই করি না কেন, পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। সবাই যে করে, তা নয়। এই স্থাপনাগুলি দেখলে তা আরও বেশি চোখে পড়ে। আপনার পরবর্তী প্রজন্মের ভ্রমণ পীপাসুদের জন্য হলেও আপনার ব্যবহৃত জিনিস নির্ধারিত জায়গায় ফেলুন বা সঙ্গে করে নিয়ে আসুন।

Tag :
জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকসহ ৫জনের নামে চোরাকারবারির মামলা

দারসবাড়ি মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশের সময় : ১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবচেয়ে দর্শনীয় পুরাকীর্তিগুলোর একটি হলো দারসবাড়ি মসজিদ। শিবগঞ্জ উপজেলায় সোনামসজিদ বর্ডার পোস্টের প্রায় দেড় কিলোমিটার আগে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে মসজিদটির অবস্থান।

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার অধিকাংশ এলাকাজুড়ে এই অঞ্চলকে প্রাচীনকালে বলা হতো গৌড়। মসজিদটির নির্মাণকালে গৌড় এলাকার তৃতীয় এবং বাংলাদেশ অঞ্চলের বৃহত্তম মসজিদ ছিল এই দারসবাড়ি মসজিদ। মসজিদটির শিলালিপিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি সুলতানি আমলে সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ-এর নির্দেশে ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী নামে এক ব্যক্তি ১৪৭৯ সালে নির্মাণ করেন। সুলতান ইউসুফ শাহ প্রায় কাছাকাছি সময়েই মালদহে সাকমোহন মসজিদ, তাঁতিপাড়া মসজিদ ও কদমরসুল মসজিদ নির্মাণ করিয়েছিলেন। শিলালিপিটি বর্তমানে কোলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

কে ছিলেন সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
১৩৫২ থেকে ১৫৭৬ সাল, এই ২২৪ বছরের সময়কে বলা হয় বেঙ্গল সালতানাত, বা সহজ ভাষায় সুলতানি আমল। এই সময়ে পুরো শাসন ব্যবস্থা হয়েছে বঙ্গকে ঘিরেই। বেশ কয়েক বছর রাজধানীও ছিল সোনারগাঁয়। এই আমলেই দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ফার্সির পাশাপাশি বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আদালতে আইনি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সম্পদে ও অর্থনীতিতে বঙ্গের গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়। রপ্তানি পণ্য হিসেবে বাংলার ধান ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। ব্যবসার জন্য একটি সম্ভাবনায় দেশ হিসেবে বঙ্গের স্বীকৃতি দেয় ইউরোপের দেশগুলি। এই আমলেই “টাকা” নামে প্রথমবার মুদ্রা ছাপানো হয়। ১৫০০ সালে বঙ্গের রাজধানী যখন গৌড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, জনসংখ্যার হিসেবে গৌড় ছিল পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম নগরী। চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল এই আমলেই।

সুলতানরা ছিলেন সুন্নি মুসলিম। তারাই এই অঞ্চলে প্রবর্তন করেন শরিয়া আইন। গোটা বঙ্গ জুড়ে অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ হয়েছে এই সময়ে। ইসলামি স্থাপত্যকে এই অঞ্চলে সম্প্রসারণের জন্য মসজিদগুলোতে আনা হয়েছিল শিল্পের চর্চা।

এই আমলেই একজন সুলতান ছিলেন শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ। ১৪৭৪ সালে তার পিতা রুকুনুদ্দিন বরবক শাহের মৃত্যুর পর তিনি সুলতান হিসেবে দায়িত্বে আসেন। মাত্র সাত বছর পর ১৪৮১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার আমলেই নির্মিত হয়েছিল দারসবাড়ি মসজিদ। শুধু তাই নয়, তিনি এই মসজিদে অন্তত একবার এসে নামাজ আদায় করেছেন, তারও প্রমাণ আছে এই মসজিদে।

