ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বাড়ি বাড়ি গ্যাস সংকট

নিয়মিত বিল দিয়েও কিনতে হচ্ছে আলাদা সিলিন্ডার

মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মুগদার মান্ডা এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম। আগে প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে অফিসে যেতেন। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে তাকে বাইরে নাস্তা করে অফিসে ঢুকতে হচ্ছে। এতে গত দুই মাস ধরে তার খরচ বেড়েছে।

প্রতিদিন বাইরে নাস্তা করার কারণ জানতে চাইলে ফরিদুল ইসলাম বলেন, সকালে গ্যাস চলে যায়। আসে দুপুরে, আবার অনেক সময় রাতে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের এখানেও নিয়মিত গ্যাস থাকে না। তাই সবাইকে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে সংসারের খরচের ওপর।

তিনি বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে লাইনের গ্যাস থাকার পরও টাকা খরচ করে তারা সিলিন্ডার গ্যাস, চুলা কিনে রেখেছেন। এজন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা গ্যাস বিলের পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৩৫ থেকে ১৪০০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করতে পারছে ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস, ঘাটতি ৩০ কোটি ঘনফুট। যার কারণেই মূলত এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, মুগদা, মান্ডাসহ উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে প্রতিদিনই। যেসব এলাকায় গ্যাস রয়েছে, সেখানেও স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বাসিন্দারা।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সানজিদা আক্তার, তিনি একজন গৃহিণী। গ্যাস সংকটের কারণে রান্না-বান্নায় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। আগে প্রতিদিন সকালে নাস্তা খেয়ে দুপুরের খাবার নিয়ে অফিসে যেতেন। কিন্তু গ্যাস না থাকার কারণে গত দুই-তিন মাস ধরে বাসার রান্নার সময় পরিবর্তন হয়েছে। তাই এখন আমার স্বামীকে প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে হোটেলে খেতে হয়।

সানজিদা আক্তার বলেন, বাসায় কাজের লোক আগে সকালে এসে রান্নাসহ অন্যান্য সব কাজ করে দিতেন। কিন্তু এখন সকালে গ্যাস থাকে না, সন্ধ্যায় থাকে। তাই কাজের লোকের বেতন বাড়িয়ে সন্ধ্যায় আসতে বলেছি।

তিনি বলেন, প্রতিটি বাড়িতেই এখন একই সমস্যা। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত মাসে গ্যাসের সিলিন্ডার এবং একটি বাড়তি চুলা কিনেছি। গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও দুই চুলার জন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়। সবমিলিয়ে খরচের বোঝা বেড়েছে সংসারে।

প্রতিটি বাড়িতেই এখন একই সমস্যা। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত মাসে গ্যাসের সিলিন্ডার এবং একটি বাড়তি চুলা কিনেছি। গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও দুই চুলার জন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়। সবমিলিয়ে খরচের বোঝা বেড়েছে সংসারে।

মান্ডা এলাকার বাসিন্দা আবীর ফেরদৌস তৌহিদ বলেন, এলাকার প্রতিটি বাড়িতে গ্যাসের সমস্যা। সকালে গিয়ে আসছে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে। প্রতিটি বাড়িতে রান্না-বান্নায় খুব সমস্যা দেখা দিয়েছি। ভাড়াটিয়ারা মাস শেষে তিতাসের বিল ঠিকই দিচ্ছেন, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু প্রতিকার নেই। আমরা কাউন্সিলরসহ সবার কাছেই অভিযোগ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (মান্ডা এলাকা) মো. খাইরুজ্জামান বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়ে নাগরিকরা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে আমরা এমপি ডিও লেটারসহ তিতাস গ্যাসের কাছে চিঠি দিয়েছি। নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছি।

জানা গেছে, গ্যাস সংকটের এমন পরিস্থিতিতেও সম্প্রতি মান্ডা এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযানে আসে তিতাসের একটি দল। গ্যাস সংকটের মধ্যে এমন অভিযানে বিরক্ত হন এলাকাবাসী। কাউন্সিলের বলিষ্ঠ ভূমিকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সংকটের কারণ সম্পর্কে। এছাড়া অভিযান প্রতিহত করে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে এরপর অভিযানে আসতে। পরে অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে যেতে হয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে।

এছাড়া, গ্যাসের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন রাজধানীর কদমতলী এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানিয়েছিলেন, গ্যাস না পেয়ে প্রতিমাসে আলাদা করে সিলিন্ডার কিনে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বেড়েছে।

