ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজপথ দখলে মরিয়া দুই দল

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এবং যাওয়াকে কেন্দ্র করে মাঠের রাজনীতির ‘স্টিয়ারিং’ দখলে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে ‘রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা’ নিয়ে বিএনপিকে প্রতিহত করে রাজপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, হামলা-মামলা নির্যাতনের পাশাপাশি রাজপথে নেতাকর্মী নিহত হওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। একদিকে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা বলছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা দিবে না বললেও দুই দলই নিজেদের কথা রাখছে না। রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতে উভয় দল মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এদিকে, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের পর রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কোনো আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। একের পর এক আন্দোলনে ব্যর্থতা, দলীয়-প্রধানের সাজা এবং জাতীয় নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ে বিএনপি একরকম বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গত কারণে বিরোধীদের কোনো চাপ ছাড়াই আওয়ামী লীগ ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।

সম্প্রতি জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি একরকম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাঠের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে জনগণের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা বিএনপির দিকে হেলে গেছে। বিষয়টি ভালোভাবে দেখছে না আওয়ামী লীগ। সঙ্গত কারণে রাজনীতির মাঠ পুরো দখলে নিতে পারে- এই সুযোগ বিএনপিকে দিতে চায় না ক্ষমতাসীন দল। তাই দুই দলই নানামুখী রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে। দুই দলের মাঠ দখলের এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। গত দুই মাসে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা ও হামলায় এই পর্যন্ত তিনজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

লোডশেডিং, জ্বালানি অব্যবস্থাপনা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি গত ২২ আগস্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে। দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের এই কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই বাধা দেওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েক নেতার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভোলায় দুই এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নেতা নিহত হন।

এ ঘটনার পরও কর্মসূচিতে পিছু হটেনি বিএনপি। তারা সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এর মধ্যে শনিবার ঢাকা ও কুমিলস্না বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উলস্নাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়ালসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এরপরও মাঠ ছাড়েনি বিএনপি। অন্যদিকে মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে নানামুখী কৌশল ক্ষমতাসীন দলও অবলম্বন করবে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপিকে একচেটিয়া মাঠে থাকার সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, তবে ভেতরে ভেতরে কঠোর মোকাবিলা থেকে সরে যাবে না তারা। এই কৌশল নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি একেবারে বিনা বাধায় যেতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ।

সূত্র মতে, তিন কারণে বিনা বাধায় বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা। এগুলো হচ্ছে- এক. এতদিন নীরব থাকা বিএনপি ভয়ডরহীন হয়ে পড়বে। দুই. মাঠ দখলে নিয়ে গেলে বিএনপির ভেতর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, মনোবল চাঙ্গা হবে। তিন. একপর্যায়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

সূত্র মতে, বিএনপিকে মোকাবিলায় দলটির নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ ছাত্রদল নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে যেমন কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল, তেমনি বিএনপি মহাসচিবের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের তুলনামূলক বক্তব্যের প্রতিবাদেও কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। আগামীতে যাতে বিএনপি মাঠে দাঁড়াতে না পারে, এ জন্য নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপিতে রাজপথে মোকাবিলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। তাই রাজপথেই বিএনপির যেকোনো সহিংস কর্মকান্ড মোকাবিলা করবে। প্রয়োজনে পাড়া-মহলস্নায় একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। তাদের প্রতিহত করতে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস হলে রাজপথেই এর জবাব দেবে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, সরকার পতনের আগ পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই রাজপথ থেকে সরে যাবে না তারা। আরও শক্তি নিয়ে রাজপথ নিজেদের দখলে নিতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনা হবে। সর্বশেষ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়ন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায় এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি একই সঙ্গে করে যাচ্ছে দলটি। রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে আনার বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যেই বলছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীনরা সন্ত্রাস করে পার পাবে না। এভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, নিপীড়ন-দমন করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করা হবে। একই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বহু খুন, হত্যা দেখেছি। আর নয়। এবার প্রতিরোধ হবে, প্রতিবাদ হবে। সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে; ডালিয়া

