ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে হামলা

নেপথ্য কারণ জানার চেষ্টা চলছে

বিএনপির কর্মসূচিতে একের পর এক হামলার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। মূলত কারা কী উদ্দেশ্যে এসব হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করছেন। হামলাকারীরা সরকারদলীয় নেতাকর্মী বলে বিএনপির তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে। গুলশানে বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে দলের তরফ থেকে। ওই হামলায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের বহুল আলোচিত সরকারদলীয় নেতা ও বনানীর কড়াইল বস্তিতে আলামিন হত্যা মামলায় নাম আসা কাদের খানের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। হামলায় কোনো সরকারদলীয় নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে চাল, ডাল, জ্বালানি তেল ও পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভোলায় নূরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর বনানীতে বিএনপি মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে।

বনানীর কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালনকালে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই হামলার পর বিএনপির তরফ থেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইসব ভিডিওতে হামলার সময় কাদের খানসহ তার সহযোগীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে আয়োজিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হামলার সঙ্গে কারা কীভাবে এবং কেন জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। বিএনপির ওপর হামলার কোনো নির্দেশনা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি এসব হামলায় জড়িয়ে পড়ে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিব। দল কাউকে হামলার জন্য বলেনি। এসব হামলার কারণে সরকারের ওপর দায় পড়বে, সে দায় সরকার ও দল নেবে না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো খারাপ কাজ সহ্য করেন না। যারা খারাপ কাজ করেন, তাদের কেউ অতীতে রেহাই পায়নি। ভবিষ্যতেও পাবে না। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক কর্মসূচিতে না জড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো নেতাকর্মী ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় পুরো এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত ফুটেজে বহুল আলোচিত কাদের খান ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের লোকজনদেরও দেখা গেছে। মূলত বনানী, গুলশান, মহাখালীসহ আশপাশের পুরো এলাকা এবং বনানীর কড়াইল বস্তি এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাদের খান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিল মফিজুর রহমানের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৭ আগস্ট রাতে খুন হন যুবলীগ কর্মী আলামিন। সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন। আলামিন হত্যার নেপথ্যে রয়েছে কমিটি গঠন ও চাঁদাবাজি। আলামিন হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ ও ২৩ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় মোহাম্মদ আলী, খাজা, আমজাদ হোসেন, হুমায়ুন কবির রাসেল ও মাসুদ আলম। পরে তাদের ৫ দিনের করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, বনানীর কড়াইল বস্তিতে ৪০ হাজার অবৈধ ঘর আছে। এসব ঘরের ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অবৈধ সংযোগ থেকে কোটি কোটি টাকা ওঠে। পাশাপাশি এসি, টেলিভিশন ও ফ্রিজ চালাতেও টাকা দিতে হয়। এসব টাকা চলে যায় বস্তির নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছে। এজন্য কড়াইল বস্তির নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কোটি কোটি কাঁচা টাকার বিষয় আছে। বস্তির নিয়ন্ত্রণ করতে বস্তিতে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন ও চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তারের সূত্র ধরেই আলামিন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কড়াইল বস্তি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে। যার কিছু অংশ পড়েছে ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। প্রায় ৯০ ভাগ বস্তির ঘর পড়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান। কড়াইল বস্তির ঘিরে আওয়ামী লীগের ৭টি ইউনিট কমিটি গঠিত হয়। কমিটির বেশিরভাগ পদে কাদের খানের লোকজন পদ-পদবি পায়। এ নিয়ে কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের গ্রম্নপের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তারই জেরে খুন হন আলামিন।

গোয়েন্দা সূত্রটি বলছে, নতুন করে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে কাদের খান, মফিজুর রহমান এবং তাদের সহযোগীদের বিষয়টি।

বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা এবং আলামিন হত্যাকান্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হামলায় অংশ নেওয়াদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রম্নততার সঙ্গে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে হামলা