গ্যাসের সংকটের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শবিউল আওয়ালের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছি সেটাই গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছি না।
গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছি সেটাই গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছি না।
মো. শবিউল আওয়ালের, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্যাস সরবরাহ আমরা কম পাচ্ছি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক সময় গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকে। এছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণেও বিভিন্ন এলাকায় সংকট থাকছে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি তিন তলা বাড়িতে আমরা গ্যাস সংযোগ দিয়েছিলাম। সেই বাড়ি এখন ওপরের দিকে বাড়তে বাড়তে ৬/৭ তলা বাড়ি হয়ে গেছে। পুরনো সেই লাইন থেকেই পুরো বাড়ির গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। একটি মহল্লায় আগে কয়েকটি বাড়ি ছিল। সেখানে আজ শত শত বাড়ি। গ্যাস চারদিকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই গ্যাসের চাপ কম।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সাধারণ নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে সারা দেশেই গ্যাস সংকট। আমি যে এলাকায় থাকি সেখানেও প্রতিদিন এ সংকট আছে। বারবার তিতাস গ্যাসের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার নেই। এর একটি সঠিক সমাধান আসা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মিটারবিহীন গ্রাহকদের জন্য ৬০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সংকটের কারণে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ঘনমিটার গ্যাস। কিন্তু ডাবল চুলার জন্য ১০৮০ টাকা গ্রাহক ঠিকই দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করা হচ্ছে।

দাবি করে তিনি বলেন, গ্রাহকদের মিটার দিতে হবে। তা নাহলে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কম করা হয়েছে তা সমন্বয় করতে হবে। একইভাবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়েও গ্রাহককে ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

প্রতিদিন দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারতো প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে চড়া দামের কারণে বৈশ্বিক খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি কেনা বন্ধ রয়েছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। বলা যায়, প্রায় সব খাতেই গ্যাস সংকট চলছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারতো প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে চড়া দামের কারণে বৈশ্বিক খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি কেনা বন্ধ রয়েছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। বলা যায়, প্রায় সব খাতেই গ্যাস সংকট চলছে।

পেট্রোবাংলার কাছ থেকে যতটুকু গ্যাস পাচ্ছে ওইটুকুই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার গ্রাহকদের সরবরাহ করছে তিতাস। তবে এই সমস্যার সমাধান কবে নাগাদ হবে, তাও সঠিকভাবে গ্রাহকদের জানাতে পারছে না তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

বাড়ি বাড়ি গ্যাস সংকট

নিয়মিত বিল দিয়েও কিনতে হচ্ছে আলাদা সিলিন্ডার

প্রকাশের সময় : ১১:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মুগদার মান্ডা এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম। আগে প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে অফিসে যেতেন। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে তাকে বাইরে নাস্তা করে অফিসে ঢুকতে হচ্ছে। এতে গত দুই মাস ধরে তার খরচ বেড়েছে।

প্রতিদিন বাইরে নাস্তা করার কারণ জানতে চাইলে ফরিদুল ইসলাম বলেন, সকালে গ্যাস চলে যায়। আসে দুপুরে, আবার অনেক সময় রাতে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের এখানেও নিয়মিত গ্যাস থাকে না। তাই সবাইকে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে সংসারের খরচের ওপর।

তিনি বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে লাইনের গ্যাস থাকার পরও টাকা খরচ করে তারা সিলিন্ডার গ্যাস, চুলা কিনে রেখেছেন। এজন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা গ্যাস বিলের পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৩৫ থেকে ১৪০০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করতে পারছে ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস, ঘাটতি ৩০ কোটি ঘনফুট। যার কারণেই মূলত এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, মুগদা, মান্ডাসহ উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে প্রতিদিনই। যেসব এলাকায় গ্যাস রয়েছে, সেখানেও স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বাসিন্দারা।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সানজিদা আক্তার, তিনি একজন গৃহিণী। গ্যাস সংকটের কারণে রান্না-বান্নায় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। আগে প্রতিদিন সকালে নাস্তা খেয়ে দুপুরের খাবার নিয়ে অফিসে যেতেন। কিন্তু গ্যাস না থাকার কারণে গত দুই-তিন মাস ধরে বাসার রান্নার সময় পরিবর্তন হয়েছে। তাই এখন আমার স্বামীকে প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে হোটেলে খেতে হয়।

সানজিদা আক্তার বলেন, বাসায় কাজের লোক আগে সকালে এসে রান্নাসহ অন্যান্য সব কাজ করে দিতেন। কিন্তু এখন সকালে গ্যাস থাকে না, সন্ধ্যায় থাকে। তাই কাজের লোকের বেতন বাড়িয়ে সন্ধ্যায় আসতে বলেছি।

