ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাটের ভালো দামে চাষিদের স্বস্তি

চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তি ও খুশি পাবনার বেড়ার পাটচাষিরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় চাষের খরচ মিটিয়ে লাভের বাড়তি টাকা ঘরে তুলে নিতে পারছেন তারা। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত এ অঞ্চলের কৃষক।

এদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হওয়ায় খুশি বেড়া উপজেলা কৃষি অফিসও।

পাট চাষে সার, কীটনাশক ও পাট গাছের পরিচর্যা অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম হওয়ায় এবং রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব না থাকায় এ এলাকার চাষিরা নিয়মিত পাট চাষ করছেন। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষককে জমি থেকে পাট দেরিতে কাটতে হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া অঞ্চলের পাটের আঁশ উন্নতমানের। এ অঞ্চলে সাধারণত তোষা পাটের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। গুণগত মানের আঁশ হিসেবে সি বটম বেশি হয়ে থাকে। ফলে বিদেশে কাঁচা পাট (আঁশ) রফতানিতে এ অঞ্চলের সুনাম রয়েছে। জাগ দেওয়ার পর্যাপ্ত পানি না থাকা সত্ত্বেও গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম ও ফলন বেশি হয়েছে। কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

সরেজমিন বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন পাটকাঠি রোদে শুকানো ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষান-কিষানিরা। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি পাওয়ায় তাদের চোখে আনন্দের ঝিলিক।

বেড়া সিঅ্যান্ডবি হাটে পাট বিক্রি করতে আসা আমিনপুর ইউনিয়নের পাটচাষি মোনতেজ আলী প্রামাণিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পাটের চাহিদা ও পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে পাট চাষ করে আসছেন। চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন, তবে প্রথম থেকেই পাটের চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভ ছাড়া ক্ষতি হয়নি বলে তিনি জানান।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা চাকলা ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া গ্রামের সিদ্দিক আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। বৃষ্টি না হওয়ায় পাট পচানোর পানি খালবিলে না থাকায় পাট কাটতে দেরি হয়ে গেছে। অবশেষে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত ও পাট পচানোর জন্য যথেষ্ট পানি পাওয়ায় পাটগাছ থেকে উন্নতমানের আঁশ বা তন্তু পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বাড়ির কাজের জন্য কিছু পাট রেখে এক মণ ২০ সের পাট হাটে নিয়ে এসেছেন।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা শাহজাদপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পাট কাটার পর পাট পচানোর জন্য সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটগাছ শুকিয়ে যাওয়ায় পাটের উন্নতমানের আঁশ পাওয়া যায়নি, যে আঁশ সংগ্রহ করেছি, তা এসএমআর গ্রেডের।’

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূসরাত কবীর জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ মৌসুমে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর আমাদের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। বিগত সময়ে পাটের চাহিদা ও বাজার মূল্য বেশি পাওয়ায় বেড়ার পাটচাষিরা এ মৌসুমে তিন হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করেছেন। এ মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আট হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন, বাম্পার উৎপাদনের ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

পাটের আঁশের মান খারাপ হয়েছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আঁশের গ্রেডিংয়ে এসএমআর সবসময়ই হয়ে থাকে। অতিরিক্ত যা হয়েছে এর পরিমাণ খুবই কম।

Tag :
জনপ্রিয়

রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কোনো ধরনের নাশকতা মেনে নেওয়া হবে না: আমির হোসেন আমু।

পাটের ভালো দামে চাষিদের স্বস্তি

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তি ও খুশি পাবনার বেড়ার পাটচাষিরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় চাষের খরচ মিটিয়ে লাভের বাড়তি টাকা ঘরে তুলে নিতে পারছেন তারা। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত এ অঞ্চলের কৃষক।

এদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হওয়ায় খুশি বেড়া উপজেলা কৃষি অফিসও।

পাট চাষে সার, কীটনাশক ও পাট গাছের পরিচর্যা অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম হওয়ায় এবং রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব না থাকায় এ এলাকার চাষিরা নিয়মিত পাট চাষ করছেন। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষককে জমি থেকে পাট দেরিতে কাটতে হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পাবনার বেড়া-সাঁথিয়া অঞ্চলের পাটের আঁশ উন্নতমানের। এ অঞ্চলে সাধারণত তোষা পাটের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। গুণগত মানের আঁশ হিসেবে সি বটম বেশি হয়ে থাকে। ফলে বিদেশে কাঁচা পাট (আঁশ) রফতানিতে এ অঞ্চলের সুনাম রয়েছে। জাগ দেওয়ার পর্যাপ্ত পানি না থাকা সত্ত্বেও গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম ও ফলন বেশি হয়েছে। কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

সরেজমিন বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন পাটকাঠি রোদে শুকানো ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষান-কিষানিরা। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি পাওয়ায় তাদের চোখে আনন্দের ঝিলিক।

বেড়া সিঅ্যান্ডবি হাটে পাট বিক্রি করতে আসা আমিনপুর ইউনিয়নের পাটচাষি মোনতেজ আলী প্রামাণিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পাটের চাহিদা ও পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে পাট চাষ করে আসছেন। চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন, তবে প্রথম থেকেই পাটের চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভ ছাড়া ক্ষতি হয়নি বলে তিনি জানান।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা চাকলা ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া গ্রামের সিদ্দিক আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। বৃষ্টি না হওয়ায় পাট পচানোর পানি খালবিলে না থাকায় পাট কাটতে দেরি হয়ে গেছে। অবশেষে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত ও পাট পচানোর জন্য যথেষ্ট পানি পাওয়ায় পাটগাছ থেকে উন্নতমানের আঁশ বা তন্তু পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বাড়ির কাজের জন্য কিছু পাট রেখে এক মণ ২০ সের পাট হাটে নিয়ে এসেছেন।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা শাহজাদপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পাট কাটার পর পাট পচানোর জন্য সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটগাছ শুকিয়ে যাওয়ায় পাটের উন্নতমানের আঁশ পাওয়া যায়নি, যে আঁশ সংগ্রহ করেছি, তা এসএমআর গ্রেডের।’

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূসরাত কবীর জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ মৌসুমে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর আমাদের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। বিগত সময়ে পাটের চাহিদা ও বাজার মূল্য বেশি পাওয়ায় বেড়ার পাটচাষিরা এ মৌসুমে তিন হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করেছেন। এ মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আট হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন, বাম্পার উৎপাদনের ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

পাটের আঁশের মান খারাপ হয়েছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আঁশের গ্রেডিংয়ে এসএমআর সবসময়ই হয়ে থাকে। অতিরিক্ত যা হয়েছে এর পরিমাণ খুবই কম।