মসজিদের বিবরণ
প্রায় সম্পূর্ণ ইটে গড়া দারসবাড়ি মসজিদটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১১২ ফুট এবং প্রস্থে প্রায় ৬৮ ফুট হলে। ভেতরের দৈর্ঘ্যই প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৩৪ ফুট। মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৬ ফুট চওড়া। পুবপাশে প্রবেশের মুখেই রয়েছে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১০ ফুট প্রশস্থ একটি বারান্দা। পাথরে নির্মিত পিলার গেঁড়ে তার চারপাশে ইট গেঁথে মসজিদটির স্তম্ভগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। চারকোণে চওড়া ইঠের পিলার বানিয়ে মসজিদের অবকাঠামো দৃঢ় করা হয়েছিল। ৭টি খিলান আকৃতির উন্মুক্ত দরজা দিয়ে বারান্দায় প্রবেশ করে তারপর মসজিদে প্রবেশ করতে হতো। উত্তর দিকে দুইটি ও দক্ষিণে তিনটি দরজা দিয়েও প্রবেশ করা যেত।

নামাজের কক্ষটি ছিল তিনভাগে বিভক্ত। মাঝখানের মূল কক্ষটি বড়, আর দুই পাশে ছোট দুটি অংশ। উত্তরের অংশে পাথরের স্ল্যাব বসিয়ে দোতলায় একটি কক্ষ বানানো ছিল, যেটির জন্য ছিল একটি ভিন্ন প্রবেশ পথ ও সিঁড়ি। এর দরজার সামনে থাকত রক্ষী। সম্ভ্রান্ত কোনো অতিথি বিভিন্ন ওয়াক্তের জামাতের সময় ব্যতিত অন্য কোনো সময়ে এই মসজিদে কখনো একা নামাজ পড়তে এলে তার জন্য এই অংশটি খুলে দেওয়া হতো। এজন্য এই অংশের নাম ছিল মসজিদের রাজকীয় গ্যালারি। তবে জুম্মার নামাজের সময় এটি হয়ে যেত নারীদের নামাজ পড়ার স্থান।

মসজিদটির ছাদটি নির্মাণ করা হয়েছিল একটু ভিন্ন ধরনের ডিজাইনে। মূল কক্ষের মাঝখানে ছিল একটি বিশাল চৌচালা গম্বুজ। তার সামনে ও পেছনে ছিল একটি করে ছোট চৌচালা গম্বুজ। এই তিনটির দুই পাশে ছিল এক সারিতে তিনটি করে ছয়টি গোলাকার মাঝারি আকারের গম্বুজ। উত্তর ও দক্ষিণের ছোট কক্ষগুলির উপর ছিল ছয়টি করে ছোট গোলাকার গম্বুজ। বারান্দার উপর মাঝখানে একটি চৌচালা এবং এর দুই পাশে তিনটি করে ছয়টি গোলাকার ছোট গম্বুজ। অর্থাৎ, মোট ছিল চারটি চৌচালা এবং ২৪টি গোলাকার গম্বুজ। দারসবাড়ি মসজিদের গম্বুজের এই নকশাটিকেই গৌড়ীয় নকশার পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই আদলে ভারতবর্ষব্যাপী আরও বেশ কিছু মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

ছাদ নির্মাণে ইটের কারুকাজের ডিটেইল

ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে মোট ১১টি মেহরাব, যার দুটি রয়েছে রাজকীয় গ্যালারিতে। ভেতরের দেয়ালে কোনো প্লাস্টারের কাজ করা হয়নি কখনই। পুরো দেয়ালে ছিল শুধু ইটের কারুকাজ। আর মেহরাবগুলি সাজানো হয়েছিল অবিশ্বাস্য সুন্দর এবং নিখুঁত টেরাকোটায়।

