ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
চরম দুর্ভোগ

রায়পুরে ৭১২ কি.মি. সড়কে বড় বড়-গর্ত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার মোট সড়কের দৈর্ঘ ৯ দশমিক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার। তার মধ্যে বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা বেহাল। মহিলা কলেজ সড়ক, টিএনটি সড়ক, টিসি সড়ক, মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্ল্যাহ সড়ক সংস্কার হয়না প্রায় ২ বছর। উপজেলার মেঘনারপাড় সংলগ্ন বেরিবাঁধ সড়কসহ ১০টি ইউনিয়নে সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫৮১ কিলোমিটারের সংস্কার হয়নি গত ৪০ বছর। ১৩১ কি.মি. পাকা সড়কগুলো সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। দেখে বোঝার উপায় নেই যে সড়কটি কাঁচা না পাকা। সড়কগুলো মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন খুব জরুরি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা রায়পুর উপজেলার সড়কের একটি বড় অংশ বেহাল। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ৩০ শতাংশের বেশি সড়ক একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী। যদিও গত অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে রাজস্ব খাত থেকে এলজিইডি ব্যয় করে আনুমানিক ২৬ কোটি টাকা।

এলজিইডির প্রকৌশলী, সড়ক বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অগুরুত্বপূর্ণ সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়। কিন্তু জরুরি হলেও অনেক সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আবার সড়কে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণত সড়ক নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্কার করা হয় না। কিন্তু দেখা যায় নির্মাণের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়ক ভাঙতে শুরু করে। দু-তিন বছরের মধ্যেই বেহাল হয়ে যায়।

এলজিইডির কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন, ৫০ শতাংশ সড়ক সব সময় ভালো থাকে, ২০ শতাংশের মোটামুটি মেরামত প্রয়োজন। আর ৩০ শতাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে। ব্যবহারের অনুপযোগী এসব সড়কের প্রায় সবটাই গ্রামের। প্রতিবছর অনেক সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বিপরীতে কাঁচা রাস্তাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বছরের পর বছর এই সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অন্য গাফিলতিতে কাজ হয় না।

রায়পুর এলজিইডির প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী তাজল ইসলাম বলেন, উডজেলায় এলজিইডির আওতায় যত সড়ক রয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশ সড়ক চলাচলের উপযোগী। বাকি ৩০ শতাংশ সড়ক ভাঙাচোরা। চলাচলের একেবারে অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরও যেসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী, তার মধ্যে রয়েছে রায়পুর-নতুনবাজার খাজুরতলা, টিসি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক ও মীরগঞ্জ সড়ক ও হায়দরগঞ্জের কয়েকটি সড়কটি।

এ সড়কের জহিরুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন নামের নতুনবাজারের খাজুরতলা এলাকার দুই বাসিন্দা বলেন, হাজার হাজার মানুষ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কের ভাঙা অংশে ও বড় গর্তে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবারও এই সড়কে তারা দুইজনসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

এলজিইডির আওতাধীন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সড়কের অবস্থাই খারাপ। ৯৩২ কিলোমিটারের মধ্যে ৩২২ কিলোমিটার পাকা, ৩১ কিলোমিটার সলিং, আরসিসি ও এসবিসি। ৫৮১ কিলোমিটারের সংস্কার প্রয়োজন। পৌরসভাসহ উপজেলায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারে বেহাল। ১২কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় বেরিবাঁধ সড়কের রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপির চমকাবাজার থেকে সদর উপজেলার ইটেরপুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সড়কে ২০ কোটি টাকার কাজের জন্য প্রস্তাবপাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর)-এলজিইডির লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো শাহ আলম পাটোয়ারী বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।আর কোন বক্তব্য দিতে পারবো না বলেন।

এলজিইডির সড়ক নির্মাণের পর তা বেশি দিন না টেকার অভিযোগ রয়েছে। সড়ক সংস্কারের পর দুই বছরে ভেঙে গেলে মানুষ সুফল পায় না। রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্লাহ সড়কের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। সড়কটি ২০২০ সালে সংস্কার করা হয়। সড়কটি একদিকে সরু(২টিরিকশা আসা যাওয়া করতে পারেনা) বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে।

এলজিইডি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে চার ধরনের কাজ করে, যেসব সড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ভরাট করা (রি-সিল), মোটামুটি থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত (ওভার-লে), সড়কের আয়ুষ্কাল কমে গেলে তা পুনর্বাসন করা এবং সড়ক প্রশস্ত করা। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বড় অর্থই ব্যয় হয় মেরামতের কাজে।

রায়পুরে সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল। উপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কে ৮ দশমিক ২ টন এবং গ্রামীণ সড়কে ৫ টনের বেশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সড়ক দ্রুত নষ্ট। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দুর্নীতিকেও দায়ী করেন।

উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক বাদে এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক রয়েছে ৯৩২ কিলোমিটারের বেশি। চরবংশি ইউপির বেরিবাঁধ সড়কের চমকা বাজার থেকে সদর উপজেলার ইটেরপুল পর্যন্ত সড়কটি ১০ কিলোমিটার । গত ২০ বছর ধরে সড়কটি পিচঢালাই ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নতুন সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ কমিয়ে বিদ্যমান সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে জোর দেওয়া জরুরি বলে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, গ্রামীণ কাঁচা সড়কের পাশাপাশি অনেক পাকা সড়কের অবস্থাও বেহাল। অনেক ক্ষেত্রে নতুন সড়ক তিন বছরও টিকছে না। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত না হলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়।

Tag :

কালীগঞ্জে মায়ের শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে ছেলের আত্মহত্যা

