ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসের মুখে ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদ

রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদ। তিন বছর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৫০ বছরের পুরনো এই মসজিদকে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দিলেও এটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে এর দেয়াল ঘেঁষে টিনসেড আর বেড়া দিয়ে মসজিদের অংশ সম্প্রসারণ করে নামাজ আদায় করছেন। তবে যে কোনো সময় মসজিদের দেয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় ২৫৪ বছর আগে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে চলা বেলান নদীর তীরে মীর্জার মাঠের সীমানায় মসজিদটি নির্মাণ করেন মির্জা লাল বেগ। প্রতিষ্ঠার সময় মসজিদটির নাম কী রাখা হয়েছিল তা কেউ এখনো বলতে পারেন না।

তবে কেউ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এর মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো। তা শুনে স্থানীয়রা ভাবতেন মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে। এ থেকে স্থানীয় শব্দ ‘আওকরা’ (কথা বলা)-এর সঙ্গে মিলিয়ে মসজিদের নাম রাখা হয় ‘আওকরা মসজিদ’।

স্থানীয় এক সাংবাদিক নুপুন নাহার বলেন, এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। তখন মির্জা লাল বেগ এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে লোকমুখে শুনছি। ব্রিটিশ সরকারের আমলে মুসলিমরা মসজিটির আশপাশের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে এটি অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে। এ মসজিদকে ঘিরে মীর্জার মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজিজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী তোলা হয়েছে। কিন্তু, দেয়ালের ফাটলের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয় মুসল্লিদের। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মুসজিসটিতে দ্রুত সংস্কার কাজে হাত দিলে এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা হাসান আলী বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নামাজ আদায় করা শুরু করেছি আমরা। সরকার দ্রুত মসজিটি সংস্কার করলে আমার ঝুঁকিমুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করতে পারবো।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি পরিষ্কার করে টিনের ছাউনি, মাইক ও নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মসজিদটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের টিম পরিদর্শন শেষে দ্রুত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

ধ্বংসের মুখে ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদ

প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদ। তিন বছর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৫০ বছরের পুরনো এই মসজিদকে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দিলেও এটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে এর দেয়াল ঘেঁষে টিনসেড আর বেড়া দিয়ে মসজিদের অংশ সম্প্রসারণ করে নামাজ আদায় করছেন। তবে যে কোনো সময় মসজিদের দেয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় ২৫৪ বছর আগে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে চলা বেলান নদীর তীরে মীর্জার মাঠের সীমানায় মসজিদটি নির্মাণ করেন মির্জা লাল বেগ। প্রতিষ্ঠার সময় মসজিদটির নাম কী রাখা হয়েছিল তা কেউ এখনো বলতে পারেন না।

তবে কেউ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এর মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো। তা শুনে স্থানীয়রা ভাবতেন মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে। এ থেকে স্থানীয় শব্দ ‘আওকরা’ (কথা বলা)-এর সঙ্গে মিলিয়ে মসজিদের নাম রাখা হয় ‘আওকরা মসজিদ’।

স্থানীয় এক সাংবাদিক নুপুন নাহার বলেন, এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। তখন মির্জা লাল বেগ এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে লোকমুখে শুনছি। ব্রিটিশ সরকারের আমলে মুসলিমরা মসজিটির আশপাশের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে এটি অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে। এ মসজিদকে ঘিরে মীর্জার মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজিজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী তোলা হয়েছে। কিন্তু, দেয়ালের ফাটলের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয় মুসল্লিদের। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মুসজিসটিতে দ্রুত সংস্কার কাজে হাত দিলে এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা হাসান আলী বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নামাজ আদায় করা শুরু করেছি আমরা। সরকার দ্রুত মসজিটি সংস্কার করলে আমার ঝুঁকিমুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করতে পারবো।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি পরিষ্কার করে টিনের ছাউনি, মাইক ও নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মসজিদটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের টিম পরিদর্শন শেষে দ্রুত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।’