ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ লাউয়াছড়ার অভয়াশ্রম

বনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথে দ্রুতগামী ট্রেনের সামনে হঠাৎ এক বন্যপ্রাণী চলে এলে মুর্হূতেই তার মৃত্যু ঘটে যায়। একইভাবে ওই বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের সামনেও চলে আসে কোনো না কোনো বন্যপ্রাণী। তারও একই পরিণতি ঘটে। এছাড়াও আছে ৩৩ কেভি বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড। এভাবে ট্রেনে কাটা পড়ে, না হয় গাড়ি চাপায় মারা যাচ্ছে বিরল প্রজাতির বানর, হনুমান, অজগর ও উল্লুক। বিদ্যুতের তারে জড়িয়েও মারা পড়ছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও পাকা সড়কের কারণে অভয়াশ্রম এখন বন্যপ্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বন্যপ্রাণী অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ২ ও ৩ ধারা মতে, ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যবর্তী পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১ হাজার ২০০ হেক্টর (৩০৮৮ একর) জাতীয় উদ্যান তথা ন্যাশনাল পার্ক (প্রকৃতির জন্য সংরক্ষিত এলাকা) ঘোষণা করে সরকার। সেখানের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে নেওয়া হয়েছিল সে উদ্যোগ। কিন্তু ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে বন ও বন্যপ্রাণীর সীমাহীন ক্ষতি হয়, যা এখানে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এমন অভিমত বন গবেষকদের।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার দূরের এই বনে ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুনে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে।

বনবিভাগ জানায়, লাউয়া ছড়ায় ৪৬০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বিচরণ এই বনে। এছাড়া এ কয়েক বছরে ১৬৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করা হয়েছে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর অন্যতম অভয়াশ্রম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও পাকা সড়ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের জেলা সভাপতি নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, বনের ভিতর দিয়ে রেলপথ ও বিদ্যুৎ লাইন থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেক বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী। ট্রেনে কাটা ও যানবাহনে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গত ২ বছরে উল্লুক, কাঠবিড়ালি, চিত্রাহরিণ, হনুমান, বানর, চশমা পরা বানরসহ অনেক বন্যপ্রাণী মারা গেছে। একমাত্র রেল, বিদ্যুৎ ও পাকা সড়ক হয় সরানো না হয় ফ্লাইওভার করে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কো-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার জন্য আমরা বনের ভিতর গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা চাই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় বাস-ট্রেনের গতি কোনো অবস্থায় ২০ কিলোমিটারের বেশি হবে না এবং আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া থেকে সড়কপথ সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

ঝুঁকিপূর্ণ লাউয়াছড়ার অভয়াশ্রম

প্রকাশের সময় : ০৯:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

বনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথে দ্রুতগামী ট্রেনের সামনে হঠাৎ এক বন্যপ্রাণী চলে এলে মুর্হূতেই তার মৃত্যু ঘটে যায়। একইভাবে ওই বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের সামনেও চলে আসে কোনো না কোনো বন্যপ্রাণী। তারও একই পরিণতি ঘটে। এছাড়াও আছে ৩৩ কেভি বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড। এভাবে ট্রেনে কাটা পড়ে, না হয় গাড়ি চাপায় মারা যাচ্ছে বিরল প্রজাতির বানর, হনুমান, অজগর ও উল্লুক। বিদ্যুতের তারে জড়িয়েও মারা পড়ছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে যাওয়া ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও পাকা সড়কের কারণে অভয়াশ্রম এখন বন্যপ্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বন্যপ্রাণী অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ২ ও ৩ ধারা মতে, ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যবর্তী পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১ হাজার ২০০ হেক্টর (৩০৮৮ একর) জাতীয় উদ্যান তথা ন্যাশনাল পার্ক (প্রকৃতির জন্য সংরক্ষিত এলাকা) ঘোষণা করে সরকার। সেখানের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে নেওয়া হয়েছিল সে উদ্যোগ। কিন্তু ১৯৯৭ সালে মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে বন ও বন্যপ্রাণীর সীমাহীন ক্ষতি হয়, যা এখানে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এমন অভিমত বন গবেষকদের।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার দূরের এই বনে ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুনে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে।

বনবিভাগ জানায়, লাউয়া ছড়ায় ৪৬০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বিচরণ এই বনে। এছাড়া এ কয়েক বছরে ১৬৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করা হয়েছে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর অন্যতম অভয়াশ্রম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে ৭ কিলোমিটার রেলপথ ও পাকা সড়ক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের জেলা সভাপতি নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, বনের ভিতর দিয়ে রেলপথ ও বিদ্যুৎ লাইন থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেক বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী। ট্রেনে কাটা ও যানবাহনে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গত ২ বছরে উল্লুক, কাঠবিড়ালি, চিত্রাহরিণ, হনুমান, বানর, চশমা পরা বানরসহ অনেক বন্যপ্রাণী মারা গেছে। একমাত্র রেল, বিদ্যুৎ ও পাকা সড়ক হয় সরানো না হয় ফ্লাইওভার করে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কো-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার জন্য আমরা বনের ভিতর গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা চাই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় বাস-ট্রেনের গতি কোনো অবস্থায় ২০ কিলোমিটারের বেশি হবে না এবং আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া থেকে সড়কপথ সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।