ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকিতে তরুণরা

পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তরুণ বা কম বসয়সিরা বেশি উচ্চরক্ত চাপ ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতি পাঁচজনের একজন অর্থাৎ ২১ শতাংশ মানুষ এই রোগে ভুগছেন। দেখা গেছে, প্রায় ৫১ শতাংশ নারী ও ৬৭ শতাংশ পুরুষ জানেনই না তাদের উচ্চরক্ত চাপ রয়েছে। ফলে কম বয়সে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন অনেকেই।

এদিকে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশকিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উলেস্নখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়াও ওষুধের দাম ও চিকিৎসাসেবাও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ব্যয়বহুল।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পস্ন্যানারস কনফরেন্স রুমে ‘হাইপারটেনশন অ্যান্ড হার্ট হেলথ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংস্থা গেস্নাবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এই কর্মশালা আয়োজন করে।

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, উচ্চরক্ত চাপ বর্তমানে নীরব ঘাতক হিসেবে আমাদের দেশে বিরাজ করছে। কারণ দেশের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষই জানেন না তারা এতে আক্রান্ত। বিশেষ করে দেশের তরুণরা যাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ তাদের বেশির ভাগই অসচেতনতা ও না জানার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করছে। তবে একটু সচেতনতা ও লাইফ স্টাইলে সামান্য পরিবর্তন আনলে উচ্চরক্ত চাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮-এর তথ্য দিয়ে কর্মশালায় জানানো হয় উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্তদের মধ্যে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে প্রতি সাতজনে একজনেরও কম। গেস্নাবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি, ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চরক্ত চাপ। আর দেশে উচ্চরক্ত চাপ বিষয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছেন মাত্র ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে।

কর্মশালায় জানানো হয় উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশকিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উলেস্নখযোগ্য কোনো কর্মসূচি নেই। যদিও সরকার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চরক্ত চাপের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে ২৫ শতাংশ কমানোর (রিলেটিভ রিডাকশন) জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে ৪০ বছরের পরই উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ইদানীংকালে কম বয়সিদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে তারাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ হৃদরোগ জনিতে কারণে মৃত্যুবরণ করছে। মূলত জানেনই তারা উচ্চরক্ত চাপে ভুগছেন। তাই প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার প্রেসার মাপার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

এছাড়াও উচ্চরক্ত চাপের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচকরা বলেন, এই রোগে একবার কেউ আক্রান্ত হলে তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে সবচেয়ে ভালো যদি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ এনে রোগ প্রতিরোধ করা। দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্ত উলেস্নখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও গণমাধ্যমগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ে এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।

দেখা গেছে, খাবারে রান্নার বাইরে লবণ না খেলেই এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাপানে সম্প্রতি একটি গবেষণা বলছে, কেবল লবণ খাওয়া নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন যেমন: অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পাশাপাশি, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ্যপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। উলেস্নখ্য, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চরক্ত চাপের কারণে মারা যান, যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি। আলোচকরা বলেন, মায়ের গর্ভ থেকেই শিশুরা উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি নিয়ে জন্মায়। তাই মায়েদের প্রথম থেকেই এই বিষয়ে সচেতনা প্রয়োজন।

এদিকে উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নিয়মিত চিকিৎসেবা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অসচেতনা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পান না বেশির ভাগ নাগরিক। বিশেষ করে তৃণমূলের নাগরিকরা। তাই সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট স্থাপন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করা ও আক্রান্তদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে দেশে এই রোগের চিকিৎসা ও ওষুধের দাম অনেকটা ব্যয়বহুল উলেস্নখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্যান্য দেশে রোগীকে তার চিকিৎসার মাত্র ২০ শতাংশ খরচ বহন করতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে রোগীকেই প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ বহন করতে হয়। এছাড়াও এই রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত অর্থাৎ লাইফ টাইম ওষুধ সেবন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ওষুধের দাম সহনীয় ও সরকারি পর্যায়ে ওষুধের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়। দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে উচ্চরক্ত চাপের ওষুধের দাম প্রায় ৫ গুণ বেশি।