মসজিদটিতে যাওয়ার সময় পূর্ব ও দক্ষিণের দেয়াল দুটিই চোখে পড়ে। পূর্বের দেয়ালে খিলান ছাড়া আর তেমন কোনো চিহ্ন নেই। দক্ষিণের দেয়ালে কিছু টেরাকোটা এবং বেশ কিছু খোদাই করা ডিজাইন চোখে পড়ে। উত্তরের দেয়ালেও প্রায় একই। পশ্চিমের দেয়ালটি একেবারেই ভিন্ন। মাঝখানে মূল মেহরাবের অংশটি কিছুটা বের করা। বাকি পুরো দেয়ালের ইটে খোদাই করে নকশা করা। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর একই ডিজাইনের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এপাশে সাতবার, ওপাশে সাতবার। দীর্ঘ সময়, বৈরি আবহাওয়া ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু কিছু খোদাই করা অংশ ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও অপূর্ব সুন্দর লাগে দেখতে।

মসজিদের মূল কেন্দ্রীয় মেহরাব, ছাদের উচ্চতা বোঝাই যায়

মসজিদের পুবপাশে বড় একটি পুকুর। তার পরেই হলো দারসবাড়ি মাদরাসা। ১৫০৪ সালে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এটি নির্মাণ করেছিলেন। কুমিল্লার শালবন বিহারের আদলে নির্মিত চতুর্ভূজাকার ভবনটির একেক দিকের দৈর্ঘ্য ১৮২ ফুট। রুমগুলো সব চারিদিকে। এতে রয়েছে ১০ ফুট ঢ ১০ ফুট মাপের ৪০টি রুম, চার কোণে চারটি ছোট ক্লাসরুম ও চত্ত্বরের মাঝখানে একটি বড় ক্লাসরুম।

টেরাকোটার বিশেষত্ব
কত সহস্র টেরাকোটা টালি যে ব্যবহার করা হয়েছিল মসজিদটির ভেতরে, তার হিসাব নেই। বেশ কিছু জায়গায় ভেঙে গেলেও এখনো যেটুকু টিকে আছে, দেখে মুগ্ধ হতেই হবে। জ্যামিতিক আকার, ফুল ও লতার ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছিল এই টালিগুলো। একেকটি একেক রকম, পাশাপাশি বসিয়ে পুরো নকশাটি সৃষ্টি করা। দূর থেকে দেখলে সবগুলি মেহরাবে একইরকম মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখলে বুঝা যায় একেকটি মেহরাবের ডিজাইন ডিটেইলে সামান্য কিছু পার্থক্য রাখা হয়েছিল। এতটা ডেলিকেট ও নিখুঁত টেরাকোটা ডিজাইন কোনো মসজিদের ভেতর খুব কমই দেখা যায়নি। শুধু যে দেয়ালের উপর সাঁটা, তাই নয়। ভাবতে অবাক লাগে, সাড়ে পাঁচশত বছর আগে এতটা পাতলা পুরুত্বের ঝুলন্ত দেয়ালইবা কীভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, আর তাতে টেরাকোটা টালিই বা কীভাবে গাঁথা হয়েছিল? কয়েকটি মেহরাবের উপর সেই ঝুলন্ত দেয়াল এখনো টিকে আছে!

দক্ষিণ দরজা থেকে ভেতরের দৃশ্য। খিলানের পর খিলান। উত্তরে দ্বিতল রাজকীয় গ্যালারি

টেরাকোটার ডিজাইন ডিটেইল দেখলেই বুঝা যায় এগুলি কোনো ছাঁচে তৈরি করা হয়নি। হাতের সুক্ষ্ম কাজে এগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। দূর থেকে দেখে যেটিকে একটি বৃত্তাকার ডিজাইন বলে মনে হয়, কাছ থেকে দেখলেই দেখা যায় একেকটি বৃত্ত ৬-৮টি টালি পাশাপাশি বসিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল।

মসজিদের একটি মেহরাবের উপর একটি অংশ দেখে বুঝা যায় দেয়ালের ইট কেটে দুটি টালি পরে বসানো হয়েছে। মূল ডিজাইনে ছিল একটি ফুলদানি। এর উপর পরে বসানো হয়েছে একটি পতাকার স্ট্যান্ড এবং তার ডান পাশে একটি লম্বা ত্রিভূজাকার পতাকা। কেবলমাত্র সুলতান যেসব মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন, শুধু সেই মসজিদগুলোতে তার উপস্থিতির প্রমাণস্বরূপ তার পতাকা সজ্জিত করা হতো। এই দুটি টালি থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়, তৎকালীন সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ দারসবাড়ি মসজিদে এসেছিলেন এবং নামাজ আদায় করেছিলেন।

