ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মজুদ থাকার পরও সার পাচ্ছেন না কৃষক

অন্যান্য জেলার তুলনায় এবার আমন মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃষ্টির তেমন একটা দেখা যায়নি। প্রচণ্ড খরা ও দাবদাহের কারণে শ্যালো মেশিন ও নলকূপ (ডিপ টিবওয়েল) দিয়ে ধান রোপন ও সেচ দিতে কৃষকদের চাষাবাদের খরচ বেড়েই চলছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সারের কৃত্রিম সংকটে বাজারে বেশি দাম দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চরম হতাশ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন চাষীরা। অপরদিকে সংকট নয়,পর্যাপ্ত পরিমাণের সার মজুদ রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জেলার ইউরিয়া সারের চাহিদা ৮১৪৮ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ৩৭২৪ মেট্রিক টন, উত্তোলন করা হয়েছে ৩০৫৫ মেট্রিক টন, সার মজুদ রয়েছে ৯৬৯ মেট্রিক টন। টিএসপি সারের চাহিদা ২৯৯৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ৯৬৭ মেট্রিক টন, উত্তোলন ৬৬৬ মেট্রিক টন, মজুদ ৪৪৩ মেট্রিক টন। ডিএপি সারের চাহিদা ৪২৮৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ১৮৪৬ মেট্রিক টন, উত্তোলন ১৭৫৪ মেট্রিক টন, মজুদ ৯৭৪ মেট্রিক টন। আর এমওপি সারের চাহিদা ৪৪৭৬ মেট্রিক টন, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৫৭ মেট্রিক টন, উত্তোলন করা হয়েছে ১৪৬৮ মেট্রিক টন, মজুদ রয়েছে ৫৩৯ মেট্রিক টন সার।

অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে রমজান নামে এক কৃষক বলেন, ‘ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে বলে সার নেই। আমরা সার ছাড়া কিভাবে কৃষি করব। ইউনুস আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা পটাশ (এমওপি) সার খুচরা বাজারে কিনতে গেলে ১৮০০ টাকা, ইউরিয়া ১৪০০ টাকা নিচ্ছে। তাও আবার প্রথম ধাপে সার পেলেও এখন বেশি দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ডিলাররা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু খুচরা সার বিক্রেতা ডিলাদের কাছে সার না পেয়ে সার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাই কৃষকরা সার পারছে না বলে জানান তারা।

সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা আলম বলেন, আমি প্রায় গত দুই মাস থেকে সার পাচ্ছি না। দোকানে কৃষকরা সারের জন্য ভিড় করছে।

আমন ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার দিতে না পেরে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে ডাঙ্গীপাড়া এলাকার কৃষক মহসীন আলী বলেন, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি কিন্তু সার পাওয়া যাচ্ছে না। সময় মতো সার দিতে না পারলে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আরেক কৃষক সুমন বলেন, সারের অভাবে ধানের গাছ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথাও কোনও সার পাচ্ছি না। ডিলাররা বলছে সার নেই। এভাবে সার না পেলে আমরা চাষাবাদ করব কিভাবে? চাষাবাদ বন্ধ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আমাদের। জ্বালানি তেলসহ সারের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। আমরা কৃষকরা কাকে কি বলব। কে শুনবে আমাদের কথা?

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ জানান, পরিবহনের সমস্যার কারণে সময় মতো সার আসতে না পারায় সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সার পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সারের কোনও সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণের সার রয়েছে। সার নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

মজুদ থাকার পরও সার পাচ্ছেন না কৃষক

প্রকাশের সময় : ১১:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

অন্যান্য জেলার তুলনায় এবার আমন মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃষ্টির তেমন একটা দেখা যায়নি। প্রচণ্ড খরা ও দাবদাহের কারণে শ্যালো মেশিন ও নলকূপ (ডিপ টিবওয়েল) দিয়ে ধান রোপন ও সেচ দিতে কৃষকদের চাষাবাদের খরচ বেড়েই চলছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সারের কৃত্রিম সংকটে বাজারে বেশি দাম দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চরম হতাশ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন চাষীরা। অপরদিকে সংকট নয়,পর্যাপ্ত পরিমাণের সার মজুদ রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জেলার ইউরিয়া সারের চাহিদা ৮১৪৮ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ৩৭২৪ মেট্রিক টন, উত্তোলন করা হয়েছে ৩০৫৫ মেট্রিক টন, সার মজুদ রয়েছে ৯৬৯ মেট্রিক টন। টিএসপি সারের চাহিদা ২৯৯৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ৯৬৭ মেট্রিক টন, উত্তোলন ৬৬৬ মেট্রিক টন, মজুদ ৪৪৩ মেট্রিক টন। ডিএপি সারের চাহিদা ৪২৮৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ১৮৪৬ মেট্রিক টন, উত্তোলন ১৭৫৪ মেট্রিক টন, মজুদ ৯৭৪ মেট্রিক টন। আর এমওপি সারের চাহিদা ৪৪৭৬ মেট্রিক টন, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৫৭ মেট্রিক টন, উত্তোলন করা হয়েছে ১৪৬৮ মেট্রিক টন, মজুদ রয়েছে ৫৩৯ মেট্রিক টন সার।

অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে রমজান নামে এক কৃষক বলেন, ‘ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে বলে সার নেই। আমরা সার ছাড়া কিভাবে কৃষি করব। ইউনুস আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা পটাশ (এমওপি) সার খুচরা বাজারে কিনতে গেলে ১৮০০ টাকা, ইউরিয়া ১৪০০ টাকা নিচ্ছে। তাও আবার প্রথম ধাপে সার পেলেও এখন বেশি দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ডিলাররা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু খুচরা সার বিক্রেতা ডিলাদের কাছে সার না পেয়ে সার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাই কৃষকরা সার পারছে না বলে জানান তারা।

সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা আলম বলেন, আমি প্রায় গত দুই মাস থেকে সার পাচ্ছি না। দোকানে কৃষকরা সারের জন্য ভিড় করছে।

আমন ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার দিতে না পেরে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে ডাঙ্গীপাড়া এলাকার কৃষক মহসীন আলী বলেন, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি কিন্তু সার পাওয়া যাচ্ছে না। সময় মতো সার দিতে না পারলে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আরেক কৃষক সুমন বলেন, সারের অভাবে ধানের গাছ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথাও কোনও সার পাচ্ছি না। ডিলাররা বলছে সার নেই। এভাবে সার না পেলে আমরা চাষাবাদ করব কিভাবে? চাষাবাদ বন্ধ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আমাদের। জ্বালানি তেলসহ সারের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। আমরা কৃষকরা কাকে কি বলব। কে শুনবে আমাদের কথা?

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ জানান, পরিবহনের সমস্যার কারণে সময় মতো সার আসতে না পারায় সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এখন সার পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সারের কোনও সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণের সার রয়েছে। সার নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।