ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড গড়ে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

বল হাতে ইনিংসের শেষ তিন বলে হজম করেছিলেন তিনটি ছক্কা। সেটি ঝড়ো ফিফটি করে যেন পুষিয়ে দিলেন ক্যামেরন গ্রিন। কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ পরে দারুণ এক ইনিংসে মিলিয়ে দিলেন ম্যাথু ওয়েড। ক্যাচ ছাড়ার মাশুল দিয়ে ম্যাচ হারল ভারত।

মোহালিতে মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ২০৯ রানের লক্ষ্য সফরকারীরা পেরিয়ে যায় ৪ বল হাতে রেখে।

এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭ উইকেটে জয় ছিল আগের রেকর্ড।

পেশাদার ক্রিকেটে প্রথমবার ওপেনিংয়ে নেমে ৩০ বলে ৬১ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার এবারের জয়ের নায়ক গ্রিন। ২১ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ওয়েড।

বিবর্ণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার নায়ক ক্যামেরন গ্রিন

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আলোড়ন তুলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ১৪ বলে ১৮ রান করেন টিম ডেভিড। ওয়েডের সঙ্গে গড়েন ৩০ বলে ৬২ রানের জুটি।

ভারতের বড় পুঁজি গড়ার মূল কারিগর হার্দিক পান্ডিয়া ৩০ বলে খেলেন অপরাজিত ৭১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের সঙ্গে লোকেশ রাহুলের ফিফটি ও সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে তারা ক্যাচ ফেলে তিনটি।

চোটের কারণে মিচেল স্টার্ক, মিচেল মার্শ ও মার্কাস স্টয়নিসকে এই সিরিজে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। তবু ভারতে জয়ের ধারাতেই থাকল তারা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ফল হওয়া সবশেষ চার টি-টোয়েন্টিতেই জিতল অস্ট্রেলিয়া।

পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। পাঁচ ওভারের মধ্যে ৩৫ রানে ২ উইকেট হারায় তারা।

ঝড় তুলে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া

রোহিত শর্মা একটি করে ছক্কা-চারের পর জশ হেইজেলউডের বলে ক্যাচ দেন ডিপ স্কয়ার লেগে। এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কোহলি এ দিন ৭ বলে করেন স্রেফ ২। ন্যাথান এলিসের বলে মিড অনে সহজ ক্যাচ দেন তিনি।

সূর্যকুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে রানের চাকা সচল রাখেন রাহুল। দুই জনে ৪২ বলে গড়েন ৬৮ রানের জুটি। ফিফটির পরপরই হেইজেলউডের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রাহুল। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস।

লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পাকে পরপর দুই ছক্কায় ফিফটির কাছে পৌঁছে যান সূর্যকুমার। পরের ওভারেই গ্রিনের বাড়তি বাউন্সে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি ৪৬ রান করে। ২৫ বলের ইনিংসে ৪টি ছক্কার সঙ্গে চার দুটি।

আকসার প্যাটেল, দিনেশ কার্তিক টিকতে পারেননি। দুই জনেই করেন ৫ বলে ৬ রান। পরে পান্ডিয়ার তাণ্ডবে দুইশ ছাড়ায় ভারত।

শেষের আগের ওভারে চার মেরে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন ২৫ বলে। শেষ ওভারের শেষ তিন বলে গ্রিনকে ওই তিনটি ছক্কাও মারেন তিনিই।

৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার এলিস। গ্রিন ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই ভুবনেশ্বর কুমারকে চোখ ধাঁধানো ছক্কা মেরে শুরু করেন অ্যারন ফিঞ্চ।

গ্রিন মুখোমুখি প্রথম চার বলে টানা চারটি চার মারেন উমেশ যাদবকে। ভুবনেশ্বরের পরের ওভারে তিনটি বাউন্ডারি আসে ফিঞ্চের ব্যাট থেকে।

