ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কানদের ওপর রুশ বাহিনীর বর্বরতার চিত্র প্রকাশ

সম্প্রতি রুশ বাহিনীর দখলের হাত থেকে ইজিয়াম শহর নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে রুশ বাহিনীর একের পর এক বর্বরতার খবর বেরিয়ে আসছে। গণকবরে ৪৪০ জনের মরদেহের সন্ধান ছাড়াও শহরটিতে রুশ বাহিনীর একাধিক টর্চার সেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে এক দল শ্রীলঙ্কানের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তেমনি রুশ বাহিনীর নির্যাতনের শিকার দিলুজান পাথথিনাজাকান। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, আমরা ভেবেছিলাম কখনোই আর জীবিত অবস্থায় বের হতে পারবো না।

গত মে মাসে সাতজন শ্রীলঙ্কানকে বন্দি করে রুশ বাহিনী। এদের একজন দিলুজান। ইউক্রেনের কুপিয়ান্সকে তাদের বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে পালাতে বের হয় শ্রীলঙ্কানরা। এরপর তারা দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দেয়। কিন্তু যখন তারা প্রথম চেকপয়েন্টে আসে সেখানেই রুশ বাহিনী তাদের বন্দি করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কানদের চোখ-হাত বাঁধা হয়, এরপর তাদের রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ভভচানস্ক শহরে এক মেশিন টুলের কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুরু হয় তাদের ওপর রুশ বাহিনীর নির্যাতন। তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছিল। এটি দীর্ঘ চার মাস ধরে চলতে থাকে।

বিবিসি বলছে, শ্রীলঙ্কার এই দলটি কাজ বা পড়াশুনার খোঁজে ইউক্রেনে আসে। এরপর তারা কয়েদিতে পরিণত হয়। সামান্য একটু খেয়ে কোনমতে বেঁচে থাকে। টয়লেট করার জন্য জন্য তাদের দিনে দুই মিনিটের জন্য সময় দেওয়া হয়।

পুরুষদের এক রুমে রাখা হয়েছিল। তবে ওই দলের একমাত্র ৫০ বছর বয়সী নারীকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। ওই নারী বলেন, তারা আমাদের রুমে বন্দি করে রেখেছিল। আমরা যখন গোসল করতে চাইতাম তারা আমাদের পেটাতো। তারা এমনকি আমাদের অন্যদের সঙ্গে দেখাও করতে দিত না।

শ্রীলঙ্কার এই দলটি জানায়, তাদের কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই পেটাতো রুশ বাহিনী। দিলুকশান বলেছেন, আমাদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ছিল, ছিল দুঃখও, আমরা প্রতিনিয়ত কান্না করতাম।

এরপর চলতি মাসের শুরুতে ইউক্রেনের বাহিনী যখন পূর্ব ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখল করতে শুরু করেন তখনই মুক্তি পান শ্রীলঙ্কানরা। শ্রীলঙ্কার এই দলটি এরপর খারকিভে আবার কাজ করতে শুরু করেন। তবে তাদের কাছে কোন ফোন না থাকায় তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

তবে শেষমেশ ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তাদের ফোন দিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়। বিবিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কান এই দলটিকে খারকিভে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, পেয়েছেন নতুন পোশাক।

দিলুকশান হেসে বলেছেন, আমার এখন অনেক অনেক ভালো লাগছে। তবে বেসামরিক লোকদের ওপর নির্যাতনের খবর বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে রাশিয়া।

Tag :
জনপ্রিয়

ছেলের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড নিজ হাতে কার্যকর করলেন বাবা

শ্রীলঙ্কানদের ওপর রুশ বাহিনীর বর্বরতার চিত্র প্রকাশ

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

সম্প্রতি রুশ বাহিনীর দখলের হাত থেকে ইজিয়াম শহর নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে রুশ বাহিনীর একের পর এক বর্বরতার খবর বেরিয়ে আসছে। গণকবরে ৪৪০ জনের মরদেহের সন্ধান ছাড়াও শহরটিতে রুশ বাহিনীর একাধিক টর্চার সেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে এক দল শ্রীলঙ্কানের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তেমনি রুশ বাহিনীর নির্যাতনের শিকার দিলুজান পাথথিনাজাকান। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, আমরা ভেবেছিলাম কখনোই আর জীবিত অবস্থায় বের হতে পারবো না।

গত মে মাসে সাতজন শ্রীলঙ্কানকে বন্দি করে রুশ বাহিনী। এদের একজন দিলুজান। ইউক্রেনের কুপিয়ান্সকে তাদের বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে পালাতে বের হয় শ্রীলঙ্কানরা। এরপর তারা দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দেয়। কিন্তু যখন তারা প্রথম চেকপয়েন্টে আসে সেখানেই রুশ বাহিনী তাদের বন্দি করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কানদের চোখ-হাত বাঁধা হয়, এরপর তাদের রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ভভচানস্ক শহরে এক মেশিন টুলের কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুরু হয় তাদের ওপর রুশ বাহিনীর নির্যাতন। তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছিল। এটি দীর্ঘ চার মাস ধরে চলতে থাকে।

বিবিসি বলছে, শ্রীলঙ্কার এই দলটি কাজ বা পড়াশুনার খোঁজে ইউক্রেনে আসে। এরপর তারা কয়েদিতে পরিণত হয়। সামান্য একটু খেয়ে কোনমতে বেঁচে থাকে। টয়লেট করার জন্য জন্য তাদের দিনে দুই মিনিটের জন্য সময় দেওয়া হয়।

পুরুষদের এক রুমে রাখা হয়েছিল। তবে ওই দলের একমাত্র ৫০ বছর বয়সী নারীকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। ওই নারী বলেন, তারা আমাদের রুমে বন্দি করে রেখেছিল। আমরা যখন গোসল করতে চাইতাম তারা আমাদের পেটাতো। তারা এমনকি আমাদের অন্যদের সঙ্গে দেখাও করতে দিত না।

শ্রীলঙ্কার এই দলটি জানায়, তাদের কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই পেটাতো রুশ বাহিনী। দিলুকশান বলেছেন, আমাদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ছিল, ছিল দুঃখও, আমরা প্রতিনিয়ত কান্না করতাম।

এরপর চলতি মাসের শুরুতে ইউক্রেনের বাহিনী যখন পূর্ব ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখল করতে শুরু করেন তখনই মুক্তি পান শ্রীলঙ্কানরা। শ্রীলঙ্কার এই দলটি এরপর খারকিভে আবার কাজ করতে শুরু করেন। তবে তাদের কাছে কোন ফোন না থাকায় তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

তবে শেষমেশ ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তাদের ফোন দিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়। বিবিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কান এই দলটিকে খারকিভে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, পেয়েছেন নতুন পোশাক।

দিলুকশান হেসে বলেছেন, আমার এখন অনেক অনেক ভালো লাগছে। তবে বেসামরিক লোকদের ওপর নির্যাতনের খবর বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে রাশিয়া।