ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না বিএনপি

২০০৬ সালের পর থেকে বিএনপির সময় ভালো যাচ্ছে না, শত চেষ্টা করেও ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতে সক্রিয় হতে পারছেন না। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন।

এই পরিস্থিতিতে ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলাপ-আলোচনায় সংকট সমাধানের কোনো পথ দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, আলোচনার পথ একবারেই সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এখন আন্দোলনের আর কোনো বিকল্প নেই। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোই হচ্ছে এখন বিএনপির ধ্যান-জ্ঞান।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে দলীয় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলনে ছিল বিএনপি। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেও টানা কঠোর আন্দোলনে ছিল দলটি। ওই নির্বাচন বর্জনের পরেও লাগাতার অবরোধে ছিল দলটি যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার করা হয়নি। কিন্তু সেই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। তারপরও একই দাবিতে সোচ্চার থেকেও শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে দলীয় সরকারের অধীনেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

দলটিকে তাদের নির্বাচনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপরেও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও বিএনপি অংশ নেয়। কিন্তু ‘ফলবিহীন’ এসব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয়ভাবে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এখন রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় দলটি।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হলেও সরকারের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনে অনেকাংশে সতর্ক বিএনপি। এবার কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পরিকল্পনার ছক করা হচ্ছে। বিএনপির চলমান আন্দোলন কর্মসূচি দমনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আগেভাগেই হামলা ও মামলার পথে হাঁটছে, তাতে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি হাইকমান্ডও এটাও মনে করছে, রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান হবে। সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশব্যাপী বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। তারপরও নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতটা কমিটেড; যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এতে করে আমরা অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী। কারণ, অতীতে এই দেশে ন্যায্য দাবি আদায়ে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের রক্ত বৃথা যায় নাই। রক্ত কখনো বৃথা যায় না। আগামী দিনে এই রক্তের হিসাব বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এদেশের জনগণ আদায় করে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনায় যেমন অনেক কিছুর সমাধান হয়; তেমনিভাবে আলাপ আলোচনায় যা সম্ভব হয় না তা আন্দোলনেই সম্ভব হয়। দেশের অতীত ইতিহাস তাই বলে; অনেক অসাধ্য কাজ আন্দোলনের মাধ্যমেই সফলতার মুখ দেখেছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে কোণঠাসা করে রাখার নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কেন্দ্রিক বিকল্প জোট দাঁড় করানো, বিএনপির মধ্যে ভাঙন ধরানো, দলটির মিত্রদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে। এ ছাড়া, সরকার ও সরকারি দল বিরোধী নেতা-কর্মীদের ভয় দেখাতে হামলা-মামলার পথে হাঁটা, বিএনপিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে এমন নেতাদের নানানভাবে হয়রানি করা, প্রয়োজনে শারীরিকভাবে আঘাত করতেও পিছপা হবে না। মূলত কর্মসূচিতে এই মুহূর্তে বাধা তৈরি করার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল অবস্থায় রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এসব কারণে মাঠের আন্দোলনে যেমন সতর্ক বিএনপি, তেমনি ঐক্যবদ্ধতা অটুট রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যেতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, রাজনীতিতে সমঝোতার লক্ষণ দেখছে না বিএনপি। তাই দাবি আদায়ে রা আন্দোলনের পথেই হাঁটতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। রাজপথ আন্দোলনেই দাবি আদায় করা হবে। নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আন্দোলন সফল করতে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। আন্দোলন করতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না; প্রশ্নই উঠে না শেখ হাসিনাকে সরকার প্রধান রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার।’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিগত সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তখন সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও এবার আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এর আগে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা দিয়েছে।
আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে দেশ কীভাবে এগোবে তার ফয়সালা হবে রাজপথে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে পুরনো মামলায় সারা দেশের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে। হামলা-মামলা করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এলাকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করার যথেষ্ট শক্তি আমাদের রয়েছে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে সারাদেশে আওয়ামী লীগকে শক্তভাবে মোকাবিলা করব।’

Tag :