রাজপথ দখলে মরিয়া দুই দল

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এবং যাওয়াকে কেন্দ্র করে মাঠের রাজনীতির ‘স্টিয়ারিং’ দখলে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে ‘রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা’ নিয়ে বিএনপিকে প্রতিহত করে রাজপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, হামলা-মামলা নির্যাতনের পাশাপাশি রাজপথে নেতাকর্মী নিহত হওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। একদিকে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথা বলছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা দিবে না বললেও দুই দলই নিজেদের কথা রাখছে না। রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতে উভয় দল মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এদিকে, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের পর রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কোনো আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। একের পর এক আন্দোলনে ব্যর্থতা, দলীয়-প্রধানের সাজা এবং জাতীয় নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ে বিএনপি একরকম বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গত কারণে বিরোধীদের কোনো চাপ ছাড়াই আওয়ামী লীগ ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।

সম্প্রতি জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি একরকম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাঠের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে জনগণের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা বিএনপির দিকে হেলে গেছে। বিষয়টি ভালোভাবে দেখছে না আওয়ামী লীগ। সঙ্গত কারণে রাজনীতির মাঠ পুরো দখলে নিতে পারে- এই সুযোগ বিএনপিকে দিতে চায় না ক্ষমতাসীন দল। তাই দুই দলই নানামুখী রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে। দুই দলের মাঠ দখলের এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। গত দুই মাসে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা ও হামলায় এই পর্যন্ত তিনজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

লোডশেডিং, জ্বালানি অব্যবস্থাপনা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি গত ২২ আগস্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে। দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের এই কর্মসূচির প্রথম দিন থেকেই বাধা দেওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েক নেতার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভোলায় দুই এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নেতা নিহত হন।

এ ঘটনার পরও কর্মসূচিতে পিছু হটেনি বিএনপি। তারা সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এর মধ্যে শনিবার ঢাকা ও কুমিলস্না বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উলস্নাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়ালসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এরপরও মাঠ ছাড়েনি বিএনপি। অন্যদিকে মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে নানামুখী কৌশল ক্ষমতাসীন দলও অবলম্বন করবে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপিকে একচেটিয়া মাঠে থাকার সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, তবে ভেতরে ভেতরে কঠোর মোকাবিলা থেকে সরে যাবে না তারা। এই কৌশল নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি একেবারে বিনা বাধায় যেতে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ।

সূত্র মতে, তিন কারণে বিনা বাধায় বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা। এগুলো হচ্ছে- এক. এতদিন নীরব থাকা বিএনপি ভয়ডরহীন হয়ে পড়বে। দুই. মাঠ দখলে নিয়ে গেলে বিএনপির ভেতর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, মনোবল চাঙ্গা হবে। তিন. একপর্যায়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

সূত্র মতে, বিএনপিকে মোকাবিলায় দলটির নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ ছাত্রদল নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে যেমন কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল, তেমনি বিএনপি মহাসচিবের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের তুলনামূলক বক্তব্যের প্রতিবাদেও কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। আগামীতে যাতে বিএনপি মাঠে দাঁড়াতে না পারে, এ জন্য নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপিতে রাজপথে মোকাবিলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। তাই রাজপথেই বিএনপির যেকোনো সহিংস কর্মকান্ড মোকাবিলা করবে। প্রয়োজনে পাড়া-মহলস্নায় একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। তাদের প্রতিহত করতে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস হলে রাজপথেই এর জবাব দেবে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, সরকার পতনের আগ পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই রাজপথ থেকে সরে যাবে না তারা। আরও শক্তি নিয়ে রাজপথ নিজেদের দখলে নিতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনা হবে। সর্বশেষ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়ন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায় এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি একই সঙ্গে করে যাচ্ছে দলটি। রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে আনার বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যেই বলছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীনরা সন্ত্রাস করে পার পাবে না। এভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, নিপীড়ন-দমন করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করা হবে। একই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বহু খুন, হত্যা দেখেছি। আর নয়। এবার প্রতিরোধ হবে, প্রতিবাদ হবে। সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।