ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানই ভালো ছিল বলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত

বিএনপির সব কিছুতেই হতাশা। ‘পাকিস্তানই ভালো ছিল’ বলার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে সংসদে ভাষণ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংবাদিক ও বিএফইউজের
সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান সম্রাট ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ এবং গ্রন্থটির সম্পাদক দৈনিক সময়ের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সবুজ।

বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে হতাশাজনক বলে মনে করছে। তারা এই হতাশা থেকে আন্দোলনে নামবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রথমতো বিএনপির সবকিছুতেই হতাশা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন পাকিস্তানি ভালো ছিল।

‘অতএব তাদের বাংলাদেশ নিয়েই হতাশা। মির্জা ফখরুল কীভাবে বলেন? আমিতো মনে করি এই বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দরকার। তিনি কীভাবে বলেন পাকিস্তান আমলই ভালো ছিল বা পাকিস্তান ভালো ছিল। বাংলাদেশ নিয়ে তো তাদের হতাশা।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতও বলেছেন এ সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। এটা বলাতে তারা আরও হতাশ হয়েছেন। বাস্তবতা হচ্ছে এই।

দেশের গুম-খুন নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা হয়েছে- বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশেষ সংগঠনের তথ্য পাঠানোর পর সেটার ওপর যদি কোনো প্রতিবেদন তৈরি হয় সেটি ভুলই হয়। আমরা দেখেছি অধিকার নামের একটি সংগঠন থেকে তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ দুটি পত্রিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।

‘এটাতো প্রতিবেদন নয়, বিভিন্ন জনের কনসার্ন সেখানে বলা হয়েছে গুম-খুন বেড়েছে। বাস্তবতা তো দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে যারা গুম হয়েছিল বলে কয়েকদিন আগে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তার মধ্যে ১০ জন ফেরত এসেছে। ২০ জনের মতো দাগি আসামি হত্যা মামলাসহ তারা অনেকেই পালিয়ে রয়েছেন। কিছু গুম হয়েছে বিএনপি তখন ক্ষমতায় ছিল তাদের নামও তালিকায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অধিকার-হেফাজতের যখন আন্দোলন হচ্ছিল তখন শতশত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আল জাজিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করেছিল। অন্যদের ছবি দিয়ে তারা সেগুলো প্রকাশ করেছিল। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে গ্রেফতারও হয়েছে। সেই সংগঠন যখন তথ্য-উপাত্ত দেয় তখন সেটা ভুল। তো কোন সূত্র থেকে তথ্য নিচ্ছে সেটা হচ্ছে বড় বিষয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে তখন যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, বিচার না হওয়ার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে।

‘তারপর বেগম খালেদা জিয়ার সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তার জন্য একটা গাঁজাখোরি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তবে সে মামলায় তারেক জিয়ার শাস্তি হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অনেকের ফাঁসি হয়েছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, সেটাতো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এগুলো প্রতিবেদনে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।’

বনানী ও কুমিল্লার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন অতিউৎসাহী হয়ে কেউ কিছু করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করলে সেখানে কারও বাধা দেওয়া সমীচীন নয়। বাধা দেওয়ার প্রশ্নও আসে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই সহযোগিতা করছেন তাদের।

‘বিএনপির লোকজন গতকাল চট্টগ্রামে নিজেরা নিজেরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে সমাবেশে গণ্ডগোল করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা নিজেরা মারামারি করেছে। বনানীতে কী ঘটেছে সে বিষয়টি তদন্তাধীন। সেখানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কারণে ঘটেছে না তৃতীয় পক্ষ কেউ হামলা পরিচালনা করেছে, না কি অন্য কেউ করেছে। মূলকথা হচ্ছে আমরা কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কেউ বাধা দিক সেটি চাই না বা কখনো সমর্থন করি না।’

বিষয়গুলো তদন্তাধীন। তদন্তে বেরিয়ে আসবে কী ঘটেছে। আপনারা জানেন বিএনপি পুলিশের ওপর হামলা পরিচালনা করেছে। বিএনপি নিজেরা ইনভাইট করে গণ্ডগোল করে। সেক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে শান্তিপূর্ণ কোনো সমাবেশে কেউ বাধা দিক সেটা আমরা চাই না। বিএনপি যদি মানুষের ওপর পুলিশের ওপর হামলা করে তাহলে তো পুলিশ চুপ করে বসে থাকতে পারে না।

