ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জোট আছে, জোট নেই

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন অনেকটাই অকার্যকর। অনেক দিন ধরেই সম্মিলিতভাবে জোটের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। বিগত দুই-তিন মাস ধরে বিএনপি এককভাবে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছে। জোটের অন্য কোনো দলকে তেমন একটা কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ দলই বিবৃতি নির্ভর। বিএনপি নেতারাও বলছেন, ‘২০ দলীয় জোট বা অন্য জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।’

এই যখন ২০ দলীয় জোটের অবস্থা তখন জোটের শরিকদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। জোটের শরিক দলের নেতারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় জোটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গত ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশানে ২০ দলীয় জোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনে আছি। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করেছি যুগপৎ আন্দোলন করার জন্য।’

জোটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জোটের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি, এখনো আছে। এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি হয়তো চলতে চাচ্ছে না। তাই কিছুটা কৌশলগত অবস্থান থেকে ২০ দলীয় জোটকে এড়িয়ে যাচ্ছে বিএনপি। তবে এটাও ঠিক দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জোট নিয়ে বিএনপি যদি মনে করে নির্বাচন আসলে তারা ক্ষমতায় চলে আসবে সেটা তাদের ভুল ধারণা। কারণ আমরা সামনে নির্বাচন দেখি না, দেখছি আন্দোলন, সংঘর্ষ, সংঘাত ও রক্ত।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে ২০ দলীয় জোটের সম্মান বা কদর কতটুকু আছে তা আমাদের চেয়ে ভালো করে বিএনপিই বলতে পারবে। আপনারাও কিছুদিন অপেক্ষা করেন সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। তারা যদি মনে করে জোটকে বাদ দিয়েই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে সেটা ভিন্ন কথা। তবে বিএনপি ছেড়ে দিলেও ২০ দলীয় জোটের দলগুলোকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের পক্ষে নিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে কথাটাও বিএনপি নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে। জোট ছেড়ে দেওয়া মনে হয় না বিএনপির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বর্তমানে এই জোট নেতৃত্ব শূন্যতায় আছে। জোটের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘২০ দলীয় জোট হচ্ছে নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি জোট। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ জোটকে মূলত নির্বাচনী জোট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। এখন জোট প্রধান দল যেহেতু নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না সেই অর্থে জোটের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। তবে আমাদের মধ্যে প্রায় সময় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কে ফাটল নেই। সম্পর্ক আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনই আছে।’

জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনের পরিবেশ পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে জোটবদ্ধ হয়ে। সেক্ষেত্রে হতে পারে একাধিক জোট। যেখানে বিএনপির মতো একটি জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালনে সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের মুখে কোণঠাসা। সেখানে অন্য কোনো দল এককভাবে আন্দোলনে রাজপথে সুবিধা করতে পারবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোট আছে, তবে নিষ্ক্রিয় বা অকার্যকর বলা যেতে পারে। জোটের প্রধান দল বিএনপির উচিত হবে এখনই ২০ দলীয় জোটকে গুরুত্ব দিয়ে রাজপথে একত্রে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রসর হওয়া।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যারা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে বা যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে। আর ২০ দলীয় জোট বা অন্য জোটের ভবিষ্যত কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।’

জোট শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ ২০ দলীয় জোটের মিটিং হচ্ছে না, এটা যেমন বাস্তব। তাহলে এটা আছে বললেও সঠিক, আবার নেই বললেও সঠিক। দুই পা দুই দিকে, সেটাও সঠিক। আমরা আশা করছি, জোটের প্রধান শরিক একটা সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ তারা বারবার বলছে তারা বৃহত্তর ঐক্য চায়। কিন্তু সেটার রূপরেখা এখনো উপস্থাপিত হয়নি।’

জোটের নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোট গঠন করেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না, এমন শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ড নিয়ে রয়েছেন দেশের বাইরে। মূলত সঠিক নেতৃত্বের অভাবে ২০ দলীয় জোট অনেকটাই পথহারা। জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই, যেটা আছে সেটা লোক দেখানো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জোটের ভেতরে শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাকি দলগুলোর রাজনৈতিক শক্তি তেমন একটা নেই। সেই জামায়াত সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওটার ব্যাপারে আমি জবাব দিয়ে দিয়েছি আপনাদের। আমরা এখন যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। সব দল, সব মতকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, যেকোনো দল, যেকোনো সংগঠন এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব।’

বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা প্রশ্ন রাখেন, তবে তাই যদি হয় তাহলে এখন আবার যুগপৎ আন্দোলনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন পাশে পেতে চায়?