তিনি বলেন, প্রতিটি বাড়িতেই এখন একই সমস্যা। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত মাসে গ্যাসের সিলিন্ডার এবং একটি বাড়তি চুলা কিনেছি। গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও দুই চুলার জন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়। সবমিলিয়ে খরচের বোঝা বেড়েছে সংসারে।

প্রতিটি বাড়িতেই এখন একই সমস্যা। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত মাসে গ্যাসের সিলিন্ডার এবং একটি বাড়তি চুলা কিনেছি। গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও দুই চুলার জন্য প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৪০০ টাকায়। সবমিলিয়ে খরচের বোঝা বেড়েছে সংসারে।

মান্ডা এলাকার বাসিন্দা আবীর ফেরদৌস তৌহিদ বলেন, এলাকার প্রতিটি বাড়িতে গ্যাসের সমস্যা। সকালে গিয়ে আসছে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে। প্রতিটি বাড়িতে রান্না-বান্নায় খুব সমস্যা দেখা দিয়েছি। ভাড়াটিয়ারা মাস শেষে তিতাসের বিল ঠিকই দিচ্ছেন, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু প্রতিকার নেই। আমরা কাউন্সিলরসহ সবার কাছেই অভিযোগ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (মান্ডা এলাকা) মো. খাইরুজ্জামান বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়ে নাগরিকরা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে আমরা এমপি ডিও লেটারসহ তিতাস গ্যাসের কাছে চিঠি দিয়েছি। নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছি।

জানা গেছে, গ্যাস সংকটের এমন পরিস্থিতিতেও সম্প্রতি মান্ডা এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযানে আসে তিতাসের একটি দল। গ্যাস সংকটের মধ্যে এমন অভিযানে বিরক্ত হন এলাকাবাসী। কাউন্সিলের বলিষ্ঠ ভূমিকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সংকটের কারণ সম্পর্কে। এছাড়া অভিযান প্রতিহত করে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে এরপর অভিযানে আসতে। পরে অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে যেতে হয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে।

এছাড়া, গ্যাসের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন রাজধানীর কদমতলী এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানিয়েছিলেন, গ্যাস না পেয়ে প্রতিমাসে আলাদা করে সিলিন্ডার কিনে গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বেড়েছে।

গ্যাসের সংকটের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শবিউল আওয়ালের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছি সেটাই গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছি না।
গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছি সেটাই গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছি না।
মো. শবিউল আওয়ালের, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্যাস সরবরাহ আমরা কম পাচ্ছি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক সময় গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকে। এছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণেও বিভিন্ন এলাকায় সংকট থাকছে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি তিন তলা বাড়িতে আমরা গ্যাস সংযোগ দিয়েছিলাম। সেই বাড়ি এখন ওপরের দিকে বাড়তে বাড়তে ৬/৭ তলা বাড়ি হয়ে গেছে। পুরনো সেই লাইন থেকেই পুরো বাড়ির গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। একটি মহল্লায় আগে কয়েকটি বাড়ি ছিল। সেখানে আজ শত শত বাড়ি। গ্যাস চারদিকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই গ্যাসের চাপ কম।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সাধারণ নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে সারা দেশেই গ্যাস সংকট। আমি যে এলাকায় থাকি সেখানেও প্রতিদিন এ সংকট আছে। বারবার তিতাস গ্যাসের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার নেই। এর একটি সঠিক সমাধান আসা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মিটারবিহীন গ্রাহকদের জন্য ৬০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সংকটের কারণে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ঘনমিটার গ্যাস। কিন্তু ডাবল চুলার জন্য ১০৮০ টাকা গ্রাহক ঠিকই দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করা হচ্ছে।

দাবি করে তিনি বলেন, গ্রাহকদের মিটার দিতে হবে। তা নাহলে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কম করা হয়েছে তা সমন্বয় করতে হবে। একইভাবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়েও গ্রাহককে ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

প্রতিদিন দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারতো প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে চড়া দামের কারণে বৈশ্বিক খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি কেনা বন্ধ রয়েছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। বলা যায়, প্রায় সব খাতেই গ্যাস সংকট চলছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারতো প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে চড়া দামের কারণে বৈশ্বিক খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি কেনা বন্ধ রয়েছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। বলা যায়, প্রায় সব খাতেই গ্যাস সংকট চলছে।

পেট্রোবাংলার কাছ থেকে যতটুকু গ্যাস পাচ্ছে ওইটুকুই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার গ্রাহকদের সরবরাহ করছে তিতাস। তবে এই সমস্যার সমাধান কবে নাগাদ হবে, তাও সঠিকভাবে গ্রাহকদের জানাতে পারছে না তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।