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

পাকিস্তানই ভালো ছিল বলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিএনপির সব কিছুতেই হতাশা। ‘পাকিস্তানই ভালো ছিল’ বলার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে সংসদে ভাষণ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংবাদিক ও বিএফইউজের
সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান সম্রাট ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ এবং গ্রন্থটির সম্পাদক দৈনিক সময়ের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সবুজ।

বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে হতাশাজনক বলে মনে করছে। তারা এই হতাশা থেকে আন্দোলনে নামবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রথমতো বিএনপির সবকিছুতেই হতাশা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন পাকিস্তানি ভালো ছিল।

‘অতএব তাদের বাংলাদেশ নিয়েই হতাশা। মির্জা ফখরুল কীভাবে বলেন? আমিতো মনে করি এই বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দরকার। তিনি কীভাবে বলেন পাকিস্তান আমলই ভালো ছিল বা পাকিস্তান ভালো ছিল। বাংলাদেশ নিয়ে তো তাদের হতাশা।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতও বলেছেন এ সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। এটা বলাতে তারা আরও হতাশ হয়েছেন। বাস্তবতা হচ্ছে এই।

দেশের গুম-খুন নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা হয়েছে- বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশেষ সংগঠনের তথ্য পাঠানোর পর সেটার ওপর যদি কোনো প্রতিবেদন তৈরি হয় সেটি ভুলই হয়। আমরা দেখেছি অধিকার নামের একটি সংগঠন থেকে তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ দুটি পত্রিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।

‘এটাতো প্রতিবেদন নয়, বিভিন্ন জনের কনসার্ন সেখানে বলা হয়েছে গুম-খুন বেড়েছে। বাস্তবতা তো দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে যারা গুম হয়েছিল বলে কয়েকদিন আগে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তার মধ্যে ১০ জন ফেরত এসেছে। ২০ জনের মতো দাগি আসামি হত্যা মামলাসহ তারা অনেকেই পালিয়ে রয়েছেন। কিছু গুম হয়েছে বিএনপি তখন ক্ষমতায় ছিল তাদের নামও তালিকায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অধিকার-হেফাজতের যখন আন্দোলন হচ্ছিল তখন শতশত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আল জাজিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করেছিল। অন্যদের ছবি দিয়ে তারা সেগুলো প্রকাশ করেছিল। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে গ্রেফতারও হয়েছে। সেই সংগঠন যখন তথ্য-উপাত্ত দেয় তখন সেটা ভুল। তো কোন সূত্র থেকে তথ্য নিচ্ছে সেটা হচ্ছে বড় বিষয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে তখন যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, বিচার না হওয়ার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে।

‘তারপর বেগম খালেদা জিয়ার সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তার জন্য একটা গাঁজাখোরি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তবে সে মামলায় তারেক জিয়ার শাস্তি হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অনেকের ফাঁসি হয়েছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, সেটাতো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এগুলো প্রতিবেদনে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।’

বনানী ও কুমিল্লার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন অতিউৎসাহী হয়ে কেউ কিছু করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করলে সেখানে কারও বাধা দেওয়া সমীচীন নয়। বাধা দেওয়ার প্রশ্নও আসে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই সহযোগিতা করছেন তাদের।

‘বিএনপির লোকজন গতকাল চট্টগ্রামে নিজেরা নিজেরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে সমাবেশে গণ্ডগোল করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা নিজেরা মারামারি করেছে। বনানীতে কী ঘটেছে সে বিষয়টি তদন্তাধীন। সেখানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কারণে ঘটেছে না তৃতীয় পক্ষ কেউ হামলা পরিচালনা করেছে, না কি অন্য কেউ করেছে। মূলকথা হচ্ছে আমরা কোনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কেউ বাধা দিক সেটি চাই না বা কখনো সমর্থন করি না।’

বিষয়গুলো তদন্তাধীন। তদন্তে বেরিয়ে আসবে কী ঘটেছে। আপনারা জানেন বিএনপি পুলিশের ওপর হামলা পরিচালনা করেছে। বিএনপি নিজেরা ইনভাইট করে গণ্ডগোল করে। সেক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে শান্তিপূর্ণ কোনো সমাবেশে কেউ বাধা দিক সেটা আমরা চাই না। বিএনপি যদি মানুষের ওপর পুলিশের ওপর হামলা করে তাহলে তো পুলিশ চুপ করে বসে থাকতে পারে না।