ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নিরাপত্তায় রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়ার পরিকল্পনা

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার হাতে মোবাইল সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বিষয়টি দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এমনিতেই রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সহায়তা নিয়ে এ দেশ থেকে মিয়ানমারে টাকা পাচার করছে। কারণ মিয়ানমার সীমান্তের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশি মোবাইল সিম সচল থাকে। এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

মোবাইল ফোন নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমারের এমটিএমসির টেলিকম নেটওয়ার্কও ব্যবহার করে আসছে। এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝেমধ্যে বিটিআরসির কিছু কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠানো হয়। বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে সরকার দেশে যখন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করে তখন সেই নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো বৈধ নাগরিক, যার বয়স ১৮ বছর সেই ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র বা তার পাসপোর্ট দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে পারবে। অথচ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা আমাদের দেশের নাগরিকদের নামে ব্যবহৃত সিম অবৈধভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমারের টেলিকম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারে টেলিকম প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও ব্যবসা পরিচালনা করছে।

টেলিকম সেবা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা মিয়ানমারে চলে গেছে। কার্যত বর্তমান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতার দায়ভার ঘোচাতে তারা রোহিঙ্গা নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচটি করে সিম দেওয়ার পাঁয়তারা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে হয়তো অপারেটরদের মোটা দাগে কিছু ব্যবসা পরিচালনা হবে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে অরাজকতা, সন্ত্রাস, মাদক ও এইডসের মতো মহামারির ব্যাপকতা সৃষ্টি হতে পারে। এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমার মতামত হচ্ছে সবার আগে অবৈধ নেটওয়ার্ক বন্ধ ও সব অবৈধ সিম জব্দ করা। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে বসে স্থানীয় প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মানবতার আড়ালে ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেওয়ার যে পাঁয়তারা তা আমরা বুঝি। কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে পাঁচটি করে সিম দেওয়া যাবে না।’

রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘মানবতা ও নিরাপত্তার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করে এবং বাংলাদেশের সিমও ব্যবহার করে। এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। কোনো অপরাধ করলে তাদের যাতে শনাক্ত করা যায় সেই পদ্ধতি করে সিম দেওয়া হবে। এরা সর্বোচ্চ পাঁচটি করে সিম নিতে পারবে। আমাদের দেশের সিম ব্যবহার করলে তাদের ডাটা আমাদের কাছে থাকবে। খুব সহজেই খুঁজে বের করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে যে সুপারিশ আসবে, সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’

এর আগে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকাগুলোয় মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মোবাইল অপারেটরদের কাছে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সে সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় কিছুদিন নেটওয়ার্ক সীমিত ছিল। পরবর্তী সময়ে তা আবার স্বাভাবিক করে দেয় সরকার।

অন্যদিকে বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে রোহিঙ্গাদের সহজ শর্তে ও সুলভমূল্যে মোবাইল সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতীয় সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা স্থানীয় অধিবাসী তারা এখন মহাবিপদে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, এমনিতেই তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাদের বর্তমানে ব্যবহৃত সব সিম জব্দ না করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে বৈধভাবে দিলে অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হবে-এটা হাস্যকর কথা। সরকারের উচিত হবে তাদের অবৈধ সব নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া। তা না করে নতুন করে বৈধভাবে সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতমূলক। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না।’

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি অপারেটর রবি অজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম সময়ের আলোকে বলেন, ‘সরকার থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে রোহিঙ্গাদের ফোন ব্যবহার করতে না দিলে তাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে না। তারা মিয়ানমারের ফোন এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের ৭৮ কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের নেট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও এর চেয়ে বেশিও পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া বন্ধ করে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ওরা যদি বাইরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাহলে সরকারের কাছে কোনো তথ্য থাকছে না। আমরা আমাদের ব্যবসার জন্য বলছি না, এটা জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু। সরকারকে বলেছিলাম রোহিঙ্গাদের সিম দিই বা না দিই, কিন্তু মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা যায় কি না। সরকারের দিক থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না। রোহিঙ্গারা দু-তিনশ টাকা দিয়ে সিম-ফোন সবই পাচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তার ওপর হয়তো সিম দেওয়া হবে। তবে বায়োমেট্রিকও নেওয়া সম্ভব। অনুমতি দিলে ডিটেইলস নিয়েই দেওয়া উচিত।’

Tag :