মসজিদের নামকরণ
কোনো কোনো গবেষকের মতে মসজিদটি স্থাপনের সময় স্থানীয় এলাকার নামানুসারে এর নাম ছিল ওমরপুর মসজিদ। পরে মাদরাসা স্থাপনের পর এটিও দারসবাড়ি নাম ধারণ করে। নামটির পেছনে যুক্তিও আছে বলে ধারণাটি ফেলে দেওয়া কঠিন।

সুলতানি আমলে দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফার্সি। এই ফার্সি ভাষায় “দার্স” শব্দটির অর্থ “পড়া”। তাই পড়ালেখার জন্য বিশাল এই আবাসিক প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) প্রথম থেকেই “দার্সবাড়ি” নামেই পরিচিত ছিল। এর ছাত্রেরা এই মসজিদেই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করত বলে মসজিদটির “দার্সবাড়ি মসজিদ” নাম হয়ে যায়। দার্সবাড়ি থেকে দারসবাড়ি হতে সময় লাগেনি!

এই এলাকাটিও এখন দারসবাড়ি নামে পরিচিত। এখানে মানুষ দারসবাড়ি মসজিদ ও দারসবাড়ি মাদরাসা নামেই এগুলোকে চিনে।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর পতাকার টালি

মসজিদটির ভাঙন
কোনো একটি ভূমিকম্পে দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা, দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মসজিদের গোটা ছাদ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়, কিছু দেয়াল ও সামনের বারান্দা ভেঙে যায়। মাদ্রাসাটির ছাদ ও দেয়ালের বিপুল ক্ষতি হয়। ভাঙনের পরিমাণ এতটাই মারাত্মক ছিল যে এর কোনোটিকেই আর পুনর্র্নিমাণ করে ব্যবহার করার অবস্থায় থাকে না। তাই এগুলিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। মসজিদ ও মাদরাসা একত্রে গুঁড়িয়ে যাওয়া এবং পরিত্যক্ত ঘোষণার ফলে স্থানীয় মানুষ “সৃষ্টিকর্তার গজব নামতে পারে” এই ভয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পুরো এলাকাটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে। কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটি গাছ-গাছালিতে ভরে যায়। এতে ধুলা-বালি আটকে পড়ে মাদ্রাসার অবশিষ্ট অংশের অনেকখানিই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয়, এটি ছিল ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের ফল। কিন্তু একটি ঘটনার কারণে এই সময়কাল প্রশ্নবিদ্ধ।

মসজিদটির যে শিলালিপিটি কলকাতা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে, সেটি কাছাকাছি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছিলেন মুন্সী এলাহী বখশ নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু এটি কলকাতা জাদুঘরে জমা দেওয়া হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। এই লিপিটির সংরক্ষণ নম্বর ৩১৩৯। বিশাল শিলালিপিটি দৈর্ঘ্যে ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ২ ফুট ১ ইঞ্চি। উদ্ধারের সময়ই এটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তাহলে তো আর মসজিদের ভাঙন ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের ফলাফল হতে পারে না।

একটি মেহরাব, টেরাকোটা নকশা খসে পড়ছে। শিলালিপি চুরি হয়ে গেছে

১৮৯৭ সালের ১২ জুন আসামে রিকটার স্কেলে ৮.৩ মাত্রার যে ভূমিকম্পটি হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশেরও অধিকাংশ নির্মিত ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে এর আগে ১৮৫০ সালের ১৫ আগস্ট তিব্বতে ভূমিকম্প হয়েছিল ৮.৬ মাত্রার, যা আসামে ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাতে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। এই তীব্র ভূমিকম্পেই ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছিল। তাহলে হতে পারে, এই ১৮৫০ এর ভূমিকম্পেই ভেঙে পড়েছিল দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা।

