ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাস্তা নেই, আছে সাঁকো কাজে আসছে না সেতু

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নুরুন্ডি খালের ওপর নির্মিত ৩৬ ফুট সেতুর একপাশে পাকা সড়ক থাকলেও, অন্যপাশে রাস্তা নেই। উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের জনবসতিহীন বলসতা এলাকায় এক বছর আগে নির্মিত সেতুটি মানুষের উপকারে আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় অংশে সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নকশায় রাস্তা আছে বলেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয়ে হয়েছে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ টাকা।

গত বুধবার বলসতা এলাকায় দেখা যায়, নুরুন্ডি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির একপাশে নুরুন্ডি থেকে শাক্তাগামী রাস্তা, অন্যদিকে রাস্তাহীন অংশে প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো এক প্রবাসী পরিবারের নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে ঠেকেছে। তবে সেখানে আর কোনো বাড়ি দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সেতুর অপর প্রান্তে মনা মিয়া ও সোনা মিয়া নামে প্রবাসী দুই ভাইয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন আছে। এটি সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। তবে সেতু নির্মাণকালে মনা মিয়া দেশেই ছিলেন। অন্য স্থানে সেতুটি নির্মাণের কথা থাকলেও তদবির করে সেতুটি নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি করিয়েছেন মনা মিয়ারা। সাঁকোটি নিজেদের ভবনে যাওয়ার জন্য তাঁরাই তৈরি করেছেন।

এদিকে অব্যবহারে সেতুর দুই প্রান্তে ঘাস জন্মে গেছে। মানুষের যাতায়াত না থাকায় সন্ধ্যায় ওই সেতুতে বখাটেদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে বুধবার দুপুরে বলসতা এলাকায় কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করা কাউকে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। অন্য একটি বাড়িতে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক কাশেম বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের ভবন তৈরিতে আমি কাজ করেছি। শুনেছি এই সেতুটি বলসতা রাস্তার মাথায় নির্মাণ করার কথা ছিল। এ সময় মনা মিয়া দেশে এসে তদবির করে সেতুটি তাঁর বাড়ির সামনে নির্মাণ করেছে। এখন তাঁরা দুই ভাই দেশের বাইরে রয়েছেন।’

জানতে চাইলে স্থানীয় শাক্তা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন লিটন বলেন, ‘সরকারি নকশা অনুযায়ী, ওই সেতু থেকে বটতলা পর্যন্ত ২০ ফুট চওড়া সরকারি হালুট (রাস্তা) রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, হালুট উদ্ধার করে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু আমি আর সেটা শেষ করতে পারিনি।’

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তা ছাড়া সেতুটির অপর প্রান্তে সরকারি নকশায় রাস্তা রয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলেই রাস্তাটিও নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

রাস্তা নেই, আছে সাঁকো কাজে আসছে না সেতু

প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নুরুন্ডি খালের ওপর নির্মিত ৩৬ ফুট সেতুর একপাশে পাকা সড়ক থাকলেও, অন্যপাশে রাস্তা নেই। উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের জনবসতিহীন বলসতা এলাকায় এক বছর আগে নির্মিত সেতুটি মানুষের উপকারে আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় অংশে সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নকশায় রাস্তা আছে বলেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয়ে হয়েছে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ টাকা।

গত বুধবার বলসতা এলাকায় দেখা যায়, নুরুন্ডি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির একপাশে নুরুন্ডি থেকে শাক্তাগামী রাস্তা, অন্যদিকে রাস্তাহীন অংশে প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো এক প্রবাসী পরিবারের নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে ঠেকেছে। তবে সেখানে আর কোনো বাড়ি দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সেতুর অপর প্রান্তে মনা মিয়া ও সোনা মিয়া নামে প্রবাসী দুই ভাইয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন আছে। এটি সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। তবে সেতু নির্মাণকালে মনা মিয়া দেশেই ছিলেন। অন্য স্থানে সেতুটি নির্মাণের কথা থাকলেও তদবির করে সেতুটি নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি করিয়েছেন মনা মিয়ারা। সাঁকোটি নিজেদের ভবনে যাওয়ার জন্য তাঁরাই তৈরি করেছেন।

এদিকে অব্যবহারে সেতুর দুই প্রান্তে ঘাস জন্মে গেছে। মানুষের যাতায়াত না থাকায় সন্ধ্যায় ওই সেতুতে বখাটেদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে বুধবার দুপুরে বলসতা এলাকায় কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করা কাউকে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। অন্য একটি বাড়িতে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক কাশেম বলেন, ‘প্রবাসী ভাইদের ভবন তৈরিতে আমি কাজ করেছি। শুনেছি এই সেতুটি বলসতা রাস্তার মাথায় নির্মাণ করার কথা ছিল। এ সময় মনা মিয়া দেশে এসে তদবির করে সেতুটি তাঁর বাড়ির সামনে নির্মাণ করেছে। এখন তাঁরা দুই ভাই দেশের বাইরে রয়েছেন।’

জানতে চাইলে স্থানীয় শাক্তা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন লিটন বলেন, ‘সরকারি নকশা অনুযায়ী, ওই সেতু থেকে বটতলা পর্যন্ত ২০ ফুট চওড়া সরকারি হালুট (রাস্তা) রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, হালুট উদ্ধার করে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু আমি আর সেটা শেষ করতে পারিনি।’

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তা ছাড়া সেতুটির অপর প্রান্তে সরকারি নকশায় রাস্তা রয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলেই রাস্তাটিও নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’