ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাফলার বিলে সৌন্দর্যের আভা ছড়াচ্ছে শ্বেত পদ্ম

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের নাম বাফলা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল এক জলাধার। গ্রামের নামানুসারে এ বিলের নামকরণ করা হয় বাফলার বিল। সেখানে ফুঠেছে প্রকৃতির রঙ তুলিতে আঁকা অজস্র নয়নাভিরাম শ্বেত পদ্ম ফুল। প্রতিদিন আপপাশের ফুল প্রেমিকদের পদচারণা এখন মুখরিত এই বিল।

প্রায় ১২০ একর জমির বিলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সৌন্দর্যের মেলা বসে। শীতের শুরুতে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা। আর বর্ষায় ফুটে হাজারো শ্বেত পদ্ম ফুল। প্রতিদিন ফুলের সৌন্দর্য দেখতে শতশত দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এখানে। বিলের তলদেশে সারা বছর জুড়ে থাকে পানি। বাকি সময় ভরা বিলে থাকে হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছের সমাহার। সারা বছর বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এলাকার দরিদ্র ব্যক্তিরা।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাদ্র মাসে প্রকৃতিগতভাবে ফুটেছে অজস্র শ্বেত পদ্ম। যত দূর চোখ যায় তত দূর নীলিমায় সাদা আর সাদার ছড়াছড়ি। দৃষ্টিসীমা ছাপানো সবুজের মিতালিতে সাদা রঙের লাবণ্যর উম্মাদনায় বিলের চার পাশ। এ যেন প্রকৃতির আঁচলে জীবন্ত হয়ে উঠা এক নকশিকাঁথার মাঠ। নিমিষেই মন ছুঁয়ে যাওয়া শ্বেত পদ্মের গালিচা ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রতিনিয়ত। আর এ ফুলের সৌন্দর্য় উপভোগ করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতশত মানুষ ছুটে আসছেন। অনেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে পুরো বিল ঘুরে দেখছেন।

নৌকার মাঝি আপন সোনালীনিউজকে জানান, বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিনিয়ত নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এখানে আসেন। দূর কিংবা কাছে থেকে এ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। অনেকে স্মৃতিরফ্রেমে হন সেলফি বন্দি। আমি ভাড়া হিসেবে যা নেই তা দিয়ে আমার সংসার চলে।

জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা থেকে আসা বিলকিজ বেগম ও গোলাপি আক্তার বলেন, লোকমুখে শুনে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। এ অপার সম্ভবনাময় স্থানটিকে সরকারীভাবে রক্ষণাবেক্ষন ও দর্শনীয় স্থান ঘোষনা করা হলে এই এলাকার জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে।

রনচন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বিমান বলেন,এ বিলের ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। প্রতি বছর এ বিলে ব্যাপক পদ্মের সমাহার ঘটে। শীতে অতিথি পাখির অভয়অরণ্যে পরিণত হয়। এলাকাটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

Tag :
জনপ্রিয়

তিতাসে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-১৫

বাফলার বিলে সৌন্দর্যের আভা ছড়াচ্ছে শ্বেত পদ্ম

প্রকাশের সময় : ১০:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের নাম বাফলা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল এক জলাধার। গ্রামের নামানুসারে এ বিলের নামকরণ করা হয় বাফলার বিল। সেখানে ফুঠেছে প্রকৃতির রঙ তুলিতে আঁকা অজস্র নয়নাভিরাম শ্বেত পদ্ম ফুল। প্রতিদিন আপপাশের ফুল প্রেমিকদের পদচারণা এখন মুখরিত এই বিল।

প্রায় ১২০ একর জমির বিলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সৌন্দর্যের মেলা বসে। শীতের শুরুতে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা। আর বর্ষায় ফুটে হাজারো শ্বেত পদ্ম ফুল। প্রতিদিন ফুলের সৌন্দর্য দেখতে শতশত দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এখানে। বিলের তলদেশে সারা বছর জুড়ে থাকে পানি। বাকি সময় ভরা বিলে থাকে হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছের সমাহার। সারা বছর বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এলাকার দরিদ্র ব্যক্তিরা।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাদ্র মাসে প্রকৃতিগতভাবে ফুটেছে অজস্র শ্বেত পদ্ম। যত দূর চোখ যায় তত দূর নীলিমায় সাদা আর সাদার ছড়াছড়ি। দৃষ্টিসীমা ছাপানো সবুজের মিতালিতে সাদা রঙের লাবণ্যর উম্মাদনায় বিলের চার পাশ। এ যেন প্রকৃতির আঁচলে জীবন্ত হয়ে উঠা এক নকশিকাঁথার মাঠ। নিমিষেই মন ছুঁয়ে যাওয়া শ্বেত পদ্মের গালিচা ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রতিনিয়ত। আর এ ফুলের সৌন্দর্য় উপভোগ করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতশত মানুষ ছুটে আসছেন। অনেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে পুরো বিল ঘুরে দেখছেন।

নৌকার মাঝি আপন সোনালীনিউজকে জানান, বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিনিয়ত নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এখানে আসেন। দূর কিংবা কাছে থেকে এ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। অনেকে স্মৃতিরফ্রেমে হন সেলফি বন্দি। আমি ভাড়া হিসেবে যা নেই তা দিয়ে আমার সংসার চলে।

জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা থেকে আসা বিলকিজ বেগম ও গোলাপি আক্তার বলেন, লোকমুখে শুনে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। এ অপার সম্ভবনাময় স্থানটিকে সরকারীভাবে রক্ষণাবেক্ষন ও দর্শনীয় স্থান ঘোষনা করা হলে এই এলাকার জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে।

রনচন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বিমান বলেন,এ বিলের ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। প্রতি বছর এ বিলে ব্যাপক পদ্মের সমাহার ঘটে। শীতে অতিথি পাখির অভয়অরণ্যে পরিণত হয়। এলাকাটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।