ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এক কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ ৬ গ্রামের মানুষের

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আরুয়া সোনারগাঁও থেকে কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ছিটকি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সংযোগ রাস্তা রয়েছে। আর এই রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ ছয় গ্রামের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই কাঁচা রাস্তাটিতে বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদামাটি এবং হাটু পানিতে একাকার হয়ে যায়। রাস্তাটি নদীর পাড়ে হওয়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এই রাস্তাটিতে রয়েছে অনেকগুলো সাঁকো যা পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। ঘন বর্ষার সময় পানি আর কাঁদায় শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এ রাস্তাটি। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না।
বর্ষাকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ, সোনারগাঁও জবান আলী খাঁন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,ছিটকি গুচ্ছ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছিটকি গুচ্ছগ্রাম দারুস্সুন্নাৎ মোহেব্বীয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ চলাচল করে।

২০ বছরে এই তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় এক ডালি মাটিও পড়েনি। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই রাস্তা পাড়ি দিয়েই হাট-বাজারে যেতে হয় এলাকাবাসীকে। গ্রামের কেউ কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, রাস্তাটি ২০ বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গেল। এই রাস্তাটি দিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের সাঁতার কেঁটে চলতে হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ হয় যে এই দুই-তিন মাস স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না।

মো. জাকির হোসেন বলেন, এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে লোকজন পুটিয়াখালি বাজার, আওরাবুনিয়া, কলাকোপা, বড়ইয়া বাজার ও কলেজ এবং নিয়ামতি বাজারে যাতায়াত করে। বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ১৫ বছর থেকে শুনে আসছি রাস্তাটি পাশ হইছে। সামনের বছরে কাজ হবে কিন্তু সামনের বছর আসলেও আমাদের রাস্তাটি পাকা হয় না। জনপ্রতিনিধি বদলায় কিন্তু বদলায় না এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের চিত্র।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমীন বলেন, এই রাস্তাটি যদি বিচ্ছিন্ন না হয় এবং জনগুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে যেকোনো প্রজেক্টের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

এক কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ ৬ গ্রামের মানুষের

প্রকাশের সময় : ১১:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আরুয়া সোনারগাঁও থেকে কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ছিটকি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সংযোগ রাস্তা রয়েছে। আর এই রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ ছয় গ্রামের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই কাঁচা রাস্তাটিতে বর্ষা মৌসুমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদামাটি এবং হাটু পানিতে একাকার হয়ে যায়। রাস্তাটি নদীর পাড়ে হওয়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এই রাস্তাটিতে রয়েছে অনেকগুলো সাঁকো যা পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। ঘন বর্ষার সময় পানি আর কাঁদায় শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এ রাস্তাটি। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না।
বর্ষাকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ, সোনারগাঁও জবান আলী খাঁন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,ছিটকি গুচ্ছ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছিটকি গুচ্ছগ্রাম দারুস্সুন্নাৎ মোহেব্বীয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ চলাচল করে।

২০ বছরে এই তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় এক ডালি মাটিও পড়েনি। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই রাস্তা পাড়ি দিয়েই হাট-বাজারে যেতে হয় এলাকাবাসীকে। গ্রামের কেউ কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, রাস্তাটি ২০ বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গেল। এই রাস্তাটি দিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের সাঁতার কেঁটে চলতে হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ হয় যে এই দুই-তিন মাস স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না।

মো. জাকির হোসেন বলেন, এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে লোকজন পুটিয়াখালি বাজার, আওরাবুনিয়া, কলাকোপা, বড়ইয়া বাজার ও কলেজ এবং নিয়ামতি বাজারে যাতায়াত করে। বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ১৫ বছর থেকে শুনে আসছি রাস্তাটি পাশ হইছে। সামনের বছরে কাজ হবে কিন্তু সামনের বছর আসলেও আমাদের রাস্তাটি পাকা হয় না। জনপ্রতিনিধি বদলায় কিন্তু বদলায় না এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের চিত্র।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমীন বলেন, এই রাস্তাটি যদি বিচ্ছিন্ন না হয় এবং জনগুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে যেকোনো প্রজেক্টের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।