৩ ওভারেই অস্ট্রেলিয়া তুলে ফেলে ৩৮ রান। পরের ওভারে আক্রমণে এসেই ফিঞ্চকে (১৩ বলে ২২) বোল্ড করে দেন বাঁহাতি স্পিনার আকসার।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা গ্রিনও আউট হতে পারতেন পরের ওভারে, যদি রিভিউ নিত ভারত। যুজবেন্দ্র চেহেলকে সুইপের চেষ্টায় বল লেগেছিল তার প্যাডে। তখন ১৭ ওভারে থাকা ডানহাতি ব্যাটসম্যান দুটি ছক্কার সঙ্গে একটি চার মারেন চেহেলের পরের ওভারে।

এর পরের ওভারে আবারও ফেরানোর সুযোগ আসে গ্রিনকে। পান্ডিয়ার বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ হাতছাড়া করেন আকসার। তখন ৪৩ রানে ছিলেন ব্যাটসম্যান।

১৯ রানে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ রাহুল ফেলে দেন লং-অফে। পরের বলেই আকসারকে ছক্কায় উড়িয়ে গ্রিন ফিফটি পূর্ণ করেন ২৬ বলে।

১০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ১০৯। এরপর পাল্টে যায় চিত্র।

পরের ওভারে প্রথম বলে গ্রিনকে ফিরিয়ে ৪০ বলে ৭০ রানের জুটি ভাঙেন আকসার। ছক্কার চেষ্টায় কোহলির হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় গড়া তার ৬১ রানের ইনিংস।

উমেশ যাদব একই ওভারে ফিরিয়ে দেন স্মিথ (২৪ বলে ৩৫) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (৩ বলে ১)। কট বিহাইন্ড হন দুজনই। আর ভারত দুবারই উইকেট পায় আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে। টিকতে পারেননি পারেননি জশ ইংলিসও (১০ বলে ১৭)।

১৪৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ৫ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৬১ রান। শেষ ৩ ওভারে যেটি দাঁড়ায় ৪০ রানে।

অষ্টাদশ ওভারে ঝড় বয়ে যায় হার্শালের ওপর দিয়ে। তাকে দুটি ছক্কা মারেন ওয়েড, একটি ডেভিড। মাঝে ওয়েড ফিরতি ক্যাচও দিয়েছিলেন অবশ্য। তবে বেশ কঠিন ছিল সেটি। মুঠোয় জমাতে পারেননি বোলার। এই ওভার থেকেই আসে ২২ রান।

পরের ওভারে ভুবনেশ্বরের শেষ তিন বলে টানা তিনটি চার মেরে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন ওয়েড। শেষ ওভারে ২ রানের প্রয়োজনে চেহেলের প্রথম বলে ডেভিড আউট হয়ে গেলেও পরের বলেই বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে দেন প্যাট কামিন্স।

ওয়েডের ২১ বলে ৪৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ৬ চার ও ২ ছক্কায়।

আকসারের ৪ ওভারে ১৭ রানে ৩ উইকেটের দারুণ বোলিং দলের কাজে আসল না।

আগামী শুক্রবার নাগপুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সামনে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২০৮/৬ (রাহুল ৫৫, রোহিত ১১, কোহলি ২, সূর্যকুমার ৪৬, পান্ডিয়া ৭১*, আকসার ৬, কার্তিক ৬, হার্শাল ৭*; হেইজেলউড ৪-০-৩৯-২, কামিন্স ৪-০-৪৭-০, জ্যাম্পা ৪-০-৩৬-০, এলিস ৪-০-৩০-৩, গ্রিন ৩-০-৪৬-১, ম্যাক্সওয়েল ১-০-১০-০)

অস্ট্রেলিয়া: ১৯.২ ওভারে ২১১/৬ (ফিঞ্চ ২২, গ্রিন ৬১, স্মিথ ৩৫, ম্যাক্সওয়েল ১, ইংলিস ১৭, ডেভিড ১৮, ওয়েড ৪৫*, কামিন্স ৪*; ভুবনেশ্বর ৪-০-৫২-০, উমেশ ২-০-২৭-২, আকসার ৪-০-১৭-৩, চেহেল ৩.২-০-৪২-১, হার্শাল ৪-০-৪৯-০, পান্ডিয়া ২-০-২২-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথমটির পর ১-০ তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্যামেরন গ্রিন