আবদুল্লা আল মামুন নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক  

জাতীয় নিরাপত্তায় রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়ার পরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : ০৯:২৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার হাতে মোবাইল সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বিষয়টি দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এমনিতেই রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সহায়তা নিয়ে এ দেশ থেকে মিয়ানমারে টাকা পাচার করছে। কারণ মিয়ানমার সীমান্তের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশি মোবাইল সিম সচল থাকে। এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

মোবাইল ফোন নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমারের এমটিএমসির টেলিকম নেটওয়ার্কও ব্যবহার করে আসছে। এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মাঝেমধ্যে বিটিআরসির কিছু কর্মকর্তাকে পরিদর্শনে পাঠানো হয়। বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে সরকার দেশে যখন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করে তখন সেই নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো বৈধ নাগরিক, যার বয়স ১৮ বছর সেই ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র বা তার পাসপোর্ট দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে পারবে। অথচ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা আমাদের দেশের নাগরিকদের নামে ব্যবহৃত সিম অবৈধভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমারের টেলিকম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারে টেলিকম প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও ব্যবসা পরিচালনা করছে।

টেলিকম সেবা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা মিয়ানমারে চলে গেছে। কার্যত বর্তমান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতার দায়ভার ঘোচাতে তারা রোহিঙ্গা নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচটি করে সিম দেওয়ার পাঁয়তারা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে হয়তো অপারেটরদের মোটা দাগে কিছু ব্যবসা পরিচালনা হবে। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে অরাজকতা, সন্ত্রাস, মাদক ও এইডসের মতো মহামারির ব্যাপকতা সৃষ্টি হতে পারে। এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমার মতামত হচ্ছে সবার আগে অবৈধ নেটওয়ার্ক বন্ধ ও সব অবৈধ সিম জব্দ করা। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে বসে স্থানীয় প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মানবতার আড়ালে ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেওয়ার যে পাঁয়তারা তা আমরা বুঝি। কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে পাঁচটি করে সিম দেওয়া যাবে না।’

রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘মানবতা ও নিরাপত্তার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করে এবং বাংলাদেশের সিমও ব্যবহার করে। এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। কোনো অপরাধ করলে তাদের যাতে শনাক্ত করা যায় সেই পদ্ধতি করে সিম দেওয়া হবে। এরা সর্বোচ্চ পাঁচটি করে সিম নিতে পারবে। আমাদের দেশের সিম ব্যবহার করলে তাদের ডাটা আমাদের কাছে থাকবে। খুব সহজেই খুঁজে বের করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে যে সুপারিশ আসবে, সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’

এর আগে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকাগুলোয় মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মোবাইল অপারেটরদের কাছে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সে সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় কিছুদিন নেটওয়ার্ক সীমিত ছিল। পরবর্তী সময়ে তা আবার স্বাভাবিক করে দেয় সরকার।

অন্যদিকে বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে রোহিঙ্গাদের সহজ শর্তে ও সুলভমূল্যে মোবাইল সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতীয় সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা স্থানীয় অধিবাসী তারা এখন মহাবিপদে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, এমনিতেই তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তাদের বর্তমানে ব্যবহৃত সব সিম জব্দ না করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে বৈধভাবে দিলে অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হবে-এটা হাস্যকর কথা। সরকারের উচিত হবে তাদের অবৈধ সব নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া। তা না করে নতুন করে বৈধভাবে সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতমূলক। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না।’

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি অপারেটর রবি অজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম সময়ের আলোকে বলেন, ‘সরকার থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে রোহিঙ্গাদের ফোন ব্যবহার করতে না দিলে তাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে না। তারা মিয়ানমারের ফোন এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের ৭৮ কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের নেট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও এর চেয়ে বেশিও পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া বন্ধ করে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ওরা যদি বাইরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাহলে সরকারের কাছে কোনো তথ্য থাকছে না। আমরা আমাদের ব্যবসার জন্য বলছি না, এটা জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু। সরকারকে বলেছিলাম রোহিঙ্গাদের সিম দিই বা না দিই, কিন্তু মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা যায় কি না। সরকারের দিক থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না। রোহিঙ্গারা দু-তিনশ টাকা দিয়ে সিম-ফোন সবই পাচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তার ওপর হয়তো সিম দেওয়া হবে। তবে বায়োমেট্রিকও নেওয়া সম্ভব। অনুমতি দিলে ডিটেইলস নিয়েই দেওয়া উচিত।’