ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার সীমান্তের ২৮০ কিমি গভীর পর্যবেক্ষণে

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে গায়ে পড়ে যুদ্ধ করতে চায় না শান্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরও মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডে যদি সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ঢাকা। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৮০ কিলোমিটার অঞ্চল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্তে যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা কখনোই শান্তির পক্ষে বার্তা দেয় না। দেশটির যুদ্ধবিমান একাধিকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং যুদ্ধবিমান থেকে গুলিও ছুড়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে তাদের ছোড়া গোলা বাংলাদেশের ভেতরে একবাধিকবার পড়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে মিয়ানমারের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি শক্ত ভাষায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যে চারবার তলব করা হয়।

মিয়ানমারের দূত জানিয়েছেন যে, সীমান্তের ঘটনায় মিয়ানমার ইচ্ছা করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলা ছোড়া বা আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি। সীমান্তের পরিস্থিতি মিয়ানমার যে ঘোলা করার চেষ্টা করছে তা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী, কিন্তু মিয়ানমার গায়ে পড়ে যুদ্ধ বাধাতে যাচ্ছে। তাই চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে রাখছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন যে, মিয়ানমারেরে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাই মিসটেক দু-একটি গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ছে। জাতিসংঘও গত বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ থেকে ভয়ংকরের দিকে যাচ্ছে।

ঢাকার কূটনীতিকরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানানোর সময় তারা জানতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেবে। তাদের এমন জানতে চাওয়ার জবাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কূটনৈতিকভাবে ধৈর্যসহকারে বাংলাদেশ পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সময় অনুযায়ী, ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্ত এলাকা গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে বলেন, ‘এই যে সংঘাত হচ্ছে, এটা মিয়ানমারের সংঘাত। তাদের এখানে দুই দল মারামারি করছে আর যেহেতু অনেক লোক রোহিঙ্গা, এসব লোক বর্ডার এলাকায়, নো-ম্যানস ল্যান্ডে। বর্ডার এলাকার নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকে। আমাদের বাংলাদেশের ওই এলাকার বর্ডারটা খুব ক্রিসক্রস। কখনো এটা বোঝা মুশকিল। তো সেই কারণে ওরা বলেছে যে, তারা টার্গেট করে আমাদের এখানে কিছু ফেলছে না। একটা দুটো যে পড়েছে, সেইগুলো বাই মিসটেক। সুতরাং আমরা তাদের ডেকেছি। তারা অঙ্গীকার করেছে যে, তারা এ ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করবে।’

সীমান্তে মিয়ানমারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে করণীয় সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল গত বুধবার সচিবালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব, সেনা-বিমান-নৌবাহিনী প্রধান, বিজিবি-কোস্ট গার্ড প্রধানসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড পূঙ্খানুপুঙ্খ বৈঠকে বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হয় যে, এমন ঘটনা ইচ্ছা করে মিয়ানমার ঘটাচ্ছে, নাকি তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বাংলাদেশ এই ইস্যুতে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। ধৈর্য ধরে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে। বৈঠকে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দুই পক্ষের ২৮০ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চল গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

ওই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিদ্ধান্তে এসেছি যে আমাদের জাতীয় পলিসি যেটা-সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। আমরা সেখানে যুদ্ধকে কখনোই উৎসাহী করব না। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিও আমাদের এখানে আসেনি। সেনাবাহিনীসহ আমাদের জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত থাকে। এখনো তারা প্রস্তুত আছেন। আমরা ভয় করি না। তবে আমাদের কথা হলো, আমরা যুদ্ধে জড়াব না।’

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২২ উপলক্ষে গত বুধবার এক সেমিনারে বলেন, ‘সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে উত্তেজনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োজিত আছে। সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী, যখন যা করতে হবে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। সে লক্ষ্যে সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রীকে সব হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠী সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো অংশগ্রহণ নেই এখানে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে।’

মধুমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের উসকানির ব্যাপারে সংযমী আচরণ করছি। পরিষ্কার কথা, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না। তবে আমাদের বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী প্রস্তুত আছে। আমরা প্রথম আক্রমণকারী হতে চাই না।’

Tag :
জনপ্রিয়

হোসেনপুর বাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যাবসায়িকদের উদ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

