ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গণফোরামে গণ্ডগোল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি দল গণফোরাম। অতীতে খুব বেশি নাম-ডাক না থকলেও ২০১৮ সালে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তৎকালীন ডক্টর কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। ওই বছর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে বছরখানেক চেষ্টা চালানোর পরে ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোটের যাত্রা শুরু হয়।

ঐক্যফ্রন্ট নামে সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তখন বিএনপিসহ অনেক দলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন ডক্টর কামাল হোসেন। এ কারণে পরবর্তীতে তিনি বেশ সমালোচিতও হন সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের কাছে। এতে কিছুটা সমালোচিত হয় তার নেতৃত্বাধীন দল গণফোরামও। এরপর মাঝখানে খুব বেশি হাঁকডাক শোনা যায়নি দলটির।

এড়হড়ভড়ৎঁসতবে ২০২০ সালের শুরুর দিকেই ভাঙনের মুখে পড়ে বেশ আলোচনায় আসে গণফোরাম। ওই বছর মার্চ মাসে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দলটি কার্যত দুটো ভাগ হয়ে যায়। একটিতে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে থাকেন তার অক্সফোর্ডকালীন সহকারী ড. রেজা কিবরিয়া। আর দ্বিতীয় গ্রুপটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুইজন সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। তারপর থেকেই শুরু হয় গণফোরামে ‘গণ্ডগোল’। চলে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার।

ওই মাসে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার একদিন পরেই দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সহ-সভাপতি মহসীন রশীদ, সহ-সভাপতি শফিকউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ মোস্তাককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ উপদলীয় কোন্দল, দলীয় অর্থ তছরুপের অভিযোগ আনা হয়।

এড়হড়ভড়ৎঁসমাঝখানে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় সদস্যপদ থেকে রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগসহ বেশকিছু ঘটনাও ঘটে। তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গণফোরামের ভাঙন আরও দৃশ্যমান হয়। ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি ও সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করে একাংশ। সেই সঙ্গে নির্বাচনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ। আর নির্বাচনি কমিটির পক্ষে নতুন কমিটির সদস্যদের নাম পড়ে শোনান অধ্যাপক ড. অবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক।

এর পরের বছর অর্থাৎ চলতি ২০২২ এর ১২ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে আরেক অংশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠে। এতে কামাল হোসেনের অংশের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সেই সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে কাউন্সিলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে এক পক্ষকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়।

সেদিন গণফোরামের কাউন্সিল ঘিরে দলটির বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। এর একটি অংশ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কাউন্সিলের আয়োজন করে, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অন্য অংশ প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেদিন হামলাকারীরা বলেন, মোকাব্বির খানসহ এই অংশের নেতাকর্মীরা সরকারের দালাল। তাঁরা সরকারের কাছ থেকে টাকা খেয়ে গণফোরামকে বিভক্ত করেছে।

এড়হড়ভড়ৎঁসআবার হামলার বিষয়ে মোকাব্বির খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলের আয়োজন করেছি। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি, কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরও অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের ওপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা এই হামলা চালিয়েছে।’

এই হামলায় মন্টু অংশের নেতা অ্যাডভোকেট মোহসীন রশীদের হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে ঘটনার সময় উভয় অংশের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. কামাল হোসেন কিংবা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বা সুব্রত চৌধুরী, কাউকেই দেখা যায়নি।

এড়হড়ভড়ৎঁসসেই ঘটনার পরপরই গণফোরামের ভাঙন আরও প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই ঢিমে-তালেই চলে দুই অংশের কাজ। সেই সঙ্গে দুই অংশই নিজেদের আসল গণফোরাম দাবি করে। এরমধ্যে গেল ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে গণফোরামের ১০১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির ১০১ সদস্যের নাম পড়ে শোনান নতুন সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে, ড. কামাল হোসেনকে দলের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি ও ড. কামালের অংশের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রহমানকে সভাপতি পরিষদের সদস্য পদসহ দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করে সবশেষ মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেন মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

এ দিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘আজ আমাদের জাতীয় জীবনের চরম সংকটময়কাল যখন জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য, সেই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন ও মো. মিজানুর রহমান গত ১৭ সেপ্টেম্বরর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত কমিটি সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও অগণতান্ত্রিক।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্কহীন, দল থেকে পদত্যাগকারী, বিভেদ সৃষ্টিকারী ও নিষ্ক্রিয় কিছু ব্যক্তি নিয়ে গণফোরাম নাম দিয়ে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ড. কামাল হোসেনকে গত ৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা এবং মো. মিজানুর রহমানকে সভাপতি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু তারা কেউই গণফোরামের নির্বাচিত কমিটি থেকে পদত্যাগ না করে স্ব-ঘোষিত একটি গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও উপদলীয় কমিটির যথাক্রমে ড. কামাল হোসেন সভাপতি ও মো. মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। এমনকি ঘোষিত তথাকথিত কমিটি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।

এড়হড়ভড়ৎঁসএর প্রতিক্রিয়ায় ড. কামালের অংশের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরাই মূল গণফোরাম। কাজেই তাদের সংবাদ সম্মেলনে আমাদের কিছু যায় আসে না। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এখনও গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল রয়েছেন। সে হিসেবেই গণফোরামের নিবন্ধন রয়েছে। সুতরাং কে কাকে বহিষ্কার করল বা কে সংবাদ সম্মেলন করল- সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