তাহিরপুরে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত

আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না বিএনপি

প্রকাশের সময় : ১০:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

২০০৬ সালের পর থেকে বিএনপির সময় ভালো যাচ্ছে না, শত চেষ্টা করেও ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতে সক্রিয় হতে পারছেন না। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন।

এই পরিস্থিতিতে ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলাপ-আলোচনায় সংকট সমাধানের কোনো পথ দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, আলোচনার পথ একবারেই সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এখন আন্দোলনের আর কোনো বিকল্প নেই। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোই হচ্ছে এখন বিএনপির ধ্যান-জ্ঞান।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে দলীয় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলনে ছিল বিএনপি। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেও টানা কঠোর আন্দোলনে ছিল দলটি। ওই নির্বাচন বর্জনের পরেও লাগাতার অবরোধে ছিল দলটি যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার করা হয়নি। কিন্তু সেই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। তারপরও একই দাবিতে সোচ্চার থেকেও শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে দলীয় সরকারের অধীনেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

দলটিকে তাদের নির্বাচনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপরেও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও বিএনপি অংশ নেয়। কিন্তু ‘ফলবিহীন’ এসব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয়ভাবে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এখন রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় দলটি।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হলেও সরকারের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনে অনেকাংশে সতর্ক বিএনপি। এবার কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পরিকল্পনার ছক করা হচ্ছে। বিএনপির চলমান আন্দোলন কর্মসূচি দমনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আগেভাগেই হামলা ও মামলার পথে হাঁটছে, তাতে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি হাইকমান্ডও এটাও মনে করছে, রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান হবে। সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশব্যাপী বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি যেভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। তারপরও নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতটা কমিটেড; যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এতে করে আমরা অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী। কারণ, অতীতে এই দেশে ন্যায্য দাবি আদায়ে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের রক্ত বৃথা যায় নাই। রক্ত কখনো বৃথা যায় না। আগামী দিনে এই রক্তের হিসাব বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এদেশের জনগণ আদায় করে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনায় যেমন অনেক কিছুর সমাধান হয়; তেমনিভাবে আলাপ আলোচনায় যা সম্ভব হয় না তা আন্দোলনেই সম্ভব হয়। দেশের অতীত ইতিহাস তাই বলে; অনেক অসাধ্য কাজ আন্দোলনের মাধ্যমেই সফলতার মুখ দেখেছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে কোণঠাসা করে রাখার নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কেন্দ্রিক বিকল্প জোট দাঁড় করানো, বিএনপির মধ্যে ভাঙন ধরানো, দলটির মিত্রদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে। এ ছাড়া, সরকার ও সরকারি দল বিরোধী নেতা-কর্মীদের ভয় দেখাতে হামলা-মামলার পথে হাঁটা, বিএনপিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে এমন নেতাদের নানানভাবে হয়রানি করা, প্রয়োজনে শারীরিকভাবে আঘাত করতেও পিছপা হবে না। মূলত কর্মসূচিতে এই মুহূর্তে বাধা তৈরি করার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে দুর্বল অবস্থায় রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এসব কারণে মাঠের আন্দোলনে যেমন সতর্ক বিএনপি, তেমনি ঐক্যবদ্ধতা অটুট রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যেতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, রাজনীতিতে সমঝোতার লক্ষণ দেখছে না বিএনপি। তাই দাবি আদায়ে রা আন্দোলনের পথেই হাঁটতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। রাজপথ আন্দোলনেই দাবি আদায় করা হবে। নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আন্দোলন সফল করতে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। আন্দোলন করতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না; প্রশ্নই উঠে না শেখ হাসিনাকে সরকার প্রধান রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার।’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিগত সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তখন সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও এবার আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এর আগে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা দিয়েছে।
আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে দেশ কীভাবে এগোবে তার ফয়সালা হবে রাজপথে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে পুরনো মামলায় সারা দেশের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে। হামলা-মামলা করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এলাকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করার যথেষ্ট শক্তি আমাদের রয়েছে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে সারাদেশে আওয়ামী লীগকে শক্তভাবে মোকাবিলা করব।’