মিয়ানমার সীমান্তের ২৮০ কিমি গভীর পর্যবেক্ষণে

প্রকাশের সময় : ১১:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে গায়ে পড়ে যুদ্ধ করতে চায় না শান্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরও মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডে যদি সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ঢাকা। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৮০ কিলোমিটার অঞ্চল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সীমান্তে যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা কখনোই শান্তির পক্ষে বার্তা দেয় না। দেশটির যুদ্ধবিমান একাধিকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং যুদ্ধবিমান থেকে গুলিও ছুড়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে তাদের ছোড়া গোলা বাংলাদেশের ভেতরে একবাধিকবার পড়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে মিয়ানমারের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি শক্ত ভাষায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যে চারবার তলব করা হয়।

মিয়ানমারের দূত জানিয়েছেন যে, সীমান্তের ঘটনায় মিয়ানমার ইচ্ছা করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলা ছোড়া বা আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি। সীমান্তের পরিস্থিতি মিয়ানমার যে ঘোলা করার চেষ্টা করছে তা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী, কিন্তু মিয়ানমার গায়ে পড়ে যুদ্ধ বাধাতে যাচ্ছে। তাই চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে রাখছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন যে, মিয়ানমারেরে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাই মিসটেক দু-একটি গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ছে। জাতিসংঘও গত বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ থেকে ভয়ংকরের দিকে যাচ্ছে।

ঢাকার কূটনীতিকরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানানোর সময় তারা জানতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেবে। তাদের এমন জানতে চাওয়ার জবাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কূটনৈতিকভাবে ধৈর্যসহকারে বাংলাদেশ পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সময় অনুযায়ী, ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্ত এলাকা গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে বলেন, ‘এই যে সংঘাত হচ্ছে, এটা মিয়ানমারের সংঘাত। তাদের এখানে দুই দল মারামারি করছে আর যেহেতু অনেক লোক রোহিঙ্গা, এসব লোক বর্ডার এলাকায়, নো-ম্যানস ল্যান্ডে। বর্ডার এলাকার নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকে। আমাদের বাংলাদেশের ওই এলাকার বর্ডারটা খুব ক্রিসক্রস। কখনো এটা বোঝা মুশকিল। তো সেই কারণে ওরা বলেছে যে, তারা টার্গেট করে আমাদের এখানে কিছু ফেলছে না। একটা দুটো যে পড়েছে, সেইগুলো বাই মিসটেক। সুতরাং আমরা তাদের ডেকেছি। তারা অঙ্গীকার করেছে যে, তারা এ ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করবে।’

সীমান্তে মিয়ানমারের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে করণীয় সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল গত বুধবার সচিবালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব, সেনা-বিমান-নৌবাহিনী প্রধান, বিজিবি-কোস্ট গার্ড প্রধানসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড পূঙ্খানুপুঙ্খ বৈঠকে বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হয় যে, এমন ঘটনা ইচ্ছা করে মিয়ানমার ঘটাচ্ছে, নাকি তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বাংলাদেশ এই ইস্যুতে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। ধৈর্য ধরে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে। বৈঠকে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দুই পক্ষের ২৮০ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চল গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

ওই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিদ্ধান্তে এসেছি যে আমাদের জাতীয় পলিসি যেটা-সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। আমরা সেখানে যুদ্ধকে কখনোই উৎসাহী করব না। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিও আমাদের এখানে আসেনি। সেনাবাহিনীসহ আমাদের জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত থাকে। এখনো তারা প্রস্তুত আছেন। আমরা ভয় করি না। তবে আমাদের কথা হলো, আমরা যুদ্ধে জড়াব না।’

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২২ উপলক্ষে গত বুধবার এক সেমিনারে বলেন, ‘সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে উত্তেজনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োজিত আছে। সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী, যখন যা করতে হবে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। সে লক্ষ্যে সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রীকে সব হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠী সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো অংশগ্রহণ নেই এখানে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে।’

মধুমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের উসকানির ব্যাপারে সংযমী আচরণ করছি। পরিষ্কার কথা, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না। তবে আমাদের বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী প্রস্তুত আছে। আমরা প্রথম আক্রমণকারী হতে চাই না।’