ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে শিক্ষকদের অভিব্যক্তি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেরামতের ২০২১-২০২২অর্থ বছরের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে মধ্যে স্লিপের ৪০ হাজার এবং রুটিন মেইনটেন্যান্স ৯৯টি বিদ্যালয়ে ৪০হাজার দেওয়া হয়, যা স্কুলের মেরামত, চেয়ার, টেবিল, আলমারী ক্রয়সহ সকল অনুসাঙ্গিক কাজ সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ৮৮টি প্রতিষ্ঠানে ২ লক্ষ টাকা করে ভবনের ছোট্ট খাটো মেরামতসহ উপজেলা প্রকৌশলীর ইস্টিমেট মোতাবেক সম্পন্ন হয়েছে। ৩০জুন-২০২২ বিল-ভাউচার জমা দিয়ে বিল উত্তোলন করেন স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এরপরও ডিমলা উপজেলার একটি স্বার্থন্বেষী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমকে হাত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে, তা বোঝা গেছে। এমনভাবে প্রশ্ন করেছে যেন সেই ধরনের অভিব্যক্তি বের হয়ে আসে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। ২নং বাইশপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নমির হোসেন জানান, ২০২১-২০২২ইং অর্থবছরের যে বরাদ্দ আমি পেয়েছি তা যথাযথভাবে পৌকশলী ইস্টিমেট অনুযায়ী স্কুলের কাজ করেছি। ভ্যাট ও আইটি বাধে বাকী টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলেছি। এছাড়া আমরা অফিসকে একটি টাকাও দেইনি। আমাদের ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ স্যার আমাদের উপজেলায় গত কয়েকমাস আগে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা । স্যার খুব সহজ সরল মানুষ ।

আকাশকুড়ি ঘাটেরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন জানান, আমার স্কুলে যে বরাদ্দ পেয়েছি। তা প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করেছি। শিক্ষা অফিসে বরাদ্ধের জন্য কোন টাকা দিতে হয়নি। পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সরকার কতৃক বরাদ্ধকৃত যে টাকা পেয়েছি তা ভ্যাট ও আইটি ছাড়া আর কাউকে কোন টাকা দিতে হয়নি এবং ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিস স্বচ্ছতা অনুযায়ী আমাদের সহযোগীতা করেছেন।

ছোটখাতা মডেল বেসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক মোঃ তৈয়ব আলী জানান, আমি সরকারী বরাদ্ধ স্কুলের নামে ব্যাংক একাউন্টে পাই। সেখানে অফিসে কিসের টাকা দিবো। দক্ষিন ঝুনাগাছ দুদুয়াপাড়া ও দক্ষিন তিতপাড়া সপ্রাবি সহ আরো অনেক প্রধান শিক্ষক বলেন, নুর মোহাম্মদ স্যার একজন সৎ অফিসার । উনি ডিমলা শিক্ষা অফিসে আসার পর অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনিয়ম করতে না পারায় উনাকে সরানোর জন্য পায়তারা করছে। সম্প্রতি সেই সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কতিপয় দুষ্কৃতিকারিরা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ডিমলা উপজেলা সভাপতি মোঃ আমজাদুল হক বলেন, বর্তমানে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ স্যার তাঁর প্রশাসনকে দুর্ণীতি মুক্ত, স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা নিশ্চিত করে শিক্ষক বান্ধব অফিস হিসেবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু স্বার্থবাদী লোক অনিয়ম করতে না পারায় স্যারকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করছেন। এসব লোকের স্বার্থসিদ্ধি হাছিল না হওয়ায় কিছু সাংবাদিক কে দিয়ে শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে । তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা উপজেলার কোন শিক্ষকের কাছে তথ্য না নিয়ে নিজের মনগড়া ভিডিও ও সাজানো রেকর্ড প্রকাশ করেছেন।

বাবুরহাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক বলেন, গত ২৫ আগস্ট ২০২২তারিখে গনমাধ্যমে প্রকাশিত ঘুষ বা উৎকচ না দিলে কাজ করে না শিরোনামে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়ি করে যে নিউজ ছাপা হয়েছে। তা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমুলক।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ এর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে-তিনি জানান, স্বার্থান্নেষীরা নিজ স্বার্থ লাভ করতে না পারায় আমার অজান্তে অফিসে ও বাইরে গোপন ভিডিও ধারন করে আমাকে ব্লাক মেইল করেছে। আসলে তারাই অপরাধী। প্রকাশতি ভিডিও /অডিও ও পত্রিকায় সংবাদ চক্রান্তকারীদের সাজানো, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে আমাকে হেয় করে অত্র উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানউন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি অপপ্রচারকারী ও চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করছি।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে শিক্ষকদের অভিব্যক্তি

