ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফুটপাত থেকে মাসিক অর্ধকোটি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ডিইপিজেড সংলগ্ন এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ফুটপাত দখলে নিয়ে দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর ও আতিক নামের দুইজনের বিরুদ্ধে। এদের সঙ্গে রয়েছে কামাল নামের একজনও। শুধু ফুটপাতই নয়, তাদের দখলে রয়েছে মহাসড়কের এককাংশও। এতে করে মহাসড়কে বাড়ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনা। পথ চলায় নেই কোনো স্বস্তি, বেড়েই চলেছে বিড়ম্বনা।

আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নতুন ইপিজেড ও বলিভদ্র বাজার এলাকার ফুটপাতে প্রায় ছয় শতাধিক দোকান রয়েছে। যার প্রত্যেক দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। গড়ে ২০০ টাকা ধরলে দিনে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়। সেই হিসেবে মাসে ৩০ লাখ থেকে অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে আশুলিয়ার এই সড়ক-মহাসড়কের দুই স্থান থেকে। লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করা হলেও এর সিকি অংশও সরকারের কোষাগারে যায় না। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে প্রত্যেক হকারকে এককালীন অফেরত যোগ্য ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ডিইপিজেডের পুরতান জোন এলাকা হতে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত চার শতাধিক দোকান দেখাশোনা করে আতিক ও জাহাঙ্গীর নামের দুইজন। অবশ্য সেখানে টাকা তোলার জন্য রুহুল নামের একজনকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। বলিভদ্র এলাকার আনবিকের সামনের ২ শতাধিক দোকান থেকে টাকা নেন কামাল নামের একজন। তারা সবাই ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডলের লোক বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হকার জানান, চাঁদার টাকা না দিলে দোকান রাখা অসম্ভব। শুধু চাঁদার টাকা নয়, বসার জন্য তাদের এককালীন অগ্রিম টাকাও দিতে হয়। প্রথমে লাইনম্যানরা টাকা তুলে পরে তা ভাগাভাগি করে। তবে টাকার বড় অংশই চলে যায় গডফাদারদের পকেটে। এখানে আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির নেতারা তাদের ঘনিষ্ঠদের লাইনম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন।

অন্যদিকে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় এসে মন্ডল মার্কেটে চায়ের দোকান দেন আতিক। এখন আতিক অঢেল সম্পদের মালিক। অনুসন্ধানে তার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়িতে রয়েছে কোটি টাকার একটি মাছের ঘের, আশুলিয়ার কন্ডা এলাকায় কিনেছেন অর্ধকোটি টাকার বাড়ি, বলিভদ্র মন্ডল মার্কেটে রয়েছে ১০-১২টি পাঞ্জাবি ও বোরখার দোকান। নিজে ব্যবহার করেন আরওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল। রয়েছে নিজস্ব প্রাইভেটকারও।

এ বিষয়ে আতিক হাসান বলেন, আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই। আর জাহাঙ্গীর মুঠোফোনে বলেন, আমি থানায় জরুরি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

এ প্রসঙ্গে জানার জন্য ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফ মণ্ডলকে মোবাইলে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ফুটপাত ও মহাসড়ক থেকে সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

পূজা চেরিকে হাতেনাতে কার বাসায় ধরলো বুবলী?

ফুটপাত থেকে মাসিক অর্ধকোটি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১:১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ডিইপিজেড সংলগ্ন এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ফুটপাত দখলে নিয়ে দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর ও আতিক নামের দুইজনের বিরুদ্ধে। এদের সঙ্গে রয়েছে কামাল নামের একজনও। শুধু ফুটপাতই নয়, তাদের দখলে রয়েছে মহাসড়কের এককাংশও। এতে করে মহাসড়কে বাড়ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনা। পথ চলায় নেই কোনো স্বস্তি, বেড়েই চলেছে বিড়ম্বনা।

আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নতুন ইপিজেড ও বলিভদ্র বাজার এলাকার ফুটপাতে প্রায় ছয় শতাধিক দোকান রয়েছে। যার প্রত্যেক দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। গড়ে ২০০ টাকা ধরলে দিনে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়। সেই হিসেবে মাসে ৩০ লাখ থেকে অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে আশুলিয়ার এই সড়ক-মহাসড়কের দুই স্থান থেকে। লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করা হলেও এর সিকি অংশও সরকারের কোষাগারে যায় না। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে প্রত্যেক হকারকে এককালীন অফেরত যোগ্য ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ডিইপিজেডের পুরতান জোন এলাকা হতে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত চার শতাধিক দোকান দেখাশোনা করে আতিক ও জাহাঙ্গীর নামের দুইজন। অবশ্য সেখানে টাকা তোলার জন্য রুহুল নামের একজনকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। বলিভদ্র এলাকার আনবিকের সামনের ২ শতাধিক দোকান থেকে টাকা নেন কামাল নামের একজন। তারা সবাই ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডলের লোক বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হকার জানান, চাঁদার টাকা না দিলে দোকান রাখা অসম্ভব। শুধু চাঁদার টাকা নয়, বসার জন্য তাদের এককালীন অগ্রিম টাকাও দিতে হয়। প্রথমে লাইনম্যানরা টাকা তুলে পরে তা ভাগাভাগি করে। তবে টাকার বড় অংশই চলে যায় গডফাদারদের পকেটে। এখানে আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির নেতারা তাদের ঘনিষ্ঠদের লাইনম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন।

অন্যদিকে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় এসে মন্ডল মার্কেটে চায়ের দোকান দেন আতিক। এখন আতিক অঢেল সম্পদের মালিক। অনুসন্ধানে তার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়িতে রয়েছে কোটি টাকার একটি মাছের ঘের, আশুলিয়ার কন্ডা এলাকায় কিনেছেন অর্ধকোটি টাকার বাড়ি, বলিভদ্র মন্ডল মার্কেটে রয়েছে ১০-১২টি পাঞ্জাবি ও বোরখার দোকান। নিজে ব্যবহার করেন আরওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল। রয়েছে নিজস্ব প্রাইভেটকারও।

এ বিষয়ে আতিক হাসান বলেন, আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই। আর জাহাঙ্গীর মুঠোফোনে বলেন, আমি থানায় জরুরি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

এ প্রসঙ্গে জানার জন্য ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফ মণ্ডলকে মোবাইলে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ফুটপাত ও মহাসড়ক থেকে সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।