ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতিশ্রুতি বাড়ছে, ছাড় কমছে

চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮৬ কোটি ৪২ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করেছে বিভিন্ন উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থা। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। যা গত বছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। ঋণের ছাড় কমলেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, সংকটকালে বৈদেশিক উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থছাড়ের গতি আগের চেয়ে কমেছে। ২০২১-২২ সালে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ ঋণসহায়তা পেয়েছিল ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে এ বছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সংস্থাগুলো ২৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার কম ছাড় করেছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ৯৩ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে ৮৩ কোটি ডলার করে ছাড় করার কথা। তবে সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে দুই মাসে।

যদিও বছরের শেষের দিকে সাধারণত ছাড়ের গতি বাড়ে। ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের চেয়ে বেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন-সহযোগীরা। দুই মাসে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের বছরের প্রথম দুই মাসে যা ছিল ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে ২৩ কোটি ডলারের বেশি নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। নতুন প্রতিশ্রুতির পুরোটাই এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে।

এদিকে দিনে দিনে দেশের ঋণ পরিশোধের দিকে চাপ বাড়ছে। প্রথম দুই মাসে ঋণ পরিশোধ করেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আগের বছরের দুই মাসে শোধ করতে হয়েছিল ২৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

তবে ডলারের দাম বাড়ায় টাকার অঙ্কে বেশি শোধ করতে হয়েছে। গত বছর যেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছিল, এবার কম ডলার পরিশোধ করেও দেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বেশি শোধ করতে হয়েছে।

কোন সংস্থা কত দিয়েছে জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)। তাদের কাছ থেকে এসেছে ৩২ কোটি ৯১ ডলার, যা মোট বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার ছাড় করেছে চীন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের আইডিএ থেকে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ভারত ৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার ছাড় করেছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে মোট ১ হাজার কোটি ৮৩ লাখ ডলার।

Tag :

২ লাখ টাকার ফুলদানি নিলামে বিক্রি হলো ৯২ কোটি টাকায়

প্রতিশ্রুতি বাড়ছে, ছাড় কমছে

প্রকাশের সময় : ১১:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৮৬ কোটি ৪২ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করেছে বিভিন্ন উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থা। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। যা গত বছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। ঋণের ছাড় কমলেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, সংকটকালে বৈদেশিক উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থছাড়ের গতি আগের চেয়ে কমেছে। ২০২১-২২ সালে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ ঋণসহায়তা পেয়েছিল ১১৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে এ বছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সংস্থাগুলো ২৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার কম ছাড় করেছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ৯৩ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে ৮৩ কোটি ডলার করে ছাড় করার কথা। তবে সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে দুই মাসে।

যদিও বছরের শেষের দিকে সাধারণত ছাড়ের গতি বাড়ে। ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের চেয়ে বেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন-সহযোগীরা। দুই মাসে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের বছরের প্রথম দুই মাসে যা ছিল ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে ২৩ কোটি ডলারের বেশি নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। নতুন প্রতিশ্রুতির পুরোটাই এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে।

এদিকে দিনে দিনে দেশের ঋণ পরিশোধের দিকে চাপ বাড়ছে। প্রথম দুই মাসে ঋণ পরিশোধ করেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আগের বছরের দুই মাসে শোধ করতে হয়েছিল ২৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

তবে ডলারের দাম বাড়ায় টাকার অঙ্কে বেশি শোধ করতে হয়েছে। গত বছর যেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছিল, এবার কম ডলার পরিশোধ করেও দেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বেশি শোধ করতে হয়েছে।

কোন সংস্থা কত দিয়েছে জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)। তাদের কাছ থেকে এসেছে ৩২ কোটি ৯১ ডলার, যা মোট বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার ছাড় করেছে চীন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের আইডিএ থেকে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ভারত ৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার ছাড় করেছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে মোট ১ হাজার কোটি ৮৩ লাখ ডলার।