ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫০ থেকে ৫৫ দিনে ফলন

আগাম আলু চাষে ঝুঁকছে কৃষক

দেশে আগাম আলু চাষে রোল মডেল ও সূতিকাগার খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ। এ উপজেলায় কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে আলু চাষের ধুম পড়েছে। দোআঁশ মাঠগুলোতে ৫০ থেকে ৫৫ দিনে উত্তোলন যোগ্য সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হবেনÑ এমন প্রত্যাশা কৃষকের। প্রতি বছর আগাম আলু চাষে প্রান্তিক-মাঝারি কৃষক লাভবানও হন। এ বছরও অনুকূল পরিবেশে স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু বুননের জন্য জমিতে হালচাষ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ আলু সংগ্রহ ও রোপণে মহাআয়োজন চলছে। এ আয়োজনে শত শত কৃষক, হাজারো ক্ষেতমজুর ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ আগাম আলু বুনন ও প্রস্তুতে মাঠগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। সময়ের আগে আলু রোপণ আর এত প্রাণচাঞ্চল্য নজর কাড়ছে সবার। এ সময় দেখা য়ায়, রণচন্ডি ইউপির কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি মোজাম্মেল ৫ বিঘা, তরিকুল ৫ বিঘা জমিতে আগাম আলু বুনছেন। তারা জানান, আগুর (নির্দিষ্ট সময়ের আগে) আলু উত্তোলন করতে পারলে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাজার ধরতে পারবেন। যা গত বছর ধান কাটার পর সেই জমির চাষা করা আলু ক্ষেতে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিঘায় লাভ করেন ৪০ হাজার টাকার উপরে।

তারা আরো জানান, এ অঞ্চলের ডাঙ্গা জমিগুলো একদম উঁচু এবং বালুমিশ্রিত। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনো ভয় থাকে না। তাই আগেভাগে দিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু বুনছি। বাহাগিলী ইউপির উত্তর দুরাকুটি গ্রামে আলুচাষি আনারুল ইসলাম বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ৩৯ বস্তা ফলন পান। যা উত্তোলন করে ৯০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে খরচ বাদে ২ লাখ টাকা আয় করেন। এবার ধান কাটার পর ১০ বিঘা জমিতে আলু বুনছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি বছর ৪ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১শ হেক্টর বেশি। এ বছর আগাম আমন ধানে রেকর্ড পরিমাণ ফলন পেযে কৃষক আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমিতে আলুচাষে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিচু জমিতে আবহাওয়া দেখে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে। এ উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ আগাম আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। এ বছরও চড়া বাজারমূল্য পেয়ে কৃষক পরিবারে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে- এমন প্রত্যাশা করছেন তিনি। আগাম ধান, আগাম আলু চাষে এ জনপদে অভাব এখন অতীত।

Tag :
জনপ্রিয়

আরব আমিরাতের স‌ঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

৫০ থেকে ৫৫ দিনে ফলন

আগাম আলু চাষে ঝুঁকছে কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশে আগাম আলু চাষে রোল মডেল ও সূতিকাগার খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ। এ উপজেলায় কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে আলু চাষের ধুম পড়েছে। দোআঁশ মাঠগুলোতে ৫০ থেকে ৫৫ দিনে উত্তোলন যোগ্য সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হবেনÑ এমন প্রত্যাশা কৃষকের। প্রতি বছর আগাম আলু চাষে প্রান্তিক-মাঝারি কৃষক লাভবানও হন। এ বছরও অনুকূল পরিবেশে স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু বুননের জন্য জমিতে হালচাষ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ আলু সংগ্রহ ও রোপণে মহাআয়োজন চলছে। এ আয়োজনে শত শত কৃষক, হাজারো ক্ষেতমজুর ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ আগাম আলু বুনন ও প্রস্তুতে মাঠগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। সময়ের আগে আলু রোপণ আর এত প্রাণচাঞ্চল্য নজর কাড়ছে সবার। এ সময় দেখা য়ায়, রণচন্ডি ইউপির কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি মোজাম্মেল ৫ বিঘা, তরিকুল ৫ বিঘা জমিতে আগাম আলু বুনছেন। তারা জানান, আগুর (নির্দিষ্ট সময়ের আগে) আলু উত্তোলন করতে পারলে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাজার ধরতে পারবেন। যা গত বছর ধান কাটার পর সেই জমির চাষা করা আলু ক্ষেতে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিঘায় লাভ করেন ৪০ হাজার টাকার উপরে।

তারা আরো জানান, এ অঞ্চলের ডাঙ্গা জমিগুলো একদম উঁচু এবং বালুমিশ্রিত। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনো ভয় থাকে না। তাই আগেভাগে দিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু বুনছি। বাহাগিলী ইউপির উত্তর দুরাকুটি গ্রামে আলুচাষি আনারুল ইসলাম বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ৩৯ বস্তা ফলন পান। যা উত্তোলন করে ৯০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে খরচ বাদে ২ লাখ টাকা আয় করেন। এবার ধান কাটার পর ১০ বিঘা জমিতে আলু বুনছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি বছর ৪ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১শ হেক্টর বেশি। এ বছর আগাম আমন ধানে রেকর্ড পরিমাণ ফলন পেযে কৃষক আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমিতে আলুচাষে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিচু জমিতে আবহাওয়া দেখে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে। এ উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ আগাম আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। এ বছরও চড়া বাজারমূল্য পেয়ে কৃষক পরিবারে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে- এমন প্রত্যাশা করছেন তিনি। আগাম ধান, আগাম আলু চাষে এ জনপদে অভাব এখন অতীত।