ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সড়কের কাজ শেষ না করেই লাপাত্তা ঠিকাদার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য পুরাতন সেতুর দুপাশে সড়ক কেটে রেখেছেন ঠিকাদার। চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে বিকল্প জরাজীর্ণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নেই কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা। নেই সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। এভাবে প্রায় ছয়মাস অতিবাহিত হলেও আর দেখা মেলেনি সেতুর নির্মাণকাজ ও ঠিকাদার বা প্রকৌশলী কর্তাদের।

ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছেন পথচারীরা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহন ও পরিবহনের মালামাল। সবমিলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে সেতু এলাকায়।

এ চিত্র উপজেলার পান্টি-বাঁশগ্রাম বাজার সড়কের চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর পূর্বপাড়ায় তিন রাস্তা মোড় এলাকায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পথচারীদের অভিযোগ, প্রায় ৬ মাস আগে নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভালো সেতুটির দুপাশের সড়ক কেটে দিয়ে পালিয়েছেন ঠিকাদার। চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক তৈরি করা হয়েছে। সেই সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত মানুষ দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

তবে প্রকৌশলী বলছেন, কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ বাতিলের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সড়ক কেটে পালিয়েছেন। সেখানকার জনদুর্ভোগের বিষয় ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

মহননগর সেতু এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুপাশের পাকা সংযোগ সড়ক কাটা রয়েছে। সেতুর পাশের দক্ষিণপাশের খালের ভেতর সড়ক থেকে অনেক নিচু ও জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। যানবাহন থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। আর যানবাহনগুলো স্থানীয়রা ও যাত্রীরা ঠেলে তুলে দিচ্ছেন। আরো দেখা যায়, ভারী মালবাহী যানবাহনগুলো প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের চাঁদপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর এলাকার সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এ রাস্তায় চলাচল করে। এছাড়া পাশের ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও মাগুরার মানুষ কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া-আসা করে এ সড়ক দিয়ে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদার জেলার মিরপুরের রিপন আলী। নির্মাণকাজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দৃশ্যমান কাজ না থাকায় বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রকৌশলীকে না জানিয়ে সড়ক কেটে পালিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক তরুন বিশ্বাস বলেন, ভালো সেতুর রাস্তা কেটে চলে গেছেন ঠিকাদার। ছয়মাসেও নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারের দেখা মেলেনি। জনগণের কষ্টের শেষ নেই। হয় নতুন সেতু বানাক (নির্মাণ), না হয় আমাদের রাস্তা ভালো করে দিক।

সেতুটির পাশের মুদি দোকানি সজল বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনই গাড়ি উল্টে এক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) হচ্ছে। দোকান ফেলে বারবার ছুটে যায় গাড়ি ঠেলতে। মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া দরকার।

ইজিবাহক চালক রহমত আলী বলেন, রাস্তাটি খুব ব্যস্ত। ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চলে। খালের ভেতরের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে আবার যাত্রী দিয়েই ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করতে হবে। গাড়ি উল্টে অনেক মানুষ আহত হচ্ছে।

বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন আলী বলেন, মাল বোঝায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। রাতে মানুষ গাড়ি নিয়ে গর্তে পড়ে যায়। ৭ থেকে ৮ মাস ধরে এ দুর্ভোগ। কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার রিপন আলীকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কলটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার মুঠোফোনে বলেন, রিপন ভাই আমার শ্রমিকদের দিয়ে সেতুর রাস্তা ভাঙার কাজ করেছিল। কিন্তু কবে কাজ করবেন, তা জানি না। যতদূর জানি কাজের মেয়াদ নেই।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান তুষার বলেন, সেতুর নামে খোঁজ নেই, রাস্তা কেটে উধাও ঠিকাদার। জনগণের কষ্টের শেষ নেই। দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ বাতিলের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে রাতে সড়ক কেটে পালিয়েছেন। সেখানকার জনদুর্ভোগের বিষয় ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, কাটা সড়ক সংস্কার করে চলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

