ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রিজওয়ানের ফিফটির পর দিকহারা পাকিস্তান, অনায়াস জয় ইংল্যান্ডের

৮৫ রানের জুটিতে কী দারুণ শুরু। সেটা যেন হেলায় হারাল পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ানের দারুণ ফিফটির পরও কোনোমতে পার হলো দেড়শ। সাদামাটা বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ে সেই রান নিয়ে খুব একটা লড়াই করতে পারল না বাবর আজমের দল। সহজ জয়ে পাকিস্তান সফর শুরু করল ইংল্যান্ড।

করাচিতে মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে ইংলিশরা। পাকিস্তানের ১৫৮ রান ছাড়িয়ে গেছে ৪ বল বাকি থাকতে।

১৭ বছর পর পাকিস্তান সফরে এসে ৭ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের চেয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে বেশি মানানসই ক্রিকেট খেলল তারাই। গতি বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে শেষ ১০ ওভারে দিল কেবল ৭১ রান। লক্ষ্যটা রাখল নাগালে। মিলিত চেষ্টায় বাকিটা সারলেন ব্যাটসম্যানরা।

তিন বছর পর দলে ফেরা অ্যালেক্স হেলস উপহার দেন ফিফটি। বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা অবশ্য লুক উড।

চোটের জন্য নিয়মিত অধিনায়ক জস বাটলারকে পায়নি ইংল্যান্ড। তার অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মইন আলি টস জিতে নেন বোলিং।

মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়া শক্ত ভিত কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান

রিজওয়ান ও বাবরের চমৎকার উদ্বোধনী জুটিতে মনে হচ্ছিল, সিদ্ধান্ত নিতে ভুলই করে ফেলেছেন তিনি। এশিয়া কাপের ফাইনালে মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনার মুখে পড়া রিজওয়ান করেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তাকে সঙ্গ দিয়ে যান বাবর।

বাজে সময় পেছনে ফেলার ইঙ্গিত দেওয়া পাকিস্তান অধিনায়ককে বোল্ড করে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আদিল রশিদ। এই দৃঢ় ভিত কাজে লাগাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। ইংলিশদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কোনো জবাবই যেন জানা ছিল না তাদের।

অন্য প্রান্তে রান আসছে না দেখে একটু বেশিই ঝুঁকি নিচ্ছিলেন রিজওয়ান। কাল হয় সেটাই। মইনকে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় হন স্টাম্পড। ৪৬ বলে দুই ছক্কা ও ছয় চারে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ৬৮ রান।

দুই অঙ্ক ছুঁয়েই বিদায় নেন হায়দার আলি। দ্রুত ফেরেন অভিষিক্ত শান মাসু, মোহাম্মদ নাওয়াজ। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান নাসিম শাহ। শেষ দিকে তিন ছক্কায় ১৭ বলে ২৮ রানের ইনিংসে দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান ইফতিখার আহমেদ।

রান তাড়ায় ফিল সল্টকে দ্রুতই হারায় ইংল্যান্ড। উসমান কাদিরকে ছক্কায় স্বাগত জানানোর পরের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে থামেন দাভিদ মালান।

তবে হেলসের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে ইংল্যান্ড। বিস্ফোরক ওপেনারকে কিছুটা সঙ্গ দেন বেন ডাকেট। তবে মূলত হেলস ও হ্যারি ব্রুকসের জুটিতেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

কাদিরের বলে দুইবার জীবন পান হেলস। ইনিংসের শুরুতেই রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যান ব্রুকস। দুই জনে পরে ৩৫ বলে গড়েন ৫৫ রানের জুটি।

পঞ্চাশ ছুঁয়েই বিদায় নেন হেলস। ৪০ বলে খেলা তার ৫৩ রানের ইনিংস গড়া ৭ চারে। ওপেনারের বিদায়ের পর মইনকে নিয়ে বাকিটা সারেন ব্রুকস। চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৭ চারে ২৫ বলে করেন ৪২ রান।

আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৮/৭ (রিজওয়ান ৬৮, বাবর ৩১, হায়দার ১১, মাসুদ ৭, ইফতিখার ২৮, নাওয়াজ ৪, খুশদিল ৫*, নাসিম ০, কাদির ০*; উইলি ৪-০-৪১-০, কারান ৪-০-৩০-১, উড ৪-০-২৪-৩, গ্লিসন ২-০-১৩-০, রশিদ ৪-০-২৭-২, মইন ২-০-২৩-১)

ইংল্যান্ড: ১৯.২ ওভারে ১৬০/৪ (সল্ট ১০, হেলস ৫৩, মালান ২০, ডাকেট ২১, ব্রুকস ৪২*, মইন ৭*; নাসিম ৪-০-৪১-০, নাওয়াজ ৪-০-২০-০, দাহানি ৩.২-০-৩৮-১, রউফ ৪-০-২৩-১, কাদির ৪-০-৩৬-২)

ফল: ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৭ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে

Tag :

