ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন

নদীরে ও নদী রে তুই একটু দয়া কর, ভাঙিস না আর বাপের ভিটা বসত বাড়ি-ঘর। নদী ভাঙ্গন নিয়ে এমন অসংখ্য গান থাকলেও নদী ভাঙনের এসব সুর যেন কষ্ট হয়ে বিঁধছে ভাঙন কবলিতদের মন-প্রাণে। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে ভাঙন।

ফরিদপুরে তীব্র নদী ভাঙনে জেলা সদরের প্রায় তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি গ্রামের কাচা-পাকা রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, ক্লিনিক ও সরকারি গোলাডাঙ্গী ব্রিজ এখন হুমকির মুখে।

নদী ভাঙনে গত এক সপ্তাহে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর প্রায় ৬০-৭০টি বাড়ি ভেঙে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে দেড় শতাধিক পরিবার চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ডিক্রিচর ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার নদী ভাঙনকবলিত মোঃ দুলাল শেখ, সোহরাব হোসেন, সিদ্দীকুর রহমান আক্ষেপ করে জানান, আমাদের দুঃখ-কষ্ট কার কাছে বলবো আর বলেই বা কি লাভ।

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনবার পদ্মায় আমাদের বাড়ি-ঘর নদীতে ভেঙে গেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর একমাত্র সড়কের প্রায় সাড়ে সাতশো গজ রাস্তা ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান,গত প্রায় তিনমাস ধরে জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে অব্যাহত নদী ভাঙনে উস্তাডাঙ্গী, মৃধাডাঙ্গী ও গোলডাঙ্গির তিনটি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে এক হাজার পরিবার এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

ইতোমধ্যে পদ্মার বুকে বিলিন হয়ে গেছে চরটেপুরাকান্দি মসজিদ ও উস্তাডাঙ্গী স্কুল এবং সরকারের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এবং এক হাজার বিঘা ফসলি জমি ও অগণিত গাছপালা। প্রবল হুমকির মুখে আছে চারটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ বাড়ি ঘর, সরকারি রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, চরটেপুরাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছোট ছোট বেশ কিছু কালবার্ট-ব্রিজ এবং প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক মাত্র গোলডাঙ্গী ব্রিজটি। হঠাৎ পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ ব্যাপারে নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন(ইউপি)পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের কাছে আতংকের একটি নাম। নদীর কাছে আমরা রীতিমতো অসহায়। আমাদের পক্ষ থেকে ভাংঙন কবলিতদের রক্ষা করা কঠিক কাজ। বিভিন্ন সময়ে মানুষের দুঃখ ও নদী ভাঙনের বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। কিন্তু নদী ভাঙন ঠেকানোর মতো ক্ষমতা আমাদের নেই।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, নদী ভাঙন কবলিতদের মাঝে গত শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে যারা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদেরও পর্যায়ক্রমে তালিকা করে তাদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ওই এলাকাগুলো চর বেষ্টিত। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে ওইখানে কাজ করার মতো বরাদ্দ আপাতত নেই।

এছাড়া করোনা মহামারীর কারণে বাজেটেরও স্বল্পতা রয়েছে। তারপরও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন কবলিতদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

ফরিদপুরে তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

নদীরে ও নদী রে তুই একটু দয়া কর, ভাঙিস না আর বাপের ভিটা বসত বাড়ি-ঘর। নদী ভাঙ্গন নিয়ে এমন অসংখ্য গান থাকলেও নদী ভাঙনের এসব সুর যেন কষ্ট হয়ে বিঁধছে ভাঙন কবলিতদের মন-প্রাণে। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে ভাঙন।

ফরিদপুরে তীব্র নদী ভাঙনে জেলা সদরের প্রায় তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি গ্রামের কাচা-পাকা রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, ক্লিনিক ও সরকারি গোলাডাঙ্গী ব্রিজ এখন হুমকির মুখে।

নদী ভাঙনে গত এক সপ্তাহে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর প্রায় ৬০-৭০টি বাড়ি ভেঙে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে দেড় শতাধিক পরিবার চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ডিক্রিচর ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার নদী ভাঙনকবলিত মোঃ দুলাল শেখ, সোহরাব হোসেন, সিদ্দীকুর রহমান আক্ষেপ করে জানান, আমাদের দুঃখ-কষ্ট কার কাছে বলবো আর বলেই বা কি লাভ।

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনবার পদ্মায় আমাদের বাড়ি-ঘর নদীতে ভেঙে গেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর একমাত্র সড়কের প্রায় সাড়ে সাতশো গজ রাস্তা ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান,গত প্রায় তিনমাস ধরে জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে অব্যাহত নদী ভাঙনে উস্তাডাঙ্গী, মৃধাডাঙ্গী ও গোলডাঙ্গির তিনটি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে এক হাজার পরিবার এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

ইতোমধ্যে পদ্মার বুকে বিলিন হয়ে গেছে চরটেপুরাকান্দি মসজিদ ও উস্তাডাঙ্গী স্কুল এবং সরকারের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এবং এক হাজার বিঘা ফসলি জমি ও অগণিত গাছপালা। প্রবল হুমকির মুখে আছে চারটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ বাড়ি ঘর, সরকারি রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, চরটেপুরাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছোট ছোট বেশ কিছু কালবার্ট-ব্রিজ এবং প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক মাত্র গোলডাঙ্গী ব্রিজটি। হঠাৎ পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

এ ব্যাপারে নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন(ইউপি)পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের কাছে আতংকের একটি নাম। নদীর কাছে আমরা রীতিমতো অসহায়। আমাদের পক্ষ থেকে ভাংঙন কবলিতদের রক্ষা করা কঠিক কাজ। বিভিন্ন সময়ে মানুষের দুঃখ ও নদী ভাঙনের বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। কিন্তু নদী ভাঙন ঠেকানোর মতো ক্ষমতা আমাদের নেই।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, নদী ভাঙন কবলিতদের মাঝে গত শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে যারা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদেরও পর্যায়ক্রমে তালিকা করে তাদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ওই এলাকাগুলো চর বেষ্টিত। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে ওইখানে কাজ করার মতো বরাদ্দ আপাতত নেই।

এছাড়া করোনা মহামারীর কারণে বাজেটেরও স্বল্পতা রয়েছে। তারপরও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন কবলিতদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।