গণফোরামে গণ্ডগোল

প্রকাশের সময় : ১০:২৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি দল গণফোরাম। অতীতে খুব বেশি নাম-ডাক না থকলেও ২০১৮ সালে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তৎকালীন ডক্টর কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। ওই বছর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে বছরখানেক চেষ্টা চালানোর পরে ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোটের যাত্রা শুরু হয়।

ঐক্যফ্রন্ট নামে সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তখন বিএনপিসহ অনেক দলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন ডক্টর কামাল হোসেন। এ কারণে পরবর্তীতে তিনি বেশ সমালোচিতও হন সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের কাছে। এতে কিছুটা সমালোচিত হয় তার নেতৃত্বাধীন দল গণফোরামও। এরপর মাঝখানে খুব বেশি হাঁকডাক শোনা যায়নি দলটির।

এড়হড়ভড়ৎঁসতবে ২০২০ সালের শুরুর দিকেই ভাঙনের মুখে পড়ে বেশ আলোচনায় আসে গণফোরাম। ওই বছর মার্চ মাসে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দলটি কার্যত দুটো ভাগ হয়ে যায়। একটিতে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে থাকেন তার অক্সফোর্ডকালীন সহকারী ড. রেজা কিবরিয়া। আর দ্বিতীয় গ্রুপটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুইজন সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। তারপর থেকেই শুরু হয় গণফোরামে ‘গণ্ডগোল’। চলে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার।

ওই মাসে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার একদিন পরেই দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সহ-সভাপতি মহসীন রশীদ, সহ-সভাপতি শফিকউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ মোস্তাককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ উপদলীয় কোন্দল, দলীয় অর্থ তছরুপের অভিযোগ আনা হয়।

এড়হড়ভড়ৎঁসমাঝখানে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় সদস্যপদ থেকে রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগসহ বেশকিছু ঘটনাও ঘটে। তবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গণফোরামের ভাঙন আরও দৃশ্যমান হয়। ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি ও সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করে একাংশ। সেই সঙ্গে নির্বাচনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ। আর নির্বাচনি কমিটির পক্ষে নতুন কমিটির সদস্যদের নাম পড়ে শোনান অধ্যাপক ড. অবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক।

এর পরের বছর অর্থাৎ চলতি ২০২২ এর ১২ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে আরেক অংশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠে। এতে কামাল হোসেনের অংশের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সেই সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে কাউন্সিলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে এক পক্ষকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়।

সেদিন গণফোরামের কাউন্সিল ঘিরে দলটির বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। এর একটি অংশ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কাউন্সিলের আয়োজন করে, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অন্য অংশ প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেদিন হামলাকারীরা বলেন, মোকাব্বির খানসহ এই অংশের নেতাকর্মীরা সরকারের দালাল। তাঁরা সরকারের কাছ থেকে টাকা খেয়ে গণফোরামকে বিভক্ত করেছে।

এড়হড়ভড়ৎঁসআবার হামলার বিষয়ে মোকাব্বির খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলের আয়োজন করেছি। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি, কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরও অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের ওপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা এই হামলা চালিয়েছে।’

এই হামলায় মন্টু অংশের নেতা অ্যাডভোকেট মোহসীন রশীদের হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে ঘটনার সময় উভয় অংশের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. কামাল হোসেন কিংবা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বা সুব্রত চৌধুরী, কাউকেই দেখা যায়নি।

এড়হড়ভড়ৎঁসসেই ঘটনার পরপরই গণফোরামের ভাঙন আরও প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই ঢিমে-তালেই চলে দুই অংশের কাজ। সেই সঙ্গে দুই অংশই নিজেদের আসল গণফোরাম দাবি করে। এরমধ্যে গেল ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে গণফোরামের ১০১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির ১০১ সদস্যের নাম পড়ে শোনান নতুন সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে, ড. কামাল হোসেনকে দলের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি ও ড. কামালের অংশের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রহমানকে সভাপতি পরিষদের সদস্য পদসহ দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করে সবশেষ মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেন মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

এ দিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘আজ আমাদের জাতীয় জীবনের চরম সংকটময়কাল যখন জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য, সেই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন ও মো. মিজানুর রহমান গত ১৭ সেপ্টেম্বরর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত কমিটি সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও অগণতান্ত্রিক।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্কহীন, দল থেকে পদত্যাগকারী, বিভেদ সৃষ্টিকারী ও নিষ্ক্রিয় কিছু ব্যক্তি নিয়ে গণফোরাম নাম দিয়ে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ড. কামাল হোসেনকে গত ৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা এবং মো. মিজানুর রহমানকে সভাপতি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু তারা কেউই গণফোরামের নির্বাচিত কমিটি থেকে পদত্যাগ না করে স্ব-ঘোষিত একটি গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও উপদলীয় কমিটির যথাক্রমে ড. কামাল হোসেন সভাপতি ও মো. মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। এমনকি ঘোষিত তথাকথিত কমিটি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।

এড়হড়ভড়ৎঁসএর প্রতিক্রিয়ায় ড. কামালের অংশের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরাই মূল গণফোরাম। কাজেই তাদের সংবাদ সম্মেলনে আমাদের কিছু যায় আসে না। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এখনও গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল রয়েছেন। সে হিসেবেই গণফোরামের নিবন্ধন রয়েছে। সুতরাং কে কাকে বহিষ্কার করল বা কে সংবাদ সম্মেলন করল- সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’