চরম দুর্ভোগ

রায়পুরে ৭১২ কি.মি. সড়কে বড় বড়-গর্ত

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার মোট সড়কের দৈর্ঘ ৯ দশমিক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার। তার মধ্যে বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা বেহাল। মহিলা কলেজ সড়ক, টিএনটি সড়ক, টিসি সড়ক, মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্ল্যাহ সড়ক সংস্কার হয়না প্রায় ২ বছর। উপজেলার মেঘনারপাড় সংলগ্ন বেরিবাঁধ সড়কসহ ১০টি ইউনিয়নে সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫৮১ কিলোমিটারের সংস্কার হয়নি গত ৪০ বছর। ১৩১ কি.মি. পাকা সড়কগুলো সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। দেখে বোঝার উপায় নেই যে সড়কটি কাঁচা না পাকা। সড়কগুলো মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন খুব জরুরি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা রায়পুর উপজেলার সড়কের একটি বড় অংশ বেহাল। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ৩০ শতাংশের বেশি সড়ক একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী। যদিও গত অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে রাজস্ব খাত থেকে এলজিইডি ব্যয় করে আনুমানিক ২৬ কোটি টাকা।

এলজিইডির প্রকৌশলী, সড়ক বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অগুরুত্বপূর্ণ সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়। কিন্তু জরুরি হলেও অনেক সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আবার সড়কে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণত সড়ক নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যে সংস্কার করা হয় না। কিন্তু দেখা যায় নির্মাণের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়ক ভাঙতে শুরু করে। দু-তিন বছরের মধ্যেই বেহাল হয়ে যায়।

এলজিইডির কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন, ৫০ শতাংশ সড়ক সব সময় ভালো থাকে, ২০ শতাংশের মোটামুটি মেরামত প্রয়োজন। আর ৩০ শতাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে। ব্যবহারের অনুপযোগী এসব সড়কের প্রায় সবটাই গ্রামের। প্রতিবছর অনেক সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বিপরীতে কাঁচা রাস্তাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বছরের পর বছর এই সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অন্য গাফিলতিতে কাজ হয় না।

রায়পুর এলজিইডির প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী তাজল ইসলাম বলেন, উডজেলায় এলজিইডির আওতায় যত সড়ক রয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশ সড়ক চলাচলের উপযোগী। বাকি ৩০ শতাংশ সড়ক ভাঙাচোরা। চলাচলের একেবারে অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরও যেসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী, তার মধ্যে রয়েছে রায়পুর-নতুনবাজার খাজুরতলা, টিসি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক ও মীরগঞ্জ সড়ক ও হায়দরগঞ্জের কয়েকটি সড়কটি।

এ সড়কের জহিরুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন নামের নতুনবাজারের খাজুরতলা এলাকার দুই বাসিন্দা বলেন, হাজার হাজার মানুষ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কের ভাঙা অংশে ও বড় গর্তে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবারও এই সড়কে তারা দুইজনসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে পাঁচজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

এলজিইডির আওতাধীন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সড়কের অবস্থাই খারাপ। ৯৩২ কিলোমিটারের মধ্যে ৩২২ কিলোমিটার পাকা, ৩১ কিলোমিটার সলিং, আরসিসি ও এসবিসি। ৫৮১ কিলোমিটারের সংস্কার প্রয়োজন। পৌরসভাসহ উপজেলায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারে বেহাল। ১২কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় বেরিবাঁধ সড়কের রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপির চমকাবাজার থেকে সদর উপজেলার ইটেরপুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সড়কে ২০ কোটি টাকার কাজের জন্য প্রস্তাবপাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর)-এলজিইডির লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো শাহ আলম পাটোয়ারী বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।আর কোন বক্তব্য দিতে পারবো না বলেন।

এলজিইডির সড়ক নির্মাণের পর তা বেশি দিন না টেকার অভিযোগ রয়েছে। সড়ক সংস্কারের পর দুই বছরে ভেঙে গেলে মানুষ সুফল পায় না। রায়পুর মৎস প্রজনন ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উল্লাহ সড়কের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। সড়কটি ২০২০ সালে সংস্কার করা হয়। সড়কটি একদিকে সরু(২টিরিকশা আসা যাওয়া করতে পারেনা) বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে।

এলজিইডি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে চার ধরনের কাজ করে, যেসব সড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ভরাট করা (রি-সিল), মোটামুটি থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত (ওভার-লে), সড়কের আয়ুষ্কাল কমে গেলে তা পুনর্বাসন করা এবং সড়ক প্রশস্ত করা। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বড় অর্থই ব্যয় হয় মেরামতের কাজে।

রায়পুরে সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল। উপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কে ৮ দশমিক ২ টন এবং গ্রামীণ সড়কে ৫ টনের বেশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সড়ক দ্রুত নষ্ট। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দুর্নীতিকেও দায়ী করেন।

উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক বাদে এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক রয়েছে ৯৩২ কিলোমিটারের বেশি। চরবংশি ইউপির বেরিবাঁধ সড়কের চমকা বাজার থেকে সদর উপজেলার ইটেরপুল পর্যন্ত সড়কটি ১০ কিলোমিটার । গত ২০ বছর ধরে সড়কটি পিচঢালাই ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নতুন সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ কমিয়ে বিদ্যমান সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে জোর দেওয়া জরুরি বলে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, গ্রামীণ কাঁচা সড়কের পাশাপাশি অনেক পাকা সড়কের অবস্থাও বেহাল। অনেক ক্ষেত্রে নতুন সড়ক তিন বছরও টিকছে না। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত না হলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়।