ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি একটি আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসকারী প্রজেক্ট: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি পর্যটকরা আসেন সেখানকার জীব বৈচিত্র্য দেখার জন্য। পাঁচতারকা হোটেলে থাকার জন্য নয়। মূলত একটি সরকারি মহল এখানে পাঁচতারকা হোটেল করে ব্যবসা করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি একটি আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসকারী প্রজেক্ট। তিনি অবিলম্বে লামা রাবার ইন্ডাস্টিজ লিমিটেডের আগ্ৰাসন থেকে বন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তাফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ অঞ্চল। এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জুম চাষ পদ্ধতি, যা প্রাকৃতিক বনভূমির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক শাসন, ব্যাপক সামরিকায়ন, সেটলারদের অনুপ্রবেশ, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বন থেকে গাছ আহরণ, রাবারসহ বিভিন্ন বাগান ও পর্যটনের নামে ভূমি বেদখল ইত্যাদির কারণে পাহাড়িদের জীবিকার অবলম্বন জুম চাষের ভূমি ক্রমে সংকুচিত হওয়ার ফলে আমাদের বেঁচে থাকা এখন দায় হয়ে পড়েছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, একই ধরনের ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে। যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই সেহেতু ওদের আক্রমণ করা সবচেয়ে সহজ। তাই এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। যে আইনে রাবার বাগান করা হয়েছে তা জনস্বার্থবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে শুধুমাত্র ব্যক্তি বিনিয়োগ হিসাব করা হয়। ৫০০ কোটি টাকা লাভ করতে গিয়ে প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গোল টেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা। আরও বক্তব্য দেন- গবেষক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, আবু সাঈদ খান, তানজিম উদ্দিন খান, হাসিবুর রহমান বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি একটি আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসকারী প্রজেক্ট: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি পর্যটকরা আসেন সেখানকার জীব বৈচিত্র্য দেখার জন্য। পাঁচতারকা হোটেলে থাকার জন্য নয়। মূলত একটি সরকারি মহল এখানে পাঁচতারকা হোটেল করে ব্যবসা করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি একটি আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসকারী প্রজেক্ট। তিনি অবিলম্বে লামা রাবার ইন্ডাস্টিজ লিমিটেডের আগ্ৰাসন থেকে বন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তাফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ অঞ্চল। এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জুম চাষ পদ্ধতি, যা প্রাকৃতিক বনভূমির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক শাসন, ব্যাপক সামরিকায়ন, সেটলারদের অনুপ্রবেশ, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বন থেকে গাছ আহরণ, রাবারসহ বিভিন্ন বাগান ও পর্যটনের নামে ভূমি বেদখল ইত্যাদির কারণে পাহাড়িদের জীবিকার অবলম্বন জুম চাষের ভূমি ক্রমে সংকুচিত হওয়ার ফলে আমাদের বেঁচে থাকা এখন দায় হয়ে পড়েছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, একই ধরনের ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে। যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই সেহেতু ওদের আক্রমণ করা সবচেয়ে সহজ। তাই এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। যে আইনে রাবার বাগান করা হয়েছে তা জনস্বার্থবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে শুধুমাত্র ব্যক্তি বিনিয়োগ হিসাব করা হয়। ৫০০ কোটি টাকা লাভ করতে গিয়ে প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গোল টেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরা। আরও বক্তব্য দেন- গবেষক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, আবু সাঈদ খান, তানজিম উদ্দিন খান, হাসিবুর রহমান বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।