নেপথ্য কারণ জানার চেষ্টা চলছে

প্রকাশের সময় : ১০:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিএনপির কর্মসূচিতে একের পর এক হামলার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। মূলত কারা কী উদ্দেশ্যে এসব হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করছেন। হামলাকারীরা সরকারদলীয় নেতাকর্মী বলে বিএনপির তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে। গুলশানে বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে দলের তরফ থেকে। ওই হামলায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের বহুল আলোচিত সরকারদলীয় নেতা ও বনানীর কড়াইল বস্তিতে আলামিন হত্যা মামলায় নাম আসা কাদের খানের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। হামলায় কোনো সরকারদলীয় নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে চাল, ডাল, জ্বালানি তেল ও পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভোলায় নূরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর বনানীতে বিএনপি মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে।

বনানীর কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালনকালে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই হামলার পর বিএনপির তরফ থেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইসব ভিডিওতে হামলার সময় কাদের খানসহ তার সহযোগীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্কে আয়োজিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হামলার সঙ্গে কারা কীভাবে এবং কেন জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। বিএনপির ওপর হামলার কোনো নির্দেশনা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি এসব হামলায় জড়িয়ে পড়ে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিব। দল কাউকে হামলার জন্য বলেনি। এসব হামলার কারণে সরকারের ওপর দায় পড়বে, সে দায় সরকার ও দল নেবে না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো খারাপ কাজ সহ্য করেন না। যারা খারাপ কাজ করেন, তাদের কেউ অতীতে রেহাই পায়নি। ভবিষ্যতেও পাবে না। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক কর্মসূচিতে না জড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো নেতাকর্মী ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় পুরো এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত ফুটেজে বহুল আলোচিত কাদের খান ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের লোকজনদেরও দেখা গেছে। মূলত বনানী, গুলশান, মহাখালীসহ আশপাশের পুরো এলাকা এবং বনানীর কড়াইল বস্তি এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাদের খান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিল মফিজুর রহমানের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৭ আগস্ট রাতে খুন হন যুবলীগ কর্মী আলামিন। সংঘর্ষে আহত হন ১০ জন। আলামিন হত্যার নেপথ্যে রয়েছে কমিটি গঠন ও চাঁদাবাজি। আলামিন হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ ও ২৩ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় মোহাম্মদ আলী, খাজা, আমজাদ হোসেন, হুমায়ুন কবির রাসেল ও মাসুদ আলম। পরে তাদের ৫ দিনের করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, বনানীর কড়াইল বস্তিতে ৪০ হাজার অবৈধ ঘর আছে। এসব ঘরের ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অবৈধ সংযোগ থেকে কোটি কোটি টাকা ওঠে। পাশাপাশি এসি, টেলিভিশন ও ফ্রিজ চালাতেও টাকা দিতে হয়। এসব টাকা চলে যায় বস্তির নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছে। এজন্য কড়াইল বস্তির নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কোটি কোটি কাঁচা টাকার বিষয় আছে। বস্তির নিয়ন্ত্রণ করতে বস্তিতে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন ও চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তারের সূত্র ধরেই আলামিন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কড়াইল বস্তি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে। যার কিছু অংশ পড়েছে ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। প্রায় ৯০ ভাগ বস্তির ঘর পড়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান। কড়াইল বস্তির ঘিরে আওয়ামী লীগের ৭টি ইউনিট কমিটি গঠিত হয়। কমিটির বেশিরভাগ পদে কাদের খানের লোকজন পদ-পদবি পায়। এ নিয়ে কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের গ্রম্নপের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তারই জেরে খুন হন আলামিন।

গোয়েন্দা সূত্রটি বলছে, নতুন করে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে কাদের খান, মফিজুর রহমান এবং তাদের সহযোগীদের বিষয়টি।

বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা এবং আলামিন হত্যাকান্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হামলায় অংশ নেওয়াদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জড়িতদের দ্রম্নততার সঙ্গে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।