ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিশ্চয়তা, শঙ্কায় দেশের ক্রিকেট প্রেমিরা

দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম এই আকর্ষণ। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরটি দেখার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন ভক্তরা। তবে টাকা পাঠানোর ছাড়পত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি ফের চালু হয়েছে, ডলার সংকট থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। জটিলতার অবসান না হলে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিদের খেলা দেখা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ছাড়পত্র বা ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শর্ত পূরণ করে এখনো মেলেনি ছাড়পত্র। ফলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারছে না দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো। ফলে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্ত। এছাড়া এ খাত থেকে আসা বিশাল অংকের রাজস্ব হারাতে পারে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে রয়েছে এশিয়া কাপের সম্প্রচার স্বত্বের বকেয়া বিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি না পাওয়ায় আটকে আছে বকেয়া বিল পরিশোধ। গত মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের বিল শিগগির পরিশোধ করা না গেলে দেশীয় চ্যানেলগুলোর সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বধারীদের সুসম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এমনকি এই জটিলতায় আইসিসি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের সুযোগও হারাতে হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ফেসবুক ও গুগলের বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় পাঁচ মাসের বকেয়া আটকে আছে। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে বাংলাদেশ।

সম্প্রচার স্বত্বের অন্যতম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াকমের সিইও অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞাপন ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবের পাওনা পাঠানো যাচ্ছে না। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি বিভিন্ন সময় সরকারের অনুমোদন নিয়ে আন্তর্জাতিক খেলার প্রচার স্বত্ব কিনেছি। বিপরীতে সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স পেয়ে আসছে। যদি বৈধভাবে টাকা পাঠানোর অনুমোদন না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অসদুপায় অবলম্বন করবে। তাই এ পথ রোধ করতে বৈধপথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে এশিয়াটিক মাইন্ড শেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারে কোনো কারণে ব্যর্থ হলে খেলাধুলা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ফেলবে।’

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ছাড়পত্র বা ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছিল। এটি এখন ওপেন করা হয়েছে। কাজেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সম্প্রচার করার ক্ষেত্রে এখন কোনো বাধা নেই। আগে ডলারের চাপ (সংকট) থাকায় সাময়িককালের জন্য অনুমোদন বন্ধ রাখা হয়েছিল, এখন ওপেন করা হয়েছে।’

Tag :

ভ্রাম্যমান আদালতে গাঁজা সেবনকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিশ্চয়তা, শঙ্কায় দেশের ক্রিকেট প্রেমিরা

প্রকাশের সময় : ০৮:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম এই আকর্ষণ। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরটি দেখার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন ভক্তরা। তবে টাকা পাঠানোর ছাড়পত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি ফের চালু হয়েছে, ডলার সংকট থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। জটিলতার অবসান না হলে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিদের খেলা দেখা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ছাড়পত্র বা ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শর্ত পূরণ করে এখনো মেলেনি ছাড়পত্র। ফলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারছে না দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো। ফলে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্ত। এছাড়া এ খাত থেকে আসা বিশাল অংকের রাজস্ব হারাতে পারে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে রয়েছে এশিয়া কাপের সম্প্রচার স্বত্বের বকেয়া বিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি না পাওয়ায় আটকে আছে বকেয়া বিল পরিশোধ। গত মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের বিল শিগগির পরিশোধ করা না গেলে দেশীয় চ্যানেলগুলোর সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বধারীদের সুসম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এমনকি এই জটিলতায় আইসিসি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের সুযোগও হারাতে হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ফেসবুক ও গুগলের বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় পাঁচ মাসের বকেয়া আটকে আছে। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে বাংলাদেশ।

সম্প্রচার স্বত্বের অন্যতম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াকমের সিইও অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞাপন ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবের পাওনা পাঠানো যাচ্ছে না। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি বিভিন্ন সময় সরকারের অনুমোদন নিয়ে আন্তর্জাতিক খেলার প্রচার স্বত্ব কিনেছি। বিপরীতে সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স পেয়ে আসছে। যদি বৈধভাবে টাকা পাঠানোর অনুমোদন না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অসদুপায় অবলম্বন করবে। তাই এ পথ রোধ করতে বৈধপথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে এশিয়াটিক মাইন্ড শেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারে কোনো কারণে ব্যর্থ হলে খেলাধুলা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ফেলবে।’

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ছাড়পত্র বা ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছিল। এটি এখন ওপেন করা হয়েছে। কাজেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সম্প্রচার করার ক্ষেত্রে এখন কোনো বাধা নেই। আগে ডলারের চাপ (সংকট) থাকায় সাময়িককালের জন্য অনুমোদন বন্ধ রাখা হয়েছিল, এখন ওপেন করা হয়েছে।’