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় দল। সেখান থেকে দু-একটি রাজনৈতিক দল জোটে না থাকলেও যেমন ক্ষতি হবে না। জোটে থাকলেও খুব একটা লাভ হবে না। ২০ দলীয় জোট ঘোষণায় আছে, হয় তো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটগত কার্যক্রম থাকবে না।

অবশ্য জোটের শরিক দলগুলোকে বিএনপি কোনোভাবেই উপেক্ষা করছে না বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি জোটের অধিকাংশ দলের সঙ্গে সংলাপও করা হয়েছে। তাই এর কাছে ২০ দলীয় জোটের এ ধরনের অভিযোগ একবারেই ভিত্তিহীন বলেও যোগ করেন তিনি।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

জোট আছে, জোট নেই

প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন অনেকটাই অকার্যকর। অনেক দিন ধরেই সম্মিলিতভাবে জোটের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। বিগত দুই-তিন মাস ধরে বিএনপি এককভাবে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছে। জোটের অন্য কোনো দলকে তেমন একটা কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ দলই বিবৃতি নির্ভর। বিএনপি নেতারাও বলছেন, ‘২০ দলীয় জোট বা অন্য জোটের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।’

এই যখন ২০ দলীয় জোটের অবস্থা তখন জোটের শরিকদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। জোটের শরিক দলের নেতারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় জোটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গত ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশানে ২০ দলীয় জোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনে আছি। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করেছি যুগপৎ আন্দোলন করার জন্য।’

জোটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জোটের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি, এখনো আছে। এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি হয়তো চলতে চাচ্ছে না। তাই কিছুটা কৌশলগত অবস্থান থেকে ২০ দলীয় জোটকে এড়িয়ে যাচ্ছে বিএনপি। তবে এটাও ঠিক দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জোট নিয়ে বিএনপি যদি মনে করে নির্বাচন আসলে তারা ক্ষমতায় চলে আসবে সেটা তাদের ভুল ধারণা। কারণ আমরা সামনে নির্বাচন দেখি না, দেখছি আন্দোলন, সংঘর্ষ, সংঘাত ও রক্ত।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে ২০ দলীয় জোটের সম্মান বা কদর কতটুকু আছে তা আমাদের চেয়ে ভালো করে বিএনপিই বলতে পারবে। আপনারাও কিছুদিন অপেক্ষা করেন সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। তারা যদি মনে করে জোটকে বাদ দিয়েই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে সেটা ভিন্ন কথা। তবে বিএনপি ছেড়ে দিলেও ২০ দলীয় জোটের দলগুলোকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের পক্ষে নিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে কথাটাও বিএনপি নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে। জোট ছেড়ে দেওয়া মনে হয় না বিএনপির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বর্তমানে এই জোট নেতৃত্ব শূন্যতায় আছে। জোটের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘২০ দলীয় জোট হচ্ছে নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি জোট। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ জোটকে মূলত নির্বাচনী জোট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। এখন জোট প্রধান দল যেহেতু নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না সেই অর্থে জোটের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। তবে আমাদের মধ্যে প্রায় সময় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কে ফাটল নেই। সম্পর্ক আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনই আছে।’

জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনের পরিবেশ পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে জোটবদ্ধ হয়ে। সেক্ষেত্রে হতে পারে একাধিক জোট। যেখানে বিএনপির মতো একটি জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালনে সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের মুখে কোণঠাসা। সেখানে অন্য কোনো দল এককভাবে আন্দোলনে রাজপথে সুবিধা করতে পারবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোট আছে, তবে নিষ্ক্রিয় বা অকার্যকর বলা যেতে পারে। জোটের প্রধান দল বিএনপির উচিত হবে এখনই ২০ দলীয় জোটকে গুরুত্ব দিয়ে রাজপথে একত্রে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রসর হওয়া।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যারা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে বা যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে। আর ২০ দলীয় জোট বা অন্য জোটের ভবিষ্যত কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।’

জোট শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ ২০ দলীয় জোটের মিটিং হচ্ছে না, এটা যেমন বাস্তব। তাহলে এটা আছে বললেও সঠিক, আবার নেই বললেও সঠিক। দুই পা দুই দিকে, সেটাও সঠিক। আমরা আশা করছি, জোটের প্রধান শরিক একটা সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ তারা বারবার বলছে তারা বৃহত্তর ঐক্য চায়। কিন্তু সেটার রূপরেখা এখনো উপস্থাপিত হয়নি।’

জোটের নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোট গঠন করেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না, এমন শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ড নিয়ে রয়েছেন দেশের বাইরে। মূলত সঠিক নেতৃত্বের অভাবে ২০ দলীয় জোট অনেকটাই পথহারা। জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই, যেটা আছে সেটা লোক দেখানো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জোটের ভেতরে শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাকি দলগুলোর রাজনৈতিক শক্তি তেমন একটা নেই। সেই জামায়াত সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওটার ব্যাপারে আমি জবাব দিয়ে দিয়েছি আপনাদের। আমরা এখন যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। সব দল, সব মতকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, যেকোনো দল, যেকোনো সংগঠন এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করব।’

বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা প্রশ্ন রাখেন, তবে তাই যদি হয় তাহলে এখন আবার যুগপৎ আন্দোলনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন পাশে পেতে চায়?

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় দল। সেখান থেকে দু-একটি রাজনৈতিক দল জোটে না থাকলেও যেমন ক্ষতি হবে না। জোটে থাকলেও খুব একটা লাভ হবে না। ২০ দলীয় জোট ঘোষণায় আছে, হয় তো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটগত কার্যক্রম থাকবে না।

অবশ্য জোটের শরিক দলগুলোকে বিএনপি কোনোভাবেই উপেক্ষা করছে না বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি জোটের অধিকাংশ দলের সঙ্গে সংলাপও করা হয়েছে। তাই এর কাছে ২০ দলীয় জোটের এ ধরনের অভিযোগ একবারেই ভিত্তিহীন বলেও যোগ করেন তিনি।