ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ শিক্ষক আটক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একটি পরীক্ষার কেন্দ্রসচিব সহ তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী।
আটককৃতরা হলেন, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব লুৎফর রহমান, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুবাইর হোসাইন ও রাসেল মিয়া।

এছাড়া বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সোহেল আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। মামলার অপর আসামী ক্লার্ক আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য প্যাকেট করা বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নের প্যাকেটে ভরে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ইংরেজী প্রথম পত্রের প্রশ্নের সঙ্গে বিজ্ঞানের তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র বের করে নেয়া হয় থানার লকার থেকে।

এসব প্রশ্ন পরীক্ষার আগে হাতে লিখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দিতো অভিযুক্ত শিক্ষকরা। হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেইলে শিক্ষার্থীরা পেয়ে যেত টাকার বিনিময়ে।

বিষয়টি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার দিন প্রকাশ পেলেও তা ধামাচাপা দেয়া হয়। কিন্তু ইংরেজী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্থানীয় অনেকের নজরে আসলে থানায় অভিযোগ করেন ট্যাগ কর্মকর্তা।

এ অভিযোগের সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, একই বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক জুবাইর হোসাইন ও রাসেল মিয়াকে আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে ভূরুঙ্গামারীতে আসেন দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম ও জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম।

ভূরুঙ্গামারী থানা ও ইউএনও কার্যালয়ে চার ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে রাত ১২ টায় বের হন তারা। কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষারত গনমাধ্যমকর্মীরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন কর্মকর্তাগন।

পরে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোরশেদুল আলম তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলা হয়েছে।
তদন্ত চলমান। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, বুধবার সকালে আটককৃতদের কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

Tag :

পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হ্যান্ডকাপসহ পালালো আসামি

ভূরুঙ্গামারীতে এসএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ শিক্ষক আটক

প্রকাশের সময় : ১১:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একটি পরীক্ষার কেন্দ্রসচিব সহ তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী।
আটককৃতরা হলেন, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব লুৎফর রহমান, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুবাইর হোসাইন ও রাসেল মিয়া।

এছাড়া বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক হামিদুর রহমান ও সোহেল আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। মামলার অপর আসামী ক্লার্ক আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিনে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য প্যাকেট করা বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নের প্যাকেটে ভরে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ইংরেজী প্রথম পত্রের প্রশ্নের সঙ্গে বিজ্ঞানের তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র বের করে নেয়া হয় থানার লকার থেকে।

এসব প্রশ্ন পরীক্ষার আগে হাতে লিখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দিতো অভিযুক্ত শিক্ষকরা। হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেইলে শিক্ষার্থীরা পেয়ে যেত টাকার বিনিময়ে।

বিষয়টি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার দিন প্রকাশ পেলেও তা ধামাচাপা দেয়া হয়। কিন্তু ইংরেজী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্থানীয় অনেকের নজরে আসলে থানায় অভিযোগ করেন ট্যাগ কর্মকর্তা।

এ অভিযোগের সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, একই বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক জুবাইর হোসাইন ও রাসেল মিয়াকে আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে ভূরুঙ্গামারীতে আসেন দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম ও জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম।

ভূরুঙ্গামারী থানা ও ইউএনও কার্যালয়ে চার ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে রাত ১২ টায় বের হন তারা। কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষারত গনমাধ্যমকর্মীরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন কর্মকর্তাগন।

পরে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোরশেদুল আলম তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলা হয়েছে।
তদন্ত চলমান। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, বুধবার সকালে আটককৃতদের কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।