ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাটুরিয়ায় রানুর বসত বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করল প্রতিবেশি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার রানু বেগম ৭০ বছর ধরে বাপ দাদার বসত ভিটায় বসবাস করে আসছে। সেই বসত বাড়ি প্রতিবেশি বার বার দখলের চেষ্টা করে। বাড়ি দখলের ঘটনা বুঝতে পেরে রানু বেগম। বৃস্পতিবার রাতে সাটুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশের ভূমিকা কি এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ফুকুরহাটি গ্রামে। প্রতিবেশি জবেদ আলী শুক্রবার রানুর বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশের এসআই কামরুল ইসলাম বাদীর অভিযোগ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি দখলদারকে কিছু না বলে বাদী রানু বেগমকে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। রানুর পক্ষের নারীরা ক্ষিপ্ত হলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচানোর জন্য একটি ঘরে আশ্রয় নেন।

দুই ঘন্টার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা বের করে থানায় পাঠিয়ে দেন। রানু বেগম জানান, তার পিতা কাবিল উদ্দিন প্রতিবেশি জবেদ আলীর কাছে ১৯৪৮ সালে ১২০৯ দাগে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। আর আমরা বসত করছি ১৮৫৩ দাগে ১৮ শতাংশ জমিতে। শুক্রবার সকালে জবেদ আলী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ১৮৫৩ দাগের বসত বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করে।

ঘর উত্তোলণের আগে ১৫ থেকে ২০ টি ছোট বড় গাছ কেটে নেয় তারা। যার আনমানিক মূল্যে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। দখলকারী জবেদ আলী বলেন, স্থানীয় মাতাব্বররা আমাকে রানুর বসত বাড়ি থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি মাপ দিয়ে দেন। তাদের মাপের পর আমি সেখানে গাছ কেটে ঘর উত্তোলণ করি। জবেদ আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনিতো ১২০৯ দাগে জমি কিনেছেন।

তাহলে ১৮৫৩ দাগে জমি দখল করলেন কেন? সে এর কোন উত্তর দিতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থাœনীয়রা জানায়, পুলিশের পক্ষপাত্বি করার কারণে এখানে আইন শৃংক্সখলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়। পরে স্থানীয়দের সহয়োগিতায় পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় মাতাব্বর আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা যখন ১৮৫৩ দাগে জমি মাপ দেয় তখন আমরা জানিনা দলিলে ১২০৯ দাগে জবেদ আলী জমি কিনেছে। পরে দলিল দেখে জানতে পারি যে জমিতে মাপ দিয়েছে সে জমি জবেদ আলী কিনেনি। কিনেছে ১৮৫৩ দাগে।

এ নিয়ে ওই দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ঝগড়া বিবাদ। এ ঘটনায় পুলিশ এসে বাদীর অভিাযোগ নিয়ে কথা না বলে বিবাদীর পক্ষ নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীসহ এলাকার লোকজন। সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, একজন মানুষ নিরুপায় হয়ে থানা পুলিশের সাহায্য নেয়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা বাদীর পক্ষ না নিয়ে বিবাদীর পক্ষ নেওয়ায় পরিবেশ পরিস্থিতি ভিন্নখাদে নিয়েছেন। এতে পুলিশের ভার্বমর্তি নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ১২০৯ দাগে জমি কিনে ১৮৫৩ দাগে কোন ভাবে জমি দখল করতে পারবে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

সাটুরিয়ায় রানুর বসত বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করল প্রতিবেশি

প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার রানু বেগম ৭০ বছর ধরে বাপ দাদার বসত ভিটায় বসবাস করে আসছে। সেই বসত বাড়ি প্রতিবেশি বার বার দখলের চেষ্টা করে। বাড়ি দখলের ঘটনা বুঝতে পেরে রানু বেগম। বৃস্পতিবার রাতে সাটুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশের ভূমিকা কি এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ফুকুরহাটি গ্রামে। প্রতিবেশি জবেদ আলী শুক্রবার রানুর বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশের এসআই কামরুল ইসলাম বাদীর অভিযোগ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি দখলদারকে কিছু না বলে বাদী রানু বেগমকে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। রানুর পক্ষের নারীরা ক্ষিপ্ত হলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচানোর জন্য একটি ঘরে আশ্রয় নেন।

দুই ঘন্টার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা বের করে থানায় পাঠিয়ে দেন। রানু বেগম জানান, তার পিতা কাবিল উদ্দিন প্রতিবেশি জবেদ আলীর কাছে ১৯৪৮ সালে ১২০৯ দাগে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। আর আমরা বসত করছি ১৮৫৩ দাগে ১৮ শতাংশ জমিতে। শুক্রবার সকালে জবেদ আলী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ১৮৫৩ দাগের বসত বাড়ি দখল করে ঘর উত্তোলন করে।

ঘর উত্তোলণের আগে ১৫ থেকে ২০ টি ছোট বড় গাছ কেটে নেয় তারা। যার আনমানিক মূল্যে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। দখলকারী জবেদ আলী বলেন, স্থানীয় মাতাব্বররা আমাকে রানুর বসত বাড়ি থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি মাপ দিয়ে দেন। তাদের মাপের পর আমি সেখানে গাছ কেটে ঘর উত্তোলণ করি। জবেদ আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনিতো ১২০৯ দাগে জমি কিনেছেন।

তাহলে ১৮৫৩ দাগে জমি দখল করলেন কেন? সে এর কোন উত্তর দিতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থাœনীয়রা জানায়, পুলিশের পক্ষপাত্বি করার কারণে এখানে আইন শৃংক্সখলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়। পরে স্থানীয়দের সহয়োগিতায় পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় মাতাব্বর আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা যখন ১৮৫৩ দাগে জমি মাপ দেয় তখন আমরা জানিনা দলিলে ১২০৯ দাগে জবেদ আলী জমি কিনেছে। পরে দলিল দেখে জানতে পারি যে জমিতে মাপ দিয়েছে সে জমি জবেদ আলী কিনেনি। কিনেছে ১৮৫৩ দাগে।

এ নিয়ে ওই দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ঝগড়া বিবাদ। এ ঘটনায় পুলিশ এসে বাদীর অভিাযোগ নিয়ে কথা না বলে বিবাদীর পক্ষ নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীসহ এলাকার লোকজন। সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, একজন মানুষ নিরুপায় হয়ে থানা পুলিশের সাহায্য নেয়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা বাদীর পক্ষ না নিয়ে বিবাদীর পক্ষ নেওয়ায় পরিবেশ পরিস্থিতি ভিন্নখাদে নিয়েছেন। এতে পুলিশের ভার্বমর্তি নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ১২০৯ দাগে জমি কিনে ১৮৫৩ দাগে কোন ভাবে জমি দখল করতে পারবে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।