ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চালের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ কতদূর, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা

বৈরি আবহাওয়া, সারের দাম বাড়ানো, লোডশেডিংয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের খাদ্য গুদামে ১৯ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত। আরও ৯ লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে দেশে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাস ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির কার্ডের জন্য সরকারের গুদাম থেকে ৯ লাখ টনের বেশি চাল বের হয়ে যাবে। ওই ঘাটতি পূরণে আমদানিতে জোর দিচ্ছে সরকার।

কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই দেশে চালের দাম বেশি। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে ব্যর্থ হয়ে সরকারিভাবেই ১০ লাখ টনের বেশি আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু চলমান আউশ ও আমনের ফলন কম হলে খাদ্যনিরাপত্তা আরও হুমকিতে পড়বে। বিদেশ থেকে চাল আমদানি নির্ভরতা আরও বাড়বে, যা ডলারের সঙ্কটের কারণে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে। আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চাল আমদানির চেষ্টা চলছে। সরকারের হাতে এখন ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। তার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টন চাল রয়েছে। কিন্তু এবার বোরোর ফলন কম হয়েছে। আমনের ফলনেও আশানুরূপ চাল না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকার চাল আমদানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা যায়, বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান থেকেই সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ চাল আসে। আর আমন ধান থেকে আসে ৩৯ শতাংশ চাল। বাকিটা আউশ থেকে আসে। এবার প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ কমেছে। বিগত আউশ মৌসুমেও ধানের উৎপাদন কম হয়েছিল। আর আসন্ন বোরো নিয়ে চিন্তা রয়ে গেছে। আর চলতি আমন ও আসন্ন বোরোর উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবহাওয়ার চরম বৈরী আচরণে এবার আমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সময়মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, বেড়েছে ডিজেলের দাম। কৃষকদের এমন বৈরী পরিস্থিতি মুখোমুখি হওয়ার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমেও ধান চাষে ভাটা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সেচ-সারের অভাব ও বাড়তি খরচায় কৃষকরা অনাগ্রহী হতে পারে। ডিজেলের বর্তমান দাম বহাল থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়বে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানা যায়, সরকার জিটুজি পদ্ধতিতে ভিয়েতনাম থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে। তার মধ্যে ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল আর ৩০ হাজার টন আতপ। ভিয়েতনাম ওই ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল থাইল্যান্ড থেকে কিনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের নেতিবাচক আচরণে চালের দাম না কমার একক দায় নিতে রাজি নয় ব্যবসায়ী নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী জানান, চালের বাজার শুধু ব্যবসায়ীদের হাতে নেই। এখন মধ্য পর্যায়ের অনেক ধান ব্যবসায়ী মজুত ব্যবসা করছে। তারাও এর জন্য দায়ী। তাছাড়া সম্প্রতি ভারতে আতপ চালে ২০ শতাংশ শুল্ক বসানোর খবরে মধ্য ও বড় ব্যবসায়ীরা বাজারে ধান ছাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যারা ধান মজুত করে রেখেছে তাদের দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি বাড়িয়ে ওএমএসে বেশি চাল ছাড়তে হবে। না হলে বাজার ঠিক রাখা কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, বাংলাদেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টন হবে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন ১২ লাখ টন কমতে পারে।

তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪১৩টি সেচযন্ত্র ছিল। তার মধ্যে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৭টি সেচযন্ত্র ডিজেলে চলেছে। অর্থাৎ ডিজেলে চলে প্রায় ৭৮.৪৩ শতাংশ সেচযন্ত্র। তার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র এবং পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি। ওই হিসাবে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে ডিজেল ব্যবহৃত হয়েছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৯ টন। ওই তেল কিনতে কৃষককে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। নতুন দামে আগামী বোরো মৌসুমে একই পরিমাণ ডিজেল ব্যবহৃত হলে কৃষককে গুনতে হবে ১১ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ফলে সেচ, পরিবহন আর কৃষিযন্ত্র পরিচালন করতে কৃষকের বাড়তি খরচ হবে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। তাছাড়া ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ায় চলতি আমন ও পরবর্তী বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনে কৃষকের ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ বাড়বে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যা ও অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর আউশ ও আমন ধানের আবাদ গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। বিদেশ থেকে চাল আমদানিনির্ভরতাও একই সাথে আরও বাড়বে। দেশের মোট চালের চাহিদার প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ আসে আউশ ও আমন ধান থেকে। এর মধ্যে আমন থেকে আসে ৩৬ থেকে ৩৮ শতাংশ চাল। আউশ থেকে আসে ৬ থেকে ৭ শতাংশ।

কৃষি অর্থনীতিবিদ গোলাম হাফিজ, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে বন্যা ও অতি খরাই এবার আউশ ও আমনে ফলন কম হবে। তাই খাদ্য মজুদের উপর চাপ বাড়বে। আমদানির উপর নির্ভরশীল হতে হবে। যেহেতু চালের দাম বেড়ে গেছে তাই চালের বিকল্প হিসেবে এগুলোতে জোর দিতে হবে। অন্য দিকে, আগামী বোরো মৌসুমকে গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সার ও ডিজেলের দাম কমিয়ে দিতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, একশ্রেণির ব্যবসায়ী বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির করে তুলে। তখন খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দায়ী করে। আবার মিল মালিকরা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপায়। এ সমস্যা সমাধানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩ স্তরের দাম ঘোষণার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কেউ কাউকে দোষারোপ করতে না পারে।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

চালের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ কতদূর, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা