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

রিজওয়ানের ফিফটির পর দিকহারা পাকিস্তান, অনায়াস জয় ইংল্যান্ডের

প্রকাশের সময় : ০৯:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

৮৫ রানের জুটিতে কী দারুণ শুরু। সেটা যেন হেলায় হারাল পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ানের দারুণ ফিফটির পরও কোনোমতে পার হলো দেড়শ। সাদামাটা বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ে সেই রান নিয়ে খুব একটা লড়াই করতে পারল না বাবর আজমের দল। সহজ জয়ে পাকিস্তান সফর শুরু করল ইংল্যান্ড।

করাচিতে মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে ইংলিশরা। পাকিস্তানের ১৫৮ রান ছাড়িয়ে গেছে ৪ বল বাকি থাকতে।

১৭ বছর পর পাকিস্তান সফরে এসে ৭ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের চেয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে বেশি মানানসই ক্রিকেট খেলল তারাই। গতি বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে শেষ ১০ ওভারে দিল কেবল ৭১ রান। লক্ষ্যটা রাখল নাগালে। মিলিত চেষ্টায় বাকিটা সারলেন ব্যাটসম্যানরা।

তিন বছর পর দলে ফেরা অ্যালেক্স হেলস উপহার দেন ফিফটি। বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা অবশ্য লুক উড।

চোটের জন্য নিয়মিত অধিনায়ক জস বাটলারকে পায়নি ইংল্যান্ড। তার অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মইন আলি টস জিতে নেন বোলিং।

মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়া শক্ত ভিত কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান

রিজওয়ান ও বাবরের চমৎকার উদ্বোধনী জুটিতে মনে হচ্ছিল, সিদ্ধান্ত নিতে ভুলই করে ফেলেছেন তিনি। এশিয়া কাপের ফাইনালে মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনার মুখে পড়া রিজওয়ান করেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তাকে সঙ্গ দিয়ে যান বাবর।

বাজে সময় পেছনে ফেলার ইঙ্গিত দেওয়া পাকিস্তান অধিনায়ককে বোল্ড করে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আদিল রশিদ। এই দৃঢ় ভিত কাজে লাগাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। ইংলিশদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কোনো জবাবই যেন জানা ছিল না তাদের।

অন্য প্রান্তে রান আসছে না দেখে একটু বেশিই ঝুঁকি নিচ্ছিলেন রিজওয়ান। কাল হয় সেটাই। মইনকে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় হন স্টাম্পড। ৪৬ বলে দুই ছক্কা ও ছয় চারে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ৬৮ রান।

দুই অঙ্ক ছুঁয়েই বিদায় নেন হায়দার আলি। দ্রুত ফেরেন অভিষিক্ত শান মাসু, মোহাম্মদ নাওয়াজ। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান নাসিম শাহ। শেষ দিকে তিন ছক্কায় ১৭ বলে ২৮ রানের ইনিংসে দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান ইফতিখার আহমেদ।

রান তাড়ায় ফিল সল্টকে দ্রুতই হারায় ইংল্যান্ড। উসমান কাদিরকে ছক্কায় স্বাগত জানানোর পরের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে থামেন দাভিদ মালান।

তবে হেলসের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে ইংল্যান্ড। বিস্ফোরক ওপেনারকে কিছুটা সঙ্গ দেন বেন ডাকেট। তবে মূলত হেলস ও হ্যারি ব্রুকসের জুটিতেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

কাদিরের বলে দুইবার জীবন পান হেলস। ইনিংসের শুরুতেই রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যান ব্রুকস। দুই জনে পরে ৩৫ বলে গড়েন ৫৫ রানের জুটি।

পঞ্চাশ ছুঁয়েই বিদায় নেন হেলস। ৪০ বলে খেলা তার ৫৩ রানের ইনিংস গড়া ৭ চারে। ওপেনারের বিদায়ের পর মইনকে নিয়ে বাকিটা সারেন ব্রুকস। চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৭ চারে ২৫ বলে করেন ৪২ রান।

আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৮/৭ (রিজওয়ান ৬৮, বাবর ৩১, হায়দার ১১, মাসুদ ৭, ইফতিখার ২৮, নাওয়াজ ৪, খুশদিল ৫*, নাসিম ০, কাদির ০*; উইলি ৪-০-৪১-০, কারান ৪-০-৩০-১, উড ৪-০-২৪-৩, গ্লিসন ২-০-১৩-০, রশিদ ৪-০-২৭-২, মইন ২-০-২৩-১)

ইংল্যান্ড: ১৯.২ ওভারে ১৬০/৪ (সল্ট ১০, হেলস ৫৩, মালান ২০, ডাকেট ২১, ব্রুকস ৪২*, মইন ৭*; নাসিম ৪-০-৪১-০, নাওয়াজ ৪-০-২০-০, দাহানি ৩.২-০-৩৮-১, রউফ ৪-০-২৩-১, কাদির ৪-০-৩৬-২)

ফল: ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৭ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে