ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজপথে থাকতে মরিয়া আ.লীগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সরকারবিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক মাঠে ততই তৎপর হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে জাতীয় নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণ চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজপথে ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।

আন্দোলন বা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে তা সরাসরি গায়ে পড়ে নয়। এজন্য বিএনপির আন্দোলনকে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিহত না করে স্থানীয়ভাবে দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্র থেকে।

এর অংশ হিসেবে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে দলীয় সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাজপথেও দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একইভাবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে যৌথসভায় এমন নির্দেশনা দেন দলের নেতারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ যৌথসভায় হয়। সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কুমিল্লা ও ঢাকার মিরপুরে হামলা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিএনপির নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। সেটা কিন্তু মিডিয়া ছাপতে চায় না। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান করেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপিকে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে তাতে আওয়ামী লীগের চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু পাড়া-মহল্লায়, অলিগতিতে কর্মসূচি পালন করলে তা অরাজনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীনরা। এ ছাড়া বিএনপি নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করা, জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবে। তারা নির্বাচনে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না। তাই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করা তাদের লক্ষ্য।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমাদের চাই সংবিধানের আলোকে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন। আমাদের নেত্রীরও নির্দেশনা রয়েছে, কাউকে আক্রমণ করা যাবে না। তবে মাঠে সরব থাকতে হবে। তারা যেখানে যায়, সেখানেই মারামারি করে। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ মারামারির দায়ভার আওয়ামী লীগ বহন করবে না।’ বরিশাল এবং চট্টগ্রামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দু-একটি স্থানে গোলোযোগ হতে পারে। কিন্তু তারা যেভাবে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপায়, তা সঠিক না। চট্টগ্রাম এবং বরিশাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, কিন্তু দায় চাপাতে চায় আওয়ামী লীগের ওপর। তাদের এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত থাকবে।’

কিন্তু সম্প্রতি মাঠ দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো টানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনীতির মাঠে এই উত্তাপ আরো বাড়বে। সেজন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা বাদ দিয়ে অসাংগঠনিক কাজ করছে দলটি। পাড়া-মহল্লায় মিছিল ও ভাঙচুর করে জনমনে ভীতি তৈরি করছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বারবার পুলিশের ওপর হামলা করছে। এ ধরনের কর্মসূচি কখনোই রাজনৈতিক নয়। বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এতে আমাদের চিন্তা বা ভাবনার কিছু নেই, এটি তাদের অধিকার। কিন্তু মাঠের রাজনীতি যখন পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে হয়, তখন তা রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকে না।’ বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বিএনপির নৈরাজ্যের কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের দল হিসেবে সব সময়ই জনগণের পাশে আছে, থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিরোধ করবে আওয়ামী লীগ।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি বলেন, ‘আমাদের এক হাজার ইউনিট কমিটি গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে সংগঠন। বর্তমানে ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন চলছে। নতুন নতুন নেতারা আসছেন, সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জনগণকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সব সময় মাঠে আছে।’

বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে অরাজকতা করলে প্রতিহত করা হবে জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের থানা, ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠন শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

রাজপথে থাকতে মরিয়া আ.লীগ

প্রকাশের সময় : ১০:০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সরকারবিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক মাঠে ততই তৎপর হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে জাতীয় নির্বাচনে বিরোধীদের অংশগ্রহণ চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজপথে ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।

আন্দোলন বা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে তা সরাসরি গায়ে পড়ে নয়। এজন্য বিএনপির আন্দোলনকে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিহত না করে স্থানীয়ভাবে দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্র থেকে।

এর অংশ হিসেবে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে দলীয় সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাজপথেও দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একইভাবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে যৌথসভায় এমন নির্দেশনা দেন দলের নেতারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ যৌথসভায় হয়। সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কুমিল্লা ও ঢাকার মিরপুরে হামলা হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিএনপির নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। সেটা কিন্তু মিডিয়া ছাপতে চায় না। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান করেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপিকে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে তাতে আওয়ামী লীগের চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু পাড়া-মহল্লায়, অলিগতিতে কর্মসূচি পালন করলে তা অরাজনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীনরা। এ ছাড়া বিএনপি নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করা, জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবে। তারা নির্বাচনে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না। তাই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করা তাদের লক্ষ্য।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমাদের চাই সংবিধানের আলোকে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন। আমাদের নেত্রীরও নির্দেশনা রয়েছে, কাউকে আক্রমণ করা যাবে না। তবে মাঠে সরব থাকতে হবে। তারা যেখানে যায়, সেখানেই মারামারি করে। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ মারামারির দায়ভার আওয়ামী লীগ বহন করবে না।’ বরিশাল এবং চট্টগ্রামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দু-একটি স্থানে গোলোযোগ হতে পারে। কিন্তু তারা যেভাবে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপায়, তা সঠিক না। চট্টগ্রাম এবং বরিশাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, কিন্তু দায় চাপাতে চায় আওয়ামী লীগের ওপর। তাদের এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত থাকবে।’

কিন্তু সম্প্রতি মাঠ দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো টানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে বিপুল মানুষের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনীতির মাঠে এই উত্তাপ আরো বাড়বে। সেজন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা বাদ দিয়ে অসাংগঠনিক কাজ করছে দলটি। পাড়া-মহল্লায় মিছিল ও ভাঙচুর করে জনমনে ভীতি তৈরি করছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বারবার পুলিশের ওপর হামলা করছে। এ ধরনের কর্মসূচি কখনোই রাজনৈতিক নয়। বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এতে আমাদের চিন্তা বা ভাবনার কিছু নেই, এটি তাদের অধিকার। কিন্তু মাঠের রাজনীতি যখন পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে হয়, তখন তা রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকে না।’ বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বিএনপির নৈরাজ্যের কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের দল হিসেবে সব সময়ই জনগণের পাশে আছে, থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিরোধ করবে আওয়ামী লীগ।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি বলেন, ‘আমাদের এক হাজার ইউনিট কমিটি গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে সংগঠন। বর্তমানে ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন চলছে। নতুন নতুন নেতারা আসছেন, সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জনগণকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সব সময় মাঠে আছে।’

বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে অরাজকতা করলে প্রতিহত করা হবে জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের থানা, ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠন শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’