Tag :
জনপ্রিয়

তিতাসে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-১৫

রেকর্ড গড়ে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশের সময় : ০৯:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বল হাতে ইনিংসের শেষ তিন বলে হজম করেছিলেন তিনটি ছক্কা। সেটি ঝড়ো ফিফটি করে যেন পুষিয়ে দিলেন ক্যামেরন গ্রিন। কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ পরে দারুণ এক ইনিংসে মিলিয়ে দিলেন ম্যাথু ওয়েড। ক্যাচ ছাড়ার মাশুল দিয়ে ম্যাচ হারল ভারত।

মোহালিতে মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। ২০৯ রানের লক্ষ্য সফরকারীরা পেরিয়ে যায় ৪ বল হাতে রেখে।

এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭ উইকেটে জয় ছিল আগের রেকর্ড।

পেশাদার ক্রিকেটে প্রথমবার ওপেনিংয়ে নেমে ৩০ বলে ৬১ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার এবারের জয়ের নায়ক গ্রিন। ২১ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ওয়েড।

বিবর্ণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার নায়ক ক্যামেরন গ্রিন

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আলোড়ন তুলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ১৪ বলে ১৮ রান করেন টিম ডেভিড। ওয়েডের সঙ্গে গড়েন ৩০ বলে ৬২ রানের জুটি।

ভারতের বড় পুঁজি গড়ার মূল কারিগর হার্দিক পান্ডিয়া ৩০ বলে খেলেন অপরাজিত ৭১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের সঙ্গে লোকেশ রাহুলের ফিফটি ও সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে তারা ক্যাচ ফেলে তিনটি।

চোটের কারণে মিচেল স্টার্ক, মিচেল মার্শ ও মার্কাস স্টয়নিসকে এই সিরিজে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। তবু ভারতে জয়ের ধারাতেই থাকল তারা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ফল হওয়া সবশেষ চার টি-টোয়েন্টিতেই জিতল অস্ট্রেলিয়া।

পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। পাঁচ ওভারের মধ্যে ৩৫ রানে ২ উইকেট হারায় তারা।

ঝড় তুলে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া

রোহিত শর্মা একটি করে ছক্কা-চারের পর জশ হেইজেলউডের বলে ক্যাচ দেন ডিপ স্কয়ার লেগে। এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কোহলি এ দিন ৭ বলে করেন স্রেফ ২। ন্যাথান এলিসের বলে মিড অনে সহজ ক্যাচ দেন তিনি।

সূর্যকুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে রানের চাকা সচল রাখেন রাহুল। দুই জনে ৪২ বলে গড়েন ৬৮ রানের জুটি। ফিফটির পরপরই হেইজেলউডের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রাহুল। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস।

লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পাকে পরপর দুই ছক্কায় ফিফটির কাছে পৌঁছে যান সূর্যকুমার। পরের ওভারেই গ্রিনের বাড়তি বাউন্সে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি ৪৬ রান করে। ২৫ বলের ইনিংসে ৪টি ছক্কার সঙ্গে চার দুটি।

আকসার প্যাটেল, দিনেশ কার্তিক টিকতে পারেননি। দুই জনেই করেন ৫ বলে ৬ রান। পরে পান্ডিয়ার তাণ্ডবে দুইশ ছাড়ায় ভারত।

শেষের আগের ওভারে চার মেরে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন ২৫ বলে। শেষ ওভারের শেষ তিন বলে গ্রিনকে ওই তিনটি ছক্কাও মারেন তিনিই।

৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার এলিস। গ্রিন ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই ভুবনেশ্বর কুমারকে চোখ ধাঁধানো ছক্কা মেরে শুরু করেন অ্যারন ফিঞ্চ।

গ্রিন মুখোমুখি প্রথম চার বলে টানা চারটি চার মারেন উমেশ যাদবকে। ভুবনেশ্বরের পরের ওভারে তিনটি বাউন্ডারি আসে ফিঞ্চের ব্যাট থেকে।