মসজিদ ও মাদ্রাসার সংস্কার
১৯২০-২১ এর কোনো এক সময়ে বানভাসি বেশ কিছু মানুষের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এই এলাকার জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় খুঁজে পাওয়া যায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ভগ্ন অংশ। সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯২৪ সালে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় সংস্কারের। মসজিদের পশ্চিমের দেয়ালের যে অংশগুলি ভেঙে গেছিল, দাঁড়িয়ে থাকা অংশের সঙ্গে মিল রেখে তা নিখুঁতভাবে সংস্কার করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালেও কিছু সংস্কার করা হয়। কিন্তু বারান্দা ও ছাদ পুনর্র্নিমাণ করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান সরকার আবার বেশ কিছু সংস্কার কাজ করে। এর প্রধান কাজ ছিল সমস্ত দেয়াল থেকে শ্যাঁওলা তুলে পরিষ্কার করা। কিন্তু ছাদ আবারও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসাটিকে একটি হেরিটেজ দর্শনীয় স্থান হিসেবে সংস্কার করা হয়।

বাংলাদেশ আমলে রাষ্ট্রপতি এরশাদ এলাকাটি পরিদর্শন করার পর ১৯৯০ সালে এটিকে আবার সংস্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে দেয়ালগুলোকে পরিষ্কার করা ছাড়া আর তেমন কিছু করা যায়নি।

ছাদ ছাড়া একটি মসজিদ তো আর ব্যবহার করা যায় না। এক শতাব্দীর রোদবৃষ্টিতে মসজিদের মেঝেতে গজিয়েছে সুন্দর ঘাস। চারদিকে পুরোনো লাল ইটের দেয়ালের মাঝে মনে হয় যেন একটি চমৎকার মসৃণ সবুজ গালিচা। ব্যবহার না হলেও দেখতে ভারি চমৎকার লাগে।

মেহরাবের সম্মুখভাগে পাতলা ঝুলন্ত দেয়ালে টেরাকোটা নকশার ডিটেইল

এলাকায় জ্বিনের উপাখ্যান
দারসবাড়ি এলাকাটি বাংলাদেশের আর দশটি গ্রামীণ এলাকার মতো নয়। হয়তো বর্ডারের খুব কাছাকাছি বলে, অথবা একটি জনশ্রুত কাল্পনিক ভয়ে, এলাকাটিতে খুব বেশি মানুষ বাস করে না। “আল্লাহর গজব নামবে” এই ভয়ে যারা পালিয়েছিল, তারা আর কখনই ফেরেনি। বানভাসী যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল তাদেরও অনেকেই পালিয়েছে জ্বিনের ভয়ে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, মসজিদের ছাদ জ্বিনে নিয়ে গেছে।

১৯২৪ সালে যখন প্রথম মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়, প্রথম কাজ ছিল ধসে পড়া ইট ভেতর থেকে সরানো। পুরো ছাদের লক্ষ লক্ষ ইট বাইরে সরিয়ে পরিষ্কার করার পর স্তুপাকারে সাজিয়ে রাখা হয়, পুনর্ব্যবহারের জন্য। কিন্তু ছাদটি যেহেতু মেরামত করা সম্ভব হয়নি, ইটগুলি সেভাবেই স্তুপে স্তুপে থেকে যায় মসজিদটির এক পাশে। ১৯৬০ এর দশকে আবার সংস্কারের সময় দেখা যায় ইটের স্তুপে বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপ, তাই সেগুলি সরিয়ে পরিষ্কার করে অন্য একটি পাশে আবার স্তুপ করে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাদটি পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। ১৯৯০ সালে একই কাজটি আবার করা হয়।

১৯৯১ সালে স্থানীয় কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তির নজরে আসে ফেলে রাখা লক্ষ লক্ষ ছোট ইট। কিন্তু এমনি এমনিই তো আর নিয়ে যাওয়া যায় না। তারা এলাকায় প্রচার করা শুরু করলেন যে এলাকাটিতে জ্বিনের আছর আছে বলে ব্রিটিশ, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ, কোনো আমলেই মসজিদটির ছাদ পুণঃনির্মাণ সম্ভব হয়নি। এই ইটগুলি এখন জ্বিনে নিয়ে যাবে। এলাকার মানুষকে সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।