এছাড়াও নীরবে উচ্চরক্ত চাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উচ্চরক্ত চাপ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির জন্য দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চরক্ত চাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজনের ওপর জোর দেনে আলোচকরা।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (এনসিডি) ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথের সেন্টার ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিজ অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রুহুল কুদ্দুস, এনটিভির হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরন ও মিজান চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকিতে তরুণরা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তরুণ বা কম বসয়সিরা বেশি উচ্চরক্ত চাপ ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতি পাঁচজনের একজন অর্থাৎ ২১ শতাংশ মানুষ এই রোগে ভুগছেন। দেখা গেছে, প্রায় ৫১ শতাংশ নারী ও ৬৭ শতাংশ পুরুষ জানেনই না তাদের উচ্চরক্ত চাপ রয়েছে। ফলে কম বয়সে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন অনেকেই।

এদিকে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশকিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উলেস্নখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়াও ওষুধের দাম ও চিকিৎসাসেবাও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ব্যয়বহুল।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পস্ন্যানারস কনফরেন্স রুমে ‘হাইপারটেনশন অ্যান্ড হার্ট হেলথ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংস্থা গেস্নাবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এই কর্মশালা আয়োজন করে।

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, উচ্চরক্ত চাপ বর্তমানে নীরব ঘাতক হিসেবে আমাদের দেশে বিরাজ করছে। কারণ দেশের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষই জানেন না তারা এতে আক্রান্ত। বিশেষ করে দেশের তরুণরা যাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ তাদের বেশির ভাগই অসচেতনতা ও না জানার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করছে। তবে একটু সচেতনতা ও লাইফ স্টাইলে সামান্য পরিবর্তন আনলে উচ্চরক্ত চাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮-এর তথ্য দিয়ে কর্মশালায় জানানো হয় উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্তদের মধ্যে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে প্রতি সাতজনে একজনেরও কম। গেস্নাবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি, ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চরক্ত চাপ। আর দেশে উচ্চরক্ত চাপ বিষয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছেন মাত্র ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে।

কর্মশালায় জানানো হয় উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বেশকিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে দেশব্যাপী উলেস্নখযোগ্য কোনো কর্মসূচি নেই। যদিও সরকার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চরক্ত চাপের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে ২৫ শতাংশ কমানোর (রিলেটিভ রিডাকশন) জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে ৪০ বছরের পরই উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ইদানীংকালে কম বয়সিদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে তারাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ হৃদরোগ জনিতে কারণে মৃত্যুবরণ করছে। মূলত জানেনই তারা উচ্চরক্ত চাপে ভুগছেন। তাই প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার প্রেসার মাপার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

এছাড়াও উচ্চরক্ত চাপের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচকরা বলেন, এই রোগে একবার কেউ আক্রান্ত হলে তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে সবচেয়ে ভালো যদি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ এনে রোগ প্রতিরোধ করা। দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্ত উলেস্নখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও গণমাধ্যমগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ে এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।

দেখা গেছে, খাবারে রান্নার বাইরে লবণ না খেলেই এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাপানে সম্প্রতি একটি গবেষণা বলছে, কেবল লবণ খাওয়া নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন যেমন: অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পাশাপাশি, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ্যপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। উলেস্নখ্য, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চরক্ত চাপের কারণে মারা যান, যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি। আলোচকরা বলেন, মায়ের গর্ভ থেকেই শিশুরা উচ্চরক্ত চাপের ঝুঁকি নিয়ে জন্মায়। তাই মায়েদের প্রথম থেকেই এই বিষয়ে সচেতনা প্রয়োজন।

এদিকে উচ্চরক্ত চাপে আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নিয়মিত চিকিৎসেবা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অসচেতনা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পান না বেশির ভাগ নাগরিক। বিশেষ করে তৃণমূলের নাগরিকরা। তাই সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট স্থাপন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করা ও আক্রান্তদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে দেশে এই রোগের চিকিৎসা ও ওষুধের দাম অনেকটা ব্যয়বহুল উলেস্নখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্যান্য দেশে রোগীকে তার চিকিৎসার মাত্র ২০ শতাংশ খরচ বহন করতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে রোগীকেই প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ বহন করতে হয়। এছাড়াও এই রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত অর্থাৎ লাইফ টাইম ওষুধ সেবন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ওষুধের দাম সহনীয় ও সরকারি পর্যায়ে ওষুধের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়। দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে উচ্চরক্ত চাপের ওষুধের দাম প্রায় ৫ গুণ বেশি।

এছাড়াও নীরবে উচ্চরক্ত চাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উচ্চরক্ত চাপ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির জন্য দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চরক্ত চাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজনের ওপর জোর দেনে আলোচকরা।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (এনসিডি) ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথের সেন্টার ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিজ অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রুহুল কুদ্দুস, এনটিভির হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরন ও মিজান চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।