প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেরামতের ২০২১-২০২২অর্থ বছরের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে মধ্যে স্লিপের ৪০ হাজার এবং রুটিন মেইনটেন্যান্স ৯৯টি বিদ্যালয়ে ৪০হাজার দেওয়া হয়, যা স্কুলের মেরামত, চেয়ার, টেবিল, আলমারী ক্রয়সহ সকল অনুসাঙ্গিক কাজ সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ৮৮টি প্রতিষ্ঠানে ২ লক্ষ টাকা করে ভবনের ছোট্ট খাটো মেরামতসহ উপজেলা প্রকৌশলীর ইস্টিমেট মোতাবেক সম্পন্ন হয়েছে। ৩০জুন-২০২২ বিল-ভাউচার জমা দিয়ে বিল উত্তোলন করেন স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এরপরও ডিমলা উপজেলার একটি স্বার্থন্বেষী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমকে হাত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলার শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে, তা বোঝা গেছে। এমনভাবে প্রশ্ন করেছে যেন সেই ধরনের অভিব্যক্তি বের হয়ে আসে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। ২নং বাইশপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নমির হোসেন জানান, ২০২১-২০২২ইং অর্থবছরের যে বরাদ্দ আমি পেয়েছি তা যথাযথভাবে পৌকশলী ইস্টিমেট অনুযায়ী স্কুলের কাজ করেছি। ভ্যাট ও আইটি বাধে বাকী টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলেছি। এছাড়া আমরা অফিসকে একটি টাকাও দেইনি। আমাদের ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ স্যার আমাদের উপজেলায় গত কয়েকমাস আগে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা । স্যার খুব সহজ সরল মানুষ ।

আকাশকুড়ি ঘাটেরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন জানান, আমার স্কুলে যে বরাদ্দ পেয়েছি। তা প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করেছি। শিক্ষা অফিসে বরাদ্ধের জন্য কোন টাকা দিতে হয়নি। পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সরকার কতৃক বরাদ্ধকৃত যে টাকা পেয়েছি তা ভ্যাট ও আইটি ছাড়া আর কাউকে কোন টাকা দিতে হয়নি এবং ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিস স্বচ্ছতা অনুযায়ী আমাদের সহযোগীতা করেছেন।

ছোটখাতা মডেল বেসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক মোঃ তৈয়ব আলী জানান, আমি সরকারী বরাদ্ধ স্কুলের নামে ব্যাংক একাউন্টে পাই। সেখানে অফিসে কিসের টাকা দিবো। দক্ষিন ঝুনাগাছ দুদুয়াপাড়া ও দক্ষিন তিতপাড়া সপ্রাবি সহ আরো অনেক প্রধান শিক্ষক বলেন, নুর মোহাম্মদ স্যার একজন সৎ অফিসার । উনি ডিমলা শিক্ষা অফিসে আসার পর অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনিয়ম করতে না পারায় উনাকে সরানোর জন্য পায়তারা করছে। সম্প্রতি সেই সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কতিপয় দুষ্কৃতিকারিরা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ডিমলা উপজেলা সভাপতি মোঃ আমজাদুল হক বলেন, বর্তমানে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ স্যার তাঁর প্রশাসনকে দুর্ণীতি মুক্ত, স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা নিশ্চিত করে শিক্ষক বান্ধব অফিস হিসেবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু স্বার্থবাদী লোক অনিয়ম করতে না পারায় স্যারকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করছেন। এসব লোকের স্বার্থসিদ্ধি হাছিল না হওয়ায় কিছু সাংবাদিক কে দিয়ে শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে । তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা উপজেলার কোন শিক্ষকের কাছে তথ্য না নিয়ে নিজের মনগড়া ভিডিও ও সাজানো রেকর্ড প্রকাশ করেছেন।

বাবুরহাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক বলেন, গত ২৫ আগস্ট ২০২২তারিখে গনমাধ্যমে প্রকাশিত ঘুষ বা উৎকচ না দিলে কাজ করে না শিরোনামে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়ি করে যে নিউজ ছাপা হয়েছে। তা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমুলক।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ এর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে-তিনি জানান, স্বার্থান্নেষীরা নিজ স্বার্থ লাভ করতে না পারায় আমার অজান্তে অফিসে ও বাইরে গোপন ভিডিও ধারন করে আমাকে ব্লাক মেইল করেছে। আসলে তারাই অপরাধী। প্রকাশতি ভিডিও /অডিও ও পত্রিকায় সংবাদ চক্রান্তকারীদের সাজানো, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে আমাকে হেয় করে অত্র উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানউন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি অপপ্রচারকারী ও চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করছি।