সড়কের কাজ শেষ না করেই লাপাত্তা ঠিকাদার

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য পুরাতন সেতুর দুপাশে সড়ক কেটে রেখেছেন ঠিকাদার। চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে বিকল্প জরাজীর্ণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নেই কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা। নেই সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। এভাবে প্রায় ছয়মাস অতিবাহিত হলেও আর দেখা মেলেনি সেতুর নির্মাণকাজ ও ঠিকাদার বা প্রকৌশলী কর্তাদের।

ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছেন পথচারীরা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহন ও পরিবহনের মালামাল। সবমিলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে সেতু এলাকায়।

এ চিত্র উপজেলার পান্টি-বাঁশগ্রাম বাজার সড়কের চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর পূর্বপাড়ায় তিন রাস্তা মোড় এলাকায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পথচারীদের অভিযোগ, প্রায় ৬ মাস আগে নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভালো সেতুটির দুপাশের সড়ক কেটে দিয়ে পালিয়েছেন ঠিকাদার। চলাচলের জন্য খালের ভেতর দিয়ে জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক তৈরি করা হয়েছে। সেই সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত মানুষ দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

তবে প্রকৌশলী বলছেন, কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ বাতিলের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সড়ক কেটে পালিয়েছেন। সেখানকার জনদুর্ভোগের বিষয় ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

মহননগর সেতু এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুপাশের পাকা সংযোগ সড়ক কাটা রয়েছে। সেতুর পাশের দক্ষিণপাশের খালের ভেতর সড়ক থেকে অনেক নিচু ও জরাজীর্ণ বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। যানবাহন থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে পার হচ্ছেন। আর যানবাহনগুলো স্থানীয়রা ও যাত্রীরা ঠেলে তুলে দিচ্ছেন। আরো দেখা যায়, ভারী মালবাহী যানবাহনগুলো প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের চাঁদপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর এলাকার সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এ রাস্তায় চলাচল করে। এছাড়া পাশের ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও মাগুরার মানুষ কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া-আসা করে এ সড়ক দিয়ে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদার জেলার মিরপুরের রিপন আলী। নির্মাণকাজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দৃশ্যমান কাজ না থাকায় বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রকৌশলীকে না জানিয়ে সড়ক কেটে পালিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক তরুন বিশ্বাস বলেন, ভালো সেতুর রাস্তা কেটে চলে গেছেন ঠিকাদার। ছয়মাসেও নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারের দেখা মেলেনি। জনগণের কষ্টের শেষ নেই। হয় নতুন সেতু বানাক (নির্মাণ), না হয় আমাদের রাস্তা ভালো করে দিক।

সেতুটির পাশের মুদি দোকানি সজল বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনই গাড়ি উল্টে এক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) হচ্ছে। দোকান ফেলে বারবার ছুটে যায় গাড়ি ঠেলতে। মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া দরকার।

ইজিবাহক চালক রহমত আলী বলেন, রাস্তাটি খুব ব্যস্ত। ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চলে। খালের ভেতরের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে আবার যাত্রী দিয়েই ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করতে হবে। গাড়ি উল্টে অনেক মানুষ আহত হচ্ছে।

বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন আলী বলেন, মাল বোঝায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। রাতে মানুষ গাড়ি নিয়ে গর্তে পড়ে যায়। ৭ থেকে ৮ মাস ধরে এ দুর্ভোগ। কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার রিপন আলীকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কলটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার মুঠোফোনে বলেন, রিপন ভাই আমার শ্রমিকদের দিয়ে সেতুর রাস্তা ভাঙার কাজ করেছিল। কিন্তু কবে কাজ করবেন, তা জানি না। যতদূর জানি কাজের মেয়াদ নেই।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান তুষার বলেন, সেতুর নামে খোঁজ নেই, রাস্তা কেটে উধাও ঠিকাদার। জনগণের কষ্টের শেষ নেই। দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কাজ বাতিলের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে রাতে সড়ক কেটে পালিয়েছেন। সেখানকার জনদুর্ভোগের বিষয় ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, কাটা সড়ক সংস্কার করে চলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।