৩ ওভারেই অস্ট্রেলিয়া তুলে ফেলে ৩৮ রান। পরের ওভারে আক্রমণে এসেই ফিঞ্চকে (১৩ বলে ২২) বোল্ড করে দেন বাঁহাতি স্পিনার আকসার।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা গ্রিনও আউট হতে পারতেন পরের ওভারে, যদি রিভিউ নিত ভারত। যুজবেন্দ্র চেহেলকে সুইপের চেষ্টায় বল লেগেছিল তার প্যাডে। তখন ১৭ ওভারে থাকা ডানহাতি ব্যাটসম্যান দুটি ছক্কার সঙ্গে একটি চার মারেন চেহেলের পরের ওভারে।

এর পরের ওভারে আবারও ফেরানোর সুযোগ আসে গ্রিনকে। পান্ডিয়ার বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ হাতছাড়া করেন আকসার। তখন ৪৩ রানে ছিলেন ব্যাটসম্যান।

১৯ রানে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ রাহুল ফেলে দেন লং-অফে। পরের বলেই আকসারকে ছক্কায় উড়িয়ে গ্রিন ফিফটি পূর্ণ করেন ২৬ বলে।

১০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ১০৯। এরপর পাল্টে যায় চিত্র।

পরের ওভারে প্রথম বলে গ্রিনকে ফিরিয়ে ৪০ বলে ৭০ রানের জুটি ভাঙেন আকসার। ছক্কার চেষ্টায় কোহলির হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় গড়া তার ৬১ রানের ইনিংস।

উমেশ যাদব একই ওভারে ফিরিয়ে দেন স্মিথ (২৪ বলে ৩৫) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (৩ বলে ১)। কট বিহাইন্ড হন দুজনই। আর ভারত দুবারই উইকেট পায় আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে। টিকতে পারেননি পারেননি জশ ইংলিসও (১০ বলে ১৭)।

১৪৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ৫ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৬১ রান। শেষ ৩ ওভারে যেটি দাঁড়ায় ৪০ রানে।

অষ্টাদশ ওভারে ঝড় বয়ে যায় হার্শালের ওপর দিয়ে। তাকে দুটি ছক্কা মারেন ওয়েড, একটি ডেভিড। মাঝে ওয়েড ফিরতি ক্যাচও দিয়েছিলেন অবশ্য। তবে বেশ কঠিন ছিল সেটি। মুঠোয় জমাতে পারেননি বোলার। এই ওভার থেকেই আসে ২২ রান।

পরের ওভারে ভুবনেশ্বরের শেষ তিন বলে টানা তিনটি চার মেরে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন ওয়েড। শেষ ওভারে ২ রানের প্রয়োজনে চেহেলের প্রথম বলে ডেভিড আউট হয়ে গেলেও পরের বলেই বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে দেন প্যাট কামিন্স।

ওয়েডের ২১ বলে ৪৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ৬ চার ও ২ ছক্কায়।

আকসারের ৪ ওভারে ১৭ রানে ৩ উইকেটের দারুণ বোলিং দলের কাজে আসল না।

আগামী শুক্রবার নাগপুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সামনে সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২০৮/৬ (রাহুল ৫৫, রোহিত ১১, কোহলি ২, সূর্যকুমার ৪৬, পান্ডিয়া ৭১*, আকসার ৬, কার্তিক ৬, হার্শাল ৭*; হেইজেলউড ৪-০-৩৯-২, কামিন্স ৪-০-৪৭-০, জ্যাম্পা ৪-০-৩৬-০, এলিস ৪-০-৩০-৩, গ্রিন ৩-০-৪৬-১, ম্যাক্সওয়েল ১-০-১০-০)

অস্ট্রেলিয়া: ১৯.২ ওভারে ২১১/৬ (ফিঞ্চ ২২, গ্রিন ৬১, স্মিথ ৩৫, ম্যাক্সওয়েল ১, ইংলিস ১৭, ডেভিড ১৮, ওয়েড ৪৫*, কামিন্স ৪*; ভুবনেশ্বর ৪-০-৫২-০, উমেশ ২-০-২৭-২, আকসার ৪-০-১৭-৩, চেহেল ৩.২-০-৪২-১, হার্শাল ৪-০-৪৯-০, পান্ডিয়া ২-০-২২-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথমটির পর ১-০ তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্যামেরন গ্রিন