প্রকাশের সময় : ১১:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বৈরি আবহাওয়া, সারের দাম বাড়ানো, লোডশেডিংয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের খাদ্য গুদামে ১৯ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত। আরও ৯ লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে দেশে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাস ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির কার্ডের জন্য সরকারের গুদাম থেকে ৯ লাখ টনের বেশি চাল বের হয়ে যাবে। ওই ঘাটতি পূরণে আমদানিতে জোর দিচ্ছে সরকার।

কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই দেশে চালের দাম বেশি। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে ব্যর্থ হয়ে সরকারিভাবেই ১০ লাখ টনের বেশি আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু চলমান আউশ ও আমনের ফলন কম হলে খাদ্যনিরাপত্তা আরও হুমকিতে পড়বে। বিদেশ থেকে চাল আমদানি নির্ভরতা আরও বাড়বে, যা ডলারের সঙ্কটের কারণে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে। আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চাল আমদানির চেষ্টা চলছে। সরকারের হাতে এখন ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। তার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টন চাল রয়েছে। কিন্তু এবার বোরোর ফলন কম হয়েছে। আমনের ফলনেও আশানুরূপ চাল না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকার চাল আমদানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা যায়, বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান থেকেই সবচেয়ে বেশি ৫৫ শতাংশ চাল আসে। আর আমন ধান থেকে আসে ৩৯ শতাংশ চাল। বাকিটা আউশ থেকে আসে। এবার প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ কমেছে। বিগত আউশ মৌসুমেও ধানের উৎপাদন কম হয়েছিল। আর আসন্ন বোরো নিয়ে চিন্তা রয়ে গেছে। আর চলতি আমন ও আসন্ন বোরোর উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবহাওয়ার চরম বৈরী আচরণে এবার আমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য সময়মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, বেড়েছে ডিজেলের দাম। কৃষকদের এমন বৈরী পরিস্থিতি মুখোমুখি হওয়ার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমেও ধান চাষে ভাটা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সেচ-সারের অভাব ও বাড়তি খরচায় কৃষকরা অনাগ্রহী হতে পারে। ডিজেলের বর্তমান দাম বহাল থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়বে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানা যায়, সরকার জিটুজি পদ্ধতিতে ভিয়েতনাম থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে। তার মধ্যে ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল আর ৩০ হাজার টন আতপ। ভিয়েতনাম ওই ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল থাইল্যান্ড থেকে কিনে বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের নেতিবাচক আচরণে চালের দাম না কমার একক দায় নিতে রাজি নয় ব্যবসায়ী নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী জানান, চালের বাজার শুধু ব্যবসায়ীদের হাতে নেই। এখন মধ্য পর্যায়ের অনেক ধান ব্যবসায়ী মজুত ব্যবসা করছে। তারাও এর জন্য দায়ী। তাছাড়া সম্প্রতি ভারতে আতপ চালে ২০ শতাংশ শুল্ক বসানোর খবরে মধ্য ও বড় ব্যবসায়ীরা বাজারে ধান ছাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যারা ধান মজুত করে রেখেছে তাদের দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি বাড়িয়ে ওএমএসে বেশি চাল ছাড়তে হবে। না হলে বাজার ঠিক রাখা কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, বাংলাদেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টন হবে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন ১২ লাখ টন কমতে পারে।

তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪১৩টি সেচযন্ত্র ছিল। তার মধ্যে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৭টি সেচযন্ত্র ডিজেলে চলেছে। অর্থাৎ ডিজেলে চলে প্রায় ৭৮.৪৩ শতাংশ সেচযন্ত্র। তার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র এবং পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি। ওই হিসাবে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে ডিজেল ব্যবহৃত হয়েছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৯ টন। ওই তেল কিনতে কৃষককে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। নতুন দামে আগামী বোরো মৌসুমে একই পরিমাণ ডিজেল ব্যবহৃত হলে কৃষককে গুনতে হবে ১১ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ফলে সেচ, পরিবহন আর কৃষিযন্ত্র পরিচালন করতে কৃষকের বাড়তি খরচ হবে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। তাছাড়া ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ায় চলতি আমন ও পরবর্তী বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনে কৃষকের ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ বাড়বে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যা ও অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর আউশ ও আমন ধানের আবাদ গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। বিদেশ থেকে চাল আমদানিনির্ভরতাও একই সাথে আরও বাড়বে। দেশের মোট চালের চাহিদার প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ আসে আউশ ও আমন ধান থেকে। এর মধ্যে আমন থেকে আসে ৩৬ থেকে ৩৮ শতাংশ চাল। আউশ থেকে আসে ৬ থেকে ৭ শতাংশ।

কৃষি অর্থনীতিবিদ গোলাম হাফিজ, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে বন্যা ও অতি খরাই এবার আউশ ও আমনে ফলন কম হবে। তাই খাদ্য মজুদের উপর চাপ বাড়বে। আমদানির উপর নির্ভরশীল হতে হবে। যেহেতু চালের দাম বেড়ে গেছে তাই চালের বিকল্প হিসেবে এগুলোতে জোর দিতে হবে। অন্য দিকে, আগামী বোরো মৌসুমকে গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সার ও ডিজেলের দাম কমিয়ে দিতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, একশ্রেণির ব্যবসায়ী বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির করে তুলে। তখন খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দায়ী করে। আবার মিল মালিকরা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপায়। এ সমস্যা সমাধানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩ স্তরের দাম ঘোষণার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কেউ কাউকে দোষারোপ করতে না পারে।