ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণপ্রীতি

দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ সফরে যেতে চাইছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো ঘুরে দেখতে কুয়েত, দক্ষিণ সুদান ও লেবানন সফরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। শুধু এই দুটি কমিটি নয়, অধিকাংশ সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিদেশ সফরের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে বিল বা সংসদ কর্তৃক প্রেরিত যেকোনো বিষয় পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখা ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। কিন্তু নিয়মিত বৈঠক করে সুপারিশ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সে বিষয়ে ‘মাথাব্যথা’ নেই বেশির ভাগ সংসদীয় কমিটির। প্রতি মাসে একটি করে বৈঠক করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। তবে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাবের প্রভাবে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনে সরকার বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করলেও বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা বা পরিদর্শনের জন্য বিদেশ সফরের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখা যায় সংসদীয় কমিটির সদস্যদের।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে দুই পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে এই সফরের আয়োজন করা হবে। কমিটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন দেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির পক্ষ থেকে জনশক্তি ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত, ওমান ও তুরস্ক এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফরের আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। এর আগে গত ১৮ থেকে ২১ মে যুক্তরাষ্ট্র সফর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল। কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, কাজী নাবিল আহমেদ ও নাহিম রাজ্জাক। এ ছাড়া করোনা মহামারির আগে কঙ্গো সফর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এখন এই কমিটির সদস্যরা কুয়েত, দক্ষিণ সুদান ও লেবানন পরিদর্শনে যেতে চান। বিদেশ সফরের বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছেন। এ জন্য কুয়েত পুনর্গঠন (ওকেপি) এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেখতে যাওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা হাজার হাজার মাইল দূরে বিশে^^র বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছেন।

কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মনুস্কো (ডিআর কঙ্গো) শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শন করেছিল। ওই সফরে কমিটির সভাপতিসহ পাঁচ সদস্য এবং সাচিবিক সহায়তার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের ব্যয় বহন করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফর আয়োজনের জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব দিয়েছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ সফরের জন্য টাকা চাওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ ধরনের বিদেশ সফরের ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করবে। আর সংসদ সচিবালয় জানিয়ে দেয়, এ সংক্রান্ত সফরের খরচ সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাহের কোনো সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশ সফরের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি মিশন থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্যু কার্যক্রম পরিদর্শন করতে কমিটির সদস্যদের ৯টি দেশ সফরের সুপারিশ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির। দেশগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, ‘আমাদের বিদেশি মিশনগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কীভাবে সেবা দিচ্ছে তা সরাসরি দেখতে চেয়েছিলেন কমিটির সদস্যরা।’

তখন ওই বৈঠকে শামসুল হক টুকু বলেছিলেন যে এই মুহূর্তে এ ধরনের সফরের দরকার নেই। বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। মন্ত্রণালয়ের তহবিল বা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এসব বিদেশ ভ্রমণের খরচ বহন করা হয়। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করাটা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার পরও অধিকাংশ কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফরের বিষয়টি বৈঠকে তোলেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকি ও নজরদারি করাই সংসদীয় কমিটির প্রধান কাজ। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সুপারিশ প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে কমিটি। কিন্তু সেই কমিটি মন্ত্রণালয়ের টাকায় বিদেশ সফর করলে কমিটির ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। মন্ত্রণালয় থেকে সুবিধা নেওয়ার পর কমিটির সদস্যদের নৈতিক জোর কমে যায়।’

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংসদীয় সংস্থার সম্মেলন বা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য কোনো সংসদীয় দল বা প্রতিনিধি বিদেশে গেলে সেই ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করে। তবে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদেশ সফরের জন্য কোনো বরাদ্দ সংসদ সচিবালয়ের নেই। তাই সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের ব্যয় মন্ত্রণালয় থেকে বহন করা হয়।’

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণপ্রীতি

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ সফরে যেতে চাইছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো ঘুরে দেখতে কুয়েত, দক্ষিণ সুদান ও লেবানন সফরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। শুধু এই দুটি কমিটি নয়, অধিকাংশ সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিদেশ সফরের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে বিল বা সংসদ কর্তৃক প্রেরিত যেকোনো বিষয় পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখা ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। কিন্তু নিয়মিত বৈঠক করে সুপারিশ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সে বিষয়ে ‘মাথাব্যথা’ নেই বেশির ভাগ সংসদীয় কমিটির। প্রতি মাসে একটি করে বৈঠক করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। তবে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাবের প্রভাবে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনে সরকার বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করলেও বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা বা পরিদর্শনের জন্য বিদেশ সফরের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখা যায় সংসদীয় কমিটির সদস্যদের।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে দুই পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে এই সফরের আয়োজন করা হবে। কমিটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন দেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির পক্ষ থেকে জনশক্তি ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত, ওমান ও তুরস্ক এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য সফরের আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। এর আগে গত ১৮ থেকে ২১ মে যুক্তরাষ্ট্র সফর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল। কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, কাজী নাবিল আহমেদ ও নাহিম রাজ্জাক। এ ছাড়া করোনা মহামারির আগে কঙ্গো সফর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এখন এই কমিটির সদস্যরা কুয়েত, দক্ষিণ সুদান ও লেবানন পরিদর্শনে যেতে চান। বিদেশ সফরের বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছেন। এ জন্য কুয়েত পুনর্গঠন (ওকেপি) এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেখতে যাওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা হাজার হাজার মাইল দূরে বিশে^^র বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছেন।

কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মনুস্কো (ডিআর কঙ্গো) শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শন করেছিল। ওই সফরে কমিটির সভাপতিসহ পাঁচ সদস্য এবং সাচিবিক সহায়তার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের ব্যয় বহন করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফর আয়োজনের জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব দিয়েছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ সফরের জন্য টাকা চাওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ ধরনের বিদেশ সফরের ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করবে। আর সংসদ সচিবালয় জানিয়ে দেয়, এ সংক্রান্ত সফরের খরচ সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাহের কোনো সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশ সফরের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি মিশন থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্যু কার্যক্রম পরিদর্শন করতে কমিটির সদস্যদের ৯টি দেশ সফরের সুপারিশ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির। দেশগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, ‘আমাদের বিদেশি মিশনগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কীভাবে সেবা দিচ্ছে তা সরাসরি দেখতে চেয়েছিলেন কমিটির সদস্যরা।’

তখন ওই বৈঠকে শামসুল হক টুকু বলেছিলেন যে এই মুহূর্তে এ ধরনের সফরের দরকার নেই। বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। মন্ত্রণালয়ের তহবিল বা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এসব বিদেশ ভ্রমণের খরচ বহন করা হয়। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করাটা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার পরও অধিকাংশ কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফরের বিষয়টি বৈঠকে তোলেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকি ও নজরদারি করাই সংসদীয় কমিটির প্রধান কাজ। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সুপারিশ প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে কমিটি। কিন্তু সেই কমিটি মন্ত্রণালয়ের টাকায় বিদেশ সফর করলে কমিটির ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। মন্ত্রণালয় থেকে সুবিধা নেওয়ার পর কমিটির সদস্যদের নৈতিক জোর কমে যায়।’

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংসদীয় সংস্থার সম্মেলন বা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য কোনো সংসদীয় দল বা প্রতিনিধি বিদেশে গেলে সেই ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করে। তবে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদেশ সফরের জন্য কোনো বরাদ্দ সংসদ সচিবালয়ের নেই। তাই সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের ব্যয় মন্ত্রণালয় থেকে বহন করা হয়।’