ডিটেইল দেখলেই বুঝা যায় নকশাগুলো ছাঁচে নয়, হাতের সুক্ষ্ম কাজে নির্মাণ করা

এলাকাটিতে যেহেতু বিদ্যুতের সংযোগ নেই, রাস্তা থেকেও বেশ ভেতরে, সন্ধ্যার পরই নেমে আসত বেশ অন্ধকার। এক অমাবশ্যার রাতে শুরু হলো অ্যাকশন। মশাল হাতে কিছু মানুষকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাজি-পটকা নিয়ে। তারা গভীর রাতে মসজিদের সামনে ফোটাতে থাকলো পটকা। মুখে কেরোসিন ভরে ফুঁ দিয়ে ছুটাল আগুনের হল্কা। দূর থেকে আগুনের ছটফটানি দেখেছে কিছু মানুষ। ভয়ে পালিয়ে গেছে ঘরে। পরদিন এলাকায় আলোচনা বসল রাতের জ্বিনের কাণ্ড কারখানা নিয়ে। কিছু মানুষ পালিয়ে গেল। বাকিরা রাতে প্রয়োজন হলেও ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিল। পরের অমাবশ্যায় আবার অ্যাকশন। বাজি-পটকা ফুটাবার পর কয়েকটি গরুর গাড়ি নিয়ে চুরি হলো ইট। পরদিন লোকে দেখল বেশ কিছু ইট নাই হয়ে গেছে। এভাবে মাস ছয়েকের মধ্যে পুরো ইট খালি হয়ে গেল। এর পরও বেশ কয়েক রাতে ফুটল বাজি-পটকা।

এখন বেড়াতে গেলে দেয়ালে গাঁথা ইট ছাড়া একটি ইটও কোথাও পড়ে থাকতে দেখা যাবে না! দশক দশক পরেও মানুষ বিশ্বাস করে মসজিদের ছাদের সব ইট জ্বিনে নিয়ে গেছে।

মসজিদ থেকে বের হয়ে মহাসড়কে উঠে বর্ডার চেকপোস্টের দিকে আধা কিলোমিটারের মতো গেলে হাতের ডানে পড়বে একটি রাস্তা। এলাকাটির নাম সম্ভবত বালিয়াদিঘী। এই রাস্তায় কয়েকশত গজ এগোলেই রাস্তার দুই ধারে চোখে পড়বে কিছু বস্তিবাড়ি। সবগুলি ছোট ছোট ইটে গড়া। স্থানীয় সরকার স্থানীয় এক কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু ঘর বানিয়ে দিয়েছে। মসজিদের ছাদের ইট জ্বিনে আসলে বেশি দূরে নিয়ে যায়নি!

কীভাবে যাবেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশায় যাওয়া যায়। দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। সময় লাগবে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। আর বর্ডারের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাস পেলে তো কথাই নেই!

তবে দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা দেখার পর একদম কাছেই ১৪৮০ সালে নির্মিত খনিয়াদিঘি মসজিদ (চামচিকা মসজিদ), ১৪০০ শতাব্দীর ধনাইচক মসজিদ, ১৭০০ শতাব্দীর শাহ সুজার তাহখানা কমপ্লেক্স এবং ছোট সোনা মসজিদ দেখে আসতে ভুলবেন না। একদিনে ৮টি হেরিটেজ ভবন + একজন বীরশ্রেষ্ঠর কবর!

ভ্রমণ যখন বা যেখানেই করি না কেন, পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। সবাই যে করে, তা নয়। এই স্থাপনাগুলি দেখলে তা আরও বেশি চোখে পড়ে। আপনার পরবর্তী প্রজন্মের ভ্রমণ পীপাসুদের জন্য হলেও আপনার ব্যবহৃত জিনিস নির্ধারিত জায়গায় ফেলুন বা সঙ্গে করে নিয়ে আসুন।