ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ইসির রোডম্যাপ

ইতিবাচক দেখছে আ.লীগ, ভাবনাতেই নেই অন্যদের

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় সোয়া বছর বাকি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারসহ নানা বিষয় নিয়ে এখনো মুখোমুখি অবস্থানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপি ছাড়াও আরও অনেক দল দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে আপত্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে বারবার আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এমন অবস্থার মধ্যেই সব দলের আস্থা অর্জন করে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এই রোডম্যাপকে ক্ষমতাসীন দল স্বাগত জানালেও বিএনপিসহ অনেকে একে গুরুত্বহীন বলছে।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। আগামী বছরের নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভোট করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ইসির পথনকশায়।

সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনার পাশাপাশি মোট ১৪টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে ইসির রোডম্যাপে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১৯টি উপায়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুচিন্তিতভাবে এই রোডম্যাপ দিয়েছে। অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এতে আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তারা যেভাবে পরিকল্পনা করেছে এর সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আগে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। পরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই রোডম্যাপ তাদের কাছে মূল্যহীন।

রোডম্যাপ ঘোষণার দিনেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপই দিক, কোনো কিছুই কাজ করবে না। কারণ নির্বাচনকালে সরকার পরিবর্তন ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগ কোনও নির্বাচনেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেখতে চায় না। সেটা জাতীয় নির্বাচন হোক কিংবা অন্য যাই হোক।’

বপইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কথা হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সঙ্গে। তিনি বলেন, রোডম্যাপ তো পরের কথা, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা এটাই হচ্ছে দেখার বিষয়। আমরা বলেছি নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এ কারণে রোডম্যাপ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

নির্বাচনের রোডম্যাপকে মূল্যহীন দাবি করে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘যে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নেই, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে হয় না। আইনে আছে, নির্বাচনের সময় দেশের নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবে। কিন্তু নির্বাহী বিভাগ যদি নির্বাচন কমিশনের কথা না শোনে তাহলে কী হবে তা বলা নেই। তাই নির্বাচন কমিশনের কথা নির্বাহী বিভাগ মানতে বাধ্য নয়।’

সংলাপের বিষয়ে ইসির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে চুন্নু বলেছেন, ‘শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন স্ববিরোধী কথা বলছে। তারা বলছে, কাউকে হাতে পায়ে ধরে নির্বাচনে আনা নাকি তাদের কাজ নয়। তাহলে এতগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এত আলোচনা করলেন কেন?’

এদিকে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের ঘোর আপত্তির মধ্যেও আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশর। যদিও যেসব দলের ব্যাপারে ইভিএমের পক্ষে মতামত দেওয়ার দাবি করেছে ইসি তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। একাধিক দলের নেতারা দাবি করেছেন তারা ইভিএমে ভোট চান না।

বিষয়টি নিয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, ইসি বলছে সবাই চাইলে নাকি ব্যালটে নির্বাচন হবে। আবার বলছে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করবে। শাসক দল তো ইভিএম চায়, তাহলে কী বেশিরভাগ দলের মতামত উপেক্ষা করে ইভিএমে নির্বাচন করবে কমিশন?’

আফজাল বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এটি অবশ্যই রাজনৈতিক দল, ভোটার, এমনকি সাধারণ জনগণকেও নির্বাচনমুখী করতে সহযোগিতা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোও এখন সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বরাবরই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে আসছে। যেহেতু সরকারি দল আওয়ামী লীগ, আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব। কমিশন যখন যে ধরণের সহযোগিতা চাইবে সেটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘ইসি কোথা থেকে এসেছে, কারা এখানে এসেছে এটা সবাই দেখেছে। তারা মনে করে সকলে বোকা, তারাই বুদ্ধিমান। তারা রোডম্যাপ কেন, অন্য কিছু করলেও তা নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই।’

Tag :

মধ্যনগরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৩৩টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ প্রদান করেন, এমপি রতন

ইসির রোডম্যাপ

ইতিবাচক দেখছে আ.লীগ, ভাবনাতেই নেই অন্যদের

প্রকাশের সময় : ১০:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় সোয়া বছর বাকি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারসহ নানা বিষয় নিয়ে এখনো মুখোমুখি অবস্থানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপি ছাড়াও আরও অনেক দল দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে আপত্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে বারবার আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এমন অবস্থার মধ্যেই সব দলের আস্থা অর্জন করে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এই রোডম্যাপকে ক্ষমতাসীন দল স্বাগত জানালেও বিএনপিসহ অনেকে একে গুরুত্বহীন বলছে।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। আগামী বছরের নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভোট করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ইসির পথনকশায়।

সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনার পাশাপাশি মোট ১৪টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে ইসির রোডম্যাপে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১৯টি উপায়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুচিন্তিতভাবে এই রোডম্যাপ দিয়েছে। অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এতে আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তারা যেভাবে পরিকল্পনা করেছে এর সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আগে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে। পরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই রোডম্যাপ তাদের কাছে মূল্যহীন।

রোডম্যাপ ঘোষণার দিনেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপই দিক, কোনো কিছুই কাজ করবে না। কারণ নির্বাচনকালে সরকার পরিবর্তন ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগ কোনও নির্বাচনেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেখতে চায় না। সেটা জাতীয় নির্বাচন হোক কিংবা অন্য যাই হোক।’

বপইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কথা হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সঙ্গে। তিনি বলেন, রোডম্যাপ তো পরের কথা, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা এটাই হচ্ছে দেখার বিষয়। আমরা বলেছি নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এ কারণে রোডম্যাপ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

নির্বাচনের রোডম্যাপকে মূল্যহীন দাবি করে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘যে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নেই, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে হয় না। আইনে আছে, নির্বাচনের সময় দেশের নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবে। কিন্তু নির্বাহী বিভাগ যদি নির্বাচন কমিশনের কথা না শোনে তাহলে কী হবে তা বলা নেই। তাই নির্বাচন কমিশনের কথা নির্বাহী বিভাগ মানতে বাধ্য নয়।’

সংলাপের বিষয়ে ইসির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে চুন্নু বলেছেন, ‘শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন স্ববিরোধী কথা বলছে। তারা বলছে, কাউকে হাতে পায়ে ধরে নির্বাচনে আনা নাকি তাদের কাজ নয়। তাহলে এতগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এত আলোচনা করলেন কেন?’

এদিকে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের ঘোর আপত্তির মধ্যেও আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশর। যদিও যেসব দলের ব্যাপারে ইভিএমের পক্ষে মতামত দেওয়ার দাবি করেছে ইসি তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। একাধিক দলের নেতারা দাবি করেছেন তারা ইভিএমে ভোট চান না।

বিষয়টি নিয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, ইসি বলছে সবাই চাইলে নাকি ব্যালটে নির্বাচন হবে। আবার বলছে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করবে। শাসক দল তো ইভিএম চায়, তাহলে কী বেশিরভাগ দলের মতামত উপেক্ষা করে ইভিএমে নির্বাচন করবে কমিশন?’

আফজাল বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এটি অবশ্যই রাজনৈতিক দল, ভোটার, এমনকি সাধারণ জনগণকেও নির্বাচনমুখী করতে সহযোগিতা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোও এখন সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বরাবরই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে আসছে। যেহেতু সরকারি দল আওয়ামী লীগ, আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব। কমিশন যখন যে ধরণের সহযোগিতা চাইবে সেটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘ইসি কোথা থেকে এসেছে, কারা এখানে এসেছে এটা সবাই দেখেছে। তারা মনে করে সকলে বোকা, তারাই বুদ্ধিমান। তারা রোডম্যাপ কেন, অন্য কিছু করলেও তা নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই।’